কুমিল্লায় পূর্ব বিরোধে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

কুমিল্লা (উত্তর) প্রতিনিধি
কুমিল্লা (উত্তর) প্রতিনিধি
শেয়ার
কুমিল্লায় পূর্ব বিরোধে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

কুমিল্লায় পূর্ব বিরোধের জেরে হামলায় গুরুতর আহত ইউনুস মিয়া নামে এক যুবক মারা গেছেন। বুধবার (২ এপ্রিল) কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহত ইউনুস মিয়া কোতয়ালী মডেল থানার সাহেবনগর উত্তরপাড়া গ্রামের সুলতান আহমেদের ছেলে।

পুলিশ জানায়, প্রতিবেশী ছেতু মিয়ার ছেলে মো. ইউনুসের পরিবারের সঙ্গে নিহত যুবক ইউনুসের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

মঙ্গলবার উভয় পরিবারের সেই বিরোধ থেকে ইউনুসকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। তাকে হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার তিনি মারা যান। 

কোতোয়ালি থানার ক্যান্টনমেন্ট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক হোসেন জানান, উভয় পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে মঙ্গলবার ইউনুস মিয়াকে বেধড়ক লাঠিপেটা করা হয়।

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বুধবার বিকালে মামলা দায়ের করার পর পুলিশ অভিযুক্ত মো. ইউনুসকে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

ছয় দশকেও আলোর মুখ দেখেনি দেশের প্রথম লৌহ খনি

শাহ্ মো. রেজাউল করিম, পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
শাহ্ মো. রেজাউল করিম, পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
শেয়ার
ছয় দশকেও আলোর মুখ দেখেনি দেশের প্রথম লৌহ খনি
ছবি: কালের কণ্ঠ

রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের ভেলামারি পাথারে আবিষ্কৃত দেশের প্রথম লৌহ খনিটি ছয় দশকেও আলোর মুখ দেখেনি। ১৯৬৪ সালে এই লোহার খনির অস্তিত্ব নিশ্চিত করে তৎকালীন পাকিস্তান খনিজ সম্পদ বিভাগ। ১৯৯৯ সালে পুনরায় খনন শুরু করে জিওলজিক্যাল সার্ভে অব বাংলাদেশ (জিএসবি)। সুদীর্ঘ ৬০ বছর আগে এই লৌহ খনিটির প্রথম সন্ধান পাওয়া গেলেও এখনো উত্তোলনের কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সরকার।

চলতি বছর ওই স্থানে ফের ড্রিলিং করে কূপ খনন করা হবে একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

পীরগঞ্জের ভেলামারি খনি থেকে লোহা উত্তোলনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। জিওলজিক্যাল সার্ভে অব বাংলাদেশ-(জিএসবি) ও পেট্রোবাংলা থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট ও মিঠিপুর ইউনিয়নের মাঝামাঝি বিশাল একটি এলাকার নাম ভেলামারি পাথার। এখানেই আবিষ্কৃত হয়েছে দেশের প্রথম বিশ্বমানের লৌহ খনির।

ওই সময়ে খনি এলাকা চিহ্নিত করে সেই জমিতে কংক্রিটের ঢালাই করে রাখা হয় অনুসন্ধান করা চারটি কূপের মুখ। ৬০ বছর ধরে খনি মুখে কংক্রিটের ঢালাই ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

জেসবি ও পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, ১৯৬৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পাক-ভারত যুদ্ধের পর স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তৎকালীন পাকিস্তান খনিজসম্পদ বিভাগের একদল বিশেষজ্ঞ বিমান ও গাড়িবহর নিয়ে এই ভেলামারি পাথারে আসে। প্রায় ছয় বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই পাথারে তারা লৌহ খনির অবস্থান নিশ্চিত করতে এ্যারোমেটিক সার্ভে পরিচালনা করে।

উড়োজাহাজের নিচে একটি বিশাল শক্তিশালী চুম্বক ঝুলিয়ে দেন। এরপর উড়োজাহাজটি ট্রি লেবেলে পাথারের ওপর দিয়ে উড়ে যেতে থাকে। একপর্যায়ে উড়োজাহাজে ঝুলন্ত চুম্বকটি ভেলামারি পাথারে ছোট পাহাড়পুর গ্রামের আবুল ফজল ও আবদুল ছাত্তার নামে দুই ব্যক্তির মালিকানাধীন জমির ওপর এসে আকর্ষিত হয়। এই আকর্ষণ উড়োজাহাজটিকে বারবার মাটির দিকে টেনে নিচে নামাতে চেষ্টা করে। পরে অন্যান্য পরীক্ষার পর তৎকালীন পাকিস্তানের খনিজ বিজ্ঞানীরা এখানে লোহার খনির অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হন।
পরে উৎস হিসেবে ওই জমির ওপর কংক্রিটের ঢালাই করে চিহ্ন দিয়ে চলে যান।

সূত্র জানায়, পরের বছর পাকিস্থান খনিজসম্পদ বিভাগ চিহ্নিত স্থানে খনন কাজ শুরু করে। প্রায় আট মাস ধরে তারা ভেলামারি এলাকার পাশের কেশবপুর, ছোট পাহাড়পুর, প্রথমডাঙ্গা,পবনপাড়া, সদরা কুতুবপুর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে অসংখ্য স্থানে পাইপ বসিয়ে লোহার খনির সন্ধান করে নিশ্চিত হন। অনুসন্ধানের সময় পাইপের ভেতর দিয়ে মাটির গভীরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বোমার বিস্ফোরণে ওই এলাকার অনেক মাটির কুয়া ভেঙে যায়। দ্বিতীয় দফায় পাইপের মাধ্যমে জরিপ কাজ শেষ করা হয়। ১৯৬৭ সালের শেষের দিকে পাকিস্থান খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাসহ একদল বিদেশী খনিজ বিশেষজ্ঞ রংপুরে আসেন। তারা অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির বিশাল বহর ও পরিবার পরিজনসহ স্থানীয় পানবাজার উচ্চ বিদ্যারয় মাঠে অস্থায়ীভাবে ক্যাম্প করে লোহার উপাদান উত্তোলন করে। মাটির ৯’শ ফুট নিচ থেকে ২২ হাজার ফুট পর্যন্ত পাইপ বসিয়ে লোহার উন্নতমানের স্তরের সন্ধান পায়। এর বিস্তৃতি প্রায় ১০ বর্গ কিলোমিটার। টানা এক বছরের বেশি সময় ধরে ব্যাপক অনুসন্ধান শেষ করে ভেলামারিতে বোরিংকৃত চারটি মূল পাইপের উৎসমুখে কংক্রিটের ঢালাইয়ের দিয়ে বন্ধ করে ক্যাম্প গুটিয়ে চলে যান। এ সময় তারা বলে যান, লৌহ অপরিপক্ব অবস্থায় আছে। ধারণা করেন আগামী ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যেই এটি উত্তোলন যোগ্য হতে পারে। সেই হিসেবে ৪২ বছর আগে লোহা খনিটি পরিপক্কতা লাভ করেছে। 

বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর দ্বিতীয়বারের মতো ১৯৯৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে ভেলামারি পাথারে লোহার খনির অনুসন্ধান কাজ শুরু করেন। কিন্তু তারা পূর্বে আবিষ্কৃত লৌহ খনির উৎসমুখ ভেলামারি হতে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে বড় পাহাড়পুর গ্রামের পূর্ব প্রান্তে পরীক্ষামূলক খনন করে কোনো রিপোর্ট প্রকাশ না করেই চলে যান। ওই রিপোর্ট পরে পরিপূর্ণভাবে প্রকাশও হয়নি। ২০২৩ সালের শেষের দিকে খনিটির মূল উৎস থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে কাশিমপুর গ্রামে ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে কূপ খনন করে। তবে সেখানে কি পাওয়া গেছে তা প্রকাশ করেনি জেএসবি।

জিএসবি সূত্র নিশ্চিত করেছে, সেখানে অনুসন্ধান চালিয়ে উন্নতমানের আয়রন কোর (লোহা আকরিক) পাওয়া গেছে। কিন্তু সেখানে আয়রন কোরের রিজার্ভ কম হওয়ায় লৌহ উত্তোলনের সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি জিএসবি। কারণ হিসেবে বলেছে, রিজার্ভের পরিমাণ ইকোনমিক্যালি ভায়াবোল না হওয়ায় খনি থেকে লৌহ উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না। যে পরিমাণ খরচ হবে তা রিজার্ভ দিয়ে পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হবে না বলেও উল্লেখ করেছেন তারা। লৌহখনির অবস্থান নিশ্চিত করে অনুসন্ধান চললেও উত্তোলনের কোনো উদ্যোগ নেয়নি জিএসবি। লৌহ খনিটি আবিষ্কারের পর এখন প্রায় ৬০ বছর অতিবাহিত হতে চলেছে। ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য মতে, পীরগঞ্জের ভেলামারি পাথারের এই লোহার খনিটি এখন পরিপক্কতা অর্জন করেছে। অথচ পেট্রোবাংলা ড্রিলিং করে কূপ খনন করে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে। চলতি বছরেও কূপ খনন করবে জিএসবি।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. বদরুদ্দোজা মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশে প্রথম লৌহসহ আরো কিছু মিনারেল এর ট্রেস পাওয়া গেছে রংপুরের পীরগঞ্জে। এখনও মাইনিং পর্যায়ে যাওয়ার মত যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত নাই। ভেলামারী পাথারে আরো একটি ড্রিলিংয়ের পরিকল্পনা চলছে।

পেট্রো বাংলার সাবেক পরিচালক মকবুল-ই-এলাহী চৌধুরী মশগুল বলেন, ১৯৬৪ সালে বাংলাদেশে প্রথম লৌহ খনি আবিষ্কৃত হয় পীরগঞ্জে, যা পেট্রো বাংলায় পীরগঞ্জ-১ ফাইল নামে সংরক্ষিত আছে। এটাই দেশের প্রথম লোহার খনি।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

শহীদ আবু সাঈদ চত্বর পরিদর্শন করলেন প্রধান বিচারপতি

রংপুর অফিস
রংপুর অফিস
শেয়ার
শহীদ আবু সাঈদ চত্বর পরিদর্শন করলেন প্রধান বিচারপতি
ছবি : কালের কণ্ঠ

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ১ নম্বর গেটের সামনে শহীদ আবু সাঈদ চত্বর পরিদর্শন করেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

আজ রবিবার দুপুরে বেরোবি ক্যাম্পাসে গেলে প্রধান বিচারপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী।

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত স্থান পরিদর্শন করেন এবং তার সহপাঠী ও সতীর্থদের সঙ্গে কথা বলে সেদিনের ঘটনা শোনেন। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গেও কথা বলেন প্রধান বিচারপতি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী আবু সাঈদ স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রধান বিচারপতিকে জানান।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর রশিদ, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াছ প্রামানিক, প্রক্টর ড. মো. ফেরদৌস রহমানসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে কাশিয়ানী থানার ওসি ক্লোজড

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
শেয়ার
ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে কাশিয়ানী থানার ওসি ক্লোজড
সংগৃহীত ছবি

ব্যাপক অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিউদ্দিন খানকে থানা থেকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। রবিবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে তাকে ক্লোজ করা হয়।

গোপালগঞ্জ পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিরীহ মানুষকে মামলার অসামি করার ভয় দেখিয়ে কাশিয়ানী থানার ওসি মো. শফিউদ্দিন খানের বিরুদ্ধে অর্থ ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এমনকি এক ইউপি সদস্যের কাছ থেকে ওসি ঘুষ নেওয়ার একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নিদের্শ দেন পুলিশ সুপার। কিন্তু ৪৮ ঘণ্টা পার না হতেই তদন্তের স্বার্থে আগেই ওসি মো. শফিউদ্দিন খানকে কাশিয়ানী থানা থেকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করেন পুলিশ সুপার।

এ ব্যাপারে কাশিয়ানী থানার ওসি মো. শফিউদ্দিন খান তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তবে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। 

তিনি আরো বলেন, তদন্তের স্বার্থে কাশিয়ানী থানার ওসি মো. শফিউদ্দিন খানে থানা থেকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

মন্তব্য

কাশিয়ানীতে গ্রামীণ খেলাধুলায় ঈদ আনন্দ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
শেয়ার
কাশিয়ানীতে গ্রামীণ খেলাধুলায় ঈদ আনন্দ
ছবি : কালের কণ্ঠ

ঈদ আনন্দকে রঙিন করে তুলতে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৬ এপ্রিল) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার চাপতা গ্রামের রেলস্টেশন বালুর মাঠে গ্রামবাসীর উদ্যোগে এ খেলাধুলা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
 
রশি টানাটানি, বালিশ খেলা, হাঁড়ি ভাঙা, তেলমাখা কলাগাছ বেয়ে ওঠা, চেয়ার সিটিংসহ বিভিন্ন গ্রামীণ খেলায় শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণ শতাধিক প্রতিযোগী অংশ গ্রহণে করেন। গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরতে রাখতে আগামীতেও এমন আয়োজনের কথা জানান আয়োজকরা।

সরেজমিন দেখা গেছে, মাঠের এক প্রান্তে রশি টানাটানি খেলা। অপর প্রান্তে তৈলাক্ত কলাগাছ বেয়ে ওঠা প্রতিযোগিতা। অন্য পাশে হাঁড়ি ভাঙাসহ নানা খেলা। রশির দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন দুই দল যুবক।

রশি টেনে যারা নিজেদের কাছে নিয়ে আসতে পারবেন তারাই জয়ী হবেন। দুই দলই পেশি শক্তি প্রয়োগ করে মরণপণ চেষ্টা করছে বিজয়ী হতে। শুধু রশি টানাটানি নয় শিশু ও কিশোর প্রতিযোগীরদের চেষ্টা করছে তৈলাক্ত কলা গাছ বেয়ে উপরে ওঠার। এ ছাড়া হাঁড়ি ভাঙা, চেয়ার সিটিংসহ বিভিন্ন গ্রামীণ খেলার আয়োজন ছিল নারীদের জন্য।
পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের অংশগ্রহণ থাকায় বাড়তি উচ্ছ্বাস যোগ হয়। যা হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ সংস্কৃতির স্মৃতিকে ফিরিয়ে আনে।

এ প্রতিযোগিতা দেখতে দুপুর থেকেই দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। গ্রামের মানুষ একসঙ্গে মিলিত হয়ে এ খেলাগুলো উপভোগ করেন। বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের মাঝে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল।

আধুনিক নেট দুনিয়ার যুগে হারিয়ে যাওয়া এই গ্রামীণ খেলার আয়োজন করায় ঘরবন্দি শিশুরা যেমন আনন্দ উপভোগ করেছে, তেমনি মাদক ও মোবাইল গেমের আসক্তি থেকে কিশোর ও যুবকরা ফিরে আসবে বলে মনে করেন আয়োজক ও দর্শনার্থীরা।

খেলার আয়োজক আব্দুর রহিম খাকি বলেন, ‘হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ সংস্কৃতির পুনর্জাগরণের উদ্দেশ্যেই এমন আয়োজন করা হয়েছে। ঈদ-পরবর্তী আনন্দ দিতে গ্রামীণ খেলার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে গ্রামবাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করতে আমাদের এই চেষ্টা। আশা করি, এই আয়োজনের মাধ্যমে এই যুগের মানুষ পুরাতন সংস্কৃতিকে জানতে ও বুঝতে সক্ষম হবে।’

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ