অর্থনীতি সমিতির কার্যালয়ে ভাঙচুর : জড়িতদের শাস্তি দাবি

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
অর্থনীতি সমিতির কার্যালয়ে ভাঙচুর : জড়িতদের শাস্তি দাবি
সংগৃহীত ছবি

সম্প্রতি বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতিতে হামলার ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি করা হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকাস্থ ইআরএফ অডিটরিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টায় সংবাদ সম্মেলনের নাম করে অর্থনীতি সমিতির কার্যালয়ে হামলা চালায় সমিতির স্বঘোষিত অ্যাডহক কমিটি। যা সম্পূর্ণ গঠনতন্ত্রবিরোধী ও বিধিবহির্ভূতভাবে গঠিত।

তার আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টার দিকে সমিতির অফিসে সশস্ত্র আক্রমণ, সিসিটিভি ভাঙচুর এবং ব্যাংকের চেক বইসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র গায়েবের ঘটনা ঘটে। এ হামলা নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে অর্থনীতি সমিতি। একই সঙ্গে এ হামলায় জড়িত ব্যক্তি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলা হয়, প্রত্যক্ষদর্শী অনেকের ভাষ্য এবং ঘটনার সময় ধারণকৃত ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই ঘটনা এবং সশস্ত্র হামলায় নেতৃত্ব দেন স্বঘোষিত অ্যাডহক কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. আজিজুর রহমান, সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ মাহবুব-ই-জামিল, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির গবেষণা পরিচালক ড. মো. নুরুজ্জামান, সাবেক সিআইডিপ্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া, সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষক মোসলে উদ্দিন রিফাতসহ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ৫০-৬০ জন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, ‘অর্থনীতি সমিতিতে আবারও ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ-যুবলীগকে পুনর্বাসনের লক্ষ্য নিয়েই যে এসব সমাজবিরোধী লোকজন একত্র হয়েছেন। তার প্রমাণ আপনারা একটু অনুসন্ধান চালালেই অবলীলায় পেয়ে যাবেন। গঠিত তথাকথিত অ্যাডহক কমিটিতে আট থেকে ১০ জনের নাম আছে, যারা অর্থনীতি সমিতির সদস্যই না।’

‘এই অ্যাডহক কমিটির কিছু সদস্য হীন উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক উপদ্ষ্টো, পদস্থ কর্মকর্তা এবং রাজনীতিবিদদের সঙ্গে ছবি তুলে সেই ছবি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে সমিতির সদস্যদের ভুল তথ্য প্রেরণ ও প্রভাবিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জুলাই-আগস্ট বিপ্লবপরবর্তী দেশের পটপরিবর্তনের পর আগের কার্যকরী কমিটি বর্তমান ২৯ সদস্যবিশিষ্ট অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির কাছে অর্থনীতি সমিতির গঠনতন্ত্র অনুসারে গত ৭ জানুয়ারি দায়িত্ব হস্তান্তর করে। অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ এবং সদস্যসচিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

এতে বলা হয়, ‘অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি বাংলাদেশের চার সহস্রাধিক পেশাজীবী অর্থনীতিবিদের স্বনামধন্য সংগঠন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির গৌরব-ঐতিয্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মধ্যে সমিতির আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তিকরণ, গঠনতন্ত্রের প্রয়োজনীয় সংশোধন, গবেষণা জার্নাল প্রকাশ ও দ্রুত একটি অবাধ নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু হীন উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের অপচেষ্টা ও অর্থনীতি সমিতির একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে স্বঘোষিত ও বিধিবহির্ভূত অ্যাডহক কমিটি দুই দফায় ন্যক্কারজনক হামলা চালায়, যা সমিতির ইতিহাসে কখনো ঘটেনি।’

অন্তর্বর্তী কমিটির আহ্বায়ক মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘সমিতির যেকোনো সদস্য যেকোনো দাবির বিষয়ে আলোচনা করতে পারেন, দাবি জানাতে পারেন।

কিন্তু এ ধরনের অপেশাদার মনোভাব নিয়ে দখল, হামলা ও জিম্মি করে কিছু আদায়ের হীন প্রচেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না।’ তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বর্তমান সরকারকে এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান।

সদস্যসচিব মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। খুব দ্রুতই একটি অবাধ সুষ্ঠ নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে এ অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি করে যাচ্ছে। নির্বাচনের মাধ্যমে যারাই ক্ষমতায় আসবেন, তাদের কাছে সমিতির দায়িত্ব তুলে দেওয়াই এই অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির মূল লক্ষ্য।’ বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সুমহান ঐতিহ্য রক্ষায় সকল সদস্যদের দায়িত্বশীল আচরণ ও সার্বিক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

লিখিত বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক প্রশ্নের জবাবে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির দীর্ঘ ইতিহাসে দেশের খ্যাতনামা সব অর্থনীতিবিদরাই নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তমানকালে সর্বজন গ্রহণযোগ্য যে কয়েকজন বরেণ্য অর্থনীতিবিদ আছেন, যাদের একাডেমিক অঙ্গনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও সর্বমহলে পরিচিতি আছে তাঁদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ্ অন্যতম। এই বিবেচনায় সবাই তাকে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির এই ক্রান্তিকালে নেতৃত্ব দেওয়ার অনুরোধ জানানোর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি অন্তর্বতীকালীন কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছেন। সবারই উচিত, তাঁকে সহযোগিতা করে অর্থনীতি সমিতিকে হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করা।’ অধ্যাপক আবু আহমেদ স্বঘোষিত অ্যাডহক কমিটির নেতৃবৃন্দকে সমিতির আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বৈধ উপায়ে অর্থনীতি সমিতি পরিচালনারও আহ্বান জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদস্য তহবিল (কোষাধ্যক্ষ) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সদস্য দপ্তর মোস্তফা সাইফুল আনোয়ার বুলবুল, সদস্য অধ্যাপক আবু আহমেদ, সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম আতিকুর রহমান, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক মোহাম্মদ নূরুল আমিন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুদ আলম।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

বনানীতে বাস উল্টে আহত ৪২

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
বনানীতে বাস উল্টে আহত ৪২
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর বনানীতে পোশাক শ্রমিকদের বহনকারী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে ৪২ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে। আজ শুক্রবার (২৮ মার্চ) ভোরে পোশাক শ্রমিকদের নিয়ে যাওয়ার সময় পরিস্থান পরিবহনের ওই বাসটি উল্টে যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বনানী থানার ওসি রাসেল সারোয়ার। এদিকে এ দুর্ঘটনার কারণে সকাল থেকে বনানী সড়কে ধীরগতিতে চলাচল করছে যানবাহন।

আরো পড়ুন
জম্মু ও কাশ্মীরে বন্দুকযুদ্ধে ৩ পুলিশ নিহত

জম্মু ও কাশ্মীরে বন্দুকযুদ্ধে ৩ পুলিশ নিহত

 

ওসি রাসেল সারোয়ার বলেন, ‘পরিস্থান পরিবহনের একটি বাস ভোরে বনানী এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় উল্টে যায়। বাসটি মূলত পোশাক শ্রমিকদের আনা-নেওয়া করত। ভোরে শ্রমিকদের নিয়ে বাসটি গাজীপুরে যাচ্ছিল। এর মধ্যে বনানীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আরো পড়ুন
২৪ ঘণ্টায় যমুনাতে কত টোল দিলেন বাইকাররা? জানাল কর্তৃপক্ষ

২৪ ঘণ্টায় যমুনাতে কত টোল দিলেন বাইকাররা? জানাল কর্তৃপক্ষ

 

তিনি আরো বলেন, ‘এ ঘটনায় ৪২ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। তবে ৬ জন বাদে বাকিরা তেমন গুরুতর আহত হননি। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাসটি ঘটনাস্থলে রয়েছে।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ গার্মেন্টস মালিক পক্ষ আহত শ্রমিকদের দেখভাল করছে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য

বায়ুদূষণ : ১২ সিসা ব্যাটারি কারখানা বন্ধ করল পরিবেশ অধিদপ্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
বায়ুদূষণ : ১২ সিসা ব্যাটারি কারখানা বন্ধ করল পরিবেশ অধিদপ্তর
সংগৃহীত ছবি

বায়ুদূষণের অপরাধে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়া এবং সাভারের আমিনবাজার এলাকার ১২টি সিসা ব্যাটারি কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। অধিদপ্তর ও যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে শুক্রবার (২৮ মার্চ) রাতে কোনাবাড়ির দুটি কারখানা সিলগালাসহ ৬টি কারখানা বন্ধ করা হয়েছে।

এসব কারখানায় অবৈধভাবে ব্যাটারি ভেঙে এবং আগুনে গলিয়ে পরিবেশ দূষণ করা হচ্ছিল। এ থেকে সৃষ্ট দূষণের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।

অভিযানকালে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য ও এলাকাবাসীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা কারখানার অবস্থান চিহ্নিত করতে সহায়তা করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেন।

অন্যদিকে, সাভারের আমিনবাজার এলাকায় অবৈধভাবে সিসা পোড়ানোর ছয়টি ভাট্টি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ অভিযানে বাংলাদেশ পুলিশ ও র‍্যাব সহযোগিতা করে।

অভিযানে অভিযোগকারী পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

অভিযানের সময় পরিবেশ অধিদপ্তর স্থানীয়দের সচেতন হতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দূষণ রোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে আহ্বান জানায়। কোথাও এমন অবৈধ কারখানা চালুর তথ্য পাওয়া গেলে পরিবেশ অধিদপ্তরকে অবহিত করার অনুরোধ করা হয়। বায়ুদূষণকারী সব ধরনের কারখানা ও কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

মন্তব্য
কমলাপুর

ভিড় থাকলেও ভোগান্তি নেই, সময়ে ছাড়ছে ট্রেন

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
ভিড় থাকলেও ভোগান্তি নেই, সময়ে ছাড়ছে ট্রেন
সংগৃহীত ছবি

এবারের ঈদ যাত্রায় নেই ট্রেনের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার চিত্র। নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে যাচ্ছে ট্রেন। ফলে নির্বিঘ্নে বাড়ির পথে রওয়ানা হতে পারছেন যাত্রীরা। শুক্রবার (২৮ মার্চ) কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে এমন চিত্র দেখা গেছে।

আরো পড়ুন

ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য কোন ফল নিরাপদ?

ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য কোন ফল নিরাপদ?

 

স্টেশনের প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের লাইনে রাখা আছে ট্রেনের রেক। কোনো কোনো প্ল্যাটফর্মে অতিরিক্ত রেকও রাখা আছে। প্রতিটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ছাড়ছে। ট্রেন ছাড়ার পর যেসব প্ল্যাটফর্ম খালি হচ্ছে, সেসব প্লাটফর্মে পরবর্তী ট্রেনগুলোর রেক এনে রাখা হচ্ছে বা কোনো ফিরতি ট্রেনের জন্য খালি রাখা হচ্ছে।

এভাবেই সময়মতো সব ট্রেন ছেড়ে যাচ্ছে। 

আরো পড়ুন

ডাব পাড়তে ডেকে নেন চাচা, সেপটিক ট্যাংকে মিলল স্কুলছাত্রের লাশ

ডাব পাড়তে ডেকে নেন চাচা, সেপটিক ট্যাংকে মিলল স্কুলছাত্রের লাশ

 

যাত্রীরা জানিয়েছেন, স্টেশনে ভোগান্তি ছাড়া এমন ঈদযাত্রা কমই পেয়েছেন। স্টেশনের ব্যবস্থাপনায় খুশি তারাও। কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসের যাত্রী তাহমিদ জীবন বলেন, আমাদের ট্রেন সাড়ে ১০টায় স্টেশন ছাড়বে।

সকাল ৯টায় এখানে এসেছি। সাড়ে ৯টায় দেখি ট্রেন প্ল্যাটফর্মে চলে আসছে। আগে অনেক দেরি হতো। এক দুই ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়তো। এখন আর সেই ভোগান্তি নেই।
সময়মতো ট্রেন ছাড়ছে। স্টেশনের ব্যবস্থাপনাও ভালো। 

আরো পড়ুন

বরিশালে সেনা সদস্যকে অপহরণের ঘটনায় বিএনপির তদন্ত কমিটি

বরিশালে সেনা সদস্যকে অপহরণের ঘটনায় বিএনপির তদন্ত কমিটি

 

এক যাত্রী হোসেন বলেন, আগেও ট্রেন ভ্রমণ করেছি। ভোগান্তির শেষ ছিল না। এবার ব্যবস্থাপনা ভালো মনে হচ্ছে। টিকিটবিহীন যাত্রী নেই। আগে দেখা যেত একজনের সিটে আরেকজন বসে আছে। ভোগান্তি ছাড়া বাড়ি যেতে ভালো লাগছে।

আরেক যাত্রী আদুরি খাতুন বলেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি যাচ্ছি। এখন শ্বশুরবাড়িতে যাচ্ছি, ঈদের পরের দিন বাবার বাড়িতে যাব। ছেলে-মেয়েরাও খুব খুশি, অনেক দিন পর বাড়ি যাচ্ছে। 

আরো পড়ুন

চোখের সুস্থতা বজায় রাখার ৫ সহজ উপায়

চোখের সুস্থতা বজায় রাখার ৫ সহজ উপায়

 

ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক শাহাদাত হোসেন জানান, ভোর থেকে সকাল সাড়ে দশটা পর্যন্ত ১৩টি আন্তঃনগর ট্রেন স্টেশন ছেড়ে গেছে। প্রতিটি ট্রেন নির্ধারিত সময়েই ঢাকা স্টেশন ছেড়েছে।

মন্তব্য

ধানমণ্ডিতে ডাকাতি : লক্ষ্য ছিল আরো বেশি সোনা লুট

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
ধানমণ্ডিতে ডাকাতি : লক্ষ্য ছিল আরো বেশি সোনা লুট
ধানমন্ডিতে ডাকাতি

রাজধানীর ধানমণ্ডিতে ‘অলংকার নিকেতন’ জুয়েলার্সের মালিক এম এ হান্নান আজাদের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ২৬ মার্চ ভোরে ২০-২৫ জনের একটি ডাকাতদল র‌্যাব, ম্যাজিস্ট্রেট ও ছাত্র পরিচয়ে অভিযানের কথা বলে ওই বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। তারা ভবন মালিক এম এ হান্নান আজাদের বাসা এবং ওই ভবনে অবস্থিত একটি অফিস থেকে স্বর্ণালংকারসহ বিপুল পরিমাণ টাকা লুটে নেয়।

ডাকাতির ঘটনায় তদন্তকারীরা জানান, ধানমণ্ডির ডাকাতিটি ছিল পরিকল্পিত।

কারণ অপরাধীরা নিজেদের র‍্যাব সদস্য, গোয়েন্দা কর্মকর্তা, তথ্য কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট এবং এমনকি ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল। ডাকাতদের লক্ষ্য ছিল একটি বড় সোনার চালান এবং টাকা লুট করা। তাদের বিশ্বাস ছিল যে ধানমণ্ডির ওই ভবনের মালিক এম এ হান্নানের কাছে বিপুল সোনা ও টাকা গোপনে রাখা ছিল।

ছয়তলা বাড়িটির পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলা ডুপ্লেক্স করে থাকেন মালিক এম এ হান্নান আজাদ।

তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় ‘এস এম সোর্সিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অফিস। দ্বিতীয় তলাও ভাড়া দেওয়া। ওই ভবনে ডাকাতির ঘটনায় ধানমণ্ডি থানায় বাদী হয়ে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী এম এ হান্নান আজাদের ভাগ্নে তৌহিদুল ইসলাম লিমন।

তৌহিদুল ইসলাম লিমন বলেন, ‘অলংকার নিকেতন জুয়েলার্সের মালিক আমার মামা এম এ হান্নান আজাদ।

তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আমি ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। ধানমণ্ডির ৮ নম্বর রোডের ছয়তলা বাড়িটিতে ২৬ মার্চ ভোর ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনটি মাইক্রোবাস এবং একটি প্রাইভেট কারযোগে ডাকাতরা দলবদ্ধভাবে বাসার সামনে আসে। তারা এসে সিকিউরিটি গার্ডদের বলে, আমরা র‌্যাবের লোক, আমাদের সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছে, এই বাড়িতে অভিযান চালানো হবে, তাড়াতাড়ি গেট খোলেন। এ সময় ডাকাতদের কয়েকজনের গায়ে র‌্যাবের কটি পরা ছিল।’

তিনি বলেন, তখন সিকিউরিটি গার্ড তাদের সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন।

কিন্তু ডাকাতরা সিকিউরিটি গার্ডদের গালাগালি করতে থাকে এবং গেট না খুললে তাদের হত্যার হুমকি দেয়। তাদের মধ্যে একজন ওপর দিয়ে উঠে জোর করে গেট খুলে ফেলে। এরপর ডাকাতরা একযোগে বাড়ির ভেতর প্রবেশ করে সিকিউরিটি গার্ড, কেয়ারটেকার শেখ রিয়াজুল ইসলাম, গাড়িচালক বিজয় মিয়াকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে। এরপর ডাকাতদল চতুর্থ তলায় এস এম সোর্সিংয়ের গেট ভেঙে পিয়ন দেলোয়ারকে মারধর করে মালিক কত তলায় থাকেন তা জানতে চায়। ডাকাতরা হত্যার ভয় দেখিয়ে দেলোয়ারের কাছে থাকা ৪৫ হাজার ১০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়।

এরপর তৃতীয় তলায় গিয়ে ডাকাতরা এস এম সোর্সিং অফিসের পিয়নদের মারধর করে চাবি ছিনিয়ে নেয়। অফিসের ড্রয়ার ভেঙে ২২ লাখ টাকা লুট করে নেয়। ডাকাতদের আরেকটি দল একই অফিসের চতুর্থ তলায় গিয়ে আলমারি ভেঙে আরো ১৩ লাখ টাকা লুট করে নেয়। সর্বশেষ অলংকার নিকেতন জুয়েলার্সের মালিক এম এ হান্নান আজাদের পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলার ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে আলমারি ভেঙে নগদ দেড় লাখ টাকা, সোনার দুল ও চেইনসহ প্রায় আড়াই ভরি অলংকার লুট করে নেয়।

ডাকাতির ঘটনায় যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা হলেন- গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের ফরহাদ বিন মোশারফ (৩৩), লক্ষ্মীপুরের ইয়াছিন হাসান (২২), নরসিংদীর মোবাশ্বের আহম্মেদ (২৩) ও নারায়ণগঞ্জ আড়াইহাজারের ওয়াকিল মাহমুদ (২৬)। তাদের কাছ থেকে স্ক্রু ড্রাইভার, স্লাই রেঞ্জ, দুটি কালো রঙের র‌্যাবের কটিসদৃশ জ্যাকেট, নগদ ৪৫ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে কয়েকজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- মো. ইব্রাহিম (৩২), আব্দুল্লাহ, ম্যাজিস্ট্রেট ও র‌্যাবের ডিআইজি পরিচয় দেওয়া জুসান আমিম, জুসানের কথিত বড় ভাই সফিকুল, জুসানের সহযোগী বাবু, ওমায়েদ, গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া আতিক ও আহসান। বাকিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি, তারাও পলাতক।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত আগস্টে অলংকার নিকেতন থেকে একটি বড় পরিমাণ সোনার গহনা চুরি হয়েছিল, যার জন্য তেজগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

তদন্তকারীরা বলেছেন, তারা এই ডাকাতির সঙ্গে আগের চুরির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা, কিংবা দোকানের কোনো কর্মচারী এর সঙ্গে জড়িত কিনা, তা খতিয়ে দেখবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ধানমণ্ডি জোনের সহকারী কমিশনার শাহ মোস্তাফা তরিকুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে তাদের ধারণা, ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী ছিল ৪-৫ জন সন্দেহভাজন। গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়েছে, যার সত্যতা পুলিশ যাচাই করছে।

গ্রেপ্তার হওয়া ওয়াকিল তদন্তকারীদের বলেছেন, তিনি এবং আরেক সন্দেহভাজন ধানমণ্ডিতে একটি রেস্তোরাঁয় সেহরি খেতে গিয়েছিলেন, তখন এক পূর্বপরিচিত তাদের ছাত্রপ্রতিনিধিদের পরিচয়ে অভিযানে যোগ দিতে বলেছিল।

তিনি আরো জানান, পুলিশ তাদের দাবির সত্যতা যাচাই করছে।

তদন্তকারীদের মতে, প্রথমে ডাকাতরা পরিকল্পনা করেছিল বড় পরিমাণ সোনা ও টাকা লুট করার। কিন্তু তারা প্রত্যাশিত পরিমাণ সোনা না পেয়ে, এস এম সোর্সিং নামে একটি বায়িং হাউসের অফিস ভাঙচুর করে এবং সেখান থেকে ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে যায়। যেহেতু তাদের চাহিদা মতো পর্যাপ্ত টাকা তারা পায়নি, তাই হান্নানকে অপহরণ করার পরিকল্পনা করে। তারা হান্নানকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করতে চেয়েছিল। তবে, স্থানীয়রা এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।

এ সময় ছয়জন নিরাপত্তাকর্মী, যাদের মধ্যে কিছু নির্মাণাধীন ভবনের নিরাপত্তা প্রহরী ছিল, তাদের সহায়তায় পুলিশ চার সন্দেহভাজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। 

আরো পড়ুন
ইউক্রেনে কেন শান্তিবাহিনী পাঠাতে চায় ফ্রান্স, ব্রিটেন?

ইউক্রেনে কেন শান্তিবাহিনী পাঠাতে চায় ফ্রান্স, ব্রিটেন?

 

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তাদেরকে ৫,০০০ টাকা পুরস্কার দিয়েছে এবং তাদের পুলিশ বাহিনীর সহায়ক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পুরস্কৃতরা হলেন— স্বপন ভুঁইয়া (২৫), বিজয় (৪০), রিয়াজুল ইসলাম (৩৪), দেলওয়ার হোসেন (২০), সিয়াম (১৮), এবং টনি (২০)।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ