মুসলমানের আবশ্যকীয় ইবাদত সালাত। এই সালাতকে মুমিনের মেরাজ, আল্লাহর সঙ্গে বান্দার কথোপকথনসহ নানাভাবে বর্ণনা করা হয়। আর নামাজের প্রস্তুতি হিসেবে একজন মুসলিমকে কিছু কাজ করতে হয়। এসব কাজ শুধু যে ইবাদত তাই নয়।
মুসলমানের আবশ্যকীয় ইবাদত সালাত। এই সালাতকে মুমিনের মেরাজ, আল্লাহর সঙ্গে বান্দার কথোপকথনসহ নানাভাবে বর্ণনা করা হয়। আর নামাজের প্রস্তুতি হিসেবে একজন মুসলিমকে কিছু কাজ করতে হয়। এসব কাজ শুধু যে ইবাদত তাই নয়।
বইটিতে লেখক মোহাম্মদ কামাল হোসেন প্রথমেই নিজের কিছু কথা লেখার পর শব্দগতভাবে সালাত ও নামাজের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেছেন। এরপর অজুর উপকারিতা, বিশেষ করে হাত, মুখ, নাক, কান, পা ধৌত করার উপকারিতা কী এবং কোন অঙ্গ কিভাবে ধৌত করার ফলে শরীরের কোন অঙ্গে কিভাবে প্রভাব পড়ে তার বর্ণনা দিয়েছেন।
জামাতে সালাত, তাহাজ্জুদ সালাত, তারাবিহ সালাত, সালাতুত তাসবিহ কিভাবে কোন কোন রোগ প্রতিরোধ এবং নিরাময়ে সাহায্য করে। সালাতের মাধ্যমে কিভাবে মানসিক, শারীরিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক উপকার সাধিত হয়। কোন অঙ্গে কিভাবে প্রভাব পড়ে, কোন রোগ কিভাবে প্রতিরোধ ও নিরাময় হয় ইত্যাদি আলোচনা করা হয়েছে।
কয়েকজন বিখ্যাত ব্যক্তির মতামত ও কিছু গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়েছে।
সম্পর্কিত খবর
স্বাধীনতার মাসেই প্রকাশিত হয়েছে লেখক ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক সালেক খোকন-এর নতুন গবেষণাগ্রন্থ ‘১৯৭১: রণাঙ্গনের লড়াই’। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অস্তিত্বের ইতিহাস, আমাদের শেকড়। উনিশ শ একাত্তরে মুক্তির লড়াইয়ে আমাদের বিজয়ের পেছনে ছিল বহু মুক্তিযোদ্ধার দুঃসাহসী অংশগ্রহণ। ‘১৯৭১: রণাঙ্গনের লড়াই’ আদতে মুক্তিযুদ্ধকালীন ১১টি সেক্টরের শতাধিক লড়াইয়ের রক্তাক্ত স্মৃতি, যুদ্ধের প্রামাণ্য দলিল; সেই সাথে ৮৫টি আলোকচিত্রের এক গ্রন্থিত রূপ।
তৃণমূলে পাঁচ বছরের অধিককাল মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণার এক পরম ফসল এই গ্রন্থ। যেখানে লেখক মূলত যোদ্ধার চোখে দেখার চেষ্টা করেছেন মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনকে। এ গ্রন্থের রচনাগুলো শিকড়সন্ধানী ও সুখপাঠ্য কিন্তু বেদনাবহ, যা যে কোনো পাঠককে সচেতনভাবেই নিয়ে যাবে একাত্তরের গহিনে। মুক্তিযুদ্ধের অনন্যদলিল ‘১৯৭১: রণাঙ্গনের লড়াই’ সেই সব বাঙালির সংগ্রহে রাখার মতো, যারা দেশকে নিয়ে ভাবেন, দেশকে ভালোবাসেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।
‘১৯৭১: রণাঙ্গনের লড়াই’ বইটি প্রকাশ করে কথাপ্রকাশ। বইটি নিয়ে কথাপ্রকাশের কর্ণধার জসিম উদ্দিন বলেন, ‘এদেশে যে কজন গুণী মানুষ একক প্রচেষ্টায় গবেষকের দৃষ্টিতে মুক্তিযুদ্ধের বিস্মৃত ইতিহাস তুলে আনার নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে সালেক খোকন অগ্রগণ্য। নিভৃতচারী এ লেখক এক যুগেরও অধিক সময় ধরে মুক্তিযুদ্ধে আমাদের গৌরব, বেদনা ও সাহসের ইতিহাস শোনাতে ব্রতী হয়েছেন, যা ছিল অন্তরালে।বরাবরের মতো এবারও সালেক খোকনের গবেষণাধর্মী বই পাঠকদের কাছে তুলে ধরতে পেরে আমরাও আনন্দিত।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, নতুন এ বইটির লেখাগুলো পাঠককে চুম্বকের মতো নিয়ে যাবে ঐতিহাসিক একাত্তরের গহিনে, পাঠক পাবেন একটা পুরো জীবন; যে জীবন যোদ্ধার, স্বপ্নের, লড়াই ও দর্শনের। যা যে-কোনো বয়সী পাঠকের মনে উন্মেষ ঘটাবে দেশ ও মানুষের প্রতি প্রদীপ্ত অঙ্গীকার। ‘১৯৭১: রণাঙ্গনের লড়াই’ বইটি মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য দলিল।মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকার বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস জানার সীমাবদ্ধতা কাটাতে এ বইটি বিশেষ সহায়ক ভূমিকা রাখবে।’
সালেক খোকন তৃণমূলে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন বহু বছর ধরে।
তার রচিত রচিত আলোচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে গৌরব ও বেদনার একাত্তর, খেতাবপ্রাপ্ত ত্রিশ বীর, বীরত্বে একাত্তর, একাত্তরের গল্পগাথা, ১৯৭১:বিজয়ের গৌরবগাথা, অপরাজেয় একাত্তর, ১৯৭১: রক্ত মাটি ও বীরের গদ্য, ১৯৭১: যাঁদের ত্যাগে এলো স্বাধীনতা, ১৯৭১: রক্তমাখা যুদ্ধকথা, ১৯৭১: যাঁদের রক্তে সিক্ত এই মাটি, যুদ্ধাহতের ভাষ্য, রক্তে রাঙা একাত্তর উল্লেখযোগ্য।
‘১৯৭১: রণাঙ্গনের লড়াই’ বইটির প্রচ্ছদ করেছেন সব্যসাচী হাজরা। ৪৮৬ পৃষ্ঠার এ বইটির মুদ্রিত মূল্য ৮০০টাকা। পাওয়া যাবে সারা দেশের বই বিপনিগুলোতে।
আজ বিশ্ব কবিতা দিবস। বিশ্বের আনাচকানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কবি ও কবিতা পাঠকদের দিন আজ। ১৯৯৯ সালে ২১ মার্চকে বিশ্ব কবিতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে ইউনেসকো।
এই দিবস পালনের উদ্দেশ্য হলো— বিশ্বব্যাপী কবিতা পাঠ, রচনা, প্রকাশনা ও শিক্ষাকে উৎসাহিত করা।
ইউনেসকোর অধিবেশনে এই দিবস ঘোষণা করার সময় বলা হয়েছিল, ‘এই দিবস বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কবিতা আন্দোলনগুলোকে নতুন করে স্বীকৃতি ও গতি দান করবে।’
এর আগে অক্টোবর মাসে বিশ্ব কবিতা দিবস পালন করা হতো। প্রথমদিকে কখনো কখনো ৫ অক্টোবর এই উৎসব পালিত হলেও বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে রোমান মহাকাব্য রচয়িতা ও সম্রাট অগস্টাসের রাজকবি ভার্জিলের জন্মদিন স্মরণে ১৫ অক্টোবর এই দিবস পালনের প্রথা শুরু হয়।
অনেক দেশে আজও অক্টোবর মাসের কোনো দিন জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কবিতা দিবস পালন করা হয়।
প্রখ্যাত সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও গীতিকবি সিকান্দার আবু জাফরের আজ জন্মদিন। তার পুরো নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার।
সিকান্দার আবু জাফর ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ১৯ মার্চ (আজকের এই দিনে) সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাদের আদি নিবাস ছিল পাকিস্তানের পেশোয়ারে।
আবু জাফর স্থানীয় তালাবিদ ইনস্টিটিউট থেকে প্রবেশিকা এবং কলকাতার রিপন কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। কলকাতার মিলিটারি অ্যাকাউন্টস বিভাগে তিনি পেশাগত জীবন শুরু করেন এবং পরে সিভিল সাপ্লাই অফিসে চাকরি করেন। সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদারের ‘গ্লোব নিউজ এজেন্সি’ নামক সংবাদ সংস্থায়ও তিনি কিছুকাল কাজ করেন।
আবু জাফর ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন এবং বিভিন্ন সময়ে দৈনিক নবযুগ, ইত্তেফাক, সংবাদ ও মিল্লাত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। তিনি মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও বাঙালি সংস্কৃতিচর্চার যে ধারা গড়ে ওঠে, আবু জাফর ছিলেন তার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি স্বাধীনতা, দেশপ্রেম ও বিপ্লবের চেতনাসম্পন্ন অনেক গান রচনা করেন।
তার রচিত ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই’ গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ :
উপন্যাস পূরবী, নতুন সকাল; ছোটগল্প মাটি আর অশ্রু; কবিতা প্রসন্ন শহর, তিমিরান্তিক, বৈরী বৃষ্টিতে, বৃশ্চিক-লগ্ন, বাংলা ছাড়ো; নাটক সিরাজ-উদ-দৌলা, মহাকবি আলাউল; সঙ্গীত মালব কৌশিক।
তার অনূদিত গ্রন্থ:
যাদুর কলস, সেন্ট লুইয়ের সেতু, রুবাইয়াৎ : ওমর খৈয়াম ইত্যাদি।
তিনি নাটকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং একুশে পদক (মরণোত্তর) লাভ করেন। ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দের ৫ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা কাজ করছেন তাদের সম্মানীত করতে বিগত বছরের মতো এবারও ‘দেশ পাণ্ডুলিপি পুরস্কার ২০২৪’ প্রদান করবে দেশ পাবলিকেশন্স। এ লক্ষ্যে পাণ্ডুলিপি আহ্বান করেছিল দেশ। এ আহ্বানে দুই শতাধিক পাণ্ডুলিপি জমা হয়। এরই মধ্য থেকে জুরি বোর্ডের মাধ্যমে প্রতিটি বিষয়ে দুই প্রজন্মের দুজন করে ১০ বিষয়ে ২০ জনকে চূড়ান্ত নির্বাচন করা হয়।
সম্প্রতি ‘দেশ পাণ্ডুলিপি পুরস্কার ২০২৪’ ঘোষণা করা হয়। এ বছর পুরস্কারের জন্য বিভিন্ন শাখায় মনোনীত হয়েছেন ২০ গুণীজন। বিজ্ঞপ্তিতে একজন করে দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও পরে ১০টি বিষয়ে ২০ গুণীজনকে পুরস্কার দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এবার দেশ পাণ্ডুলিপি পুরস্কার দেওয়া হবে উপন্যাস, ছোটগল্প, কবিতা, গবেষণা, মৌলিক প্রবন্ধ, অনুবাদ, থ্রিলার, রহস্য উপন্যাস, নাটক ও কিশোর উপন্যাস, শিশুতোষ গল্প এবং ছড়া।
বর্তমান পাঠকের আগ্রহ থ্রিলারে। তাই এবার নতুন যুক্ত করা হয়েছে এই বিভাগ।
সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রকাশক অচিন্ত্য চয়ন বলেন, ‘জানুয়ারিতে ঘোষণা দেওয়ার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণবশত হয়নি। সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।’
দেশ পাণ্ডুলিপি পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের নাম ঘোষণা করে তিনি আরো বলেন, ‘চেতনায় ঐতিহ্য’— এ স্লোগান ধারণ করে সুনামের সঙ্গেই যুগ পেরিয়ে তেরো বছরে পদার্পণ করেছে ‘দেশ’। এ সময়ের মধ্যেই প্রকাশনাশিল্পে পাণ্ডুলিপির নান্দনিক পরিচর্যায় একটি স্বতন্ত্রধারা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের সহযাত্রী হতে আমাদের এ প্রয়াস। আগামী মাসে দেশ সাহিত্য উৎসবে মনোনীতদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। দেশ পাবলিকেশন্স সব সময় তরুণদের নিয়ে কাজ করছে, আগামীতেও করতে চায়। আরেকটি বিষয় জানিয়ে রাখছি, আগে যারা নির্বাচিত হয়েছিলেন, তাদের পুরস্কার চলতি বছরের সঙ্গে প্রদান করা হবে। সবাই পাশে থাকবেন আশা করছি। দেশ এগিয়ে দেতে চায় আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। আপনাদের পরামর্শ আমাদের পথ চলাকে আরো সুগম করবে।