লামায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে পর্যটকবাহী বাসের ধাক্কা, আহত ২৫

লামা-আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি
লামা-আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি
শেয়ার
লামায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে পর্যটকবাহী বাসের ধাক্কা, আহত ২৫

বান্দরবানের লামায় একটি পর্যটকবাহী মিনিবাস দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে এক শিশু ও চালক, হেলপারসহ তিন জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে লামা-চকরিয়া সড়কের মাদানি নগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুঘর্টনায় আহত মো. নেজাম উদ্দিন জানান, তিনি ও তার পরিবারের অন্য সদস্য এবং আত্মীয়-স্বজন সবাই চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় থাকি।

ঈদ পরবর্তী ছুটি কাটানোর জন্য সকলে পাহাড়ে বেড়ানোর উদ্দেশে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া-আমিরাবাদ থেকে একটি মিনিবাসে করে লামা মিরিঞ্জা পর্যটন এলাকায় বেড়াতে আসি। আমাদের বাসটি পাহাড়ী ঢালু পথে নামার সময় গাড়ি ব্রেক ফেইল করলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা একটি গাছের সাথে গাড়িটিকে ধাক্কা দেয়। এতে করে গাড়িতে থাকা সবাই কম বেশি আহত হয়।

আহতরা হলেন, ডা. ফাহাদ বিন তৈয়ব (৩৪), মালিয়াত জাহান দুলিকা (১২), আব্দুল্লাহ মো. ওমর ফারুক (৫), আওসাফ আহনাফ সিদ্দিকি তাহজিব (১২), ফজল আহমেদ (৫৫), মো. হেলাল (৩১), তাহজীব (১২), দুলিফা (১৫), নেজাম (৪৫), তানভীর (১৫), ওয়াজিফা (১৭), নাহিদা (১৯), তারিন (১৪), শাহাদাত (৩২), মাশফিকা (২৫), শহীদ (২৫), মাশকুরা সিদ্দিকা (২০), আমজাদ হেলপার (৩০), নাজাত সিদ্দিকা (২৩), নিজাম উদ্দিন (৫২) লিটন দাশ (চালক) (২৬), জাহিদা বেগম (২৬) ও দিলরুবা সিদ্দিকা (৫০)।

 

এরমধ্যে শিশু তাহজীব, চালক লিটন ও হেলপার আমজাদসহ তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। আহতরা সবাই লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ও কলাউজানের বাসিন্দা। 

লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. সোলেমান জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এক শিশুসহ তিন জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

লামা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক রিয়াদ হোসেন জানান, বাসটি আপাতত লামা ট্রাফিকের হেফাজতে আছে। আহত সবাইকে লামা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা নিয়ে আহতরা লোহাগাড়া চলে যায়।
 

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

নাইক্ষ্যংছড়িতে বিজিবির অভিযানে ২০ বার্মিজ গরু জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
শেয়ার
নাইক্ষ্যংছড়িতে বিজিবির অভিযানে ২০ বার্মিজ গরু জব্দ
সংগৃহীত ছবি

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে ধারাবাহিক অভিযানে ২০টি বার্মিজ গরু জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রবিবার (৬ এপ্রিল) সকালে ১১ ব্যাটলিয়ান বিজিবি'র নিয়মিত টহল দল জারুলিয়াছড়ি বিওপির জোয়ানরা এসব গরু জব্দ করেন।

বিজিবি জানায়, নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এস কে এম কফিল উদ্দিন কায়েসের নির্দেশে জারুলিয়াছড়ি বিওপির জোয়ানরা সীমান্তের সড়ক সংলগ্ন হাতিরডিভা নামক স্থান থেকে এসব বার্মিজ গরু জব্দ করে।

আরো পড়ুন
বিদেশে ব্যর্থ, কৃষিতে সফল— ছিদ্দিকের উজ্জ্বল প্রত্যাবর্তন

বিদেশে ব্যর্থ, কৃষিতে সফল— ছিদ্দিকের উজ্জ্বল প্রত্যাবর্তন

 

এ বিষয়ে ১১ বিজিবি'র অধিনায়ক লে. কর্নেল এস কে এম কফিল উদ্দিন কায়েস বলেন, অভিযান টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় কোনো ব্যক্তিকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

তবে তিনি এ অভিযান চলমান থাকবে বলে জানান। 

উল্লেখ্য, জব্দকৃত বার্মিজ গরু সিজার ফরম তৈরি করা হয়েছে। বিধি মোতাবেক কাস্টমসের মাধ্যমে নিলাম দেওয়া হবে আজ কালের মধ্যে।

মন্তব্য

বিদেশে ব্যর্থ, কৃষিতে সফল— ছিদ্দিকের উজ্জ্বল প্রত্যাবর্তন

শাহীন আলম, কুমিল্লা (উত্তর)
শাহীন আলম, কুমিল্লা (উত্তর)
শেয়ার
বিদেশে ব্যর্থ, কৃষিতে সফল— ছিদ্দিকের উজ্জ্বল প্রত্যাবর্তন
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার দেবিদ্বারে প্রবাস জীবনে ব্যর্থ হয়ে কৃষিকাজে সাফল্য পেয়েছেন ছিদ্দিকুর রহমান। ২০০ শতক জমিতে করলা, টমেটো, মিষ্টি কুমড়া, কাঁচা মরিচ ও লাউ চাষ করে বছরে প্রায় দুই লাখ টাকা আয় করেন তিনি।

২০১৪ সালে ওমানে গিয়ে কাজ না পেয়ে দেশে ফিরে আসেন ছিদ্দিক। পরের বছর মালদ্বীপে গেলেও সেখানে সুবিধা করতে না পেরে পৈত্রিক পেশা কৃষিকাজে মন দেন।

বাবা জুলফু মিয়া ও ভাই রনি মিয়ার সহযোগিতায় তিনি এখন সফল একজন কৃষক।

সম্প্রতি কুরুইন গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ছিদ্দিক ও তার পরিবার জমি থেকে করলা, টমেটো ও আলু সংগ্রহ করছেন। স্থানীয় নিমসার বাজার ও হাটে এসব সবজি বিক্রি হয়। 

করলার বাম্পার ফলন হয়েছে।

পাইকারি ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, বলেন ছিদ্দিক। তিনি জানান, ২০ শতক জমিতে করলা চাষে ১৮-২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, যা থেকে ৮০-৯০ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন।

ছিদ্দিকের ভাষ্যে, বিদেশ থেকে ফিরে কৃষিকাজ শুরু করে আজ স্বাবলম্বী হয়েছি। এখন বাড়ির জন্য সবজি কিনতে হয় না।

তবে তিনি সার, বীজ ও কিটনাশকের দাম বৃদ্ধিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ছিদ্দিকের ভাই রনি মিয়া জানান, এলাকার ৫০-৬০ জন কৃষক প্রতিবছর শীত মৌসুমে লক্ষাধিক টাকা আয় করেন। দেবিদ্বার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বানিন রায় বলেন, মোহনপুর একটি কৃষিনির্ভর এলাকা। আমরা নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছি।

ছিদ্দিকের গল্প প্রমাণ করে, পরাজয়কে জয়ে রূপান্তর করা সম্ভব।

প্রবাসে ব্যর্থ হয়েও তিনি কৃষিকাজে নিজের ও সমাজের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন।

মন্তব্য
ফটিকছড়ি

ছেলের দায়ের কোপে আহত মায়ের মৃত্যু

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
শেয়ার
ছেলের দায়ের কোপে আহত মায়ের মৃত্যু

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ছেলের দায়ের কোপে গুরুতর আহত মা জুলেখা খাতুনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৬ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ভূজপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান শিপন।

মৃত জুলেখা খাতুন (৬০) ভূজপুর ইউনিয়নের ভোঁলা গাজী বাড়ির আলী আহমদের স্ত্রী।

আরো পড়ুন

৯ দিন বন্ধের পর বাংলাবান্ধায় আমদানি-রপ্তানি শুরু

৯ দিন বন্ধের পর বাংলাবান্ধায় আমদানি-রপ্তানি শুরু

 

উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

এক পর্যায়ে বড় ভাই ইয়াসিন ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছোট ভাই মাসুমের ওপর হামলা করে। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে দায়ের কোপে মা জুলেখা খাতুন গুরুতর আহত হন। এ সময় আহত হন ছোট ভাই মাসুমও।

আরো পড়ুন

‘আমার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে’, ‘আলো আসবেই’ গ্রুপ প্রসঙ্গে আইরিনের হুঁশিয়ারি

‘আমার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে’, ‘আলো আসবেই’ গ্রুপ প্রসঙ্গে আইরিনের হুঁশিয়ারি

 

গত শুক্রবার বিকালে চট্টগ্রাম নগরীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাসুমের মৃত্যু হয়।

এর তিন দিনের মাথায় আজ রবিবার আহত মা জুলেখা খাতুনকেও মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

মন্তব্য

প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে হাজতে ইমাম, এলাকায় তোলপাড়

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শেয়ার
প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে হাজতে ইমাম, এলাকায় তোলপাড়
প্রতীকী ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ১৫ বছরের প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে আব্দুল করিম (৪২) নামে এক মসজিদের ইমামকে হাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। ধর্ষণের খবরে এলাকায় তোলপাড় চলছে।  

বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি মোরশেদুল আলম চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আজ রবিবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ধর্ষণের খবর এলাকায় জানাজানি হওয়ার স্থানীয় কয়েকশ লোক ওই ঈমামকে পিটিয়ে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে শনিবার কোর্টে চালান দেয়।

পরে আদালত তাকে হাজতে পাঠান।'

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের শান্তিপুর উত্তর পাড়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদের ঈমাম আব্দুল করিম গত ১ এপ্রিল প্রথম শান্তিপুর  গ্রামের ১৫ বছর বয়স্ক ওই শারীরিক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে তার কক্ষে একা পেয়ে ধর্ষণ করেন। অভিযুক্ত ঈমামের বাড়ি বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিয়াদৌলত ইউনিয়নের তাতুয়াকান্দি গ্রামে। তার বাবার নাম ফজলু মিয়া।

তবে ধর্ষণের ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলেও কিশোরীকে হুমকি দেন।   

এ ঘটনার দু'দিন পর আবারো ঈমামের কক্ষ ঝাড়ু দিতে গেলে দ্বিতীয় দফায় তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান তিনি। সেসময় কিশোরী দৌড়ে পালিয়ে বাড়িতে  গিয়ে পরিবারের লোকজনকে সবকিছু জানায়। এক পর্যায়ে এ ঘটনা গ্রামে জানাজানি হলে শুক্রবার ওই ঈমামকে মারতে কয়েকশ গ্রামবাসী একত্রিত হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ওই ঈমামকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।

পরে শনিবার কিশোরীর মা ছালেহা বেগম বাদী হয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় ঈমামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরই শনিবার ঈমামকে আদালতে চালান দেয় পুলিশ। এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় গত দু'দিন ধরে নানা আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। 

এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী কালের কণ্ঠকে আজ দুপুরে বলেন, 'পুলিশ যথাসময়ে ইমামকে গ্রেপ্তার না করলে উত্তেজিত জনতা তাকে মেরে ফেলতো।

ওসি আরো জানান, 'ওই প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মসজিদের ইমাম এখন হাজতে।'
 

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ