লক্ষ্মীপুরে এক নারীর হাত ভাঙার ভুয়া মেডিকেল রিপোর্ট দেখিয়ে হত্যাচেষ্টার মামলা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কলেজ শিক্ষক খোকন আলমসহ ৪ জন আসামি এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। অভিযোগ, বাদী রুবিনা ইয়াছমিন জমি বিরোধের জেরে অন্য একজনের এক্স-রে রিপোর্ট নকল করে এই মামলা করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বাঞ্চানগর এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুবিনা ও আসামিদের মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। ২৫ মার্চ রুবিনার বাড়িতে ঢুকে তাকে পিটিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে খোকন আলম (দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক), হারুনুর রশিদ, সাহমুন রশিদ রনি ও মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার সপক্ষে জমা দেওয়া ফেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক্স-রে রিপোর্টটি ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী রেজাউল করিম ও কম্পিউটার অপারেটর নন্দ দুলাল সরকার লিখিতভাবে স্বীকার করেছেন, রুবিনার নামে কোনো এক্স-রে করা হয়নি।
লিপি আক্তার নামে এক রোগীর রিপোর্টের নাম পরিবর্তন করে ব্যবহার করা হয়েছে।
নন্দ দুলাল বলেন, রুবিনার সঙ্গে আসা ব্যক্তি আমাকে বিভ্রান্ত করে অন্য রোগীর রিপোর্ট নিয়ে যায়।
তবে রুবিনা দাবি করেন, তার হাত ভেঙেছে এবং রিপোর্টটি সঠিক।
মামলার আসামি খোকন আলমের স্ত্রী দিল আফরোজা (এক স্কুলের শিক্ষিকা) বলেন, এই মিথ্যা মামলায় আমাদের পরিবারের ঈদ নষ্ট হয়েছে।
ঈদের দিন ঘরে চুলাও জ্বলেনি।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোবারক হোসেন বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন। প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে একটি ভুয়া মেডিকেল রিপোর্ট দিয়ে মামলা দায়ের করা সম্ভব হলো? স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, জমি বিরোধের জেরে এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।