শুভ কাজে সবার পাশে

নরসিংদীতে ঈদ উপহারে হাসি ফুটল পথশিশুদের

  • ভাঙ্গুড়ায় ঈদ উপহার পেল ৯ নারী
  • ঈশ্বরগঞ্জে বিধবাকে সহায়তা
কালের কণ্ঠ ডেস্ক
কালের কণ্ঠ ডেস্ক
শেয়ার
নরসিংদীতে ঈদ উপহারে হাসি ফুটল পথশিশুদের
বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে গত বৃহস্পতিবার নরসিংদীতে পথশিশুদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

নরসিংদীতে পথশিশুদের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণ করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। গত বৃহস্পতিবার শহরের পৌর পার্কে বসুন্ধরা শুভসংঘ নরসিংদী জেলা শাখার উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়। এ সময় ১৫ অসহায় পথশিশুকে ঈদের রঙিন জামা ও খাবার উপহার দেওয়া হয়। এ ছাড়া অসহায় নারীদের ঈদের শাড়ি উপহার দেওয়া হয়।

রঙিন জামা পেয়ে পথশিশুদের মুখে হাসি ফোটে।

ঈদে সমাজের বিত্তবান ও মধ্যবিত্তদের নতুন পোশাক কেনার সামর্থ্য থাকলেও রেলওয়ে স্টেশনের পথশিশুদের সেই সামর্থ্য নেই। তাদের কাছে রঙিন পোশাক স্বপ্নের মতো। খালি গায়ে ও ছেঁড়া কাপড় পরেই তারা স্টেশনে ঘুরে বেড়ায়।

এবারে ঈদে তাদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। ঈদের শাড়ি উপহারের মাধ্যমে বড়দের মধ্যেও এই আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

নরসিংদীতে ঈদ উপহারে হাসি ফুটল পথশিশুদেরঈদ উপহার বিতরণকালে বসুন্ধরা শুভসংঘ নরসিংদী জেলা শাখার সভাপতি মাহবুবুর রহমান মনিরসহ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রঙিন কাপড় পেয়ে চোখেমুখে উচ্ছ্বাস দেখা যায় কেয়া নামের এক পথশিশুর।

সে বলে, ঈদে নতুন কাপড় পরতে পারব ভাবিনি। কিন্তু আজকে আমার হাতের ব্যাগে নতুন কাপড়। এটা পরে আমি এবার ঈদে ঘুরে বেড়াব।

ভাঙ্গুড়ায় ঈদ উপহার পেল ৯ নারী : পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের ৯ জন দুস্থ নারীকে ঈদ উপহার শাড়ি দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। শুভসংঘের ভাঙ্গুড়া উপজেলা শাখার উদ্যোগে এসব শাড়ি বিতরণ করা হয়।

এ সময় শুভসংঘের সাধারণ সম্পাদক শাকিব খান, দপ্তর সম্পাদক রাকিব আহমেদ, সহসভাপতি আব্দুল মালেক মধুসহ কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

শাখা সাধারণ সম্পাদক শাকিব খান বলেন, শুভসংঘের সদস্যরা প্রত্যেকের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রকৃত দুস্থ মানুষকে সহযোগিতা করেন। এ ক্ষেত্রেও প্রকৃত দুস্থ ৯ জন নারীকে সহযোগিতা করা হয়েছে। মানুষ ও সমাজের কল্যাণে শুভসংঘের এই প্রচেষ্টা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।

বিধবাকে সহায়তা দিল ঈশ্বরগঞ্জ বসুন্ধরা শুভসংঘ : একদিকে অভাব, অন্যদিকে ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে প্রায় এক মাস আগে বিষপানে আত্মহত্যা করেন ইজি বাইকের চালক সুজন খান (৫০)। এর পর থেকে অসহায় ওই পরিবারের ওপর নেমে আসে অন্ধকার। গতকাল ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা শাখার বসুন্ধরা শুভসংঘ সদস্যরা বিধবার বাড়িতে গিয়ে ঈদসামগ্রী ও নগদ টাকা দিয়ে আসেন।

স্থানীয়রা জানান, সুজন খান ইজি বাইকের চালক ছিলেন। স্ত্রী ও চার শিশুসন্তান নিয়ে ছাপরা ঘরে থাকতেন। এর মধ্যে ইজি বাইকটি চুরি হয়। পরে সুদে টাকা নিয়ে একটি ইজি বাইক কেনেন। হঠাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ফের টাকা ধার করে চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ হলে ইজি বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। কয়েক মাস পর সেটিও খোয়া যায়। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সুজন আত্মহত্যা করেন। এবার তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়াল শুভসংঘ।

(প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন প্রতিনিধিরা)

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

শোভাযাত্রা

শেয়ার
শোভাযাত্রা

সাইকেল লেন দিবস উপলক্ষে গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে সাইকেল শোভাযাত্রা বের করে বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদ।ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

সেতুর সংযোগস্থলে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা

শেয়ার
সেতুর সংযোগস্থলে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা

রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীর প্রথম সেতুর সংযোগস্থলে রয়েছে এমন কয়েকটি ভাঙা অংশ। সেখান দিয়ে পথচারীরা হেঁটে যাওয়ার সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। গতকাল তোলা। ছবি : মঞ্জুরুল করিম

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

চৌদ্দগ্রামের সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
শেয়ার
চৌদ্দগ্রামের সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে লাঞ্ছনার শিকার হওয়া সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই ওরফে কানুর বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের লুদীয়ারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের দাবি, আগে যারা তাঁকে লাঞ্ছিত করেছে, তাদের নির্দেশেই এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনাটির বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, বৃহস্পতিবার রাতেই ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই কানুর বাড়িতে যাই।

এ সময় মোটরসাইকেলে করে দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। দুর্বৃত্তরা বাড়ির গেট, দরজা ও জানালায় কিছু ভাঙচুর চালালেও ঘরে প্রবেশ করতে পারেনি।

আবদুল হাইয়ের ছেলে গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেন, আমার বাবাকে জুতার মালা পরিয়ে অপমান ও মারধরের ঘটনার প্রায় সাড়ে তিন মাস হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও ঘটনার হোতাসহ আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।

বৃহস্পতিবার রাতে তারাই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।

তিনি বলেন, হামলাকারীরা ৩০ থেকে ৩৫ জন ছিল। যারা আমার বাবাকে জুতার মালা পরানোর মামলার প্রধান আসামিসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নেতৃত্ব ও ইন্ধন দিয়েছে। গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছনার পর থেকে বাবাসহ আমরা ফেনীতে অবস্থান করি।

প্রশাসনের আশ্বাসে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িতে আসি ঈদ করতে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

ঘটনার সময় আবদুল হাই, তাঁর স্ত্রী, পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিরা বাড়িতে ছিলেন। হামলাকারী ব্যক্তিরা বাড়ির গেট, দরজা ও জানালা ভাঙচুর করেছে। তবে ঘরে প্রবেশ করতে পারেনি তারা।

খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই বলেন, যারা আমার গলায় জুতার মালা পরিয়েছিল, তারা বৃহস্পতিবার রাতে আমার বাড়িতে অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে রামদা, চায়নিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল। তারা বাড়ির গেট, ঘরের দরজা ও জানালায় কুপিয়েছে। ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারলে আমাকে প্রাণেই মেরে ফেলত।

চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, আগে যারা ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা হামলার ঘটনায় জড়িত কি না তদন্ত চলছে। হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা কোনো অভিযোগ করতে রাজি নন।

মন্তব্য
জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ

শিশু মুসাকে দেখতে সিএমএইচে বিএনএফডব্লিউএ প্রেসিডেন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
শিশু মুসাকে দেখতে সিএমএইচে বিএনএফডব্লিউএ প্রেসিডেন্ট

জুলাই আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত সাত বছরের শিশু বাসিত খান মুসা পাঁচ মাস সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার রাতে দেশে ফিরেছে। গতকাল শুক্রবার তাকে দেখতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) যান বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিবার কল্যাণ সংঘের (বিএনএফডব্লিউএ) প্রেসিডেন্ট নাদিয়া সুলতানা। তিনি হাসপাতালে পৌঁছেই মুসার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

নাদিয়া সুলতানা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে শিশুটির চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত হন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

আইএসপিআর জানায়, নাদিয়া সুলতানা পরম মমতায় শিশুটির মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। শিশুটির দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সান্ত্বনা ও সমবেদনা জানান। সেই সঙ্গে দেশবাসীকে শিশুটির দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য দোয়া করার আহবান জানান।

গত বছরের ১৯ জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মেরাদিয়া হাট এলাকায় নিজ বাসার নিচে দাদির সঙ্গে আইসক্রিম কিনতে যায় মুসা। এ সময় দাদি মায়া ইসলামসহ দুজনই গুলিবিদ্ধ হন। পরদিনই তার দাদির মৃত্যু হয়। মুসার মাথার এক পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে আরেক পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ