সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা আমাদের এই জন্মভূমি। বাংলার যেদিকে তাকাই, সেদিকেই সবুজ আর সবুজ। এ যেন সৃষ্টিকর্তার নিজের হাতে সাজানো সবুজের ফুলঝুরি। বাংলাদেশের এই সবুজ প্রকৃতির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে এ দেশের নদ-নদীগুলো।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব বলছে, এ পর্যন্ত হারিয়ে গেছে আট হাজার খাল-বিল। দখল-দূষণ ও ভাঙনের কারণে জীবিকা হারিয়ে প্রতিবছর বাস্তুচ্যুত ও অভিবাসী হচ্ছে পাঁচ লাখ মানুষ, যারা প্রবেশ করছে ঢাকা ও অন্যান্য শহরে। চরাঞ্চলে বসবাসরত এক কোটি মানুষের জীবন-জীবিকাও হুমকির সম্মুখীন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশে এক হাজার ৭৪০টি নদীর অস্তিত্ব ছিল।
নদী রক্ষা কমিশনের হিসাবে বর্তমানে ৭২০টি নদীর অস্তিত্ব রয়েছে, যেগুলোর বেশির ভাগ দখল-দূষণে জর্জরিত, সঙ্গে মৃতবৎ।
নদীভাঙনের ফলে নদী এলাকার লোকজনের দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। দারিদ্র্যের শর্ত হলো তাদের সম্পদ ধ্বংস। নদীভাঙনের ফলে তাদের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যায়।
জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। গ্রামের লোকজন শহরমুখী হয়ে যায়। উৎপাদন হ্রাস পায়। এটির ফলে খাদ্যসংকট দেখা দেয়। নদীভাঙনের ফলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়। কারণ ওই এলাকায় তখন কোনো পণ্য উৎপাদিত হয় না। ফলে চাহিদা বেড়ে যায়। অপরাধ বেড়ে যায়। অপরাধবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞদের মতে, চরাঞ্চলের লোকজন সাধারণত কলহে বেশি লিপ্ত থাকে। তাই সেখানে অপরাধ বৃদ্ধি পায়। রোগব্যাধি বৃদ্ধি, সামাজিক বন্ধন হ্রাস, পুষ্টিহীনতার মতো সমস্যা তৈরি হয়। এসব সমস্যার মূল উৎস নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া এবং চরাঞ্চলের মানুষের বেকারত্ব।
আমাদের সবাইকে নদীভাঙন রোধ করতে হবে, সচেতন হতে হবে, নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে, যাতে নদীর নাব্যতা কমে না যায়; নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পায়। বিবিসির সমীক্ষায় বাংলাদেশের ৪৩৫টি নদী হুমকির মুখে। ৫০ থেকে ৮০টি নদী বিপন্নতার শেষ প্রান্তে। গবেষকদের মতে, এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ২০৫০ সালের মধ্যে যদি আমরা নদীদূষণ রোধ এবং নদীর নাব্যতা সংকট দূর করতে না পারি, তবে আমাদের জন্য ভয়ানক কিছু অপেক্ষা করছে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর, সুস্থ জীবনের জন্য আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।
ফাহমিদা জামান
শিক্ষার্থী, সরকারি মহিলা কলেজ, চট্টগ্রাম