রাজধানীর লালবাগে এক কলেজছাত্রী ও কামরাঙ্গীরচরে এক শ্রমিক আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার দিবাগত রাতে ও বৃহস্পতিবার সকালে আত্মহত্যা করেন তারা।
জানা গেছে, লালবাগ থানাধীন নিউ পল্টন এলাকায় স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে বুধবার রাতে বেঞ্জির আহমেদ রোজ (১৯) নামের এক কলেজছাত্রী আত্মহত্যা করেন।
মৃতের মামা ফেরদৌস আলম সায়েম বলেন, বেঞ্জির মুন্সি আব্দুর রউফ কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।
বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সবার অগোচরে নিজ রুমের দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয়। পরে দরজা ভেঙে সেখান থেকে নামিয়ে লালবাগ থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে রাত দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লালবাগ থানার এসআই নাজমুল হোসেন বলেন, মাসখানেক আগে প্রেমিক মো. ছামীর হোসেনের (২৩) সঙ্গে বিয়ে হয় মেয়েটির।
এর পর থেকে স্বামীসহ মায়ের কাছেই থাকত। তবে বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ির সঙ্গে বনিবনা হতো না। এর জেরে সবার অগোচরে অভিমানে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। এ ছাড়া অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মো. আরিফ হাওলাদার (৩৫) নামের এক স মিল শ্রমিক ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। কামরাঙ্গীরচর মাদ্রাসাঘাট মহিউদ্দিন টিম্বার স মিলে এ ঘটনা ঘটে। অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত আরিফ পিরোজপুর স্বরূপকাঠি উপজেলার পশ্চিম সোয়াগদল গ্রামের তৈয়ব আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি কামরাঙ্গীরচর সাইনবোর্ড এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা মৃতের ভাগ্নে হৃদয় সরদার বলেন, মামা প্রায় সময় মোবাইলে জুয়া খেলত। তিনি অনেক টাকা ঋণগ্রস্ত ছিলেন। কাজও করতেন না ঠিকমতো। এসব বিষয় নিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঝগড়া লেগেই থাকত।
তিনি আরো বলেন, আজ সকালে বাসা থেকে কাজের কথা বলে স মিলে গিয়ে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেন। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, মৃতদেহটি হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় অবগত করা হয়েছে।