চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে এক শিশুসহ তিনজন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। এর মধ্যে প্রেমা এনি নামে এক তরুণী হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এ ছাড়া ৭ বছরের এক শিশুকন্যা ও অপর এক যুবকের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়।
তারাও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তিনজনই শঙ্কামুক্ত নয় বলে চিকিৎসকরা জানান।
আহতদের সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দিন আজ বুধবার (২ এপ্রিল) রাত সোয়া ৮টার দিকে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শিশুটির মস্তিষ্কে আঘাত আছে। এক নারীকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আরেকজন (যুবক) অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে ভর্ভি আছে। তিনজনের অবস্থা খারাপ। এখনো কাউকে শঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না।’
হাসপাতালের ২৮ নং নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ৭ বছরের শিশু আরাধ্য বিশ্বাস এখনো জানে না দুর্ঘটনায় তার প্রিয় মা-বাবা আর বেঁচে নেই।
আরো পড়ুন
সাবেক দুই স্ত্রীকে খুশি করতে যা করলেন শাকিব খান
জানা যায়, দুর্ঘটনায় ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের দিলীপ বিশ্বাস ও তার স্ত্রী সাধনা রানী মারা গেছেন। তাদের মেয়ে দুর্ঘটনায় আহত আরাধ্য হাসপাতালের শয্যায় কাতরাচ্ছে। ভর্তির পর থেমে থেমে নিজের ও মা এবং বাবার নাম বলতে পারলেও জানে না তারা বেঁচে নেই। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে তার মা-বাবাসহ ১০ জনকে।
চমেক হাসপাতালের আইসিইউ প্রধান অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ রাত পৌনে ৯টার দিকে কালের কণ্ঠকে বলেন, আইসিইউতে ভর্তির পর থেকে ২২ বছর বয়সী তরুণী লাইফ সাপোর্টে আছে।
তার কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ফ্র্যাকচার হয়েছে। শারীরিক অবস্থা ভালো নয়।
আরো পড়ুন
লন্ডনে খালেদা জিয়ার ‘পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা’ শুরু
বুধবার সকাল ৭টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতির জাঙ্গালিয়া এলাকায় চট্টগ্রামমুখী যাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে কক্সবাজারমুখী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১০ জন নিহত এবং তিনজন গুরুতর আহত হয়। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার করে মুমূর্ষু অবস্থায় দুপুরে চমেক হাসপাতালে আনা হয় তাদের। এর মধ্যে শিশু ও তরুণীকে হাসপাতালের ২৮ নম্বর নিউরোসার্জারি বিভাগে ও যুবককে ২৬ নম্বর অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।