ভয়াল গণহত্যার ২৫ মার্চ আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
ভয়াল গণহত্যার ২৫ মার্চ আজ

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ এক বিভীষিকাময় কালরাত নেমে এসেছিল এ দেশের মানুষের জীবনে। মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের অপারেশন সার্চলাইট বাস্তবায়নে নেমে পড়ে। নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মেতে ওঠে নারকীয় হত্যাযজ্ঞে। আজ সেই ভয়াল ২৫ মার্চ, গণহত্যা দিবস।

যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত এক মিনিট প্রতীকী ব্ল্যাক আউট কর্মসূচি পালন করা হবে। কেপিআই বা জরুরি স্থাপনা ব্যতীত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবন ও স্থাপনাগুলোতে এ সময় কোনো অবস্থাতেই আলোকসজ্জা করা যাবে না।

গণহত্যা দিবস উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বাণী দিয়েছেন।

২৫ মার্চের কালরাতে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে তিনি বলেন, একাত্তরের মার্চের দিনগুলোতে বাংলাদেশ যখন আন্দোলনে উত্তাল, তখন ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় অসহযোগ আন্দোলনের মধ্যেই স্বৈরশাসক ইয়াহিয়া গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন। সেদিন মধ্যরাতে পাকিস্তানি সৈন্যরা অপারেশন সার্চলাইট পরিচালনা করে ঘুমন্ত-নিরস্ত্র মানুষের ওপর ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞ চালায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগসহ সারা দেশে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হানাদার বাহিনীর অতর্কিত হামলায় শহীদ হন ছাত্র-শিক্ষক, পুলিশ ও সেনা সদস্যসহ হাজারো নিরপরাধ মানুষ। তাঁদের আত্মদানের পথ ধরেই দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা অর্জন করেছি কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।

প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী যে বাংলাদেশ আমরা চেয়েছিলাম, সে বাংলাদেশে পতিত স্বৈরাচারের শাসনামলে মানুষের কোনো মৌলিক অধিকার ছিল না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার বীরত্বে জাতি স্বৈরাচারের অত্যাচার-নিপীড়নের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে। একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অন্তর্বর্তী সরকার মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে এগিয়ে যেতে চায়।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই বাঙালিরা বুঝতে পারে, তারা নানাভাবে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের দ্বারা শোষিত ও বঞ্চিত হচ্ছে। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬-এর ছয় দফা, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে স্বাধিকার আন্দোলন চূড়ান্তভাবে দানা বাঁধে।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে নানাভাবে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। ১৯৭১ সালের মার্চে শুরু হয় বাঙালিদের অসহযোগ আন্দোলন। স্বাধিকার আন্দোলন রূপ নেয় স্বাধীনতা সংগ্রামে। ২৫ মার্চ জেনারেল ইয়াহিয়া বাঙালি হত্যার নীলনকশা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়ে বিকেলে ঢাকা থেকে পালিয়ে যান। এদিন দুপুরের পর থেকেই ঢাকাসহ সারা দেশে থমথমে অবস্থা বিরাজ করতে থাকে। সকাল থেকেই সেনা কর্মকর্তাদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে পাকিস্তানি সেনারা ঝাঁপিয়ে পড়ে এ দেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর। কারফিউ জারি করা হয়। জনবসতিতে দেওয়া হয় আগুন। বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় বিদ্যুৎ সংযোগ। মধ্যরাতে ঢাকা হয়ে ওঠে লাশের শহর।

কর্মসূচি

এক মিনিটের প্রতীকী ব্ল্যাক আউট ছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি নানা সংগঠন ও রাজনৈতিক দল নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে নানান কর্মসূচি গ্রহণের কথা জানিয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরিসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে ২৫ মার্চ গণহত্যার স্মৃতিচারণা ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আজ সকাল ১০টায় অথবা সুবিধাজনক সময়ে গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশনে গণহত্যার ওপর দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। গৃহীত কর্মসূচি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার প্রচার করবে। এ ছাড়া ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে নিহতদের স্মরণে আজ বাদ জোহর বা সুবিধাজনক সময়ে সব মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচি ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আজ গণহত্যা দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।

 

 

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

জামায়াত সেক্রেটারি পরওয়ারের দাবি

শেখ মুজিব কখনো চাননি পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ হোক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
শেখ মুজিব কখনো চাননি পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ হোক
মিয়া গোলাম পরওয়ার

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, শেখ মুজিবুর রহমান কখনো চাননি পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ হোক। তিনি দেশপ্রেমে নয়, ক্ষমতার মসনদে বসার লড়াই করেছেন। তিনি চেয়েছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে। ৭ মার্চ যদি শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েই থাকেন, তাহলে ৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ শেখ মুজিব পাকিস্তানি শাসকদের সঙ্গে আলোচনায় বসলেন কেন? এই প্রশ্নের জবাব আজও আওয়ামী লীগ জাতির সামনে দিতে পারেনি।

গতকাল বুধবার জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জনগণ রাজনীতিবিদদের কাদা-ছোড়াছুড়ি পছন্দ করে না। কিছু কিছু দলকে এখন জামায়াতের বিরোধিতা করতে দেখা যায়। জামায়াতের বিরোধিতা করার আগে জামায়াতের অবদানের কথা স্মরণ করতে হবে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, এ দেশে আমরা যারা ইসলাম প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করছি, তাদের এই দেশ ছেড়ে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। আমাদের চারদিকে আধিপত্যবাদী শক্তি, আরেক পাশে বঙ্গোপসাগর। ফলে আমাদের জীবন ও অস্তিত্বের প্রয়োজনে আমরা এ দেশকে ভালোবাসি। আমাদের ঈমান ও ইসলামের স্বার্থে এই দেশকে ভালোবাসি।

তাই ইসলামই মূলত স্বাধীনতার গ্যারান্টি।

তিনি বলেন, ভারত আমাদের এই দেশ নিয়ে স্বাধীনতার পর থেকেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এরই অংশ হিসেবে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার মিশনে নেমেছে ভারত। যার কারণে তারা আমাদের দেশ নিয়ে তাদের মিডিয়ায় নানা রকম গুজব ছড়াচ্ছে এবং প্রচার ও প্রকাশ করছে।

তিনি আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামী তাদের সঙ্গে থাকলে হয় সঙ্গী, আর সঙ্গে না থাকলে হয় জঙ্গি! যারা জামায়াতে ইসলামীকে স্বাধীনতাবিরোধী বলে, তাদের জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র পড়ার আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ক্ষমতায় গিয়ে অনেকে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের হত্যা করার পরও জামায়াতে ইসলামী জাতীয় স্বার্থে সবকিছু ভুলে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ আন্দোলন করেছে। তিনি সব ভেদাভেদ ভুলে জাতীয় স্বার্থে সব দলকে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মতের অমত থাকতে পারে, কিন্তু দেশ ও জাতির স্বার্থে আমাদের এক হতে হবে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান ব্যাখ্যা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে এবং গণহত্যার বিচার করে অন্তর্বর্তী সরকার যখন নির্বাচন দেবে, জামায়াতে ইসলামী তখনই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। জামায়াত শুধু নিয়মরক্ষার একটি নির্বাচন চায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন, মোহাম্মদ কামাল হোসেন ও অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান।

 

মন্তব্য
নাহিদ ইসলাম

কোনো দলকে ক্ষমতায় বসাতে সংস্কার ছাড়া নির্বাচন চাপিয়ে দিলে মানা হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
কোনো দলকে ক্ষমতায় বসাতে সংস্কার ছাড়া নির্বাচন চাপিয়ে দিলে মানা হবে না
মো. নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, একাত্তরের সংগ্রাম ও সাতচল্লিশের আজাদির লড়াইয়ের ভেতর দিয়ে আমরা যে স্বাধীন, সার্বভৌম এবং মানবিক মর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্র পেতে চেয়েছিলাম তার একটি সুযোগ ও সম্ভাবনা চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর তৈরি হয়েছে। তাই একাত্তরের স্বাধীনতা ও চব্বিশের স্বাধীনতা পরস্পরবিরোধী নয়।

সংস্কার ও বিচারবিহীন জাতীয় নির্বাচন দেওয়া হলে সেটি মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, কেবল কোনো একটি দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য যদি সংস্কার ও বিচার ছাড়া নির্বাচন চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা অবশ্যই মেনে নেওয়া হবে না।

গতকাল বুধবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছিলাম। এই বাংলাদেশের মানুষ ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, ন্যায়বিচার ও অধিকারের জন্য রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে। যাতে সামনের দিনগুলোতে জনগণের আর রক্ত দিতে না হয়, আজকের দিনে এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।

৫ আগস্টের আগে ও পরে দলগুলোর মধ্যে যে ঐক্য ছিল সেই ঐক্যে কিছুটা ফাটল ধরেছে কি না জানতে চাইলে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা মনে করি, জাতীয় ঐক্যের যে সুযোগ এবং ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, আমরা এখনো সেই ভিত্তিতেই আছি।

এখন হয়তো বিভিন্ন দলের এজেন্ডা আলাদা হচ্ছে। তবে আমরা যদি চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করতে চাই, দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে চাই, তাহলে আমাদের একই পাটাতনে থেকে সামনের দিনে এগোতে হবে। যদি কেউ আমাদের গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, জনগণের যে সংস্কার ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা, তা থেকে সরে যায়, তাহলে অবশ্যই তাদের সঙ্গে আর ঐক্যের সুযোগ থাকবে না।

 

 

 

মন্তব্য
মির্জা আব্বাস

দ্বিতীয় স্বাধীনতা যাঁরা বলেন একাত্তরের স্বাধীনতায় তাঁদের ভূমিকা ছিল না

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
দ্বিতীয় স্বাধীনতা যাঁরা বলেন একাত্তরের স্বাধীনতায় তাঁদের ভূমিকা ছিল না
মির্জা আব্বাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে নতুন করে স্বৈরাচার তাড়িয়ে স্বাধীনতার নতুন স্বাদ পেয়েছি। অনেকে বলেন দ্বিতীয় স্বাধীনতা। যাঁরা বলেন, তাঁরা আজকের স্বাধীনতা দিবসকে খাটো করতে চান, একাত্তরের স্বাধীনতায় তাঁদের কোনো ভূমিকা ছিল না। আমি বলব, তাঁরা যেন এখানেই বিরত থাকেন।

এই স্বাধীনতা দিবসকে যেন সম্মান জানান এবং সম্মান করেন।

গতকাল বুধবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, প্রতিটি দলের নিজস্ব আদর্শিক জায়গা আছে, যার যার একটা মতাদর্শ আছে। এটা অনৈক্য বলা যাবে না।

এমন সময় যদি কখনো আসে, জাতীয় বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজন পড়বে, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যের প্রয়োজন পড়বে, তখন কিন্তু আমরা সবাই এক হয়ে যাব। এখানে কোনো ভুল নেই।

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কোনো সংশয় আছে কি নাএমন এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে। আমরা সেখানেই বিশ্বাস রাখতে চাই।

এখানে আমরা বিশ্বাসের পরিবর্তন করতে চাই না।

 

 

মন্তব্য
মির্জা ফখরুল

নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য অস্পষ্ট দ্রুত রোডম্যাপ দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য অস্পষ্ট দ্রুত রোডম্যাপ দিন
মির্জা ফখরুল

ডিসেম্বর থেকে জুন মাসের মধ্যে নির্বাচন হবেপ্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই বক্তব্যকে অস্পষ্ট বলে অভিহিত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি আবারও নির্বাচনের স্পষ্ট রোডম্যাপ দাবি করেছেন। গতকাল বুধবার সকালে শেরেবাংলানগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি এ কথা বলেন। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব এ মন্তব্য করেন।

প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে বলেছেন, এ বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে।

এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ডিসেম্বর থেকে জুন মাসের মধ্যে নির্বাচন হবে, এটি অস্পষ্ট কথা। ডিসেম্বর থেকে জুন... ছয় মাস সময়। সুতরাং এটা কোনো রোডম্যাপ দেওয়া হয়নি।

তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, এই বক্তব্যে নির্বাচনে কোনো রোডম্যাপের কথা বলা হয়নি। আমরা বারবার বলে আসছি যে স্পষ্ট রোডম্যাপ এবং দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে। নইলে যে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে তা কাটবে না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নির্বাচনের কথা বলছি না।

বিএনপি জাতির স্বার্থে, জাতিকে রক্ষা করার স্বার্থে, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার স্বার্থেই নির্বাচনের কথা বলছে এবং নির্বাচিত সংসদ ও সরকারের কথা বলছে। আমরা আশা করব, অন্তর্বর্তী সরকার অতিদ্রুত ন্যূনতম সংস্কার করে অর্থাৎ যেগুলো নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন তা সম্পন্ন করে নির্বাচনের ঘোষণা দেবে।

সকাল সাড়ে ৯টায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে নিয়ে শেরেবাংলানগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করেন।

প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে স্বাধীনতার ঘোষণায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম উচ্চারণ না করায় হতাশা ব্যক্ত করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা আবারও চাই না, আওয়ামী লীগ যে ইতিহাস বিকৃত করেছে, এখন আবার সেই ইতিহাস বিকৃত হোক।

প্রকৃত সত্য উদঘাটিত করে জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা, একটি গণতান্ত্রিক সরকার, সেই গণতান্ত্রিক সরকারে যত দ্রুত ফিরে যাওয়া যাবে আমাদের সমস্যাগুলো ততই সমাধান হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকের এই দিনে আমাদের দলের পক্ষ থেকে, আমাদের দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আমরা গোটা জাতিকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি, অভিনন্দন জানাচ্ছি এবং প্রত্যাশা করছি, অতি শিগগির আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র ফিরে পাব।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশের জন্য প্রাণ বিসর্জনকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, এই স্বাধীনতার জন্য আমাদের লাখ লাখ মানুষ প্রাণ দিয়েছে, আমাদের অসংখ্য মা-বোন তাদের সম্ভ্রম হারিয়েছে, কোটি মানুষ তাদের প্রিয়জন হারিয়েছে এবং অসংখ্য ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে আমরা এই স্বাধীনতা অর্জন করেছি।

এই সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার, মাহবুব উদ্দিন খোকন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক প্রমুখ নেতা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মহানগর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, মহিলা দল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকেও আলাদাভাবে নেতাকর্মীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

 

 

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ