রিজার্ভ বাড়িয়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সুপারিশ সিপিডির

  • বদিউল আলম মজুমদার বললেন, প্রশাসনকে বিগত সরকারের দোসরমুক্ত করতে হবে
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
রিজার্ভ বাড়িয়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সুপারিশ সিপিডির
ফাহমিদা খাতুন

রাজস্ব আহরণের অপর্যাপ্ততা, সরকারি ব্যয় সংকোচনে ব্যর্থতা, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে শ্লথগতি এবং ব্যাংক খাত থেকে সরকারের উচ্চমাত্রায় ঋণ দেশের অর্থনীতিকে চেপে ধরেছে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়িয়ে সমস্যার সমাধানের সুপারিশ করেছে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। এ ছাড়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে অভ্যুত্থানকারী শিক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষক হিসেবে আলাদা একটি প্ল্যাটফরম করার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।

গতকাল বুধবার রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে সিপিডি আয়োজিত ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক সংলাপে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। সংলাপে সুধীসমাজের বিভিন্ন প্রতিনিধি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে ড. ফাহমিদা বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট, রপ্তানি আয়ে ধীরগতি, রেমিট্যান্সপ্রবাহে মন্থরতা, ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগে স্থবিরতার মতো সমস্যাগুলোর দ্রুত অবসান করতে হবে। অর্থনীতির গতি আনতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অবক্ষয়, আমদানিতে ক্রমহ্রাসমান প্রবণতা, টাকার ব্যাপক অবমূল্যায়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে।

সামাজিক খাত পুনর্গঠনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্বাভাবিক করা, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, শ্রমবাজারের চাহিদা ও দক্ষতার অসামঞ্জস্য দূর করার তাগিদ দেন তিনি। সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ছাত্র-জনতার সংস্কার কার্যক্রম যেন হারিয়ে না যায় সে জন্য প্ল্যাটফরম থাকতে হবে। অনেকে বিভিন্ন কমিশন করার কথা বলছেন। কিন্তু মানবাধিকার কমিশন থেকে শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন দেশে রয়েছে।

অনেক আইনও আছে। অথচ এসব আইনের যথাযথ প্রয়োগ নেই। তাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণের জন্য আলাদা প্ল্যাটফরম খুবই প্রয়োজন। এটি করতে হলে যে শিক্ষার্থীরা এ অভ্যুত্থান করল তাদের উপস্থিতি জরুরি।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুম বলেন, ‘আন্দোলনের প্রথম পর্যায় শেষ হয়েছে।

দেশের মানুষ যত দিন চাইবে, তত দিন আমাদের সংস্কার কার্যক্রম চলমান থাকবে। আইন-শৃঙ্খলা সবার আগে ঠিক করা দরকার। এরপর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সংস্কার প্রয়োজন। সবচেয়ে বেশি গোয়েন্দা বিভাগের দিকে নজর দেওয়া উচিত। আমাদের যখন তুলে নেওয়া হয়, তখন গোয়েন্দা বিভাগের দুর্নীতি নজরে এসেছে। একটা আয়নাঘরের খবর জেনেছি। গোয়েন্দা বিভাগে আর কোনো আয়নাঘর আছে কি না সেটা দেখা দরকার।’

ক্যাডার বাহিনী তৈরি করবেন না আহ্বান জানিয়ে তাবাসসুম বলেন, ‘আমাদের এমন সিস্টেম থাকা দরকার, কোনো সরকারই যেন ক্যাডার বাহিনী তৈরি করতে না পারে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আমার অনুরোধ, আপনারা এমন সিস্টেম তৈরি করুন, যাতে কেনো দল বা সরকার ক্যাডার বাহিনী তৈরি করতে না পারে।’

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমরা দেখেছি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী আর রাষ্ট্রীয় বাহিনী থাকেনি। দলীয় বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী পালিয়ে গেছেন, অনেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হেফাজতে আছেন। কারা হেফাজতে আছেন তা জানা দরকার। কারণ যদি গ্রেপ্তার হয়ে থাকেন, তাহলে আদালতে হাজির করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যাঁরা হেফাজতে তাঁদের নাম প্রকাশ করা হোক। তাঁরা যাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারেন সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’

প্রত্যেক ব্যাংক পরিচালকের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) বর্তমান পরিচালক শামস মাহমুদ। তিনি বলেন, সব ব্যাংক পরিচালকের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করতে হবে। তাঁদের বিদেশভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে। তাঁরা পাই পাই করে প্রত্যেকটি টাকার হিসাব দেবেন, এরপর ছাড়া পাবেন। টাকার হিসাব দিয়ে তাঁরা বিদেশ যেতে পারবেন।

ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, ‘আমরা ১৫ বছর পুলিশি রাষ্ট্রে বসবাস করেছিলাম। ব্যাংক খাতের ক্ষত অনেক গভীর। ব্যাংক খাত সম্পর্কে আপনারা যা জানেন, অর্থনৈতিক লুটপাট আরো বেশি। ব্যাংক নিয়ে হাজারটা রেগুলেশন তৈরির ইতিহাস পৃথিবীর আর কোথাও হয়নি। ৫০ বছর পরও এখনো ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা দিতে হয়, এটা লজ্জার।’

অনুষ্ঠানে সাবেক অর্থসচিব মুসলিম চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের সংবিধানে স্বৈরাচারী হওয়ার অনেক উপাদান আছে, এগুলো বাদ দিতে হবে। এগুলো রাজনৈতিক দলের হাতে ছেড়ে দিলে আমরা ব্ল্যাকহোলে পড়ে যাব। স্থানীয় সরকারকে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে আলাদা করতে হবে।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ বলেন, এই সরকারকে নতুন করে সংবিধান লিখে যেতে হবে। তারা হয়তো বাস্তবায়ন করতে পারবে না। পরবর্তী সরকারের জন্য এই সংবিধান লিখে যেতে হবে, যাতে তারা বাস্তবায়ন করতে পারে।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কে দুশ্চিন্তায় তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কে দুশ্চিন্তায় তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা
ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক (রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ) আরোপ করেছে। ফলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর বাড়তি ৩৭ শতাংশ শুল্ক বসবে; এতদিন যা ছিল গড়ে ১৫ শতাংশ। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। যে কারণে ট্রাম্পের নতুন এই সিদ্ধান্তে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা।

জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানি করা মোট তৈরি পোশাকের ১৮ শতাংশ গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে পোশাক রপ্তানিকারক প্রায় সব দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক বসেছে। তবু, শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্তে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। শীর্ষ দশ পোশাক রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে শুধু মেক্সিকোর ওপর নতুন এই শুল্ক আরোপ করেনি যুক্তরাষ্ট্র।

পোশাক রপ্তানিকারকরা বলছেন, শুল্ক আরোপের কারণে প্রভাব পড়বে। শুল্ক বৃদ্ধি পাওয়ায় মার্কিন বাজারে পণ্যের দাম বাড়বে। পণ্যের চাহিদা কমবে। যত দ্রুত সম্ভব সরকারি পর্যায়ে পাল্টা শুল্ক কমাতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শুরু করতে হবে।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৃতীয় শীর্ষ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ৭৩৪ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে।

আরো পড়ুন
শুল্কারোপের কষ্ট মূল্যবান হবে : ট্রাম্প

শুল্কারোপের কষ্ট মূল্যবান হবে : ট্রাম্প

 

যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) তথ্যানুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারকরা ৭ হাজার ৯২৬ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছেন। এরমধ্যে শীর্ষ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হচ্ছে—চীন, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, মেক্সিকো, হন্ডুরাস, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান এবং দক্ষিণ কোরিয়া।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যু সমাধানে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে দূঢ় আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। যেহেতু এটি আলোচনাযোগ্য, তাই আমরা আলোচনা করব এবং আমি নিশ্চিত যে আমরা সর্বোত্তম সমাধানে পৌঁছাতে পারব।’

মন্তব্য

ভারত থেকে এলো ১০ হাজার ৮৫০ মেট্রিক টন চাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
ভারত থেকে এলো ১০ হাজার ৮৫০ মেট্রিক টন চাল
সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র চুক্তির আওতায় (প্যাকেজ-৮) ভারত  থেকে ১০ হাজার ৮৫০ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে এমভি এইচটি ইউনিটি নামের একটি জাহাজ।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায় খাদ্য মন্ত্রণালয়।

আরো পড়ুন
পাবনায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে খুন

পাবনায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে খুন

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাহাজে রক্ষিত চালের নমুনা পরীক্ষা শেষ হয়েছে। চাল খালাসের  কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে।

এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। 

এতে আরো বলা হয়, উন্মুক্ত দরপত্র চুক্তির আওতায় ভারত থেকে মোট পাঁচ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি প্যাকেজে মোট চার লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির চুক্তি হয়েছে। ইতিমধ্যে চুক্তি মোতাবেক তিন লাখ ছয় হাজার ৭৬৯ মেট্রিক টন চাল দেশে পৌঁছেছে।

 
 

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

তিন মাসে ১৪ বার বেড়েছে সোনার দাম

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
তিন মাসে ১৪ বার বেড়েছে সোনার দাম

বিশ্ব বাজারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশে বাড়ছে সোনার দাম। গত তিন মাসে এই অলঙ্কারটির দাম বেড়েছে ১৪ বার। কমেছে মাত্র ৩ বার। এক বছর আগে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ছিল ১ লাখ ১১ হাজার টাকা।

এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৪৭ হাজার টাকা বেড়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দেড় লাখ টাকার বেশি। 

আরো পড়ুন
যেসব দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করলেন ট্রাম্প

যেসব দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করলেন ট্রাম্প

 

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি বা বাজুস নিয়মিতই সোনার হালনাগাদ দাম প্রকাশ করে থাকে। বাজুস চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ) মোট ১৭ বার সোনার দাম পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে।

এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ১৪ বার আর দাম কমানো হয়েছে মাত্র ৩ বার।

চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি সোনার দাম বাড়ানো হয়। তখন ভরিপ্রতি (২২ ক্যারেট) দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৩৯ হাজার ৪৪৩ টাকা। সর্বশেষ গত ২৮ মার্চ দাম আরো বাড়িয়ে ভরিপ্রতি (২২ ক্যারেট) ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

দেশের বাজারে এটিই এখন পর্যন্ত সোনার সর্বোচ্চ বা রেকর্ড দাম। 

আরো পড়ুন
ফ্রিজে খাবার সতেজ রাখার সহজ উপায়

ফ্রিজে খাবার সতেজ রাখার সহজ উপায়

 

বর্তমানে ২১ ক্যারেট মানের সোনার দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের সোনা ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৭ টাকায় ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬ হাজার ৫৩৯ টাকা।

এদিকে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, বিভিন্ন দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির চাপ ও তার জেরে শুল্ক যুদ্ধের আশঙ্কা। ফলে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে। নিরাপদ বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে অনেকে সোনার দিকে ঝুঁকছেন।

শেয়ারবাজার থেকে পুঁজি প্রত্যাহার করেও অনেকে সোনা কিনছেন।
 

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছেন, যাকে ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে অনেক দেশ। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করা হয়েছে। এতদিন দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ করে শুল্ক ছিল।

বাংলাদেশের প্রধান দুই রপ্তানি বাজারের একটি যুক্তরাষ্ট্র।

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের একটি বড় অংশ রপ্তানি হয় দেশটিতে। যুক্তরাষ্ট্রে বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি হয় প্রায় ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন (৮৪০ কোটি) ডলার, যা প্রধানত তৈরি পোশাক। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন (৭৩৪ কোটি) ডলারে।

নতুন করে উচ্চ মাত্রায় এই শুল্ক আরোপে বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা।

ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার বিকেল ৪টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাত ২টা) হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন করে শুল্ক ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

হোয়াইট হাউজের রোজ গার্ডেনে উপস্থিত সাংবাদিকসহ সমবেতদের উদ্দেশে বক্তব্যের শুরুতেই ট্রাম্প বলেন, ‘আজ খুব ভালো খবর’ থাকবে। এ সময় দর্শক সারি থেকে করতালি দিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানানো হয়।

এই দিনকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ অভিহিত করেন ট্রাম্প।

নতুন শুল্ক আরোপকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হিসেবে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, এই দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ দিন ধরে অপেক্ষা করছে।

বাংলাদেশি পণ্য

ট্রাম্পের পাল্টা এই শুল্ক আরোপে ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। পাকিস্তানের পণ্যের ওপর ২৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছে ৩৪ শতাংশ।

এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার পণ্যে ৪৪ শতাংশ, তাইওয়ানের পণ্যে ৩২ শতাংশ, জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডের পণ্যে ৩৬ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডের পণ্যে ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়ার পণ্যে ২৪ শতাংশ, কম্বোডিয়ার পণ্যে ৪৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের পণ্যে ১০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যে ৩০ শতাংশ, ব্রাজিলের পণ্যে ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের পণ্যে ১০ শতাংশ, ইসরায়েলের পণ্যে ১৭ শতাংশ, ফিলিপাইনের পণ্যে ১৭ শতাংশ, চিলির পণ্যে ১০ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ, তুরস্কের পণ্যে ১০ শতাংশ, কলম্বিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ আরোপ করা হয়েছে।

অন্যান্য যেসব দেশের পণ্যের ওপর বেশি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে মিয়ানমারের পণ্যে ৪৪ শতাংশ, লাওসের পণ্যে ৪৮ শতাংশ এবং মাদাগাস্কারের পণ্যের ওপর ৪৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

পাল্টা এই শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে থাকা ট্রাম্প বলেছেন, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কখনো কখনো ‘বন্ধু শত্রুর চেয়ে খারাপ হয়’। যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের বিদেশি গাড়ি আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় যেসব গাড়ি উৎপাদন করা হয় তার ৮০ শতাংশের বেশি সেদেশে বিক্রি হয়। আর জাপানে যেসব গাড়ি বিক্রি হয় সেগুলোর ৯০ শতাংশের বেশি সেদেশে তৈরি হয়। এসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি বিক্রি হয় খুব সামান্য।

মার্কিন কম্পানি ফোর্ড অন্যান্য দেশে খুব কম গাড়ি বিক্রি করে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, অন্য যে কোনো দেশে তৈরি মোটরযানের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে এবং এটা আজ মধ্যরাত থেকেই কার্যকর হবে।

শুল্ক আরোপের ঘোষণাকে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রতিফলন উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আজকের দিনকে আমেরিকান শিল্পের ‘পুনর্জন্ম’ এবং আমেরিকাকে ‘আবার সম্পদশালী’ করার দিন হিসেবে স্মরণ করা হবে। এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য বাধার মুখে রয়েছে।

অন্যান্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা আরও খারাপ অবস্থা তৈরি করেছে। বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মেধাসত্ত চুরিসহ অন্যান্য বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগ করেছেন তিনি। সূত্র : রয়টার্স

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ