ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি তাণ্ডব চলছেই। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার রাতভর ইসরায়েলি হামলায় উপত্যকাটিতে কমপক্ষে ২৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবারও ইসরায়েলি হামলা চলছিল বলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে। এর মধ্যে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা সবে শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
দুই দিনের হামলায় চার শতাধিক মানুষের প্রাণহানির পর এই মন্তব্য করেন তিনি।
এমন পরিস্থিতিতে হামাস কর্মকর্তা তাহের আল-নোনো বলেছেন, গাজা উপত্যকায় নতুন করে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের পরও তারা আলোচনার দরজা বন্ধ করেনি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এরই মধ্যে একটি চুক্তি চলমান। তাই নতুন চুক্তির প্রয়োজন নেই।
এদিকে নেতানিয়াহু স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার রাতে বলেছেন, গাজা উপত্যকায় হামাসের বিরুদ্ধে তার দেশ ‘পূর্ণ শক্তিতে ফের যুদ্ধ শুরু করেছে’। একটি ভিডিও বিবৃতিতে তিনি সতর্কতা উচ্চারণ করে বলেন, ‘আলোচনা কেবল হামলার মধ্যেই চলবে’ এবং ‘এটি (হামলা) কেবল শুরু’। গাজায় ব্যাপক মাত্রায় ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানোর পরে তাঁর এই মন্তব্য এসেছে।
গত ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে এটাই গাজায় সবচেয়ে বড় হামলা।
যুদ্ধবিরতি ভঙ্গুর অবস্থায় টিকে থাকলেও গাজায় একের পর এক আক্রমণে এখন মনে হচ্ছে, যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তির আলোচনা হয়তো নস্যাৎ হয়ে যেতে পারে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় ১৮ মাস ধরে চলা ইসরায়েলের অব্যাহত আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ৪৮ হাজার ৫৭৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও ১১২,০৪১ জন আহত হয়েছে।
এদিকে গাজায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) ভয়াবহ হামলার প্রতিবাদে ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভ করেছেন ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকারীরা। গাজায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে ট্রাম্প প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানিয়েছেন তাঁরা। এ সময় তাঁদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডে ‘ইসরায়েলে সব ধরনের মার্কিন সহায়তা বন্ধ কর’, ‘স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র চাই’, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো বোমায় নিহত হচ্ছে ফিলিস্তিনিরা’সহ বিভিন্ন বক্তব্য লেখা ছিল।
এ ছাড়া হাজারো বিক্ষোভকারী গতকাল জেরুজালেমে সমবেত হয়ে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, তিনি গণতন্ত্র দুর্বল করার পাশাপাশি গাজায় হামলা ফের শুরু করেছেন, যা সেখানে আটক জিম্মিদের জীবনের তোয়াক্কা না করেই করা হয়েছে। সূত্র : আলজাজিরা, বিবিসি, আনাদোলু এজেন্সি