বেতন-ভাতা ও মর্যাদায় বাংলাদেশের শিক্ষকরা পিছিয়ে

শরীফুল আলম সুমন
শরীফুল আলম সুমন
শেয়ার
বেতন-ভাতা ও মর্যাদায় বাংলাদেশের শিক্ষকরা পিছিয়ে
সংগৃহীত ছবি

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বেতন-ভাতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শিক্ষকরা বেশ পিছিয়ে। বিশেষ করে প্রাথমিক,  মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে। গত ১৫ বছরে সরকার একাধিকবার শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন করে শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের আওতায় আনা হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের কয়েক হাজার নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন গ্রেড কয়েক ধাপ উন্নীত করা হয়েছে। এর পরও অন্যান্য দেশের তুলনায় বেতন-ভাতা ও মর্যাদার দিক থেকে বাংলাদেশের শিক্ষকরা পিছিয়ে।

প্রাথমিক পর্যায়ে সহকারী শিক্ষকরা তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর মর্যাদা পান।

শুধু প্রধান শিক্ষকের পদ দ্বিতীয় শ্রেণির। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে অনেকে জাতীয় বেতন স্কেলের শুধু মূল বেতন পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, সৌদি আরবসহ বেশ কিছু দেশের শিক্ষকরা অনেক বেশি বেতন পান। বাংলাদেশি টাকার হিসাবে তাদের মাসিক বেতন গড়ে আট লাখ থেকে ১২ লাখ টাকা, যা বাংলাদেশের একজন শিক্ষকের কয়েক বছরের বেতনের সমান।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের শিক্ষকরাও বাংলাদেশের শিক্ষকদের চেয়ে বেশি বেতন পান। এখানে সরকারি প্রাথমিক ও এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক শিক্ষকদের বেতন যেখানে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকায় শুরু, সেখানে পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষকদের বেতন শুরু হয় প্রায় ৩৫ হাজার টাকা থেকে। অবশ্য দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে শিক্ষকদের বেতন বেশি হলেও কয়েকটিতে জীবনযাত্রার ব্যয়ও অনেক বেশি। মালদ্বীপের শিক্ষকদের বেতন বাংলাদেশি টাকার অঙ্কে বেশি মনে হলেও সেখানে দ্রব্যমূল্য ও অন্যান্য খরচও অনেক বেশি।

বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি তথ্যে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের প্রারম্ভিক মাসিক বেতন প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ টাকা, ভারতে ৩৫ হাজার টাকা, পাকিস্তানে ৩০ হাজার টাকা, শ্রীলঙ্কায় ২৭ হাজার টাকা, নেপালে ৩৫ হাজার টাকা, ভুটানে ৩৩ হাজার টাকা ও মালদ্বীপে ৬৩ হাজার টাকা।

মাধ্যমিকে বাংলাদেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রারম্ভিক বেতন ১৭ হাজার ৫০০ টাকা, ভারতে ৪০ হাজার টাকা, পাকিস্তানে ৩০ হাজার টাকা, শ্রীলঙ্কায় ৩২ হাজার টাকা, নেপালে ৩৫ হাজার টাকা, ভুটানে ৩৯ হাজার টাকা ও মালদ্বীপে ৯০ হাজার টাকা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অধ্যাপক এম তারিক আহসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের শিক্ষকদের বেতন কাঠামো দুর্বল, সেটা ঠিক। তবে আমরা দেখেছি, কয়েক বছর আগে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বেড়েছে। মাধ্যমিক এমপিওভুক্ত ও সরকারি শিক্ষকদের মধ্যে বেতনবৈষম্য রয়েছে। আবার যারা নন-এমপিও, তারা বেতনই পান না। নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষকদের দায়িত্ব বাড়ানো হচ্ছে। সেখানে তাদের বেতন-ভাতা বাড়ানো দরকার। আমার জানা মতে, সরকার এ ব্যাপারে ভাবছে।’

অধ্যাপক এম তারিক আহসান বলেন, ‘শিক্ষার অবকাঠামোতে বরাদ্দ বাড়লেই কিন্তু গুণগত মানের উন্নয়ন হবে না। শিক্ষকদের ক্ষমতায়ন, মান-মর্যাদা ও বেতন—তিনটিই সম্মিলিতভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা যদি ভুটানের দিকে তাকাই, তারা চিকিৎসক ও শিক্ষকদের সবচেয়ে বেশি বেতন দেয়। কোরিয়া, হংকং, জাপানে শিক্ষকদের আলাদা বেতন কাঠামো। এর ফল কিন্তু তারা পাচ্ছে। আমাদেরও স্মার্ট বাংলাদেশ হতে হলে শিক্ষকদের মর্যাদা আরো বাড়াতে হবে।’  

সূত্র জানায়, আমাদের মাধ্যমিক শিক্ষার প্রায় ৯৭ শতাংশ বেসরকারি। মূলত এগুলো এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখানে কর্মরত প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী। সরকার সহকারী শিক্ষকদের দশম গ্রেডের সমপরিমাণ মূল বেতন দেয়। সেখানে তাদের ১৬ হাজার টাকা স্কেলে বেতন শুরু হয়। এর বাইরে তারা বাড়িভাড়া বাবদ মাসে এক হাজার টাকা ও চিকিৎসা ভাতা বাবদ মাসে ৫০০ টাকা পান। সেই হিসাবে শুরুতে একজন শিক্ষক সরকারি ভাতা ১৭ হাজার ৫০০ টাকা পান। এর বাইরে যেসব স্কুলের আয় আছে, তারা ফান্ড থেকেও কিছু টাকা শিক্ষকদের দেয়। তবে সব স্কুল তা দিতে পারে না। 

এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা উৎসব ভাতা পান মূল বেতনের ২৫ শতাংশ। তবে স্কুলের কর্মচারীরা উৎসব ভাতা পান মূল বেতনের ৫০ শতাংশ। এ ছাড়া তারা সরকারি কর্মচারীদের মতো বৈশাখী ভাতা পান। তবে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যারা সরকারি মাধ্যমিক স্কুলে যোগ দেন, তারা শুরুতেই দশম গ্রেডে ২৬ হাজার টাকা বেতন পান। এর বাইরে তারা সন্তানদের পড়ালেখার জন্য ভাতা পান। পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতাসহ নানা ধরনের সুবিধা পান। তবে সরকারি বা এমপিওভুক্ত উভয় ধরনের স্কুলেই শিক্ষকরা উচ্চতর গ্রেড বিএড সম্পন্ন হলে আলাদা ইনক্রিমেন্ট পান, তাদের বেতনও কিছুটা বাড়ে। কিন্তু সারা দেশে প্রায় ৩২ হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও সেখানে মাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি স্কুলের সংখ্যা মাত্র ৭০০-র কাছাকাছি। 

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ব্যাপারে সব সময় আন্তরিক। আমরা চাই, তাদের বেতন-ভাতা বাড়ুক। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা ও বাড়িভাড়া বাড়াতে একটা হিসাব করছি, যা শিগগিরই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে। সরকার হয়তো তাদের সক্ষমতা বিবেচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।’

অন্যদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা এখনো তৃতীয় শ্রেণির মর্যাদা পান। স্নাতক ডিগ্রিধারী প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডের বেতন স্কেলে মূল বেতন ১১ হাজার টাকা, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা ও টিফিন ভাতা মিলিয়ে শুরুতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ টাকা বেতন পান। সারা দেশে এই সহকারী শিক্ষকদের সংখ্যা প্রায় তিন লাখ। এর বাইরে তারা নিয়মানুযায়ী সন্তানদের জন্য শিক্ষা ভাতা পান।

এ ছাড়া উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষকরা শুরুতে নবম গ্রেডে ২২ হাজার টাকা স্কেলে বেতন পান। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এই বেতন স্কেলের বাইরে খুব একটা সুবিধা না পেলেও সরকারি কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বাড়িভাড়া, যাতায়াত, চিকিৎসাসহ আরো নানা সুবিধা পান।

উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, তারা প্রাথমিক শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। সবচেয়ে বেশি মেধাবীদের নিয়োগ দেওয়া হয় প্রাথমিকে। তাদের বেতন-ভাতাও অন্যান্য শিক্ষকদের চেয়ে বেশি।

বাংলাদেশ শিক্ষক ইউনিয়নের সভাপতি আবুল বাশার হাওলাদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের শিক্ষকতা পেশা কিন্তু দিন দিন শ্রীহীন হয়ে পড়ছে। অনেকে অন্য কোনো চাকরি পেলে শিক্ষকতা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এখন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার পদ খালি। কিন্তু শিক্ষক হিসেবে যোগদান করতে অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন না। এর মূল কারণ শিক্ষকদের মানবেতর জীবন। এত অল্প টাকা বেতন পেয়ে কোনোভাবেই তারা চলতে পারছেন না। আমরা এখন আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার দিকে যাচ্ছি। এই সময়ে শিক্ষকদের বেতন-ভাতার উন্নয়ন সবার আগে জরুরি হয়ে পড়েছে।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ‘আমাদের শিক্ষকদের বেতন যেহেতু কম, তাই তারা অন্য কিছু করার চেষ্টা করেন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকতা পেশায় ঢুকলেই তারা প্রাইভেট-কোচিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এখানে আয় বেশি হওয়ায় স্কুলের চেয়ে তারা প্রাইভেটেই বেশি মনোযোগী হন। সরকার বারবার প্রাইভেট-কোচিং বন্ধ করার চেষ্টা করলেও এতে সফল হয়নি।’

শিক্ষকরা বলছেন, সরকার নতুন শিক্ষাক্রম চালু করেছে। সেখানে শিক্ষকদের অংশগ্রহণ অনেক বেশি বেড়েছে। কিন্তু বেতন-ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমনকি ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের প্রস্তাব করা হলেও, তা বাস্তবায়নে এখনো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

জানতে চাইলে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটি ২০১০-এর সদস্য অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শিক্ষার উন্নয়নে আগে শিক্ষকদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে যেমন উদ্যোগ নিতে হবে, তেমনি তাদের বেতন-ভাতাও সম্মানজনক হতে হবে। আমরা যদি পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেই তুলনা করি, তাহলে দেখা যাবে তাদের শিক্ষকদের বেতন আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। শিক্ষকদের জন্য আমরা স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর কথা বলেছিলাম, সেটার কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি। এখন দক্ষতার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর সংশোধন আনা প্রয়োজন। নয়তো মেধাবীরা আগামীতে শিক্ষকতায় আসবেন না।’

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

থানায় বসেই সমন্বয়ক পরিচয়ে ওসিকে বদলির হুমকি

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
থানায় বসেই সমন্বয়ক পরিচয়ে ওসিকে বদলির হুমকি
সাব্বির হোসেন।

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসানকে সাত দিনের মধ্যে বদলির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাব্বির হোসেন নামে একজনের বিরুদ্ধে। তিনি নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় থানার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া একই সময় তিনি থানার ভেতর ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওসি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, জমিসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা সমাধান করতে থানায় আসেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তারা থানায় সমাধানের জন্য একমত হলেও বৈঠক শেষ হওয়ার পর সাব্বির নিজেকে সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে হট্টগোল শুরু করেন। থানার ভেতর দাঁড়িয়ে এসপি ও ডিআইজিকে কল করে সাত দিনের মধ্যে ওসিকে বদলির হুমকি দেন সাব্বির হোসেন।

ইবি থানার ওসি শেখ মেহেদী হাসান বলেন, ‘ইবি থানাধীন সুগ্রীবপুর জমিসংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে থানায় মীমাংসা হয়।

মীমাংসার পর এলাকাবাসী আমার সঙ্গে দেখা করতে এলে সমন্বয়ক পরিচয়দাতা সাব্বির ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন বলে অফিসার ও এলাকাবাসী আমাকে জানান। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। একজন শিক্ষার্থী বা সমন্বয়কের কাছ থেকে বিষয়টি প্রত্যাশিত না।’

তিনি আরো বলেন, ‘সাব্বির মাঝেমধ্যেই থানার অফিসারদের হুমকি-ধমকি দেন।

সমন্বয়ক পরিচয়ে তিনি পুলিশ অফিসারদের মাঝেমধ্যেই খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ট্রান্সফারের হুমকি দেন।’

সাব্বির হোসেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইবিথানাধীন আব্দালপুর ইউনিয়নের সুগ্রীবপুর গ্রামের আবুল হোসেন পুন্টুর ছেলে। তিনি কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজে পড়াশোনা করেন। অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে সমন্বয়ক পরিচয়ধারী সাব্বির হোসেন বলেন, ঘটনাটি গ্রাম্যভাবে সমাধান হয়েছে।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

ক্যাম্পাসেই ঈদ, চাকরির স্বপ্নে উৎসবে ভিন্ন রং

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
শেয়ার
ক্যাম্পাসেই ঈদ, চাকরির স্বপ্নে উৎসবে ভিন্ন রং
চাকরিপ্রত্যাশী নিয়ন লেখাপড়ায় মন দিতে এবার ক্যাম্পাসেই ঈদ করছেন

বাংলাদেশের তরুণদের বড় একটি অংশের স্বপ্ন সরকারি চাকরি। কিন্তু এই স্বপ্ন পূরণের পথটা সহজ নয়—প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং নিয়মিত পড়াশোনা। চাকরির প্রস্তুতির এই চাপে উৎসবের দিনগুলোতেও পড়ার টেবিল ছাড়ার সুযোগ মেলে না। ঈদের মতো আনন্দঘন মুহূর্তগুলো যখন পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয়, তখন সেই উৎসবের রংও হয় অন্যরকম।

ঠিক তেমনই এক গল্প শোনালেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ নাজমুল আহসান হলের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান নিয়ন।

নিয়নের মতো অনেক শিক্ষার্থী আছেন, যারা চাকরির প্রস্তুতির জন্য ঈদের ছুটিতেও ক্যাম্পাসে থেকে যান। পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটানোর ইচ্ছা থাকলেও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির তাগিদে নিজেকে পড়ার টেবিলে আবদ্ধ রাখতে হয়। নিয়ন বললেন, 'অনেকেই মনে করেন, উৎসবের দিনে পড়াশোনা করতে কষ্ট হয়।

সত্যি বলতে, কষ্ট তো হয়ই। পরিবার ও প্রিয়জনদের কাছ থেকে দূরে থাকা সহজ নয়। তবে একটা লক্ষ্য সামনে রেখে এগিয়ে চলার জন্য এই ত্যাগ মেনে নিতে হয়।'

ক্যাম্পাসে ঈদ উদযাপনও এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

নিয়ন বলেন, ‘আমার মতো আরো অনেকেই ঈদের ছুটিতে ক্যাম্পাসে থাকেন। বন্ধু, সিনিয়র, জুনিয়র সবাই মিলে একসঙ্গে ঈদের দিনটি কাটানোর চেষ্টা করি। কাছে কোনো পরিচিতজনের বাসা থাকলে, সেখান থেকে আসা খাবার ভাগাভাগি করি, মজার গল্পে সময় কেটে যায়। হলে যারা কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, তাদের সঙ্গে গল্প-গুজব হয়। তবুও যখন সন্ধ্যা নামে, পরিবারের কথা আরো বেশি মনে পড়ে।
'

চাকরির প্রস্তুতির তাগিদে পরিবার থেকে দূরে থাকা নিঃসন্দেহে কষ্টকর। তবে নিয়নের মতে, এই কষ্টই ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণা জোগায়। ‘আমরা যারা ক্যাম্পাসেই ঈদ করি, তাদের উৎসবটা হয়তো একটু ভিন্ন; কিন্তু স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে চলার শক্তি জোগায়। এই সাময়িক কষ্টের পর একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে পারব—এই বিশ্বাসই আমাদের এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে, বললেন নিয়ন।

নিজের স্বপ্ন পূরণ করে পরিবারের হাল ধরার জন্য যারা নিরলস পরিশ্রম করছেন, তাদের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে নিয়ন বলেন, ‘চাকরিপ্রত্যাশী প্রতিটি তরুণের ত্যাগ যেন তাদের সাফল্যের পথকে সুগম করে, সেই প্রত্যাশা করি। সবার কাছে দোয়া চাই যেন একদিন এই পরিশ্রমের ফল মেলে এবং আমরা আমাদের পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পারি।’

পরিবার থেকে দূরে থাকলেও স্বপ্নের পথচলায় অনুপ্রাণিত নিয়নদের মতো হাজারো তরুণ। তাদের এই ত্যাগ আর পরিশ্রমই হয়তো বদলে দেবে আগামীর বাংলাদেশ।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

বাকৃবিতে ছিনতাইয়ের সময় ছিনতাইকারী ও অটোচালক আটক

বাকৃবি প্রতিনিধি
বাকৃবি প্রতিনিধি
শেয়ার
বাকৃবিতে ছিনতাইয়ের সময় ছিনতাইকারী ও অটোচালক আটক
ছবি: কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) সংলগ্ন আমবাগান এলাকায় ছিনতাইয়ের সময় এক ছিনতাইকারী ও তার সহযোগী অটোচালককে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার (৩০ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোখলেছুর রহমান। এর আগে শনিবার (২৯ মার্চ) রাত সাড়ে ১১ টার তাদের আটক করা হয়। 

আটককৃতরা হলেন—ময়মনসিংহের ফকিরাকান্দা এলাকার মো. আসিফ (১৯) এবং একই এলাকার অটোচালক মো. ইয়াসিন মিয়া (জিয়াদ)।

উপপরিদর্শত মোখলেছুর রহমান জানান, শিকারাকান্দা থেকে ব্রিজের মোড়ে যাওয়ার জন্য এক যাত্রী মো. ইয়াসিন মিয়ার অটোতে উঠেছিলেন। পথে ছিনতাইয়ের শিকার হয় ওই যাত্রী। ছিনতাইকারীরা তার কাছ থেকে মানিব্যাগ ও মোবাইল নিয়ে অটো থেকে নামিয়ে দেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল জব্বার মোড়ে পৌঁছালে ছিনতাইকারীদের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়।

এতে আশপাশের লোকজনের সন্দেহ হলে তারা ছিনতাইকারীদের দুইজন সদস্যকে আটক করেন। এ সময় আরো ৩-৪ জন পালিয়ে যায়।

এসআই মোখলেছুর রহমান বলেন, ‌‌‌‘প্রথমে ছিনতাইকারীরা তাদের অপরাধ অস্বীকার করলেও পরে নিজেদের দোষ স্বীকার করে নেয়। এরপর তাদের বাকৃবি পুলিশ ক্যাম্পে রাখা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।’
 

মন্তব্য

জালিয়াতির অভিযোগে তামীরুল মিল্লাতের অধ্যক্ষ বরখাস্ত

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
জালিয়াতির অভিযোগে তামীরুল মিল্লাতের অধ্যক্ষ বরখাস্ত
সংগৃহীত ছবি

খাতা মূল্যায়নে জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎসহ একাধিক অভিযোগে তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা যাত্রাবাড়ীর অধ্যক্ষ ড. মুহাম্মাদ আবু ইউছুফকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ১২ মার্চ মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. কোরবান আলী স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা যায়।

অফিস আদেশে বলা হয়, তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির ১২ মার্চের সভায় আপনার বিরুদ্ধে ট্রাস্ট কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির আনীত ২০টি অভিযোগের প্রতিবেদন আলোচিত হয়। সব দিক বিবেচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে আপনার বরখাস্তের মেয়াদ ২০ মার্চ থেকে আরো দুই মাস বাড়িয়ে ছয় মাস নির্ধারণ করা হয়েছে।

বরখাস্তকালে মাদরাসা থেকে সব প্রকার সুযোগ-সুবিধা বন্ধ থাকবে।

আরো পড়ুন
কুমিল্লায় ট্রেন দুর্ঘটনা নিয়ে গুজব

কুমিল্লায় ট্রেন দুর্ঘটনা নিয়ে গুজব

 

এ বিষয়ে মাওলানা আবু ইউছুফ বলেন, ‘কোনো বিষয়ে অভিযোগ থাকলে প্রথমে শোকজ দিতে হয়। শোকজের জবাবে সন্তুষ্ট না হলে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে সে রকম হয়নি, আমাকে সরাসরি বরখাস্ত করা হয়েছে।

বরখাস্তের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আবার দুই মাস বাড়িয়ে আরেকটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। এটিও আইনসংগত হয়নি।’

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ