জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে গোপীনাথপুর দোল পূর্ণিমার মেলায় ১০ দিনের অনুমোদন নিয়ে শর্ত ভঙ্গ করে যাত্রায় চলছিল অশ্লীল নৃত্য। এ অভিযোগে আজ বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) অনুমতি বাতিল করে মেলা ও যাত্রাপালা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জানা যায়, শিল্পকলা একাডেমির সমর্থিত গ্রামীণ যাত্রা পালা করার শর্তে জেলা প্রশাসন থেকে অনুমতি নিয়ে গভীর রাতে যাত্রায় অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শন করে আয়োজকরা। অনুমতির শর্ত ভঙ্গ করে অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
আরো পড়ুন
খারাপ কোলেস্টেরল কমায়, হার্ট রাখে সুস্থ যে খাবার
এর আগে গত মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে ওই মেলায় দুটি পুতুল নাচের (ছায়াবাজি) প্যান্ডেলে দেদারছে অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শিত হচ্ছিল। এমন অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুরুল আলম পুলিশ ফোর্স নিয়ে মেলায় গিয়ে পুতুল নাচের ওই দুটি প্যান্ডেল ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছিল।
জানা গেছে, প্রতি বছর দোল পূর্ণিমায় উপজেলার গোপীনাথপুরে ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মেলা বসে। মেলায় ঘোড়া, গরু, মহিষ, কসমেটিকস, মিষ্টান্ন থেকে শুরু করে বিভিন্ন আসবাবপত্র ক্রয়-বিক্রয় মাসব্যাপী চলে।
এবারের মেলা ১৩ মার্চ থেকে শুরু হয়। তাছাড়া রমজান মাসে হওয়াই সাংস্কৃতিক ও বিনোদনের কোনো অনুমোদন ছিল না।
গত ১ এপ্রিল থেকে যাত্রাপালায় অশ্লীলতামুক্ত শিল্পকলা একাডেমি অনুমোদিত ও হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ যাত্রা পালা করার শর্তে এবার চৈতালী অপেরা নামের একটি যাত্রাপালার অনুমোদন দেয় জেলা প্রশাসন। ১ এবং ২ এপ্রিল রাত ১১টা থেকে শুরু হয় যাত্রাপালা।
শুরুতে অশ্লীলতা না থাকলেও গভীর রাতে ওই যাত্রাপালায় অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শন করা হয়। যাত্রায় প্রদর্শিত অশ্লীল নৃত্যের ভিডিও রাতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
আরো পড়ুন
বিমসটেক সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোপীনাথপুর দোলের মেলায় যাত্রা পালার অনুমতি নেওয়ার সময় শর্ত ছিল অশ্লীলতা মুক্ত গ্রাম বাংলা থেকে হারিয়ে যাওয়া যাত্রা পালা করা হবে। যা শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃক অনুমোদিত। কিন্তু এসব শর্ত ভঙ্গ করে যাত্রাপালায় অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শন করা হয়।
এই অভিযোগে বৃহস্পতিবার অনুমতি বাতিল করে যাত্রা পালা ও মেলা বন্ধের নির্দেশ দেয় জেলা প্রশাসন।
গোপীনাথপুরের বাসিন্দা ওয়ালিউল্লাহ বলেন, ‘এই মেলাটি একটি এতিহ্যবাহী মেলা। মেলায় বিগত কয়েক বছর থেকে যাত্রাপালা বন্ধ ছিল। এবার প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে শালীন যাত্রাপালার নামে অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শন করা হচ্ছিল। এতে যুব সমাজের নৈতিকতা ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। যাত্রার নামে এসব অপসংস্কৃতি বন্ধ করায় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।’
মেলা কমিটির সভাপতি ও গোপীনাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, ‘মেলায় যাত্রার নামে অশ্লীলতার অভিযোগে মেলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসন। এর আগে অনুমতি না নিয়ে দুইটি পুতুল নাচে (ছায়াবাজি) অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শন করার তা ভেঙে গুড়িয়ে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।’
আরো পড়ুন
দাউদকান্দিতে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১
জেলা প্রশাসক আফরোজা আকতার চৌধুরী বলেন, ‘মেলায় পুতুল নাচের নামে অশ্লীলতা করায় তাৎক্ষণিক দুইটি প্যান্ডেল ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। অশ্লীলতা বিহীন সুস্থ ধারার হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ যাত্রা পালা করার শর্তে একটি যাত্রার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আয়োজকরা সেই সব শর্ত ভঙ্গ করে যাত্রা পালায় অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শন করেছেন। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে অনুমতি বাতির করে মেলা ও যাত্রাপালা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’