কুমিল্লায় থামানো যাচ্ছে না গোমতীর চরের মাটি লুট

শাহীন আলম, কুমিল্লা উত্তর
শাহীন আলম, কুমিল্লা উত্তর
শেয়ার
কুমিল্লায় থামানো যাচ্ছে না গোমতীর চরের মাটি লুট
কুমিল্লায় গোমতী চরের মাটি লুট। ছবি : কালের কণ্ঠ

কুমিল্লায় অবাধে মাটি কেটে ক্ষত-বিক্ষত করা হচ্ছে একসময়ের খরস্রোতা গোমতী নদী ও চর। শীত আসার পর পরই দুপাশের বাঁধ কেটে ওঠানামা করছে শত শত ট্রাক্টর। রাতদিন মাটিবাহী ট্রাক্টর চলাচলে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নদীর দু-পারের বাসিন্দারা। ধুলায় বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ।

নদীর ভেতরের মাটি কাটার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে বাঁধ, সড়ক ও বেশ কিছু সেতু। এই চরের মাটি জেলার অর্ধ শতাধিক ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে গোমতী চরের মাটি কাটার প্রতিরোধে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগী শত শত ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক। তারা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপিও প্রদান করেছেন।

আরো পড়ুন
ভিনিসিয়ুসের জন্য টাকার বস্তা নিয়ে প্রস্তুত সৌদি তিন ক্লাব

ভিনিসিয়ুসের জন্য টাকার বস্তা নিয়ে প্রস্তুত সৌদি তিন ক্লাব

 

জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডসূত্রে জানা গেছে, গোমতীর উৎপত্তিস্থল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উদয়পুরে। এই নদীটি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কটকবাজার এলাকা দিয়ে। পরে জেলার আদর্শ সদর, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, দেবিদ্বার, মুরাদনগর, তিতাস ও দাউদকান্দি উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মেঘনায় গিয়ে মিশেছে। বাংলাদেশ অংশে এ নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৯০ কিলোমিটার।

নদীর ডান তীরে ৪১ কিলোমিটার ও বাম তীরে ৩৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার বন্যা ব্যবস্থাপনা বাঁধ রয়েছে।

গত বুধবার (২২ জানুয়ারি) রাত ৮টার পর দেবিদ্বার উপজেলার অংশের খলিলপুর, বিনাইপাড়, চরবাকর, বড় আলমপুর, চান্দপুর, লক্ষীপুর, কালিকাপুর-নয়াপাড়া এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শত শত ট্রাক্টর ছুটছে নদীর চরের দিকে, নদীর দুপাশে লাগামহীনভাবে কেটে নেওয়া হচ্ছে কৃষি জমির মাটি। রাতে ট্রাক্টরের শব্দ আর ধুলোয় অতিষ্ঠ গোমতীর পাড়ের মানুষ। তবে এসব এলাকায় দিনের বেলায় কাউকে মাটি কাটতে দেখা যায়নি।

আরো পড়ুন
সবজিতে স্বস্তি, চাল-সয়াবিন তেলে অস্থিরতা

সবজিতে স্বস্তি, চাল-সয়াবিন তেলে অস্থিরতা

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার আদর্শ সদর, দেবিদ্বার, মুরাদনগর, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, তিতাস অংশে অর্ধশতাধিক সিন্ডিকেট চক্র চরের সহজ-সরল কৃষকদের ফাঁদে ফেলে মাটি বিক্রি করতে বাধ্য করছে।

তারা চরের জমির মাটি কিনে ২০ থেকে ৪০ ফুট গভীর পর্যন্ত মাটি কেটে নেয়। পাশের জমি নিচে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিলে ওই সিন্ডিকেট পার্শ্ববর্তী জমির মালিককেও বাধ্য করেন মাটি বিক্রি করতে। নিরুপায়ে হয়ে নামমূল্যে মাটি বিক্রি করতে বাধ্য হন কৃষকরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার টিক্কাচর, ছত্রখীল, পালপাড়া, দুর্গাপুর, আমতলী, কাচিয়াতলী, বুড়িচং এর বাবুবাজার, বাজেবাহেরচর, পূর্বহুরাসহ আশপাশের এলাকায় দেখা গেছে একই চিত্র। এসব এলাকায় বর্তমানে ফসল উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

আরো পড়ুন
ফি কমলেও বিসিএসের আবেদনে ভাটা

ফি কমলেও বিসিএসের আবেদনে ভাটা

 

জানা গেছে, এই চক্রের মূলহোতাদের মধ্যে রয়েছেন- দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম, কালিকাপুর-নয়াপাড়া এলাকার শিষন মিয়া ও দুলাল মিয়া। তারা রাতের আঁধারে মাটি কেটে ছুগুরা গ্রামের লিমা ব্রিকস ও কালিকাপুরের এমএমবি ব্রিকসে নিয়ে যান। একটি চক্র রাতে রাস্তায় বসে ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযানের পাহারা দেন বলেও জানা গেছে। কুমিল্লা আর্দশ সদর এলাকা, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে একই চিত্র। এসব উপজেলার প্রায় শতাধিক ইটভাটায় গোমতীর চরের মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে।

দেবিদ্বার উপজেলার বড়আলমপুর গ্রামের (অব.) সার্জেন্ট নাছির বলেন, ‘এক সময়ে এই চরে বিঘার পর বিঘায় চাষবাস হতো। বর্তমানে ফসল শূন্যে পুরো চর খাঁ খাঁ করছে। কয়েকদিন পর পর অভিযানে দু-একজন শ্রমিক আটক হলেও যারা মূল হোতা তারা ধরে পড়ে না। তারা ধরাছোঁয়ার বাহিরে থেকে এসব পরিচালনা করে।’

আরো পড়ুন
মিরসরাইয়ে পিকনিকের বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ৮

মিরসরাইয়ে পিকনিকের বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ৮

 

আদর্শ সদর উপজেলার টিক্কারচর এলাকার কৃষক মো. সিরাজুল ইসলাম ও আবু হানিফ, দেবিদ্বারের চরবাকর গ্রামের মনু মিয়া, খলিলপুর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন ও শরিফুল ইসলাম জানান, রাতে মাটি কাটা শুরু হয়, চলে ভোর পর্যন্ত। এই চরে সবজি ফলিয়ে রুটি রুজি করতেন এই এলাকার কৃষকরা, আজ তারা পথে বসেছে। জোর করে মাটি কেটে নিচ্ছে, বাঁধা দিলে মারধর করে। আগে আওয়ামী লীগের লোকেরা কাটত এখন বিএনপির লোকেরা কাটে। গেল বন্যায় পানি উঠে চরের ভেতরে বাড়িঘর ডুবে যায়, তখন নিরুপায়ে হয়ে বাঁধের ওপর আশ্রয় নেন তারা।

কয়েকমাস আগের বন্যায় গোমতী বেড়িবাঁধের অনেক স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। সহস্রাধিক মানুষ বস্তায় মাটি ভরে রাত-দিন বেড়িবাঁধের ভাঙনস্থানে সংস্কার করেছেন। পরে ২২ আগস্ট রাত ১০টার দিকে বুড়িচং উপজেলার বুড়বুড়িয়া এলাকায় বেড়িবাঁধ ভাঙন দেখা দেয়। এতে কুমিল্লার ৩টি উপজেলা প্লাবিত হয়। এত কিছুর পরও মাটি সিন্ডিকেটকে থামানো যাচ্ছে না। তারা শীত এলেই মাটি কাটা শুরু করে।

আরো পড়ুন
রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে কৌশলগত চুক্তি

রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে কৌশলগত চুক্তি

 

এ বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাটি সিন্ডিকের মূলহোতা জাফরগঞ্জের সিরাজুল ইসলামের মুঠো ফোনে কল করা হলে তিনি এই প্রতিবেদকের পরিচয় জানার পর- এখন ঘুমাচ্ছেন বলে লাইন কেটে দেন। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লা শাখার সভাপতি ডা. মোসলেহ উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভূমিখেকোরা এখন অভিনব কায়দায় রাতে মাটি কাটছে , রাতে তো আর ম্যাজিস্ট্রেট যান না। এটি যদি জেলা প্রশাসন বন্ধ না করতে পারে তাহলে কুমিল্লার ভবিষ্যৎ খুব খারাপ পর্যায়ে পৌঁছবে। কুমিল্লার টিক্কারচর একটি ফসলি আবাদ ভূমি এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে নানা সবজি চাষ হত এখন আর কিছুই হচ্ছে না। এভাবে নদী যে যে এলাকায় দিয়ে গেছে সে সে এলাকায় মাটি কাটছে, এখন মূল নদী কোনটা বা কোন দিকের স্রোত কোন দিকে যাচ্ছে তা বোঝা যাচ্ছে না।’

কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুল লতিফ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নদী হচ্ছে সরকারি সম্পত্তি, নদী থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন এটি জেলা প্রশাসক বা স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারেন এটি তাদের এখতিয়ার। আমাদের হলো গোমতীর বেড়িবাঁধ রক্ষার দায়িত্ব। যদি কেউ বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত করে আমরা তাদের বিরুদ্ধে মামলা করি। এখনো অনেক মামলা চলমান রয়েছে।’

আরো পড়ুন
জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট: সারা বছরই চাপ, শীতে বেশি ঘরে পোড়া রোগী

জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট: সারা বছরই চাপ, শীতে বেশি ঘরে পোড়া রোগী

 

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো.আমিরুল কায়ছার বলেন, ‘গোমতী চরের মাটি কাটার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।’

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

যুবলীগ নেতা গোলাম রুবায়েত গ্রেপ্তার

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি
সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি
শেয়ার
যুবলীগ নেতা গোলাম রুবায়েত গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযানে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা যুবলীগ নেতা মো. গোলাম রুবায়েত মিন্টুকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  

গতকাল মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে শহরের আতিয়ার কলোনির বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সৈয়দপুর থানা পুলিশ। সে উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের লক্ষণপুর এলাকার মৃত.  মোখলেছুর রহমানের ছেলে। 

সূত্র জানায়, গত বছরের ৪ আগস্ট সৈয়দপুরে ছাত্র জনতার গণআন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি অফিসে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায়।

ওই হামলার ঘটনায় মারাত্মক আহত হন উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলী বদিয়ত পাড়ার নুর ইসলাম। পরে ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর ৬৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০০/৩০০ জনকে আসামি করে সৈয়দপুর সন্ত্রাস ও নাশকতার মামলা করেন তিনি। এ মামলার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে গোলাম রুবায়েত মিন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফইম উদ্দিন আসামি মিন্টুকে গ্রেপ্তারের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

মন্তব্য

রাজবাড়ীতে পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৬

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
শেয়ার
রাজবাড়ীতে পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৬
ছবি: কালের কণ্ঠ

রাজবাড়ীতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওপর হামলা করে মাদক মামলার এক আসামি ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে আহত হয়েছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশে এসআই ওয়াহিদুল হাসান। তাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের কাজীবাধা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল কাজীবাধা এলাকার ৯টি ডাকাতি ও মাদক মামলার আসামি ফরিদ শেখের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় ৩১০ পিস ইয়াবা ও চার বোতল ফেনসিডিলসহ ফরিদ শেখকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

এরপর ফরিদ শেখের হাতে হাতকড়া লাগিয়ে গাড়িতে তোলার সময় তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়।

তোপের মুখে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা ফরিদের হাতের হাতকড়া খুলে দিতে বাধ্য হন। এ সময় বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয় এসআই ওয়াহিদুল হাসানকে। 

পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ করার অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তাররা হলেন, মো. আবুল কালাম আজাদ (৪৭), মো. মিন্টু শেখ (৫৫), আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী মোসা. শেফালী বেগম (৪৩), মোসা. নাসিমা বেগম (২৮) , মোসা. শিমু বেগম (২০) ও সোহাগী বেগম (২৫)।

তাদের সবার বাড়ি কাজী বাধা গ্রামে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মফিজুল ইসলাম বলেন, ফরিদকে মাদকসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তারের পর তার পরিবারের নারী ও পুরুষ সদস্যরা আমাদের ওপর হামলা চালান। এতে আমাদের এসআই ওয়াহিদুল হাসান আহত হন। তিনি রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার শামিমা পারভীন বলেন, ফরিদ শেখ একজন মাদক ব্যবসায়ী।

তার বিরুদ্ধে রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন থানায় ৯টি ডাকাতি ও মাদক মামলা রয়েছে। তার বাড়ি থেকে ৩১০ পিস ইয়াবা ও চার বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। ফরিদ ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। 

সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর আক্রমণের বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে তিনি জানান।

মন্তব্য

কুষ্টিয়ায় পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া
শেয়ার
কুষ্টিয়ায় পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়ার মিরপুরে নিজ বাসা থেকে এক পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কাতলামারী গ্রাম থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয় বলে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম জানান।

মৃত রাকিবুল ইসলাম (৩২) ওই গ্রামের সামু আলীর ছেলে। তিনি পুলিশের কনস্টটেবল পদে ঝিনাইদহ পুলিশ লাইনে কর্মরত ছিলেন।

আরো পড়ুন
সমন্বয়কদের নতুন ছাত্রসংগঠনের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা

সমন্বয়কদের নতুন ছাত্রসংগঠনের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা

 

স্থানীয়রা জানায়, রাকিবুল ইসলাম বুধবার সকালে শয়নকক্ষের দরজা বন্ধ করে দিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। সকাল ১০টার দিকে তাকে ডেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিলো না। পরে পরিবারের সদস্যরা দেখেন তিনি  আত্মহত্যা করেছেন।
 
ওসি মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘রাকিবুল ইসলামের ফ্যামিলির আর্থিক অবস্থা ভালো না।

তার বাবা একটা  ব্যবসা করতেন। তার কাছে বিভিন্ন লোকজন টাকা-পয়সা পায়। এ কারণে চাপ দেন তারা। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে আত্মহত্যার এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।’ 

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

জাতীয় ক্রীড়া সংস্থার কমিটিতে আ. লীগ নেতা

পিরোজপুর প্রতিনিধি
পিরোজপুর প্রতিনিধি
শেয়ার
জাতীয় ক্রীড়া সংস্থার কমিটিতে আ. লীগ নেতা
সংগৃহীত ছবি

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে জাতীয় ক্রীড়া সংস্থার কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ইন্দুরকানী উপজেলার জাতীয় ক্রীড়া সংস্থার কমিটিতে সদস্য পদে স্থান পাওয়া ওই আওয়ামী লীগ নেতা উত্তম কুমার সাহা। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক।

জানা গেছে, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাত সদস্যবিশিষ্ট ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির আহ্বায়ক এবং সদস্যসচিবের দায়িত্ব পান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান বিন মোহাম্মদ আলী এবং উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবু জাফর। গত বছরের ২৯ অক্টোবরে উত্তমের নাম রেখে কমিটিতে স্বাক্ষর করেন তারা।

উত্তম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কমিটিতে রেফারি হিসেবে সদস্য রাখা হয়েছে শুনেছি। উপজেলা প্রশাসন আমাকে না জানিয়ে কমিটি গঠন করেছে।

আমি কখনো আওয়ামী লীগের প্রগ্রাম করিনি।’

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফরিদ আহমেদ বলেন, ইউএনও কারো সঙ্গে আলোচনা না করে জাতীয় ক্রীড়া সংস্থার কমিটিতে আওয়ামী লীগ নেতাকে সদস্য করে কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার যোগদানের শুরুতে জাতীয় ক্রীড়া সংস্থার কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। উত্তম আওয়ামী লীগের নেতা, আমার জানা ছিল না।

এ বিষয় খতিয়ে দেখব।’

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ