আওয়ামী লীগের কর্মসূচি নিয়ে সারজিসের প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি নিয়ে সারজিসের প্রশ্ন
সারজিস আলস। ফাইল ছবি

ফেব্রুয়ারিতে হরতালসহ ৫ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। সরকার পতন ও এত মানুষ হত্যার পর আওয়ামী লীগের কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির প্রধান সংগঠক সারজিস আলম।

তিনি বলেন, ‘এত মানুষ হত্যা করার পরও শেখ হাসিনা কিভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করেন? যে দেশে এত হত্যাযজ্ঞ হয়েছে, সেখানে এলে তো ফাঁসির মঞ্চে ঝুলতে হবে।’

আজ বুধবার সকালে কাকরাইলে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বিষয়ক প্রদর্শনী পরিদর্শন করতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।

শেখ হাসিনা দেশে আসলে ফাঁসির মঞ্চে ঝুলবে বলেও এ সময় মন্তব্য করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম এই সমন্বয়ক।

আরো পড়ুন
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি নিয়ে প্রেসসচিবের ফেসবুক পোস্ট

আওয়ামী লীগের কর্মসূচি নিয়ে প্রেসসচিবের ফেসবুক পোস্ট

 

তরুণদের চিন্তা-ভাবনাকে রাজনীতিবিদরা হুমকি মনে করে বলে মন্তব্য করে সারজসি আলম বলেন, সো কোল্ড পলিটিশিয়ানরা এই জেনারেশনকে তাদের জন্য থ্রেট মনে করছেন। কারণ ইয়াং জেনারেশনের কালচারের সঙ্গে তারা খাপ খাওয়াতে পারছেন না, মানসিকতার সঙ্গে মিল রাখতে পারছেন না।

সারজিস বলেন, ‘অভ্যুত্থানের পর চিন্তা-ভাবনার দিক থেকে একটা বড় জেনারেশন গ্যাপ দেখা যাচ্ছে।

আমরা যেভাবে চাই সেভাবে তথাকথিত রাজনীতিবিদরা ভাবছেন না। কে মানুষের জন্য ভালো বা কে দেশের জন্য ভালো তারা এটা ভাবেন না। তারা ভাবেন, যাকে বসাচ্ছি সে আমার ম্যান কি না, যাকে বসাচ্ছি সে আমার স্বার্থ সার্ভ করবে কি না।’

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

ছিনতাই প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান ডিএমপি কমিশনারের

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
ছিনতাই প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান ডিএমপি কমিশনারের
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীতে ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

তিনি বলেন, অপরাধ হলে আশপাশের মানুষ প্রতিরোধ না করে মোবাইল বের করে ভিডিও করছেন। আমি অনুরোধ করব আসেন, সবাই প্রতিরোধ গড়ে তুলি। একটা লোক বিপদগ্রস্ত হলে সবাই এগিয়ে যাই।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে রাজধানীর বিজয় সরণি সংলগ্ন নভোথিয়েটারের সামনে জননিরাপত্তা জোরদারে চলমান কার্যক্রম পরিদর্শনকালে এসব বলেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, এখন একটা ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে ভিডিও করে। আগে যে প্রতিরোধের চেষ্টা করত এখন সেটা চোখে পড়ে না। ওই লোকটা যে বিপদে পড়েছে তার সাহায্যে এগিয়ে না গিয়ে ভিডিও করে।

তাই আমি অনুরোধ করি আসেন, সবাই প্রতিরোধ গড়ে তুলি।

তিনি বলেন, মোটরসাইকেল এবং অন্যান্য গাড়ি ব্যবহার করে যারা ছিনতাই করে তাদের অনুসন্ধান এবং চেক করছি। ছিনতাইকারীরা যাতে ধরা পড়ে সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। চিহ্নিত যেসব সন্ত্রাসী আছে তাদের আমরা এই অভিযানের মাধ্যমে আটক করব।

তবে সব ক্ষেত্রে ঢাকাবাসীর সহযোগিতা আমাদের একান্ত কাম্য।

রামপুরায় সোনা ব্যবসায়ীকে গুলি করার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা আশা করি আগামীকালের মধ্যেই আপনাদের একটা ভালো খবর দিতে পারব। ভালো কাজ হচ্ছে হোপফুলি কালকে ভোটার ডিটেকশন হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ।

উত্তরায় ছিনতাইকারী সন্দেহে দুজনকে ঝুলিয়ে পেটানো হয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমি কোনোভাবেই ঢাকাবাসীকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বলছি না। আমি যেটা বলছি, সম্মিলিতভাবে আমরা একটা প্রতিরোধ সৃষ্টি করি এবং আমাদের যে বিভিন্ন ল’ ইনফোর্সিং এজেন্সির লোক আছি, রাস্তায় কাজ করছে, আপনারা তাদের হাতে তুলে দেন।

মন্তব্য

আলোচিত-১০ (২৫ ফেব্রুয়ারি)

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার

বন ও পরিবেশ রক্ষায় গবেষণা কার্যক্রম বাড়াবে সরকার : সৈয়দা রিজওয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
বন ও পরিবেশ রক্ষায় গবেষণা কার্যক্রম বাড়াবে সরকার : সৈয়দা রিজওয়ানা

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, বন ও পরিবেশ সংরক্ষণে গবেষণা ও উন্নত প্রযুক্তির উন্নত ব্যবহারে গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। 

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও পরিবেশ রক্ষায় বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বনজসম্পদ রক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় আধুনিক গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। টেকসই বন ব্যবস্থাপনার জন্য গবেষণার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করতে হবে।

আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রামে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি প্রাকৃতিক বনে সামাজিক বনায়নের প্রভাব বিষয়ে গবেষণা করার নির্দেশ দেন। 

বন্যপ্রাণীসহ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গবেষণা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, বাঁশ, বেত, ভেষজ উদ্ভিদসহ অকাষ্ঠল বনজ সম্পদের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা, ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে গবেষণা চালিয়ে যেতে হবে।

সভায় বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক একেএম শওকত আলম মজুমদারের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মোল্লা রেজাউল করিম, বাংলাদেশ ফরেস্ট একাডেমির পরিচালক মো. আমিনুল ইসলামসহ বিএফআরআই-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। 

পরে উপদেষ্টা বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি দেশের রাবার শিল্পের টেকসই উন্নয়নে কাজ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

মন্তব্য

চলচ্চিত্র-নাটক-ওটিটিতে ধূমপানের দৃশ্য নিষিদ্ধের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
চলচ্চিত্র-নাটক-ওটিটিতে ধূমপানের দৃশ্য নিষিদ্ধের দাবি

বর্তমান প্রজন্মের বিনোদনের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম ওটিটি প্ল্যাটফরম। সুযোগসন্ধানী তামাক কম্পানিগুলো তরুণসমাজকে ধূমপানের নেশায় নেশাগ্রস্ত করার জন্য চলচ্চিত্র, নাটক ও ওটিটি কনটেন্টে জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পীদের দ্বারা অতিমাত্রায় ধূমপানের দৃশ্য প্রদর্শন করছে। যা বাংলাদেশ বিদ্যমান আইন ও নীতির পরিপন্থী এবং শিশু, কিশোর-তরুণদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ জন্য চলচ্চিত্র, নাটক ও ওটিটিতে ধূমপানের দশ্য প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা জরুরি।

মঙ্গলবার রাজধানীর ফিল্ম আর্কাইভ ভবনে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ এবং মানস- মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা আয়োজিত ‘তরুণ প্রজন্মের সুরক্ষায় চলচ্চিত্র, নাটক এবং ওটিটি প্ল্যাটফরমে প্রদর্শিত কনটেন্টে ধূমপানের দৃশ্য নিয়ন্ত্রণে করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। 

সভায় বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল বলেন, জনগণের কল্যাণে ও জনগণকে বিনোদন দেওয়ার জন্য সিনেমা তৈরি করা হয। এসব সিনেমায় ধূমপানসহ নেতিবাচক বিষয় থাকা উচিত নয়। সেন্সর বোর্ড থেকে চলচ্চিত্রের চারটি স্তরে রেটিং সিস্টেম চালু করা হচ্ছে।

ফিল্ম আর্কাইভের গবেষণায় তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়টি যুক্ত করার পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম ক্লাবের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ধূমপানবিরোধী জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করা হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চলচ্চিত্রে নেতিবাচকতা পরিহার সম্ভব হবে জানান তিনি।

মানসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের পরিচালক ফারহানা রহমান, চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক রফিকুল আনোয়ার রাসেল, চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড সদস্য ও অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ, ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার সৈয়দ মাহবুবুল আলম, টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার আমিনুল ইসলাম সুজন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণলায়ের সার্চ কমিটির সদস্য সাইদুল ইসলাম খান, চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন রোর্ডের উপপরিচালক মোঃ মঈনউদ্দিন, বাংলাদেশ শর্টফিল্ম ফোরামের কর্ণধার ইমরান হোসেন কিরমানী, এইড ফাউন্ডেশনের প্রকল্প পরিচালক শাগুফতা সুলতানা, টিসিআরসির প্রকল্প সমন্বয়কারী ফারহানা জামান লিজা প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন মানসের সিনিয়র প্রজেক্ট ও কমিউনিকেশন অফিসার মো. আবু রায়হান।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানসের প্রকল্প সমন্বয়কারী উম্মে জান্নাত। তিনি বলেন, ওটিটি প্ল্যাটফরমে প্রচারিত ৬০টি নাটক-সিনেমার মধ্যে ৪৬টিতেই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ভঙ্গ করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ধূমপানের দৃশ্য ছিলে নায়কের চরিত্র ৩৩টি, নায়িকার চরিত্রে ১৯, ভিলেনের চরিত্রে ১২ এবং অন্যান্য পার্শ্ব চরিত্রে ২১ বার ধূমপানের দৃশ্য প্রদর্শন করা হয়েছে। গবেষণায় ৫টি জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফরমকে বাছাই করে ৬০টি নাটক, সিনেমা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে ৬টি নাটকে এবং ৪০টি সিনেমাতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ভঙ্গ করা হয়েছে।

নেটফ্লিক্স এ প্রচারিত সিনেমায় সবচাইতে বেশি তামাক ও মাদক ব্যবহারের দৃশ্য পাওয়া যায়।

সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন, শিশু, কিশোর-তরুণদের ধূমপানের নেশায় আসক্ত করছে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট কতিপয় মানুষ। কাহিনীর প্রয়োজনে ধূমপানের দৃশ্য দেখানো যাবে বলা হলেও রাষ্ট্রের স্বার্থ ও জনগণের জন্য কল্যাণ পরিপন্থী সব কিছু বর্জন করা প্রয়োজন।

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চেীধুরী বলেন, সারা বিশ্বে তামাকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলছে। ধূমপায়ী এবং পরোক্ষভাবে অধূমপায়ীরাও ক্ষতির শিকার হয়। তামাক কম্পানির প্রলোভনে কিশোর-তরুণদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা বাড়ছে এবং তারা ভয়ঙ্কর মাদকের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তরুণ সমাজের সুরক্ষায় বিনোদন মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং ওটিটি’র জন্য পৃথক গাইডলাইন প্রণয়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

আমিনুল ইসলাম সুজন বলেন, চলচ্চিত্রে আরো বেশি দায়িত্বশীলতা ও সৃজনশীলতা প্রয়োজন। সৃজনশীলতার নামে যেন ক্ষতিকর কিছু দেখানো না হয়। চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য যেন না থাকে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের আরো কঠোর হতে হবে। ধূমপানের দৃশ্য প্রর্দশন করা হয়েছে এমন সিনেমা যেনো অনুমোদন না দেওয়া হয়।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ