এক দশকের ক্যারিয়ারে ৪০টির বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন বাপ্পী চৌধুরী। সম্প্রতি ‘অপারেশন জ্যাকপট’ চলচ্চিত্রটি ছেড়ে আলোচনায় এসেছেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন সুদীপ কুমার দীপ
শেয়ার
বাপ্পী চৌধুরী ছবি : ছায়ারণ্য
আপনি বলছেন ‘অপারেশন জ্যাকপট’ ছবিটি ছেড়ে দিয়েছেন। আর প্রযোজক বলছেন শর্ত না মানার কারণে আপনাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আসল ঘটনা কী?
বাপ্পী চৌধুরী: শর্ত কি অভিনেতা দেন না প্রযোজক? আমিই তো শর্ত সাপেক্ষে তাঁদের ছবিতে যুক্ত হয়েছিলাম। তাঁরাই উল্টো শর্ত ভঙ্গ করেছেন।
আমাকে যে গল্প শোনানো হয়েছিল, যে চরিত্রটা সম্পর্কে ডিটেইল বলা হয়েছিল, পাণ্ডুলিপি হাতে পেয়ে দেখি তা একেবারেই আলাদা। তিন-চার বছর ধরে একের পর এক ছবির প্রস্তাব পাচ্ছি। পারিশ্রমিকও লোভনীয়। তবু গল্প এবং ভালো চরিত্রের জন্য অপেক্ষা করেছি।
এখন কি সেটা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া যায়? আমি সম্মানের সঙ্গে প্রযোজককে ছবিটি না করার কারণ জানিয়েছি। অথচ তাঁরা কেন মিথ্যা রটাচ্ছেন আমার জানা নেই।
অনেক দিন ধরে বলছেন আপনি ‘ফিল্ম পলিটিক্স’-এর শিকার। বিষয়টি খুলে বলবেন?
বাপ্পী চৌধুরী: ইন্ডাস্ট্রিতে ফিল্ম পলিটিক্স আগেও ছিল, এখনো আছে।
একটা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি সফলভাবে চলতে গেলে বছরে ১০টা সুপারহিট ছবি লাগে। পাঁচজন সুপারস্টার লাগে। অথচ কেউ ভালো ছবি নির্মাণের চিন্তা না করে একে অন্যের পেছনে লেগে আছে। একে অন্যকে টেনে নামানোর চেষ্টা করছে। আশি-নব্বইয়ের দশকে অন্তত ১০ জন সুপারস্টার ছিলেন ইন্ডাস্ট্রিতে।
বছরে অন্তত ২০টা সুপারহিট ছবি ছিল। তখন ফিল্ম পলিটিক্স ছিল ভালো ছবি নির্মাণ নিয়ে, তারকা হিসেবে নিজের অবস্থান শক্ত করা নিয়ে। আর এখন কেউ একটা ছবি করতে গেলেই প্রযোজক ভাগিয়ে নিয়ে যাওয়া, অভিনেতাকে বাদ দেওয়াসহ নানা জটিলতা তৈরি করা হয়। শেষ পর্যন্ত ছবিটিই আর হয় না। শুধু আমি নই, অনেকেই এই পলিটিক্সের শিকার হচ্ছেন। যার প্রতিফলন ঘটছে ইন্ডাস্ট্রিতে। বছরে ৩০টি বাণিজ্যিক ছবিই নির্মিত হচ্ছে না।
ক্যারিয়ারের ১০ বছর পূর্ণ হয়েছে গত বছর। কতটা অর্জন করেছেন বলে মনে করেন?
বাপ্পী চৌধুরী: এখনো নিজের সেরাটা দিতে পারিনি। অপেক্ষায় আছি দর্শকদের এমন একটা ছবি উপহার দিতে, যে ছবি দিয়ে মানুষের মনে সারা জীবন বেঁচে থাকতে পারব। তবে হ্যাঁ, ‘ভালোবাসার রং’, ‘জটিল প্রেম’, ‘অনেক সাধের ময়না’, ‘নায়ক’, ‘সুইটহার্ট’সহ বেশ কয়েকটি ছবি আমাকে আজকের অবস্থানে এনে দিয়েছে। একটা ফ্যানবেজ তৈরি হয়েছে। আমার নামে প্রথম শো হাউসফুল হয়। তার পরও আমার স্বপ্ন আরো বড়। নিজেকে সত্যিকারের একজন সুপারস্টার হিসেবে দেখতে চাই।
বাপ্পী চৌধুরী: আমি শুধু নই, শাকিব খান ভাইও কিন্তু করছেন না। ওটিটিকে ছোট করছি না। বিশ্বব্যাপী ওটিটির একটি আলাদা দর্শক আছে। অবশ্যই তারা রুচিশীল। তাদেরও পছন্দ আছে। তবে আমি আরেকটু অপেক্ষা করতে চাই। নিজেকে গুছিয়ে তবে নতুন এই প্ল্যাটফরমে নাম লেখাব।
নতুন কোনো ছবি করছেন?
বাপ্পী চৌধুরী: নতুন বছরের শুরুতে কয়েকটি ধামাকা খবর নিয়ে হাজির হব। সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকুন।
অভিনেত্রী মুনের মামলা, প্রযোজক আজিজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
শেয়ার
সংগৃহীত ছবি
প্রযোজক আবদুল আজিজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গত রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত তাকে গ্রেপ্তারের আদেশ দেন।
প্রযোজনা সংস্থা জাজ মাল্টিমিডিয়ার পরিচালক আবদুল আজিজের বিরুদ্ধে প্রতারণার দায়ে মামলা করেছেন ‘পাপ’ ছবির অভিনেত্রী জাকিয়া কামাল মুন। এ মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে ‘পাপ’ সিনেমাটি নির্মাণে সহযোগিতার জন্য আজিজকে এককালীন ৬০ লাখ টাকা দেন মুন। ওই বছরের মার্চের মধ্যেই সিনেমার কাজটি শেষ করার কথা ছিল। অঙ্গীকারনামার শর্ত মোতাবেক আজিজ বিনিয়োগকৃত টাকা ফেরত দেননি। বারবার আইনজীবীর মাধ্যমে নোটিশ পাঠানোর পরও তিনি উপেক্ষা করেছেন।
উল্টো গত বছরের মে মাসে ‘পাপ’ ছবিটি একটি ওটিটির কাছে ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন।
এ বিষয়ে মামলার বাদী অভিনেত্রী জাকিয়া কামাল মুন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার টাকা ফেরত দেননি, উল্টো বিভিন্ন প্রযোজককে তিনি বলে দিয়েছেন আমাকে যেন কোনো সিনেমায় না নেওয়া হয়।’
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আবদুল আজিজের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবু সাঈদ শিমুল জানান, আসামির বিরুদ্ধে ৪০৬, ৪২০ ও ৫০৬ ধারায় মামলা করা হয়েছে।
পর্দায় গ্ল্যামারাস হোক কিংবা সাহসী ফটোশুট, কিছুতেই আপত্তি নেই মধুমিতা সরকারের। সদ্য তার জীবনে এসেছে নতুন প্রেমের বসন্ত। ব্যক্তিগত-কর্মজীবন একসঙ্গে সামলাতে সিদ্ধহস্ত তিনি।
কথায় রয়েছে, কুমারী মেয়েরা শিবরাত্রি করলেই বলা হয়, সে নাকি শিবের মত বর পাবে।
এদিকে আগামীকাল শিবরাত্রি। এদিন কী করবেন মধুমিতা?
শিবের মতোই কাউকে পেয়েছেন জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, সেটা আমি পেয়েছি। কিন্তু, এমনটাও নয় যে আমি যদি কাউকে না পেতাম তাহলে শিবের প্রতি আমার ভক্তি-শ্রদ্ধা বা পূজা করার ইচ্ছেটা চলে যেত। আমি শিবভক্ত।
মহাদেবের প্রতি আমার অগাধ বিশ্বাস। আমি শুধু এখন ভগবানের পূজা করব। নতুন করে আর কিছু চাওয়ার নেই। যা দিয়েছেন তাতেই আমি ভীষণ খুশি।
এর পর শিবরাত্রিতে কী করবেন তা জানিয়ে মধুমিতা বলেন, আমি খুব নিষ্ঠার সঙ্গে শিবরাত্রি পালন করি। পূজার আগের দিন সংযম করেছি। নির্জলা উপোস করে প্রতি প্রহরে জল ঢালব। এই দিন পাড়ার মন্দিরে খুব ভিড় হয় বলে বাড়িতেই নিজের মতো করে ভালো করে পূজা করতেই পছন্দ করি। রুদ্র অভিষেক করার ইচ্ছে আছে।
বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘দ্য সাউন্ড অব মিউজিক’-এর ৬০তম বার্ষিকী উদযাপন করতে যাচ্ছে এক্সেল একাডেমি।
ভালোবাসার সুর ও সংগীতের ঐক্যকে তুলে ধরতে এক্সেল একাডেমির শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় আগামী ২৬ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি ছায়ানট মিলনায়তনে সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় মঞ্চস্থ হবে মঞ্চ নাটক ‘দ্য সাউন্ড অব মিউজিক’। এটির নির্দেশনা ও চিত্রনাট্য রচনা করেছেন রকি খান।
তিনি বলেন, ‘এমন একটি ক্লাসিক নাটকের নির্দেশনা দিতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়।
মেহজাবীন ও রাজীবের ক্রন্দনরত মুহূর্তটি যেন পূর্ণতার উচ্ছ্বাস
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
শেয়ার
সংগৃহীত ছবি
তেরো বছর আগে মাত্র ১৫ মিনিটের জন্য দেখা হয়েছিল দুজনের। তারপর আর ছাড়াছাড়ি হয়নি, বাঁধা পড়ে গেছে মন। হাতে হাত রেখে বাকিটা জীবনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন প্রেমিক যুগল মেহজাবীন চৌধুরী ও আদনান আল রাজীব।
সোমবার ঢাকার অদূরে মধুমতী মডেল টাউন রিসোর্টে হয়েছে তাদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা।
এদিন দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিয়ের ছবি প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। সঙ্গে শেয়ার করেন দীর্ঘদিনের প্রেমিকের সঙ্গে প্রথম দেখার সময়ের কথাও।
২০১২ সালে ‘ভাঙা দাঁতের মিষ্টি হাসির ছেলেটি’র সঙ্গে প্রথম দেখা। রাস্তার ওপার থেকেই চোখাচোখি।
কথা হয়েছিল ১৫ মিনিটের জন্য, করমর্দনের জন্যই স্পর্শ পেয়েছিল হাত। তারপর ছেলেটি চলে যায়, সঙ্গে নিয়ে যায় মেহজাবীনের মন। সেদিন থেকেই অভিনেত্রী জানতেন, এই সেই মানুষ।
বিয়ের সাজে মেহজাবীন চৌধুরী।
ছবি: তাহসিন রহমান
১৩ বছর পর জীবনের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অনেকটা বড় হয়ে গেছেন দুজনে—এমনই মনে করেন অভিনেত্রী। ভালো-মন্দ সব কিছুতেই পাশে আছেন পরস্পর। সেই সম্পর্কের পূর্ণতা দিয়ে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেন মেহজাবীন-আদনান।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের বিয়ের ছবি-ভিডিও ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ভাইরাল হয়েছে বিয়ের মঞ্চে বরকে জড়িয়ে ধরে মেহজাবীনের কান্নার ছবি-ভিডিও! দুজনের চোখেই পানি, আবেগে অশ্রুসিক্ত তারা।
একজন আরেকজনের চোখের পানি মুছে দিচ্ছেন।
‘মেহজাবীন কান্না করছেন আর আদনান আল রাজীব তার চোখের পানি মুছে দিলেন! সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত সম্ভবত এটাই।’- এমন হাজারো মন্তব্যে সয়লাব ফেসবুক!
মেহজাবীন ও রাজীবের ক্রন্দনরত মুহূর্তটি যেন পূর্ণতার উচ্ছ্বাস! অনুভূতিটা ঠিক রবীন্দ্রনাথের ‘হৈমন্তী’র গল্পের চরিত্রের ‘আমি পাইলাম, আমি ইহাকে পাইলাম।’-এর মতোই।
মঙ্গলবার দুপুরে নিজেদের বিয়ের ভিডিও শেয়ার করে মেহজাবীন লেখেন, ‘প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি হৃদস্পন্দন, প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের এখানে নিয়ে এসেছে—চিরকাল একসঙ্গে পথ চলতে। এই গান আমাদের যাত্রা, আমাদের ভালোবাসা এবং নতুন অধ্যায়ের সূচনার প্রতিচিত্র।’
আদনান আল রাজীবের সঙ্গে মেহজাবীনের প্রেমের শুরু ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল থেকে! সেই দিন থেকে তাদের বিয়ের দিন, অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫—মোট ৪৬৯৪ দিন!