ঈদে ঢাকা ছেড়েছেন বহু মানুষ। গ্রামে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে গেল কয়েক দিন ছিল বাস কাউন্টার, রেল স্টেশন ও লঞ্চ টার্মিনালে উপচে পড়া ভিড়। তবে সোমবার ঈদুল ফিতরের দিন রাজধানীর সড়কগুলো ছিল অনেকটাই ফাঁকা। চিরাচরিত সেই ব্যস্ততা ও গণপরিবহনের ভিড় ছিল না।
ঈদে ঢাকা ছেড়েছেন বহু মানুষ। গ্রামে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে গেল কয়েক দিন ছিল বাস কাউন্টার, রেল স্টেশন ও লঞ্চ টার্মিনালে উপচে পড়া ভিড়। তবে সোমবার ঈদুল ফিতরের দিন রাজধানীর সড়কগুলো ছিল অনেকটাই ফাঁকা। চিরাচরিত সেই ব্যস্ততা ও গণপরিবহনের ভিড় ছিল না।
দুপুরে ঢাকার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চলাচলও তুলনামূলক কম দেখা গেছে।
দুপুর ৩টার দিকে মিরপুর, বনানী, মহাখালী, বিজয়সরণি, কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা ঘুরে রাস্তা অনেকটা ফাঁকা দেখা যায়।
ঈদের দিনে ঢাকার ফাঁকা সড়কে বেপরোয়া হয়ে চলতে দেখা গেছে বাইকারদের। দিনভরই বিভিন্ন সড়কে বেপরোয়াভাবে গতির ঝড় তুলতে দেখা গেছে অনেককে।
তবে সকালের দিকে সড়কে কিছুটা ভিড় দেখা গেছে। ঈদের নামাজের জন্য অনেকেই বের হয়েছিলেন। আবার বিকেলের দিকেও মানুষের ভিড় দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
সম্পর্কিত খবর
রাজধানীর পল্লবীতে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে সংঘাত এবং গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাউনিয়াবাদ ই ব্লক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে সংঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘পারিবারিক দ্বন্দ্ব থেকে এই সংঘাতের সৃষ্টি হয়। সংঘাতে আধিপত্য বিস্তার করতে একটি গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। এতে হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ইটের আঘাতে একজনের মাথা ফেটে গেছে। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি মামলা হয়েছে।
মামলার এজাহারে আটজন নামীয়সহ আরো অন্তত ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সন্ত্রাসীদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থাকায় ছোটখাটো ঘটনাগুলোতে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষে দু-একটি গুলি ছুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করছে।
স্থানীয়রা জানান, ভাষানটেকের ইব্রাহিম ও মামুন বাহিনীর সদস্য পরিচয়দাতা বুক পোড়া সুজন, মাদক ব্যবসায়ী পাতা সোহেল, হোসেন, বাবলু ও তার ভাগিনাসহ অজ্ঞাত আরো ৮ জন এই হামলার সঙ্গে যুক্ত।
তাদের অভিযোগ, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিশেষ করে আধিপত্যের লড়াই নিয়ে পল্লবীতে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় পল্লবীবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
রাজধানীর গুলশানের কালাচাঁদপুরের এলাকার ভাড়া বাসা থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) সকাল সোয়া ৯টার দিকে গুলশান কালাচাঁদপুরের নাজিরের ম্যাচের চতুর্থ তলার কক্ষ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। মৃতের নাম নিলয় গায়েন (২৮)।
তিনি গোপালগঞ্জ জেলার মোকসেদপুর উপজেলার চাওচা গ্রামের মৃত নিখিল গায়েনের ছেলে। বর্তমানে তিনি গুলশান এলাকার কালাচাঁদপুরের ক ৩৮/৩ নাজিরের ম্যাচে থাকতেন।
সত্যতা নিশ্চিত করে গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজু আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে গুলশান কালাচাঁদপুরের ৩৮/৩ নাজিরের ম্যাচের চতুর্থ তলার কক্ষ থেকে সিলিং ফ্যানের সাথে গামছা ও চাদরের অংশ দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এসআই আরো বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এছাড়া অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাবে।
রাজধানীর খিলগাঁওয়ে পাওনা টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করায় বিষ পানে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে দিন মজুরের বিরুদ্ধে। মৃতের নাম আল-আমিন খান (২৪)। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন। ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার চাদপুর গ্রামের রইজ খানের ছেলে আল-আমিন।
সত্যতা নিশ্চিত করে খিলগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অনুপ বিশ্বাস বলেন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউর সামনে থেকে গত বুধবার দিবাগত রাত (৩ এপ্রিল) দেড়টার দিকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আল-আমিন খান কিছু টাকা ঋণ নিয়েছিলেন।
মৃতের বাবা রইজ খান বলেন, আমি যতটুকু শুনেছি, আমার ছেলে আল-আমিন তার বর্তমান বসবাসরত এলাকার এক ওষুধ ফামের্সীর দোকানীর কাছ থেকে সুদে ১৮ হাজার নিয়ে ছিল। ওই টাকার মধ্যে তিনি নিজে জন্য ১০ হাজার টাকা, আরেকজনের জন্য ৮ হাজার নিয়েছিল। যার বিনিময়ে প্রতিদিন ৬ শত টাকা করে সুদ দেয়ার কথা ছিল।
মৃতের বাবা রইজ আরও বলেন, ছেলে অসুস্থ থাকা অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় দেড় লাখ টাকার বেশি খরচ হয়। যা আমার পক্ষে দেয়া সম্ভব নয়। পরে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ধার-দেনা করে টাকা নিয়ে এসে পরিশোধ করতে হয়েছে। দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে আল-আমিন ছিল ছোট।
ধলেশ্বরী নদীর কেরানীগঞ্জের তুলসীখালী ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডেঞ্জার গ্যাংয়ের ১৬ জনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে সেনাবাহিনী। গতকাল বুধবার তাদের আটক করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কেরানীগঞ্জের তুলসীখালী ব্রিজ এলাকায় সেনাবাহিনীর টহল দল একটি কিশোর গ্যাংয়ের ১৬ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। ওই সময়ে এই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা নদীতে নৌকার ওপর উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে নাচানাচি করছিল।
নৌকাটিকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সার্চ করে সেনাবাহিনী। পরে নৌকা থেকে ১৪ জনকে আটক ও আটটি রামদা, সাতটি কুড়াল উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর টহল দল পালিয়ে যাওয়া সদস্যদের ধরতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী কর্তৃক এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।