চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে সচিবালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করলেন প্রশিক্ষণ চলা অবস্থায় অব্যাহতি পাওয়া দুই শতাধিক এসআই। গতকাল রবিবার সকালে সচিবালয়ের পশ্চিম পাশের গেটের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া ৪০তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচে প্রশিক্ষণের জন্য মোট ৮২৩ জন ছিলেন। বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণরত অবস্থায় তাঁদের মধ্য থেকে ৩২১ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে।
চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি
অব্যাহতি পাওয়া এসআইদের সচিবালয়ের সামনে অবস্থান
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত তিন মাসে চার দফায় এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সর্বশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয় গত ১ জানুয়ারি, সেদিন আটজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে আয়োজকদের একজন রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে নিজের পকেটের টাকা দিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। সবাই আমরা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান।
সাজেদুল নামের আরেকজন বলেন, ‘আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে, আইজিপি স্যার বরাবর এবং গুরুত্বপূর্ণ সব দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছি। কোনো সাড়া পাচ্ছি না।
সম্পর্কিত খবর

শোভাযাত্রা

সাইকেল লেন দিবস উপলক্ষে গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে সাইকেল শোভাযাত্রা বের করে বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদ।ছবি : কালের কণ্ঠ
।
সেতুর সংযোগস্থলে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা

রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীর প্রথম সেতুর সংযোগস্থলে রয়েছে এমন কয়েকটি ভাঙা অংশ। সেখান দিয়ে পথচারীরা হেঁটে যাওয়ার সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। গতকাল তোলা। ছবি : মঞ্জুরুল করিম
।
চৌদ্দগ্রামের সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে লাঞ্ছনার শিকার হওয়া সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই ওরফে কানুর বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের লুদীয়ারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের দাবি, আগে যারা তাঁকে লাঞ্ছিত করেছে, তাদের নির্দেশেই এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনাটির বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতেই ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই কানুর বাড়িতে যাই।
আবদুল হাইয়ের ছেলে গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেন, ‘আমার বাবাকে জুতার মালা পরিয়ে অপমান ও মারধরের ঘটনার প্রায় সাড়ে তিন মাস হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও ঘটনার হোতাসহ আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।
তিনি বলেন, ‘হামলাকারীরা ৩০ থেকে ৩৫ জন ছিল। যারা আমার বাবাকে জুতার মালা পরানোর মামলার প্রধান আসামিসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নেতৃত্ব ও ইন্ধন দিয়েছে। গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছনার পর থেকে বাবাসহ আমরা ফেনীতে অবস্থান করি।
ঘটনার সময় আবদুল হাই, তাঁর স্ত্রী, পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিরা বাড়িতে ছিলেন। হামলাকারী ব্যক্তিরা বাড়ির গেট, দরজা ও জানালা ভাঙচুর করেছে। তবে ঘরে প্রবেশ করতে পারেনি তারা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই বলেন, ‘যারা আমার গলায় জুতার মালা পরিয়েছিল, তারা বৃহস্পতিবার রাতে আমার বাড়িতে অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে রামদা, চায়নিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল। তারা বাড়ির গেট, ঘরের দরজা ও জানালায় কুপিয়েছে। ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারলে আমাকে প্রাণেই মেরে ফেলত।’
চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আগে যারা ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা হামলার ঘটনায় জড়িত কি না তদন্ত চলছে। হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা কোনো অভিযোগ করতে রাজি নন।’

জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ
শিশু মুসাকে দেখতে সিএমএইচে বিএনএফডব্লিউএ প্রেসিডেন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত সাত বছরের শিশু বাসিত খান মুসা পাঁচ মাস সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার রাতে দেশে ফিরেছে। গতকাল শুক্রবার তাকে দেখতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) যান বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিবার কল্যাণ সংঘের (বিএনএফডব্লিউএ) প্রেসিডেন্ট নাদিয়া সুলতানা। তিনি হাসপাতালে পৌঁছেই মুসার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
নাদিয়া সুলতানা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে শিশুটির চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত হন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
আইএসপিআর জানায়, নাদিয়া সুলতানা পরম মমতায় শিশুটির মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। শিশুটির দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সান্ত্বনা ও সমবেদনা জানান। সেই সঙ্গে দেশবাসীকে শিশুটির দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য দোয়া করার আহবান জানান।
গত বছরের ১৯ জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মেরাদিয়া হাট এলাকায় নিজ বাসার নিচে দাদির সঙ্গে আইসক্রিম কিনতে যায় মুসা। এ সময় দাদি মায়া ইসলামসহ দুজনই গুলিবিদ্ধ হন। পরদিনই তার দাদির মৃত্যু হয়। মুসার মাথার এক পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে আরেক পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়।