ঢাকা, শনিবার ০৫ এপ্রিল ২০২৫
২২ চৈত্র ১৪৩১, ০৫ শাওয়াল ১৪৪৬

ঢাকা, শনিবার ০৫ এপ্রিল ২০২৫
২২ চৈত্র ১৪৩১, ০৫ শাওয়াল ১৪৪৬

ধান দিয়ে গড়া দেবী দুর্গা

রেজাউল করিম রেজা, নাটোর
রেজাউল করিম রেজা, নাটোর
শেয়ার
ধান দিয়ে গড়া দেবী দুর্গা
নাটোরে ধান দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে অপূর্ব কারুকার্যময় দুর্গা প্রতিমা। ছবি : কালের কণ্ঠ

নাটোরে একটি একটি করে ধান দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে অপূর্ব কারুকার্যময় দুর্গা প্রতিমা। সোনালি রঙের কারুকার্যময় প্রতিমা দেখে বিস্মিত হচ্ছে দর্শক ও সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ। শারদ উৎসব উপলক্ষে নাটোর শহরের লাল বাজারে রবি সুষম সংঘ এই দুর্গা প্রতিমা করিয়েছেন একই এলাকার প্রতিমাশিল্পী বিশ্বজিৎ পালকে দিয়ে। বিশ্বজিৎ পাল বলেন, প্রতিমাটির কাজ শেষ করতে চারজন শিল্পীর এক মাসের বেশি সময় লেগেছে।

  এই প্রতিমার বৈশিষ্ট্য হচ্ছেকাঠ ও বাঁশ দিয়ে ফ্রেম তৈরি ও মাটির কাজ শেষ করার পর প্রতিমার শরীরে বিশেষভাবে ছোট ছোট ধান বসানো হয়েছে ফুলের মতো করে। বিশ্বজিৎ পাল আরো বলেন, প্রতিমার আদি রূপ ফুটিয়ে তুলতে প্রায় ৫০ কেজির মতো ধান লেগেছে। মণ্ডপে দুর্গা, কার্তিক, গণেশ, সরস্বতী, লক্ষ্মী, মহিষাসুর প্রতিমাগুলো শুকিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে মাটি নরম থাকতে প্রতিমাজুড়ে ধান বসিয়ে দেওয়া হয়। ধান এমনভাবে বসানো হয়েছে, যাতে দেখলে মনে হয় যেন সোনা দিয়ে মোড়ানো।

রবি সুতম সংঘের সাধারণ সম্পাদক পার্থ রায় বলেন, রবি সুতম সংঘ প্রতিবছরই নিত্যনতুন দুর্গা প্রতিমা তৈরি করে। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর আমরা ধান দিয়ে প্রতিমা তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করি। ধান দিয়ে প্রতিমা নির্মাণ করাটা খুব সহজ কাজ নয়। আমরা প্রতিমাশিল্পী বিশ্বজিৎ পালের সঙ্গে আলোচনা করলে তিনি এই প্রতিমা তৈরি করে দিতে সম্মতি দেন।

প্রতিমাশিল্পী একটি করে ধান সুনিপুণভাবে থরে থরে সাজিয়ে প্রতিমাকে সুন্দর করে তুলেছেন। প্রতিমাকে ভিন্ন আদলে তুলে ধরার প্রয়াসে ধান ব্যবহার করা হয়েছে। যেন সোনালি আভা ফুটে ওঠে। এ ছাড়া ধান গ্রামবাংলার মানুষের কাছে সমৃদ্ধি ও ঐশ্বর্যের স্মারকও বটে। ধান দিয়ে জেলায় এই প্রথম এখানে প্রতিমা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরো বলেন,  বহু বছর আগে স্বর্গীয় নিমাই চন্দ্র পাল নাটোর শহরের লালবাজারে প্রতিমা তৈরির একটি কারখানা গড়ে তোলেন। তাঁর হাতের তৈরি প্রতিমার বেশ কদর ছিল। নিখুঁত হাতে চমৎকারভাবে প্রতিটি প্রতিমাকে শিল্পকর্মের মাধ্যমে সাজিয়ে তুলতেন তিনি। ফলে নাটোর জেলার বাইরেও তাঁর হাতে তৈরি বিভিন্ন দেবীর প্রতিমার বেশ চাহিদা ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর অল্প পরিসরে প্রতিমা তৈরির কাজ করেন তাঁর ছেলে বিশ্বজিৎ পাল এবং ছোট ভাই গোপাল চন্দ্র পাল।

 

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

কর্মস্থলে ফেরা

শেয়ার
কর্মস্থলে ফেরা

স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে গ্রামের বাড়ি ছেড়ে কর্মস্থল রাজধানী অভিমুখে ছুটছে মানুষ। গতকাল শুক্রবার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট এলাকায়। ছবি : গণেশ পাল

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য
ঈদ সামনে রেখে চোরাচালানিচক্র সক্রিয়

ফেনী সীমান্তে ভারতীয় ১৬ গরু আটক

ফেনী প্রতিনিধি
ফেনী প্রতিনিধি
শেয়ার
ফেনী সীমান্তে ভারতীয় ১৬ গরু আটক

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ফেনীর ২২ কিলোমিটার সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালানিচক্র কৌশলে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ফেনীর বিজিবির নিয়মিত টহলদল ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে সীমান্ত পিলার ২১৮৫ থেকে প্রায় ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ১৬টি ভারতীয় গরু জব্দ করা হয়। গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ছয় লাখ ২০ হাজার টাকা। জব্দকৃত ভারতীয় গরুগুলো স্থানীয় শুল্ক কার্যালয়ে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।

ঈদকে সামনে রেখে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) ফেনীর সীমান্তবর্তী এলাকায় টহল জোরদার করায় চোরাচালানিচক্রকে নানা কৌশল অবলম্বন করতে দেখা গেছে। এরই মধ্যে ফেনী বিজিবির টহলদলের হাতে কয়েক কোটি টাকার ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য আটক হয়। তবে সক্রিয় কোনো চোরাচালানিচক্রকে বিজিবি এখন পর্যন্ত আটক করতে পারেনি।

এ ব্যাপারে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন জানান, ঈদ উপলক্ষে সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালানকারী চক্ররা সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধসহ অবৈধ প্রবেশ রোধে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) কর্তৃক আভিযানিক কর্মকাণ্ড ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া চোরাচালানের বিরুদ্ধে বিজিবির জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। চোরাচালান প্রতিরোধে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।

মন্তব্য
রংপুর

জুলাই শহীদদের পরিবারে ঈদ যেন বেদনায় আচ্ছন্ন

রংপুর অফিস
রংপুর অফিস
শেয়ার
জুলাই শহীদদের পরিবারে ঈদ যেন বেদনায় আচ্ছন্ন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ছোড়া গুলিতে শহীদদের বাড়িতে ঈদে  আনন্দ নেই। ঈদে প্রতিটি পরিবারে বয়ে যায় আনন্দের বন্যা। সবাই ভাগাভাগি করে নেন ঈদ আনন্দ। কিন্তু ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ছোড়া গুলিতে শহীদদের বাড়িতে নেই ঈদের খুশি।

ঈদের চার দিন কেটে গেলেও পরিবারে চলছে কান্নার রোল। ছেলেসন্তান হারিয়ে মা-বাবার নেই আনন্দ।

জুলাই শহীদ পরিবারের জন্য যেন বেদনায় ভরা ঈদ। গত বছরের ঈদে যাদের উপস্থিতি আনন্দের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছিল কয়েক গুণ, এবার সেই প্রিয় মুখগুলো মা-বাবার সামনে নেই।

আজও মা-বাবা ও পরিবার তাকিয়ে আছে তাদের সন্তান ফিরে আসবে। কিন্তু পরিবারে আর কোনো দিন ফিরবে না তাদের সন্তান।

শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, পুলিশের গুলি আমার পরিবারের সব স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে। গত বছরের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ছোড়া গুলিতে শহীদ হন আবু সাঈদ।

ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ছিলেন আবু সাঈদ। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ।

তিনি বলেন, প্রতিবছর সাঈদসহ পরিবারের অন্য ছেলেদের সঙ্গে নিয়ে ঈদের নামাজ পড়তে যেতাম। ঈদের পর পাঁচ-সাত দিন আনন্দ করত ছেলে। আজ বাড়িতে সবাই আছে, শুধু আবু সাঈদ নাই।

আবু সাঈদের ভাই রমজান আলী বলেন, এবারের ঈদে বাড়িতে কোনো আনন্দ নেই। বাড়িটা শূন্য শূন্য লাগছে। আমরা আবু সাঈদের অভাব অনুভব করছি। ভাই নেই, তাকে ছাড়া ঈদের আনন্দ নেই।

শহীদ মুসলিম উদ্দিন মিলনের স্ত্রী দিলরুবা আকতার বলেন, পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো মানুষটিই চলে গেছেন। আবার ঈদ আনন্দবলেই চোখের পানি ছাড়া কিছু নেই। গত বছরের ১৯ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন মিলন।

শহীদ মানিকের মা নুরজাহান বেগম বলেন, ঈদের নতুন শাড়ি নিয়ে এসেই মা বলে ডাকত, এবার কেউ ডাকেনি। ঈদের কয়েক দিন হয়ে গেলেও আমার ছেলের জন্য মন কাঁদে। বাড়িতে ঢুকেই মা বলে ডাকত। এবার মানিক আমার মা বলে ডাকল না, কেউ আর মা বলে এত আদর করে ডাকবে না। চোখের পানি মুছতে মুছতে কথাগুলো বলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শহীদ অটোচালক মানিকের মা।

শহীদ সাজ্জাদ হোসেনের মা ময়না বেগম বলেন, ঈদ এলেই মা ও স্ত্রী-সন্তানসহ আত্মীয়-স্বজনের জন্য নতুন জামাকাপড় কিনে আনতেন সাজ্জাদ হোসেন। সন্তানের কাছ থেকে ঈদের জন্য নতুন শাড়ি পেয়ে খুবই আনন্দ লাগত। এবার ওইভাবে কেউ আর খোঁজ নেয়নি।

শহীদ মেরাজুল ইসলাম মেরাজের স্ত্রী বলেন, পিতৃহারা দুই সন্তান বাবার সঙ্গে ঈদের নামাজ আর পড়তে পারেনি। পরিবারে ঈদের কোনো আনন্দ নেই।

শহীদ আব্দুল্লাহ আল তাহিরের মা বলেন, ঈদ তো কল্পনায়ই নাই। চার-পাঁচ দিন ধরে ছেলের কথা বেশি মনে পড়ছে। ছেলে তাহিরের কথা বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। কষ্টের সংসারে ছেলেকে নিয়ে কত স্বপ্ন ছিল। ছেলে পড়ালেখা শেষ করে মানুষের মতো মানুষ হবে। পরিবারের কষ্ট দূর করবে। সব স্বপ্নই চুরমার হয়ে গেছে পুলিশের এক গুলিতেই। গত বছরের ১৯ জুলাই রংপুর নগরীর সিটি বাজারের সামনে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন তাহির।

শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা সামসি আরা জামান কলি বলেন, সাংবাদিক প্রিয় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ঢাকায় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। প্রিয়র মা যখন কথা বলছেন তখন শহীদ প্রিয়র মেয়ে চেয়ার থেকে উঠে বাবার (প্রিয়র) ছবি নামিয়ে বাবা বাবা বলে আদর করে। চুমো দেয়। এ সময় বলতে থাকে বাবা তুমি কখন আসবে।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য
খুলনা

মাঠ-পার্ক বন্ধ করে মেলা

খুলনা অফিস
খুলনা অফিস
শেয়ার
মাঠ-পার্ক বন্ধ করে মেলা

খুলনা মহানগরীর শান্তিধাম মোড়ের জাতিসংঘ পার্কের শিশুদের দোলনা গুচিয়ে রেখে চলছে মেলা। নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার মাঠে দেড় মাস ধরে চলে শিল্প ও বাণিজ্য মেলা। পুলিশি অনুমতি না থাকায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল চার দিন। এভাবেই খুলনায় ঈদ, নববর্ষসহ বিভিন্ন মেলার নামে চলছে বাণিজ্য।

পুলিশ বা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে, বিদ্যুৎ বিভাগের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এ মেলা অতীতে যারা পরিচালনায় ছিলেন, এখনো রয়েছেন তাঁরাই। ৫ আগস্টের পর অনেকেই আত্মগোপনে চলে গেলেও কিভাবে আওয়ামী আমলের কথিত ব্যবসায়ীরা এভাবে মাসের পর মাস মেলা করছেন, সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এক মাসের অনুমতি নিয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছিল খুলনা শিল্প ও বাণিজ্য মেলা। নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদ ও খুলনা প্রি-ক্যাডেট স্কুলসংলগ্ন মাঠে এ মেলা শেষ হওয়ার কথা ৬ মার্চ।

পরে সময় বাড়িয়ে ১৭ মার্চ পর্যন্ত করা হয়। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দার গত ১৮ মার্চ বলেন, মেলার সময় শেষ, এখন বন্ধ। কিন্তু ওই দিন দুপুর আড়াইটায় গিয়ে দেখা যায়, গেটে পুলিশ প্রহরা রয়েছে। এমনকি ঈদ উপলক্ষে প্রবেশমূল্য ফ্রি এমনটি উল্লেখ করে প্যানা টানানো হয়েছে টিকিট কাউন্টারের সামনে।
সেখানকার ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের সময় মেলা বন্ধ হয় নাকি?

এদিকে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) মাঠ হলেও তাদেরও কোনো অনুমোদন নেই বলে জানিয়েছেন কেডিএ চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহাংগীর হোসেন। তিনি বলেন, কেডিএকে শুধু অবহিত করা হয়েছিল। এর বাইরে কেডিএর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটি পুলিশ কমিশনারের বিষয়।

এক মেলা শেষ হতে না হতেই নগরীর প্রাণকেন্দ্র জাতিসংঘ পার্কে আবারও শুরু হয়েছে ঈদ মেলা।

১ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত এ মেলা চলবে। এ জন্য সেখানে শিশুদের খেলনাসামগ্রী বন্ধ করে মেলার বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়। ওই মেলার নেপথ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগ আমলের মেলা রাসেল নামে পরিচিত এক ব্যক্তি।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ