চরমপন্থী নেতাসহ তিনজন খুন : ফের অশান্ত ঝিনাইদহ, জনমনে আতঙ্ক

  • সতর্ক চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ
ঝিনাইদহ সংবাদদাতা ও চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ সংবাদদাতা ও চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
শেয়ার
চরমপন্থী নেতাসহ তিনজন খুন : ফের অশান্ত ঝিনাইদহ, জনমনে আতঙ্ক
নিহত হানিফ, লিটন ও রাইসুল

ফের অশান্ত হয়ে উঠেছে ঝিনাইদহ। চরমপন্থীদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের তত্পরতা আবারও দেখা যাচ্ছে। গত শুক্রবার রাতে নিজেদের অধিপত্য বিস্তারে জেলার শৈলকুপা উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় এক চরমপন্থী নেতাসহ তিনজনকে। এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠিয়েছে জাসদ গণবাহিনীর সামরিক প্রধান কালু।

এ ঘটনায় জনমনে ভীতি কাজ করছে। 

নিহতরা হলেন—হরিণাকুণ্ডু উপজেলার আহাদনগর গ্রামের মৃত রাহাজ উদ্দিনের ছেলে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি জনযুদ্ধের অন্যতম শীর্ষ নেতা হানিফ আলী ওরফে হানেফ (৫৬), তাঁর শ্যালক একই উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের উন্মাদ আলীর ছেলে লিটন হোসেন (৩৮) ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পিয়ারপুর গ্রামের আরজান হোসেনের ছেলে রাইসুল ইসলাম রাজু (২৮)। তাঁদের মাথায় ও বুকে গুলির আঘাত পাওয়া গেছে। এর মধ্যে হানিফের বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ হয়েছিল।

তিনি তত্কালীন রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদের বিশেষ ক্ষমায় জামিনে ছিলেন।

জানা গেছে, পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম শীর্ষ নেতা হানিফ নব্বইয়ের দশকে ঝিনাইদহের সদর, হরিণাকুণ্ডু, শৈলকুপা, চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৪টি হত্যাসহ অসংখ্য মামলা রয়েছে। ২০১৭ সালে হরিণাকুণ্ডুর নারায়ণকান্দি বাঁওড়ের মত্সজীবী সমিতির তত্কালীন সভাপতি জিয়াউল হককে গুলি করে হত্যা করে বাঁওড়ের দখল নেন তিনি।

 

সূত্র জানায়, এই তিন খুনের নেপথ্যে রয়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গার কায়েতপাড়ার বাঁওড় দখল। ওই বাঁওড়ে কোটি টাকার ওপরে মাছ ছাড়া রয়েছে। এক বছর আগে মত্স্যজীবী লীগ নেতা পরিচয়ে হানিফ বাঁওড়ে মাছ ধরা ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে এলাকার বিবদমান একাধিক গ্রুপের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এরই জেরে হানিফসহ তাঁর দুই সঙ্গীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

কায়েতপাড়ার ওই বাঁওড় দখল নিয়ে গত তিন দশকে অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ খুন
এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠিয়েছেন জাসদ গণবাহিনীর সামরিক প্রধান কালু।

গত শুক্রবার রাতে চরমপন্থী নেতা কালুর পাঠানো খুদে বার্তায় বলা হয়, ‘সন্ধ্যায় রামচন্দ্রপুর খালের মধ্যে তিনজনকে হত্যা করে লাশ ফেলে রাখা হয়েছে।’ সড়কের ওপর দুটি মোটরসাইকেল পড়ে আছে বলেও জানান তাঁরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হরিণাকুণ্ডুর অবসরপ্রাপ্ত এক স্কুলশিক্ষক বলেন, ‘সন্ত্রাসী হানিফ কুলবাড়িয়া গ্রামের আব্দুর রহমান, তিওরবিলা গ্রামের লুত্ফর রহমান, তাহেরহুদার আব্দুল কাদের ও পোলতাডাঙ্গার ইজাল মাস্টারসহ শতাধিক মানুষকে গুলি ও গলা কেটে হত্যা করে। ইজাল মাস্টারকে হত্যার পর তাঁর মাথা কেটে বাড়ির উঠানে ফুটবল খেলে হানিফ। ওই সময় ঘটনাটি দেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।’

নিহত হানিফের ছোট ভাই ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম ইশা বলেন, ‘শুক্রবার বিকেলে ভাইয়াকে মোবাইলে কল করে কে বা করা ডাকে। তখন তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরে শুনি তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাঁওড়ের মাছ ধরা নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে ভাইয়ের বিরোধ চলছিল। হয়তো এরই জেরে তাঁদের হত্যা করা হতে পারে।’

জেলা বিএনপির সহসভাপতি এনামুল কবির মুকুল বলেন, ‘চরমপন্থীরা হঠাৎ করে এই জনপদে আবারও প্রকাশ্যে এসেছে। তারা খুন, ডাকাতির ঘটনা ঘটাচ্ছে। এর মধ্যে কয়েকজনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে তারা। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষ বাহিনী যদি এসবের লাগাম টানতে না পারে তাহলে এই অঞ্চল আবারও অশান্ত হয়ে উঠবে।’

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান জাকারিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হানিফ নিষিদ্ধঘোষিত পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা ছিল। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক হত্যা, অপহরণ, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ ১৫টি মামলা রয়েছে। সেই সঙ্গে একটি হত্যা মামলায় তার ফাঁসির আদেশ হয়েছিল।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘নিহত হানিফের ফাঁসির রায় উচ্চ আদালতে বহাল থাকলেও আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তত্কালীন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিশেষ ক্ষমায় সে জামিনে মুক্ত হয়।’ 

সতর্ক চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ
ঝিনাইদহে চরমপন্থী নেতাসহ তিনজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সতর্ক অবস্থায় রয়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ। যদিও চুয়াডাঙ্গায় এসংক্রান্ত আইন-শৃঙ্খলা অবনতির কোনো খবর তাঁদের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কনক কুমার দাস। অন্যদিকে এ ঘটনার পর ঝিনাইদহসহ খুলনা বিভাগের কয়েক জেলার বামপন্থীদের জন্য সতর্কবার্তায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলাউদ্দিন উমর।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কনক কুমার দাস বলেন, শুক্রবার রাতে ঝিনাইদহের শৈলকুপা এলাকায় হত্যার ঘটনা ও দুষ্কৃতকারীদের সতর্কবার্তার বিষয়ে তাঁরা অবগত আছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সতর্ক অবস্থায় আছে। তিনি আরো বলেন, যদিও চুয়াডাঙ্গায় এসংক্রান্ত আইন-শৃঙ্খলা অবনতির কোনো খবর তাঁদের কাছে নেই। 

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

ডামুড্যায় ৩ অপহরণকারী আটক, দুজন পুলিশ সদস্য

ডামুড্যা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি
ডামুড্যা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি
শেয়ার
ডামুড্যায় ৩ অপহরণকারী আটক, দুজন পুলিশ সদস্য
প্রতীকী ছবি

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় অপহরণের পর মুক্তিপণ নেওয়ার সময় স্থানীয় ও পুলিশের হাতে তিনজন অপহরণকারী আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজন পুলিশের কনস্টেবল। শুক্রবার দিবাগত রাত ১ টার দিকে ডামুড্যা বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের আটক করা হয়। 

আটকরা হলেন, কুমিল্লার লাকসাম এলাকার মৃত আনা মিয়া ছেলে শরীফ হোসেন (৩৫), বাগেরহাটর মোল্লারহাট এলাকার বাচ্চু মিয়া শেখের ছেলে পুলিশ কনস্টেবল কৌশিক আহমেদ সেতু (৩০) ও শরীয়তপুরের ডামুড্যার মৃত আব্দুর রহমান তালুকদারের ছেলে পুলিশ কনস্টেবল কাউসার (২২)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে মোহাম্মদ জুয়েল সরদার (৩২) নামের ডামুড্যা বাজারের এক ব্যবসায়ী বাড়ি যাচ্ছিলেন। ডামুড্যা থেকে ভেদরগঞ্জে যাওয়ার পথে দারুল আমান বাজার পার হওয়ার পর ফাঁকা রাস্তায় হায়েস গাড়িতে থাকা অপহরণকারীরা জোর করে জুয়েলসহ আরও একজনকে গাড়িতে তুলে নিয়ে তার কাছে থাকা টাকা নিয়ে যান। আরো টাকার জন্য পরিবারকে ফোন দিলে পরিবার টাকা নিয়ে ডামুড্যায় আসেন। পরে স্থানীয়রা গাড়র গতিবিধি সন্দেহজনক দেখে থামাতে বলেন।

গাড়ি না থামিয়ে চলে গেলে তাদের ডাক চিৎকারে পুলিশ ও এলাকার মানুষ জড়ো হয়ে গাড়ির গতিরোধ করে। এ সময় গাড়িতে থাকা ৩ অপহরণকারীকে গাড়িসহ আটক করে। আরও তিন থেকে চারজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। 

ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, ডামুড্যা বাজার ব্যবসায়ী জুয়েল সরদার সারা দিনের বেচাকেনা শেষে দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাচ্ছিল।

পথে জোর করে একটি হায়েস গাড়িতে করে অপহরণকারীরা তাকে উঠিয়ে নিয়ে তার সাথে থাকা সব টাকা তারা নিয়ে যায়। পরে আরো টাকার জন্য পরিবারকে খবর দেয়। পরিবার টাকা নিয়ে আসার সময় ডামুড্যা বাসস্ট্যান্ডে পুলিশ একটি টিম ও স্থানীয়রা মিলে তিনটা অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করে। এর মধ্যে দুজন পুলিশের সদস্য। এ সময় তিনজনসহ একটি কালো রঙের গাড়ি আটক করা হয়।

মন্তব্য
ঠাকুরগাঁও

গভীর রাতে সরকারি চাল চুরি, আটক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
শেয়ার
গভীর রাতে সরকারি চাল চুরি, আটক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা
সংগৃহীত ছবি

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি ইউনিয়নে দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চাল চুরির সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছেন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম। শুক্রবার (২৮ মার্চ) গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা ইউনিয়ন পরিষদের পাশের গোডাউন থেকে চাল বোঝাই ট্রাক্টরটি আটক করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে দরিদ্র ও দুস্থদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি চাল গভীর রাতে ট্রাক্টরে করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল।

ট্রাক্টর চলাচলের শব্দ শুনে স্থানীয় নাইট গার্ডসহ কয়েকজন বাসিন্দা এগিয়ে যান। তারা দেখেন, কয়েকজন লোক ট্রাক্টরে চাল তুলছে। এসময় অন্যরা পালিয়ে গেলেও আমিনুল ইসলামকে আটক করা হয়। উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

আরো পড়ুন

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী 'খিয়াং'

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী 'খিয়াং'

 

আটককৃত আমিনুল ইসলাম পশ্চিম বেগুনবাড়ি গ্রামের পাথারুর পুত্র। এছাড়া, পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মৃত গফুর আহমেদের ছেলে ওয়াদুদ হাসান, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন, কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল ও স্থানীয় বাসিন্দা মৃত নসিরউদ্দিনের ছেলে সুলতান।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চালভর্তি ট্রাক্টরসহ আমিনুল ইসলামকে থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয় এক বাসিন্দার অভিযোগ, বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের বিএনপি নেতা হাবিব এই অভিযুক্তদের লালন-পালন করেন।

আরো পড়ুন

ঈদে ফিরতি যাত্রার ৭ এপ্রিলের টিকিট মিলছে আজ

ঈদে ফিরতি যাত্রার ৭ এপ্রিলের টিকিট মিলছে আজ

 

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কালাম বলেন, 'এই চাল চুরির ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে, প্রতিবারই অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এবার হাতেনাতে ধরা পড়ায় আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।'

আরেক বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, 'গরীবের হক মেরে যারা নিজেদের আখের গোছাতে চায়, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

আমরা চাই, প্রশাসন দ্রুত এর তদন্ত করে বাকি অভিযুক্তদেরও আইনের আওতায় আনুক।'

আরো পড়ুন

ডিএসইতে সূচকের উত্থানেও কমেছে লেনদেন

ডিএসইতে সূচকের উত্থানেও কমেছে লেনদেন

 

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খাইরুল ইসলাম জানান, 'সরকারি চাল চুরির ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

মন্তব্য

ফের ভুটান থেকে পাথর আমদানি শুরু

বাসস
বাসস
শেয়ার
ফের ভুটান থেকে পাথর আমদানি শুরু
সংগৃহীত ছবি

টানা আড়াই মাস বন্ধ থাকার পর পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আবারো শুরু হয়েছে ভুটান থেকে পাথর আমদানি। এতে স্বস্তি ফিরেছে বন্দরের শ্রমিক, আমদানি-রপ্তানিকারকসহ ব্যবসায়ীদের মাঝে।

আড়াই মাস বন্ধ থাকার পর পরীক্ষামূলক আমদানির প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) ভুটান থেকে ৪টি পাথরবোঝাই ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা জানান, ভারত ও ভুটানের মধ্যে চলা অভ্যন্তরীণ জটিলতায় (স্লট বুকিং দ্বন্দ্বে) ভুটান থেকে বোল্ডার পাথর আমদানি বন্ধ ছিল।

এ ছাড়াও গত বছর বিভিন্ন সমস্যায় নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ২ মাস ভারতের পাথর আমদানি বন্ধ ছিল।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারতের পাথর আমদানি শুরু হলেও ভুটান থেকে পাথর আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। কারণ হিসেবে ভারতের ফুলবাড়ি স্থলবন্দরে ট্রাক মালিক ও শ্রমিকরা ভুটানের পাথরবোঝাই ট্রাকগুলো স্লট বুকিংয়ের (সুবিধা অ্যাপস বা অনলাইনে ফি দিয়ে নিবন্ধন) আওতায় আনার দাবিতে আন্দোলন করলে ভুটান পাথর রপ্তানি বন্ধ করে দেয়।

এতে করে স্থবিরতা নেমে আসে পুরো বন্দরে।

আড়াই মাস পর ভুটান ভারতের সুবিধা অ্যাপসের আওতায় এসে ভুটান থেকে ৪টি পাথরবোঝাই গাড়ি বাংলাদেশে পাঠিয়েছে।

আরো পড়ুন
ঢাকায় স্বরাষ্ট্রবিষয়ক অফিস খুলছে অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশন

ঢাকায় স্বরাষ্ট্রবিষয়ক অফিস খুলছে অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশন

 

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ভারত ও ভূটানের অভ্যন্তরীণ জটিলতায় ভুটান থেকে পাথর আমদানি কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার সকল সমস্যা কাটিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে পাথর আসা শুরু করেছে। প্রথম দিনে ভুটানের ৪টি পাথরের ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। আশা করি কোনো সমস্যা না হলে ঈদের ছুটির পর যথারীতি প্রতিদিন ভুটান থেকে পাথর আমদানি হবে।

মন্তব্য

দেরিতে বাড়ি ফেরায় গত ঈদে শাসিয়েছি, আর ফিরবে না : শহীদ সুজয়ের মা

মো. মাজেদুল ইসলাম, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
মো. মাজেদুল ইসলাম, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
শেয়ার
দেরিতে বাড়ি ফেরায় গত ঈদে শাসিয়েছি, আর ফিরবে না : শহীদ সুজয়ের মা
শহীদ সুজয়। ফাইল ছবি

‘গত ঈদে বাড়িতে ছিল। ঈদের নামাজ শেষে কোথায় যেন ঘুরতে চলে গিয়েছিল। দেরিতে বাড়ি ফেরার কারণে অনেক শাসিয়েছি। এবারের ঈদে নাই।

আর ফিরবেও না।’

‘নিজেরা খেয়ে-না খেয়ে ছেলেকে পড়াশোনা করাচ্ছিলাম। মৃত্যুর পরে জানতে পারলাম, আমাদের ছেলে এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে।’

চোখের পানি মুছতে মুছতে কালের কণ্ঠের কাছে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিটঘর (দ. পাড়া) গ্রামের তানজিল মাহমুদ সুজয়ের মা তাহমিনা আক্তার।

একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে এবারের ঈদে বাকরুদ্ধ তার গোটা পরিবার। সুজয়ের দুই বোন এনি ও স্বর্ণা এখনও ভাইয়ের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে আছেন। তারা বলল দুষ্টুমির বয়স শেষ হয়নি আমার ভাইয়ের। এ বয়সে দেশের জন্য শহীদ হয়ে বাংলাদেশকে নতুন করে স্বাধীনতা এনে দিয়েছে।

সুজয়ের বাবা মো. সফিকুল ইসলাম আগে গাজীপুরে বেকারি ব্যবসায়ী ছিলেন। এখন আর ব্যবসা করেন না। সপরিবারে সেখানেই থাকতেন। দুই মেয়ে আছে তার। গত ঈদেও কেনাকাটা করে গ্রামের বাড়ি নবীনগরে চলে এসেছিলেন।

গ্রামের মানুষের সাথে ছেলে মেয়েদের পরিচিতি হওয়ার জন্য এমনটা করতেন তিনি।

লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হয়ে সংসারের হাল ধরবে একমাত্র ছেলে সুজয়, এমনটাই চাওয়া ছিল তার। তবে স্বপ্ন যেন স্বপ্নই রয়ে গেল। গাজীপুর ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র ছিল সুজয় (১৯)। গত ৫ আগস্ট ঢাকার আশুলিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান সুজয়।

তারপর ঢাকা থেকে চলে এসে সপরিবারে এখন গ্রামে বসবাস করছেন। এক প্রশ্নের জবাবে সুজয়ের বাবা বলেন, ‘জুলাই ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন মাধ্যম থেকে নগদ সাহায্য-সহযোগিতা পেয়েছি। তবে কী হবে তাতে? আমার ছেলে সুজয় কি আর ফিরবে?’

তিনি বলেন, ‘বাড়ির সামনে শিবপুর নামক স্থানে সরকারি জায়গায় আমার ছেলেকে ভালোবেসে সকলে মিলে সুজয় স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করছেন। কাজ চলমান আছে। এপ্রিলের ৫ তারিখ উদ্বোধন হবে।’

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ