রাজধানীর মিরপুরে বাবার তৈরি গরম হালিমের পাত্রে পড়ে ঝলসে যাওয়া শিশু আরিফা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২২ মাস বয়সী এই শিশুটির মৃত্যু হয়। মিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কবির হোসেন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পরিবারের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দুপুরে মৃতদেহটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বাবার তৈরি হালিমে ঝলসে যাওয়া শিশুর মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার বিকেলে বাবার তৈরি গরম হালিমের পাত্রে পড়ে আরিফার শরীর ঝলসে যায়।
সম্পর্কিত খবর

শোভাযাত্রা

সাইকেল লেন দিবস উপলক্ষে গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে সাইকেল শোভাযাত্রা বের করে বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদ।ছবি : কালের কণ্ঠ
।
সেতুর সংযোগস্থলে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা

রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীর প্রথম সেতুর সংযোগস্থলে রয়েছে এমন কয়েকটি ভাঙা অংশ। সেখান দিয়ে পথচারীরা হেঁটে যাওয়ার সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। গতকাল তোলা। ছবি : মঞ্জুরুল করিম
।
চৌদ্দগ্রামের সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে লাঞ্ছনার শিকার হওয়া সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই ওরফে কানুর বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের লুদীয়ারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের দাবি, আগে যারা তাঁকে লাঞ্ছিত করেছে, তাদের নির্দেশেই এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনাটির বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতেই ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই কানুর বাড়িতে যাই।
আবদুল হাইয়ের ছেলে গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেন, ‘আমার বাবাকে জুতার মালা পরিয়ে অপমান ও মারধরের ঘটনার প্রায় সাড়ে তিন মাস হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও ঘটনার হোতাসহ আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।
তিনি বলেন, ‘হামলাকারীরা ৩০ থেকে ৩৫ জন ছিল। যারা আমার বাবাকে জুতার মালা পরানোর মামলার প্রধান আসামিসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নেতৃত্ব ও ইন্ধন দিয়েছে। গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছনার পর থেকে বাবাসহ আমরা ফেনীতে অবস্থান করি।
ঘটনার সময় আবদুল হাই, তাঁর স্ত্রী, পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিরা বাড়িতে ছিলেন। হামলাকারী ব্যক্তিরা বাড়ির গেট, দরজা ও জানালা ভাঙচুর করেছে। তবে ঘরে প্রবেশ করতে পারেনি তারা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই বলেন, ‘যারা আমার গলায় জুতার মালা পরিয়েছিল, তারা বৃহস্পতিবার রাতে আমার বাড়িতে অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে রামদা, চায়নিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল। তারা বাড়ির গেট, ঘরের দরজা ও জানালায় কুপিয়েছে। ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারলে আমাকে প্রাণেই মেরে ফেলত।’
চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আগে যারা ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা হামলার ঘটনায় জড়িত কি না তদন্ত চলছে। হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা কোনো অভিযোগ করতে রাজি নন।’

জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ
শিশু মুসাকে দেখতে সিএমএইচে বিএনএফডব্লিউএ প্রেসিডেন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত সাত বছরের শিশু বাসিত খান মুসা পাঁচ মাস সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার রাতে দেশে ফিরেছে। গতকাল শুক্রবার তাকে দেখতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) যান বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিবার কল্যাণ সংঘের (বিএনএফডব্লিউএ) প্রেসিডেন্ট নাদিয়া সুলতানা। তিনি হাসপাতালে পৌঁছেই মুসার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
নাদিয়া সুলতানা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে শিশুটির চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত হন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
আইএসপিআর জানায়, নাদিয়া সুলতানা পরম মমতায় শিশুটির মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। শিশুটির দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সান্ত্বনা ও সমবেদনা জানান। সেই সঙ্গে দেশবাসীকে শিশুটির দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য দোয়া করার আহবান জানান।
গত বছরের ১৯ জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মেরাদিয়া হাট এলাকায় নিজ বাসার নিচে দাদির সঙ্গে আইসক্রিম কিনতে যায় মুসা। এ সময় দাদি মায়া ইসলামসহ দুজনই গুলিবিদ্ধ হন। পরদিনই তার দাদির মৃত্যু হয়। মুসার মাথার এক পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে আরেক পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়।