গতকাল কালের কণ্ঠে দেশের ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের বিষয় নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যা রীতিমতো হতাশাজনক। উল্লিখিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে দেড় শতাধিক কম্পানি ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৮৩টি কম্পানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকেই হয়তো বলার চেষ্টা করবেন যে কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবেই বন্ধ হয়ে থাকে।
ব্যবসায়ীদের আতঙ্কগ্রস্ত করার সুযোগ নেই
নিরঞ্জন রায়

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে একের পর এক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে অথবা বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় আছে, তা যে একেবারেই স্বাভাবিক নয়, তা এই প্রতিবেদন থেকেই জানা গেছে। কারণ বিগত অর্থবছরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সংখ্যা ছিল ২৭৫টি, সেখানে মাত্র গত তিন মাসের মধ্যে বন্ধ হয়েছে দেড় শর বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায় যে কিছু বড় ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একটি দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার স্বার্থে এসব খবর মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়, বরং বলা চলে যথেষ্ট হতাশাজনক।
বিগত সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাস অতিবাহিত হলেও দেশের অনেক কিছুই এখনো স্বাভাবিক হয়নি। অনেক ক্ষেত্রেই বেশ অস্থিরতা বিরাজ করছে। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে সব কিছু পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে বেশ সময় লাগবে। কিন্তু যে খাতে অতিদ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে, সেটি হচ্ছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য।
কেননা এই খাতের স্বাভাবিক অবস্থার সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখার বিষয়টি। এ কারণেই অতীতে বেশ কয়েকবার সরকার পরিবর্তন হলেও ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পেরেছেন। হাতে গোনা দু-একজন ব্যবসায়ীর সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে সাময়িক কিছু অসুবিধা হলেও সব ব্যবসায়ীর মধ্যে সেভাবে আতঙ্ক দেখা যায়নি। ব্যবসায়ীদের সংগঠনের নেতৃত্বের পরিবর্তন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ব্যাবসায়িক কর্মকাণ্ড চলেছে নির্বিঘ্নে। এবারও তার কোনো ব্যতিক্রম হওয়ার কথা নয়।
এ কথা ঠিক যে অতীতের তুলনায় এখন ব্যবসায়ীরা অধিক সংখ্যায় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে। এই প্রবণতা যে শুধু আমাদের দেশেই দেখা যায় তেমন নয়, বরং সারা বিশ্বেই একই রকম অবস্থা বিরাজ করছে। ব্যবসা পরিচালনা করতে একদিকে যেমন নানা রকম প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়, তেমনি অনেক সুযোগ-সুবিধাও নিতে হয়। এসব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং সুযোগ-সুবিধার বিষয়গুলো আসে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত থেকে, বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের কাছ থেকে। আর এ কারণেই ব্যবসায়ীরা এখন অধিক সংখ্যায় রাজনীতির সঙ্গে, বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কিন্তু এই সম্পৃক্ততার কারণে যদি ব্যবসায়ীদের ঢালাওভাবে অভিযুক্ত করা হয় তাহলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে। অবশ্য যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ আছে, তাদের কথা ভিন্ন। অপরাধ করে থাকলে তাদের বিচার হতেই পারে। কিন্তু দেশের ব্যাবসায়িক কার্যক্রমে যাতে বিঘ্ন না ঘটে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে।
ব্যবসায়ীরা দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। একজন ব্যবসায়ী একাধারে বিনিয়োগকারী, ঝুঁকি গ্রহণকারী, কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী এবং সর্বোপরি দেশের দ্রব্য ও সেবা সরবরাহকারী। এ কারণেই দেশের ব্যবসায়ীরা যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে দেখা যায় বিনিয়োগে স্থবিরতা নেমে আসে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না, এমনকি বেকারত্ব বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে দেশের অর্থনীতিতে নানামুখী সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে। তা ছাড়া ব্যবসা এমন এক ধরনের কার্যক্রম, যার পারিপার্শ্বিক প্রভাব (ডেমোনেসস্ট্রেটিভ ইফেক্ট) অনেক বেশি। অর্থাৎ যখন ব্যাবসায়িক খাতে ভালো বা সহায়ক অবস্থা বিরাজ করে তখন নতুন বিনিয়োগ আসে। কারণ অনেকেই তখন বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হন। ঠিক এর বিপরীত অবস্থার সৃষ্টি হয় যখন ব্যবসা ক্ষেত্রে হতাশা বা আতঙ্ক বিরাজ করে। অর্থাৎ যখন ব্যবসায়ীদের মাঝে হতাশা বা আতঙ্ক বিরাজ করে এবং এ কারণে অনেক ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়, তখন নতুন ব্যবসার আগমন তো হয়-ই না, উল্টো ভালো অবস্থানে থাকা অনেক ব্যবসাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এসব কারণে কোনো পরিবর্তনের পর যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, দেশের ব্যাবসায়িক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। এই প্র্যাকটিস বিশ্বের সর্বত্রই অনুসৃত হয়। আমেরিকার সবচেয়ে বড় ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ইলন মাস্ক সরাসরি ট্রাম্পের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং ক্রমাগত ডেমোক্র্যাটের সমালোচনা করে চলেছেন। এমনকি মাস্ক এক পর্যায় ট্রাম্পের প্রচারণা তহবিলে পর্যাপ্ত অনুদান প্রদানের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। কিন্ত আমেরিকার বর্তমান বাইডেন সরকার ইলন মাস্কের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপের কথা কল্পনাও করতে পারে না। শুধু তা-ই নয়, আমেরিকার গত নির্বাচনে প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছিল ফেসবুকের বিরুদ্ধে। এর বড় অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও নামমাত্র কংগ্রেসের শুনানি ব্যতীত কোনো রকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গৃহীত হয়নি ফেসবুকের বিরুদ্ধে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের ব্যবসায়ীদেরও একই অবস্থা। সেখানে বৃহৎ ব্যবসায়ীরা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও এমন সিদ্ধান্ত কখনো নেওয়া হয় না, যাতে সেখানকার ব্যাবসায়িক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হতে পারে। একই অবস্থা আমাদের দেশেও অতীতে বিরাজ করেছে।
অনেক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আমাদের দেশে বেশ কিছু বৃহৎ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে এবং এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ সুনামও কুড়িয়েছে। কোনো কারণে যদি এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে দেশের অর্থনীতিতে যে মাপের ক্ষতি হবে তা আগামী কয়েক দশকেও পূরণ হবে না। অন্যান্য পেশার মতো উদ্যোক্তাও এমন এক পেশা, যা দীর্ঘদিন ধরে গড়ে তুলতে হয়। শুধু অর্থ থাকলেই উদ্যোক্তা হওয়া যায় না। এ জন্য প্রয়োজন অনেক সাধনা ও অঙ্গীকার। কেউ যদি মনে করেন যে একটি ব্যবসায়ী গ্রুপ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আরো অনেক নতুন গ্রুপ দাঁড়িয়ে যাবে। বিষয়টি মোটেই এত সহজ নয়।
দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যদি হতাশা ও আতঙ্ক বিরাজ করে, তাহলে যে শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তেমন নয়, বিদেশি বিনিয়োগও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সম্প্রতি আমেরিকার ওষুধ প্রস্তুতকারী কম্পানির এক পরিচালকের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। এই ওষুধ কম্পানির ভালো বিনিয়োগ আছে বাংলাদেশে। সাম্প্রতিক অবস্থার কারণে তাঁকে বেশি উদ্বিগ্ন হতে দেখেছি। বাস্তবতা হচ্ছে যেকোনো পদক্ষেপের কারণে যদি দেশের ব্যবসায়ীদের মাঝে হতাশা বা আতঙ্ক বিরাজ করে, তাহলে দেখা যাবে দেশে আশঙ্কাজনকভাবে বিনিয়োগ হ্রাস পাবে। ফলে বেকারত্ব বৃদ্ধি পাবে, দেশের সরবরাহব্যবস্থায় সংকট তৈরি হবে এবং সেই সঙ্গে খেলাপি ঋণের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে। সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
এই বিষয়গুলো আমাদের মতো সাধারণ মানুষ যেহেতু বোঝে, তাই বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যে বুঝবে না, তেমন নয়। বিশেষ করে প্রধান উপদেষ্টা একজন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ, যিনি দেশের ও বিশ্বের ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি-প্রকৃতি অন্য যে কারো চেয়ে অনেক বেশি ভালো বোঝেন। তদুপরি অর্থ উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর দুজনেই প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ, যাঁরা ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে অনেক বেশি ভালো জানেন এবং তাঁরা অনেক বিষয় নিয়ে অতীতে বিভিন্ন ফোরামে কথা বলেছেন এবং লিখেছেনও অনেক। তাই তাঁরা ব্যবসায়ীদের বর্তমান হতাশা এবং অসহায়ত্বের বিষয়টি বুঝবেন এবং এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে দেবেন না, যাতে দেশের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং ব্যবসা গুটিয়ে নেন। একটি বিষয় সবাইকে মনে রাখতে হবে যে আমরা এখন গ্লোবাল ভিলেজে বাস করি। ব্যবসায়ীদের সাদরে গ্রহণ করার জন্য অনেক দেশ উদগ্রীব হয়ে বসে আছে। যেমন— ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে উরুগুয়ে নানা রকম সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণ জানিয়ে চলেছে। তাই এমন কোনো অবস্থার সৃষ্টি করা ঠিক হবে না যে দেশের ব্যবসায়ীরা অন্যত্র ব্যবসা স্থাপনের চিন্তা করতে পারে।
মানুষ মাত্রই ভুলত্রুটি থাকে। দেশের ব্যবসায়ীরাও মানুষ, তাই তাদেরও ভুলত্রুটি থাকা স্বাভাবিক। এসব ভুলত্রুটি শুধরে স্বাভাবিক ব্যাবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে দেশের অর্থনীতি লাভবান হবে। সেই সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও যেমন লাভবান হবে, তেমনি আগামীতে নির্বাচনের মাধ্যমে যাঁরা ক্ষমতায় আসবেন, তাঁদের জন্যও কাজটি সহজ হবে। তাই অন্তর্বর্তী সরকার এবং দেশের রাজনৈতিক দলের উচিত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে তাদের আশ্বস্ত করা এবং তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা, যাতে তাঁরা তাঁদের ব্যাবসায়িক কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে পারেন। তা না হলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনীতির এমন ক্ষতি হবে, যার খেসারত শুধু যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে দিতে হবে তেমন নয়, আগামীতে যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবেন তাঁদেরকেও দিতে হবে। যার আলামত এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে। লেখার প্রারম্ভে যে প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেছি সেখানে যে দেড় শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মাত্র দুই মাসের মধ্যে বন্ধ করার সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ আছে, তা মূলত দেশের ব্যাবসায়িক খাতে বিরাজমান হতাশা বা আতঙ্কেরই পরিণতি। শুধু তা-ই নয়, বন্ধ হয়ে যাওয়ার তালিকায় বেশ কয়েকটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠান যেমন আছে, তেমনি অসংখ্য সাধারণ মানের ব্যবসাও আছে, যা মোটেই ভালো লক্ষণ নয়। তাই বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে এমন পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, যেসব পদক্ষেপের কারণে দেশের ব্যবসায়ীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়। কেননা ব্যবসায়ীদের আতঙ্কগ্রস্ত করার কোনো সুযোগ নেই।
লেখক : সার্টিফায়েড অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং স্পেশালিস্ট ও ব্যাংকার, টরন্টো, কানাডা
nironjankumar_roy@yahoo.com

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল জিবলি আর্ট আসলে কী?
অনলাইন ডেস্ক

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় জিবলি আর্ট বেশ ট্রেন্ডিং হয়ে উঠেছে। যেখান এআই চ্যাট জিপিটি দিয়ে জিবলি স্টাইলে ছবি তৈরি হচ্ছে। কিন্তু অনেকেই জানেন না, জিবলি আসলে কী।
জিবলি হচ্ছে জাপানের বিখ্যাত অ্যানিমেশন স্টুডিও।
স্টুডিও জিবলির যাত্রা
১৯৮৫ সালে দুই কিংবদন্তি অ্যানিমেটর হায়াও মিয়াজাকি ও ইসাও তাকাহাতার হাত ধরে শুরু হয় স্টুডিও জিবলির যাত্রা। তাঁদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি নতুন ধরনের অ্যানিমেশন তৈরি করা যেখানে জাপানের সংস্কৃতি, লোককথা, ইতিহাস ও আবেগ একসাথে প্রকাশ পাবে।
মিয়াজাকির অমর সৃষ্টি
স্টুডিও জিবলির অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হায়াও মিয়াজাকি।
My Neighbor Totoro, Spirited Away, Howl’s Moving Castle, Princess Mononoke—এই চলচ্চিত্রগুলো সবই আলাদা আলাদা গল্প হলেও, প্রতিটি গল্পে সৌন্দর্য ও গভীরতার মেলবন্ধন রয়েছে। ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত Spirited Away অস্কার জিতেছিল। জাপানে মিয়াজাকিকে কিংবদন্তি হিসেবে স্মরণ করা হয়।
জিবলি আর্ট কেন এত জনপ্রিয়?
স্টুডিও জিবলির অ্যানিমেশন চিত্রশৈলী বাস্তব ও কল্পনার এক মিশ্রণ।
মিয়াজাকি ও এআই
২০১৬ সালে মিয়াজাকি এআই এর মাধ্যমে ছবি আঁকার বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর মতে, এটি দ্বারা জিবলির অ্যানিমেশন স্টাইল অনুকরণ করা মূলত শিল্পীদের কাজের অপমান। তিনি বলেছিলেন, ‘যারা এআই দিয়ে ছবি আঁকছে, তারা জানে না কষ্ট কী। আমার মতে, এটা হওয়া উচিত নয়; এটি দুঃখজনক।‘
জিবলির অ্যানিমেশন ও এর স্রষ্টার চিন্তা-ভাবনা সম্পর্কে একবার ভাবুন, যখন আপনি এই ট্রেন্ডে গা ভাসাচ্ছেন।
সূত্র : আজতক বাংলা

বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
অনলাইন ডেস্ক

আইনজ্ঞ, চিন্তাবিদ, নির্ভীক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ১৯৭৯ সালের ৩ এপ্রিল ইন্তেকাল করেন। ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দের ১১ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। মাহবুব মোর্শেদ কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে অর্থনীতিতে বিএ (অনার্স), কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে এমএ এবং ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন।
লন্ডনের লিংকন্স ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে আইনব্যবসা শুরু করেন। ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ঢাকা হাইকোর্ট বারে যোগ দেন। ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে মাহবুব মোর্শেদ হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন। ১৯৬২-৬৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ছিলেন।
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালনের পাশাপাশি ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে যুক্তফ্রন্ট গঠনে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখেন।
রবীন্দ্র শতবার্ষিকী উদযাপন প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি হিসেবে ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তিনি ঢাকায় রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী পালনে উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করেন। আইয়ুব খানের শাসনকালে গণতান্ত্রিক অধিকার যখন বাধাগ্রস্ত, তখন মানুষের মৌলিক অধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আদালতের আসন থেকেই তিনি সংগ্রাম করেছিলেন।
১৯৬৯-এর আইয়ুববিরোধী গণআন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তিনি ছাত্র সমাজের ১১-দফার প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারের জন্য সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। ওই বছরই আইয়ুব খান আহূত গোলটেবিল বৈঠকে তিনি পূর্ব বাংলার ছয়দফা ভিত্তিক স্বায়ত্তশাসন ও সংসদীয় গণতন্ত্রের দাবি জানিয়ে বক্তব্য পেশ করেন। উপরোন্তু, প্রাদেশিক গভর্নর মোনায়েম খানের প্রশাসনের সঙ্গে তার সংঘাতের কথা তখন সুবিদিত ছিল। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের স্বাধীনতা সংগ্রামে পাকিস্তানি শাসকচক্রের জুলুম-নির্যাতনের প্রতিবাদ করে তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষাবলম্বন করেন।
আইনজীবী হিসেবে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করলেও দক্ষ বিচারক হিসেবেই মাহবুব মোর্শেদের খ্যাতি সুদূর প্রসারিত। বিচারপতির মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য তিনি কঠোর প্রয়াস চালিয়েছেন।
‘মন্ত্রীর মামলা’, ‘কর্নেল ভট্টাচার্যের মামলা’ ও ‘পানের মামলা’-য় তার ঐতিহাসিক রায় একজন অকুতোভয় বিচারকের ন্যায়নিষ্ঠার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

পিরামিডের গাণিতিক রহস্য, প্রকৌশল না কি অলৌকিকতা?

প্রাচীন মিশরের স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন হওয়ার পাশাপাশি পিরামিড বিস্ময়কর গাণিতিক রহস্যও বহন করে। হাজার বছর আগে আধুনিক প্রযুক্তির অনুপস্থিতিতেও কীভাবে মিশরীয়রা এত নিখুঁত গাণিতিক হিসাবের মাধ্যমে পিরামিড নির্মাণ করেছিল, তা আজও গবেষকদের ভাবিয়ে তোলে। চলুন, জেনে নিই পিরামিডের কিছু চমকপ্রদ গাণিতিক রহস্য।
‘পাই’ ও ‘ফাই’এর উপস্থিতি
গ্রেট পিরামিডের উচ্চতা ও পরিধির অনুপাত প্রায় ৩.১৪১।
পৃথিবীর মাত্রা ও পিরামিড
গ্রেট পিরামিডের উচ্চতা ১৪৬.৬ মিটার।
সূর্য ও জ্যোতির্বিজ্ঞান
পিরামিডের নকশায় সূর্যের অবস্থান, নক্ষত্রের চলাচল ও ঋতুর পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিছু গবেষক দাবি করেন, এটি জ্যোতির্বিদ্যার জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হয়েছিল।
গণিতের নিখুঁত ব্যবহার
গ্রেট পিরামিডের প্রতিটি পাথরের ওজন প্রায় ২.৫ টন। পুরো পিরামিডে প্রায় ২৩ লাখ পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। যদি প্রতিদিন ১০টি পাথর বসানো হতো, তাহলে পুরো পিরামিড তৈরি হতে ৬৩ বছর লাগত। এটি কীভাবে মাত্র ২০ বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছিল, তা এক বিশাল প্রশ্ন।
জ্যামিতিক নিখুঁত গঠন
পিরামিডের প্রতিটি কোণ প্রায় ৫১.৮৪ ডিগ্রি। যা প্রকৌশলগতভাবে স্থিতিশীল একটি কাঠামো গঠনের জন্য আদর্শ। আশ্চর্যের বিষয় হলো, আজকের আধুনিক স্থাপত্যশাস্ত্রেও এই কোণটি ব্যবহৃত হয়।
পিরামিড শুধু রাজাদের সমাধি নয়, বরং এটি এক গাণিতিক বিস্ময়। প্রাচীন মিশরীয়রা কীভাবে এত নিখুঁত গণনা করতে পারত, তা এখনো রহস্য। এটি কি শুধুই গণিত ও প্রকৌশলের ফল, নাকি এর পেছনে আরো গভীর কোনো গোপন রহস্য লুকিয়ে আছে? গবেষকরা এখনো এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন।
সূত্র : ব্রিটানিকা

কেমব্রিজের এপ্রিল ফুলে বোকা বনল বিশ্ব
অনলাইন ডেস্ক

কেমব্রিজ ডিকশনারি কর্তৃপক্ষের এপ্রিল ফুলে বোকা বনে গেল বিশ্ব।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বিশেষ ঘোষণায় কেমব্রিজ ডিকশনারি কর্তৃপক্ষ জানায়, ইংরেজি বর্ণমালা থেকে কিউ (Q) বর্ণটি বাদ দেওয়া হচ্ছে।
ওই ঘোষণায় কেমব্রিজ ডিকশনারি কর্তৃপক্ষ বলছে, “আমাদের কমিউনিটির সদস্যরা সব সময় ইংরেজি বানান নিয়ে সমস্যায় পড়েন, বিশেষ করে ‘কিউ’ বর্ণ দিয়ে বানান করা শব্দগুলোর ক্ষেত্রে। তাই আমরা কেমব্রিজ ডিকশনারি থেকে ‘কিউ’ বর্ণটি সরিয়ে ফেলব।
তবে ‘কিউ’ বর্ণের পরিবর্তে অন্য কোন বর্ণ ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে কেমব্রিজ ডিকশনারি কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্তমানে ‘কিউইউ’ দিয়ে বানান করা সব শব্দের পরিবর্তে ‘কে’ অথবা ‘কেডব্লিউ’ দিয়ে বানান করা হবে। উদাহরণস্বরূপ, kwiet, ekwipment এবং antike।
তবে কেমব্রিজ ডিকশনারি কর্তৃপক্ষ ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে ‘এপ্রিল ফুল ডে’ লেখা লিংক শেয়ার করেছেন। দেখতে এখানে ক্লিক করুন।