ঈদুল ফিতরের মধ্যেও গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। গত দুই দিনে গাজায় ইসরায়েলের হামলায় কমপক্ষে ৮০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩০৫ জন। সোমবার (৩১ মার্চ) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
ঈদুল ফিতরের মধ্যেও গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। গত দুই দিনে গাজায় ইসরায়েলের হামলায় কমপক্ষে ৮০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩০৫ জন। সোমবার (৩১ মার্চ) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
খবরে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পর থেকে গাজায় ১,০০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। এর ফলে অবরুদ্ধ এই উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা ৫০ হাজার ৩৫০ ছাড়িয়ে গেছে।
খবরে বলা হয়, ঈদুল ফিতরের প্রথম দিন ৫৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং ১৮৯ জন আহত হন। টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ যুদ্ধবিরতি ভেঙে শুরু করা ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ১,০০১ জনে পৌঁছেছে এবং ২,৩৫৯ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত চালানো ইসরাইলের হামলায় নিহত ৫০ হাজার ৩৫৭ ফিলিস্তিনি এবং আহতের সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ১৪ হাজার ৪০০ জনে পৌঁছেছে।
দীর্ঘ ১৫ মাস সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল। তারপর প্রায় দু’মাস গাজায় কম-বেশি শান্তি বজায় ছিল; কিন্তু গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নে হামাসের মতানৈক্যকে কেন্দ্র করে চলতি মাসের তৃতীয় গত সপ্তাহ থেকে ফের গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল।
সম্পর্কিত খবর
যুক্তরাষ্ট্রে শনিবার প্রায় এক হাজার ২০০টি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী, এটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার ধনকুবের উপদেষ্টা ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে এক দিনে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ হবে।
এদিকে ‘হ্যান্ডস অফ!’ শিরোনামের এ বিক্ষোভ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ইউরোপে বসবাসকারী শত শত ট্রাম্পবিরোধী মার্কিন নাগরিক বার্লিন, ফ্রাংকফুর্ট, প্যারিস ও লন্ডনের রাস্তায় জড়ো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিতে ট্রাম্পের ব্যাপক পরিবর্তনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। প্যারিসের রিপাবলিক স্কয়ারে প্রায় ২০০ মানুষ নানা স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে জড়ো হন, যাদের অধিকাংশই মার্কিন।
ফ্রাংকফুর্টে ডেমোক্র্যাটস অ্যাব্রড সংগঠনের মুখপাত্র টিমোথি কাউটজ বলেন, ‘আমাদের আজ যুক্তরাষ্ট্রের হাজারো শহরে অনুষ্ঠিতব্য বিক্ষোভের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতেই হবে।’
বিক্ষোভকারী হোসে সানচেজ বলেন, ‘ট্রাম্প একজন প্রতারক, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র ধ্বংস করছেন।’
এই আন্দোলনের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতিতে একের পর এক রক্ষণশীল পরিবর্তনের বিরুদ্ধে গণ-অসন্তোষ প্রকাশের সুযোগ পাবেন বিরোধীরা।
হোয়াইট হাউস ট্রাম্প বা মাস্কের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য দেয়নি।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণের জন্য প্রায় ১৫০টি অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপ নিবন্ধন করেছে। প্রতিবাদগুলো ৫০টি অঙ্গরাজ্য ছাড়াও কানাডা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, মেক্সিকো ও পর্তুগালে অনুষ্ঠিত হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০ জানুয়ারি ফের দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর নির্বাহী আদেশ ও অন্যান্য পদক্ষেপের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছেন, যাকে অনেক সমালোচক ‘প্রজেক্ট ২০২৫’ নামে গভীর রক্ষণশীল রাজনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, যার লক্ষ্য সরকারকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানো ও প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা শক্তিশালী করা। তবে বিভিন্ন মামলা ও আইনি বাধায় তার অনেক উদ্যোগই আটকে আছে, যার মধ্যে রয়েছে সরকারি কর্মীদের বরখাস্ত করা, অভিবাসীদের বিতাড়নের চেষ্টা এবং রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের অধিকার প্রত্যাহার।
প্রতিবাদকারীরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন, তিনি সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবামূলক কর্মসূচি কাটছাঁট করতে চাইছেন। তবে হোয়াইট হাউসের সহকারী প্রেসসচিব লিজ হিউস্টন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, তিনি সব সময় উপযুক্ত নাগরিকদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা, মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সুরক্ষিত রাখবেন।
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিক্ষোভ দমন নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচকরা প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছেন। তারা ওয়াশিংটনে পৃথক মিছিলের পরিকল্পনা করছেন।
২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে নারীদের বিশাল সমাবেশের মধ্য দিয়ে বিরোধিতা শুরু হয়েছিল। এবারের প্রতিবাদ কিছুটা ছোট হলেও সংগঠকরা বলছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরেই বড় পরিসরে একটি অভিন্ন প্রতিবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
২০১৬ সালে ট্রাম্পের প্রথম নির্বাচনের পর গঠিত ইনডিভিজিবল এবার আরো কয়েকটি প্রগতিশীল সংগঠনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে, যার মধ্যে রয়েছে মুভঅন, ওয়ার্কিং ফ্যামিলিজ পার্টি, সার্ভিস এমপ্লয়িজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন (যা প্রায় ২০ লাখ কর্মীকে প্রতিনিধিত্ব করে), মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ক্যাম্পেইন ও পরিবেশবাদী গ্রিনপিস।
ঋতুস্রাব বা পিরিয়ড নারীর বেড়ে ওঠার স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। কিন্তু এটি পরিবার বা সমাজে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে জায়গা করে নিতে পারেনি। ঋতুস্রাবের কারণে নবরাত্রি পালন না করতে পেরে ভারতের এক নারী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর প্রদেশের ঝাঁসির ৩৬ বছর বয়সী প্রিয়াংশা সোনি নবরাত্রি ও দেবী দুর্গারপূজার পরিকল্পনা করেছিলেন।
ফুল, ফল, মিষ্টি, প্রদীপ ও শস্য—সব কিছু নিয়ে পূজা করতে প্রস্তুত ছিলেন প্রিয়াংশা। কিন্তু নবরাত্রির প্রথম দিন গত ৩০ মার্চ ঋতুস্রাব শুরু হয় তাঁর। এক বছর ধরে এদিনের অপেক্ষায় থাকা প্রিয়াংশা কষ্টে ভেঙে পড়েন।
প্রিয়াংশার স্বামী মুকেশ সোনি বলেন, ‘প্রিয়াংশা এক বছর ধরে নবরাত্রির জন্য অপেক্ষা করছিল। এখন যখন সব কিছু গুছিয়ে নিল, সে সময় ঋতুস্রাবের কারণে পূজা বা উপবাস করা সম্ভব হলো না। এ নিয়ে সে খুব চিন্তায় পড়ে যায়, কিভাবে সব কিছু করা যাবে। তাঁকে বোঝালেও সে বুঝতে চায়নি।
মুকেশ কাজের জন্য বের হলে প্রিয়াংশা আবার কান্নাকাটি শুরু করেন। খবর পেয়ে বাড়ি ফিরে আসেন মুকেশ। পরে বুঝিয়ে শান্ত করে আবার কর্মক্ষেত্রে গেলে সেসময় প্রিয়াংশা বিষপান করেন। অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মুকেশ সোনি বলেন, ‘রাত আড়াইটার দিকে প্রিয়াংশার বমি শুরু হয়। পিঠে ব্যথা হচ্ছে বলতে থাকে। ভেবেছিলাম পিরিয়ডের কারণে। হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। পরদিন দুপুরেও ভালো ছিল। দেড়টার কিছু সময় পর তাঁর জন্য জুস নিয়ে এসে দেখি অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। এর ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে সে মারা যায়।’
প্রিয়াংশা—মুকেশ দম্পতির ৩ বছর বয়সী ও ২ বছর বয়সী দুটি কন্যাশিশু রয়েছে।
মিসর সফরে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে দুই দেশের ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে কাজে লাগাতে চান। অন্যদিকে অ্যাক্টিভিস্টদের চাওয়া, কায়রোতে ম্যাখোঁ মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলবেন।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ রবিবার তিন দিনের কায়রো সফরে যাচ্ছেন। মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাতেহ আল-সিসির সঙ্গে নানা ইস্যুতে বৈঠক করবেন তিনি।
ফরাসি প্রেসিডেন্টের দপ্তর এলিসি প্যালেসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘সিরিয়া ও প্রতিবেশী দেশ লিবিয়া, সুদান ও ইসরায়েল—আমরা এই অঞ্চলের সংকট নিয়ে কথা বলব।’
আরববিশ্বের সঙ্গে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করার দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে ফ্রান্সের।
এই সফরের আনুষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্থনৈতিক সহযোগিতা। কিন্তু বাস্তবে সবার দৃষ্টি রয়েছে গাজার দিকে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে হামলা করার পর ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় পাল্টা অভিযান শুরু করে। হামাসের হামলায় এক হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত ও দুই শতাধিক মানুষ জিম্মি হয়। জিম্মিদের কয়েকজন এখনো হামাসের হাতে আটক রয়েছেন। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের আক্রমণে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
এলিসি প্যালিসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘আমরা একটি যুদ্ধবিরতি ও যুদ্ধের সম্ভাব্য সমাপ্তি নিয়ে কথা বলব।’ পাশাপাশি ফ্রান্স ও মিসরের মধ্যে একটি কৌশলগত অংশীদারি জোরদার করার লক্ষ্যও ম্যাখোঁর রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আরববিশ্বে ফ্রান্সের ভূমিকা কী?
সাবেক সাংবাদিক ও বর্তমানে রাজনৈতিক পরামর্শদাতা এইকে কনসিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ এল কেই মনে করেন, ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে মিসর ও আরববিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগে ফ্রান্স এগিয়ে রয়েছে।
ডিডব্লিউকে তিনি বলেন, ‘কয়েক দশক ধরে ফরাসি-মিসরীয় সম্পর্ক চমৎকার। অনেক ফরাসি কম্পানি মিসরে সক্রিয় এবং সেখানে তাদের কয়েক হাজার কর্মী রয়েছে। এ ছাড়া ২০১৫ সালে প্রথম দেশ হিসেবে ২৪টি রাফায়েল যুদ্ধবিমান কিনেছিল মিসর, যা অন্যান্য দেশে বিমান রপ্তানির পথ প্রশস্ত করেছিল।’ এখনো ফরাসি সামরিক সরঞ্জামের অন্যতম প্রধান আমদানিকারক দেশ মিসর।
এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট শার্ল ডি গলের মধ্যপ্রাচ্যনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা এই জেনারেল মধ্যপ্রাচ্যে মধ্যপন্থী কৌশল অনুসরণ করেছিলেন। এই কৌশলের ফলে রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়া হলেও সেটি নিঃশর্ত ছিল না। ডি গল ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়েছিলেন এবং ১৯৬৭ সালের জুনে মিসরে হামলা চালিয়ে ছয় দিনের যুদ্ধ শুরু করার পর ইসরায়েলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছিলেন। আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে ডি গল সতর্ক অবস্থান নিয়েছিলেন।
এল কেই ব্যাখ্যা করেন, ‘আরববিশ্বে, বিশেষ করে মিসরে ফ্রান্সকে অত্যন্ত সম্মান দিয়ে দেখার এটি আরেকটি কারণ।’
১৯৯৫ সাল থেকে এলিসি প্যালেসে প্রবেশ ও সংবাদ সংগ্রহের অনুমতি রয়েছে সাংবাদিক খালেদ সাদ জাঘলুলের। এই প্রবণতাটি তিনিও প্রত্যক্ষ করেছেন।
মিসরীয় পরামর্শদাতা জাঘলুল ডিডব্লিউকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জ্যাক শিরাক, নিকোলাস সারকোজি, ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ ও এখন ইমানুয়েল ম্যাখোঁ—সবাই সপ্তাহে অন্তত একবার কায়রোর সঙ্গে পরামর্শ করেছেন। ১৯৭৯ সালে মিসর ও ইসরায়েলের মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তির পর থেকে কায়রোকে একটি গ্রহণযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখা হয়ে আসছে।’
সেই সময় মিসর ছিল প্রথম আরবদেশ, যারা তথাকথিত ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়।
অনিশ্চিত রাজনৈতিক সময়ে মিসরে ফরাসি রাষ্ট্রীয় সফর
লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ফাওয়াজ গার্গেসের কাছে আসন্ন সফরের সময়কালটাও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নেতৃত্বে শূন্যতার সময়ে পশ্চিমা নেতা হিসেবে বিশ্ব মঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে ম্যাখোঁর। যুক্তরাষ্ট্র এখন অসংলগ্ন বলে মনে হচ্ছে। জোট সরকার গঠনের আলোচনার নিজেদের সুশৃঙ্খল করার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে জার্মানি। ইতালি ও যুক্তরাজ্যের মতো মধ্যপ্রাচ্যে ফ্রান্সের উপস্থিতিও কম।’
মিসর এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ১১ কোটি এবং আফ্রিকা, এশিয়া ও ইউরোপের সংযোগস্থলে এর অবস্থান। গার্গেস বলেন, ‘মিসরে যা ঘটে তার সুদূরপ্রসারী পরিণতি রয়েছে। অভিবাসনের দিক থেকে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে অনেক শরণার্থীকে গ্রহণ করে দেশটি। লিবিয়ার মতো শরণার্থীরা (ইউরোপের দিকে) এগিয়ে যায় না। এমন একটি অঞ্চলে স্থিতিশীলতার আশ্রয়স্থল হিসেবে মিসরকে দেখা হয়, যে অঞ্চলে গৃহযুদ্ধ ও সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী রয়েছে।’
সাংবাদিক জাঘলুল বলেন, মিসর সব আঞ্চলিক সংঘাতে মধ্যস্থতার ভূমিকা নেয়। তিনি আরো বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে বলা হয়, মিসর ছাড়া আপনি যুদ্ধ বা শান্তি স্থাপন করতে পারবেন না, আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে এই জাতি একটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।’
‘ফ্রান্স, ইইউ ও মিসরকে চাপ তৈরি করতে হবে’
মার্চের শুরুতে আরব লীগের ২২টি সদস্য রাষ্ট্র মিসরের রাজধানীতে বৈঠকে বসে। পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে গাজা পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনায় একমত হয় দেশগুলো। একমত হওয়া অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে বাসিন্দাদের গাজাতেই থাকতে দেওয়া এবং পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে দিয়ে গাজা পরিচালিত করার সিদ্ধান্তও ছিল।
এই প্রস্তাবটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফিলিস্তিনিদের মিসর ও জর্দানে স্থানান্তরিত করার পরিকল্পনার সম্পূর্ণ বিপরীত।
এলিসির মুখপাত্র জানান, ‘আরব পরিকল্পনা আলোচনার জন্য একটি ভালো ভিত্তি, তবে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ও গাজার ভবিষ্যৎ সরকার গঠনের ক্ষেত্রে এটি সম্প্রসারিত করা প্রয়োজন।’
তিনি আরো বলেন, এই সফরের ফলাফল পরবর্তীতে ওয়াশিংটনের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
ফ্রান্স ও সৌদি আরবও এই জুনে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের ওপর একটি সম্মেলনের পরিকল্পনা করছে। সাদ জঘলুল আশা করেন, ম্যাখোঁর এই সফর ফলপ্রসূ হবে। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ফ্রান্স, ইইউ ও মিসরকে অবশ্যই চাপ তৈরি করতে হবে।’
এদিকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ফ্রান্সকে মিসরের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে ভিন্নভাবে ব্যবহার করার আহ্বান জানাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থাটি ‘মানবাধিকার সংকট’ এবং দেশটির ‘বিরোধী রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকদের ওপর নিয়মতান্ত্রিক দমন’ সম্পর্কে সতর্ক করেছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মিসর প্রতিনিধি লেনা কোলেট ডিডব্লিউকে বলেন, ‘চূড়ান্ত ঘোষণায় ম্যাখোঁর স্পষ্টভাবে মানবাধিকারের কথা উল্লেখ করা উচিত, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দাবি করা উচিত এবং এই আগস্টে সংসদীয় নির্বাচন অবাধ ও গণতান্ত্রিকভাবে অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।’
এলিসির সূত্র জানিয়েছে, সফরে মানবাধিকারের বিষয়টিও ‘উল্লেখ’ করা হবে।
এক তরুণের পকেটে রাখা মোবাইল ফোন বিস্ফোরণে প্যান্টে আগুন লেগে যায়। পুড়ে যায় তার শরীরের নিচের অংশ। ভারতের মধ্য প্রদেশে গত মঙ্গলবার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯ বছর বয়সী এক যুবকের পকেটে থাকা মোবাইল ফোন বিস্ফোরণের ফলে কুঁচকিতে আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে মার্চ মাসের শেষের দিকে।
পুলিশের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি আরো জানিয়েছে, ১৯ বছর বয়সী অরবিন্দ নামের এক তরুণ বাজার থেকে সবজি কিনে মোটরবাইক চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। ঠিক সেই সময় টোল বুথের কাছে প্যান্টের পকেটে রাখা মোবাইল ফোনটিতে বিস্ফোরণ ঘটে।
দুর্ঘটনার পর সারঙ্গপুর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার করানো হয় অরবিন্দের।
আহতর পরিবার জানিয়েছে, অরবিন্দ টাকা জমিয়ে একটি মোবাইল ফোন কিনেছিলেন। সেটিতেই বিস্ফোরণ হয়েছে।
এ ছাড়া সারঙ্গপুর হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, মোবাইল ফোনের বিস্ফোরণের কারণে ওই যুবক যৌনাঙ্গেও আঘাত পেয়েছেন। যদিও এই মুহূর্তে তিনি বিপদমুক্ত।