জাতীয় নির্বাচনের জন্য সব রাজনৈতিক দলকে ঐকমত্যে পৌঁছতে হবে। গণতন্ত্রের পথে যাওয়ার প্রথম ধাপ নির্বাচন। এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দ্রুত সময়ে নির্বাচনের দিকে যেতে হবে। অন্যথায় বিপ্লব বেহাত হতে পারে।
নাগরিক ঐক্যের চা-চক্রে বক্তারা
নির্বাচনের লক্ষ্যে ঐকমত্য না হলে প্রতিবিপ্লব হতে পারে
নিজস্ব প্রতিবেদক

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বিজয়নগরের ফার্স হোটেলে ‘সংকট থেকে মুক্তি পেতে রাজনৈতিক ঐকমত্যের বিকল্প নেই’ শীর্ষক চা-চক্রে বক্তারা এসব কথা বলেন। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এই চা-চক্রের আয়োজন করেন।
চা-চক্রে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংবিধানের ৬ অনুচ্ছেদের শপথ নিয়েছে।
তিনি বলেন, ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান তুলনা করা ঠিক হবে না। ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যটাকে সংস্কৃতি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কারণ নিজেদের মধ্যে জাতীয় ঐমত্য না থাকার কারণে অনেক দেশে বিপ্লব হাতছাড়া হয়ে গেছে। যদি আমরা রাজনৈতিক ঐক্যটা ধরে রাখতে পারি, তাহলে এটাকে শক্তিতে পরিণত করতে পারব।
তিনি বলেন, পতিত স্বৈরাচাররা লুটপাট করে প্রচুর অর্থ নিয়ে পাশের দেশে বসে আছে। সেখানে বলে ষড়যন্ত্র করছে, ভাষণ দিচ্ছে। আমাদের তরুণরা এই যে প্রতিবাদ করছে, আমি মনে করি এই মুহূর্তে এটা দরকার ছিল না। পতিতরা বাংলাদেশের মধ্যে একটা তৎপরতা চালাচ্ছে, যাতে আমাদের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি করা যায়, অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায়। এর মধ্য দিয়ে তারা ফায়দা নিতে চায়। এইটুকু বুঝতে পারলেই আমাদের মধ্যে ঐক্য হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আমরা দেখেছি, আন্দোলনের পর একটা মার্শাল ল’ আসে। সেটি পাকিস্তান আমল থেকে দেখে আসছি। আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তীকালী সময়ে নির্বাচন দিলে দেশে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরে আসে। এবারের আন্দোলন কিন্তু ভিন্ন, আমরা সবাই নির্যাতনের শিকার হয়েছি। ২৪-এ ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে আলো দেখেছি। ড. মুহাম্মদ ইউনূস আমাদের অ্যাসেট। ওনাকে পেয়ে আমরা গর্বিত। কিন্তু এখন সরকারের পথচলা ভিন্ন দেখছি।
সভাপতির বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হয় নির্বাচনে। নির্বাচন যত তাড়াতাড়ি হবে, বিএনপির ফলাফল তত ভালো হবে। তাদের কাছে অনুরোধ, রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে তারা যেন সংস্কারগুলো ঠিকমতো করে। একই সঙ্গে সতর্ক চোখ রাখতে চাই, তারা যেন ভুল না করে। এ জন্যই ঐক্য দরকার। তিনি বলেন, আগস্টের পর অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সেই সঙ্গে চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে ঐকমত্যের বিকল্প নেই। ঐকমত্যের মাধ্যমে সব সম্ভব। জাতীয় ঐকমত্যের জন্য কমিশন গঠন করা হয়েছে, যার প্রধান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, সরকারের নিরপেক্ষতা যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে কিন্তু সরকার হোঁচট খাবে। ইতিমধ্যে এই সরকারের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকার অদলীয় নাকি নিরপেক্ষ সরকার? বিশেষ কোনো আইডিওলজি, বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দল বা ছাত্রদের প্রতি যদি পক্ষপাতিত্ব কাজ করে, তাহলে সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। সরকারের নিরপেক্ষতা যদি প্রশ্নবিদ্ধা হয়, তাহলে আগামীতে এই সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা যাবে কি না, সেই প্রশ্ন বড় আকারে আসবে। এই সরকারের নিরপেক্ষতা যদি প্রশ্নবিদ্ধ হতে থাকে, তাহলে আগামীতে রাজনৈতিক দলগুলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তুলবে কি না সেটা জানি না। কিন্তু আমি দেখতে চাই, সরকার সফল হবে। কার্যকর হবে। তাদের মধ্যে যে একদিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা, সরকার ও দেশের জন্য ভালো লক্ষন না। অব্যাহত সমঝোতার জন্য নতুন সংকট তৈরি করতে পারে। আমি চাইবো সরকার নিরপেক্ষ বৈশিষ্টা অক্ষুণ্ণ রাখবে। যাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি না তুলতে হয়। আমরা সরকারকে সফল করতে চাই, কার্যকর করতে চাই। আমরা সহযোগিতা জোগাতে চাই। আপনারা জানা-অজানা কোনো অ্যাজেন্ডা নিয়ে কাজ করবেন না। আপনার যে দেশ চালাতে পারছেন না এটা দেশের মানুষ জানে। কিন্তু তারপরও আমরা সমালোচনা করি সরকার যেন সঠিক পথে থাকে।
গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, জাতীয় নেতৃত্ব বের করতে ছাত্রদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ছাত্রসংসদ নির্বাচন দিন। এতে করে নেতৃত্ব বের হয়ে আসবে। ক্ষমতার পেছনে না ঘুরে। এখন আমাদের ভেতরে কথার ফুলঝুড়ি উঠেছে। কোনো ঐকমত্য নেই। যত দিন যাচ্ছে সব কিছু ঝুলে যাচ্ছে। তাই সরকারকে বলি, বেশি বেশি সংস্কারের কথা বলে, কুসংস্কার করবে না। যত দ্রুত নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতা ছেড়ে দিন। না হলে মঈন উদ্দিন-ফখরুদ্দিনের মতো পালাতে হবে। এখন তো দেখি সরকার থেকে কিংস পার্টি করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে।
গণসংহতি আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, রাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে, যেটি ব্যবহার করে একদলীয় বা ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠে। সেটির বিলোপ করতে হবে। ৭২-এর সংবিধানের হাত ধরে আওয়ামী লীগ বারবার ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠেছিল। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান একটা বিপ্লবের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। মানুষের নতুন স্বপ্ন তৈরি হয়েছে। ৭২-এর সংবিধান একদলীয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধের সাথে প্রতারণা, আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার যন্ত্র। যেটাকে পুরোপুরি বাতিল করতে হবে। বর্তমানে মানুষের অধিকারের আন্দোলনকে সামনে রাজনৈতিক সংকট হতে পারে বলে বাধা দেওয়া যাবে না।
দৈনিক সমকাল পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার পতনের পরও কিছু সংকট রয়ে গছে। গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর মধ্যে নানাাবিধ বিষয়ে মতপার্থক্য স্পষ্ট হতে চলেছে। দৃষ্টিভঙ্গিগত এসব মতপার্থক্য দূর না হলে জাতীয় ঐক্য হবে না। এখানে বিতর্ক আছে, জুলাই আন্দোলন কী ছিল? বিপ্লব নাকি গণ-অভ্যুত্থান? এখনকার সংবিধান অনুযায়ী আমরা চলবো নাকি নতুন সংবিধান তৈরি করা হবে, এগুলো ফায়সালা হওয়া দরকার। তিনি বলেন, অনেকেই বলছেন, বিপ্লবী সরকার গঠন হয়নি। যা হয়নি, তা হয়নি। যা হয়েছে সংবিধান অনুযায়ী। সংবিধান সমুন্নত রেখেই পা ফেলতে হবে। তা না হলে আরেকটি বিপ্লব এসে যেতে পারে। ছয় মাস পরে নতুন সংবিধান আনবেন, সেটা কি গণতান্ত্রিক হবে? আমরা স্বৈরতন্ত্রের পতন চেয়েছি গণতন্ত্রের জন্য। অতএব, নিয়মতান্ত্রিকভাবেই অগ্রসর হতে হলে কতগুলো বিষয়ে ঐকমত্যে যেতে হবে। নির্বাচন কীভাবে হবে, কোন কোন সংস্কার করে করবেন, সে বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে হবে। ডিসেম্বরে মধ্যে নির্বাচন- ফয়সালা হয়ে গেছে। এটা আর পেছানো ঠিক হবে না। এ জন্য কতটুকু সংস্কার দরকার তা পরিষ্কার করা দরকার।
জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব রাফে সালমান রিফাত বলেন, দেশে চলমান সংকট কী ৫ আগস্টের পরের সংকট? আমরা যে রাজনৈতিক সংকটের কথা বলি, এটি তো ১৫ বছরে ধ্বংস কাঠামোর এবং নির্বাচনের কারণে তৈরি করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিতর্ক করার চেষ্টা করা হয়। এটি আওয়ামী লীগ নেতারা নিজেদের মনে করেছিল। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সবাই অংশ নিয়েছিল শুধুমাত্র বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে। ক্রেডিট তো সব দলের, কারো একক নয়। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষায় আমাদের সবার ঐকমত্যের জায়গায় কোনো বিকল্প নেই। ৩২ বাড়ি ভাঙা নিয়ে অনেকে বিতর্ক তৈরি করেছে, কথা হলো এটি কে দায়ী। শেখ হাসিনার বক্তব্য এবং তার অনুসারীদের মাথাচাড়া দেওয়ার কারণে। আওয়ামী লীগ বিষয়ে আমাদের ঐকমত্যে পৌঁছতে হবে ।
এ সময় আরো বক্তব্য দেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম বাবলু, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন স্বপন, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, সমাজকর্মী রুবি আমাতুল্লাহ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি আরিফুর রহমান, জাতীয় নাগরিক কমিটির আরিফুল ইসলাম আদীব প্রমুখ।
সম্পর্কিত খবর

শেখ মুজিবই প্রথম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রকে হত্যা করেন : স্বপন
অনলাইন ডেস্ক

শেখ মুজিবুর রহমানই প্রথম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রকে হত্যা করেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন। তিনি বলেন, সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পর জনগণের ক্ষমতায়ন যতটুকু অর্জিত হয়েছিল তাকে নির্মমভাবে ধ্বংস করেছে তৎকালীন আওয়ামী সরকার। ১৯৭৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই আওয়ামী লীগের মুখোশ উন্মোচিত হয়ে অগণতান্ত্রিক চরিত্র প্রকাশ হয়ে পড়ে।
স্বপন বলেন, ১৯৭৪ সালে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল কর্তৃক ঘোষিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাড়ি ঘেরাও কর্মসূচিতে অতর্কিতে রক্ষীবাহিনী নির্বিচারে নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটায় এবং আহত অবস্থায় মেজর এম এ জলিল, আ স ম আবদুর রবসহ বহু কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করে এবং গণকণ্ঠ পত্রিকা অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়।
শুক্রবার (২১ মার্চ) জেএসডি ১৯৭৪ সালের ১৭ মার্চ ‘ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক দিবস’ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করে।
আলোচনা সভার সভাপতি দলের সিনিয়র সহসভাপতি তানিয়া রব বলেন, আওয়ামী লীগের ডিএনএতে ফ্যাসিবাদ। সুযোগ পেলেই আওয়ামী লীগ তার হিংস্র স্বরূপে প্রকাশিত হয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগ এখন প্রতিষ্ঠিত গণহত্যাকারী দল।
আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন জেএসডির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট কে এম জাবির, সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম আনোয়ার হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাইনুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মান্নান মুন্সি, উপদেষ্টা এম এ আউয়াল, দপ্তর সম্পাদক কামরুল আহসান অপু, প্রচার সম্পাদক বোরহান উদ্দিন চৌধুরী রোমান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফারজানা দিবা, সুমন খান, আবদুল বাতেন বিপ্লব, এস এম মনিরুজ্জামান মনির, ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোসলেহ উদ্দিন বিজয় প্রমুখ।

হাসিনা পালিয়ে গেলেও এখনো গণতন্ত্র পাইনি : শামা ওবায়েদ
সালথা-নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও দেশে এখনো গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরে আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু।
বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কে এম ওবায়দুর রহমানের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শুক্রবার বিকেলে নিজ নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরের নগরকান্দায় সরকারি মহেন্দ্র নারায়ন একাডেমি মাঠে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত স্বরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বিএনপির এমন কোনো নেতা নেই যে, তার নামে মিথ্যা মামলা নেই। নেতাকর্মীরা বছরের পর বছর জেল খেটেছেন।
তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারকে আরো বেশি আন্তরিক হতে হবে। সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া, সেটা চলতে থাকবে। বিএনপি প্রথমেই সংস্কারের কথা বলছিল। সরকারের উচিৎ সর্বপ্রথম নির্বাচনের জায়গা সংস্কার করে নির্বাচন নিশ্চিত করা।
নিজের বাবা মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমানের স্মৃতিচারণ করে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমার বাবা কে এম ওবায়দুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন ছিলেন। তিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সালথা-নগরকান্দার মানুষের জন্য কাজ করেছেন।
নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদারের সভাপতিত্বে স্বরণসভায় বক্তব্য রাখেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোদারেস আলী ঈসা, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল প্রমুখ।
এ ছাড়া জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমানের বর্ণীল রাজনৈতিক জীবনের ইতিহাস তুলে ধরেন।
এর আগে, মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জেলা-উপজেলা বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের নাম, মার্কা ও আদর্শ অপ্রাসঙ্গিক : হাসনাত
অনলাইন ডেস্ক

৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের নাম, মার্কা ও আদর্শ অপ্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পর্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ।
শুক্রবার (২১ মার্চ) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে আপনারা কি কোথাও দেখছেন দলটা কোনো রিগ্রেট (অনুশোচনা) করেছে, ওই যে একটা গণহত্যা চালিয়েছে। ওরা তো অপরাধই স্বীকার করতে চায় না।
তিনি আরো বলেন, আমরা বলেছি যে ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের নাম, মার্কা এবং আদর্শ এই তিনটাই হচ্ছে অপ্রাসঙ্গিক।

বিচারের আগে আ. লীগের রাজনীতি করার অধিকার নেই : রেজাউল করিম
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

আওয়ামী লীগকে ইঙ্গিত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম বলেছেন, ‘অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলন আমরা ব্যর্থ হতে দিতে চাই না। বিগত দিনে রাজপথে যেভাবে ছাত্রজনতাকে হত্যা করা হয়েছে; যারা হত্যা করেছে, খুনীদের এ সংস্কৃতি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত, বিগত দিনে যারা রাজনৈতিক পরিচয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে মানুষের পকেটের টাকায় নাগরিকদের ওপর গুলি চালিয়েছে, তাদের বিচার হওয়ার আগে বাংলাদেশে তাদের রাজনীতি করার অধিকার নেই।’
শুক্রবার (২১ মার্চ) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের ঐতিহ্য কনভেনশন সেন্টারে সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামী জেলা শাখার ব্যানারে এ আয়োজন করা হয়।
রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি, সেই স্বপ্ন যেন ভুলণ্ঠিত না হয়। সেজন্য রাজনীতিবিদ-সাংবাদিকসহ সকলকে সজাগ-সতর্ক থাকতে হবে। এক সাগর রক্ত পাড়ি দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ, ২৪ এর আন্দোলনে গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরার জন্য আমরা যে আয়োজন করেছি, তখন লক্ষ্য করছি অনেক ধরণের সমস্যা এখনো জাতির সামনে আছে। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য জাতির দুটি গার্ডার যদি যথাযথভাবে কাজ করে তাহলে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক ধারায় পৌঁছানো সম্ভব।
জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যডভোকেট নজির আহমেদের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এআর হাফিজ উল্যাহ, সেক্রেটারি ফারুক হোসাইন নুরনবী, সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মহসিন কবির মুরাদ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা শাখার সভাপতি মমিন উল্যাহ পাটওয়ারী, লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম পাবেলসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকগণ।