সাপাহার উপজেলার জবই বিলে পরিযায়ী পাখির অভয়াশ্রম নির্মাণের জন্য এলাকা নির্বাচিত করা হয়েছে। সম্প্রতি এসংক্রান্ত সংবাদ কালের কণ্ঠে প্রকাশের পর এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। জানা গেছে, জবই বিলের কুচিন্দরী নামক স্থানে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গতকাল শনিবার থেকে লাল পতাকা চিহৃিতকরণ করা হয়। এ জন্য জবই বিল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতিসহ এলাকাবাসী জানান, জীববৈচিত্র্য সংস্থার লোকজন ও এলাকার সচেতন মানুষ পাখির অভয়াশ্রম নির্মাণের জন্য প্রতিবছর উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করলেও তা ফাইলবিন্দ হয়ে থাকত।
কালের কণ্ঠে সংবাদ
পাখির অভয়াশ্রম নির্মাণের উদ্যোগ
সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি

সম্পর্কিত খবর

কর্মস্থলে ফেরা

স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে গ্রামের বাড়ি ছেড়ে কর্মস্থল রাজধানী অভিমুখে ছুটছে মানুষ। গতকাল শুক্রবার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট এলাকায়। ছবি : গণেশ পাল
।
ঈদ সামনে রেখে চোরাচালানিচক্র সক্রিয়
ফেনী সীমান্তে ভারতীয় ১৬ গরু আটক
ফেনী প্রতিনিধি

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ফেনীর ২২ কিলোমিটার সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালানিচক্র কৌশলে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ফেনীর বিজিবির নিয়মিত টহলদল ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে সীমান্ত পিলার ২১৮৫ থেকে প্রায় ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ১৬টি ভারতীয় গরু জব্দ করা হয়। গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ছয় লাখ ২০ হাজার টাকা। জব্দকৃত ভারতীয় গরুগুলো স্থানীয় শুল্ক কার্যালয়ে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।
ঈদকে সামনে রেখে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) ফেনীর সীমান্তবর্তী এলাকায় টহল জোরদার করায় চোরাচালানিচক্রকে নানা কৌশল অবলম্বন করতে দেখা গেছে। এরই মধ্যে ফেনী বিজিবির টহলদলের হাতে কয়েক কোটি টাকার ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য আটক হয়। তবে সক্রিয় কোনো চোরাচালানিচক্রকে বিজিবি এখন পর্যন্ত আটক করতে পারেনি।
এ ব্যাপারে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন জানান, ঈদ উপলক্ষে সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালানকারী চক্ররা সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

রংপুর
জুলাই শহীদদের পরিবারে ঈদ যেন বেদনায় আচ্ছন্ন
রংপুর অফিস

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ছোড়া গুলিতে শহীদদের বাড়িতে ঈদে আনন্দ নেই। ঈদে প্রতিটি পরিবারে বয়ে যায় আনন্দের বন্যা। সবাই ভাগাভাগি করে নেন ঈদ আনন্দ। কিন্তু ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ছোড়া গুলিতে শহীদদের বাড়িতে নেই ঈদের খুশি।
জুলাই শহীদ পরিবারের জন্য যেন বেদনায় ভরা ঈদ। গত বছরের ঈদে যাদের উপস্থিতি আনন্দের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছিল কয়েক গুণ, এবার সেই প্রিয় মুখগুলো মা-বাবার সামনে নেই।
শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, ‘পুলিশের গুলি আমার পরিবারের সব স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে। গত বছরের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ছোড়া গুলিতে শহীদ হন আবু সাঈদ।
তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর সাঈদসহ পরিবারের অন্য ছেলেদের সঙ্গে নিয়ে ঈদের নামাজ পড়তে যেতাম। ঈদের পর পাঁচ-সাত দিন আনন্দ করত ছেলে। আজ বাড়িতে সবাই আছে, শুধু আবু সাঈদ নাই।
আবু সাঈদের ভাই রমজান আলী বলেন, ‘এবারের ঈদে বাড়িতে কোনো আনন্দ নেই। বাড়িটা শূন্য শূন্য লাগছে। আমরা আবু সাঈদের অভাব অনুভব করছি। ভাই নেই, তাকে ছাড়া ঈদের আনন্দ নেই।’
শহীদ মুসলিম উদ্দিন মিলনের স্ত্রী দিলরুবা আকতার বলেন, ‘পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো মানুষটিই চলে গেছেন। আবার ঈদ আনন্দ—বলেই চোখের পানি ছাড়া কিছু নেই। গত বছরের ১৯ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন মিলন।’
শহীদ মানিকের মা নুরজাহান বেগম বলেন, ‘ঈদের নতুন শাড়ি নিয়ে এসেই মা বলে ডাকত, এবার কেউ ডাকেনি। ঈদের কয়েক দিন হয়ে গেলেও আমার ছেলের জন্য মন কাঁদে। বাড়িতে ঢুকেই মা বলে ডাকত। এবার মানিক আমার মা বলে ডাকল না, কেউ আর মা বলে এত আদর করে ডাকবে না।’ চোখের পানি মুছতে মুছতে কথাগুলো বলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শহীদ অটোচালক মানিকের মা।
শহীদ সাজ্জাদ হোসেনের মা ময়না বেগম বলেন, ‘ঈদ এলেই মা ও স্ত্রী-সন্তানসহ আত্মীয়-স্বজনের জন্য নতুন জামাকাপড় কিনে আনতেন সাজ্জাদ হোসেন। সন্তানের কাছ থেকে ঈদের জন্য নতুন শাড়ি পেয়ে খুবই আনন্দ লাগত। এবার ওইভাবে কেউ আর খোঁজ নেয়নি।’
শহীদ মেরাজুল ইসলাম মেরাজের স্ত্রী বলেন, ‘পিতৃহারা দুই সন্তান বাবার সঙ্গে ঈদের নামাজ আর পড়তে পারেনি। পরিবারে ঈদের কোনো আনন্দ নেই।’
শহীদ আব্দুল্লাহ আল তাহিরের মা বলেন, ‘ঈদ তো কল্পনায়ই নাই। চার-পাঁচ দিন ধরে ছেলের কথা বেশি মনে পড়ছে। ছেলে তাহিরের কথা বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। কষ্টের সংসারে ছেলেকে নিয়ে কত স্বপ্ন ছিল। ছেলে পড়ালেখা শেষ করে মানুষের মতো মানুষ হবে। পরিবারের কষ্ট দূর করবে। সব স্বপ্নই চুরমার হয়ে গেছে পুলিশের এক গুলিতেই।’ গত বছরের ১৯ জুলাই রংপুর নগরীর সিটি বাজারের সামনে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন তাহির।
শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা সামসি আরা জামান কলি বলেন, সাংবাদিক প্রিয় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ঢাকায় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। প্রিয়র মা যখন কথা বলছেন তখন শহীদ প্রিয়র মেয়ে চেয়ার থেকে উঠে বাবার (প্রিয়র) ছবি নামিয়ে বাবা বাবা বলে আদর করে। চুমো দেয়। এ সময় বলতে থাকে ‘বাবা তুমি কখন আসবে।’

খুলনা
মাঠ-পার্ক বন্ধ করে মেলা
খুলনা অফিস

খুলনা মহানগরীর শান্তিধাম মোড়ের জাতিসংঘ পার্কের শিশুদের দোলনা গুচিয়ে রেখে চলছে মেলা। নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার মাঠে দেড় মাস ধরে চলে শিল্প ও বাণিজ্য মেলা। পুলিশি অনুমতি না থাকায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল চার দিন। এভাবেই খুলনায় ঈদ, নববর্ষসহ বিভিন্ন মেলার নামে চলছে বাণিজ্য।
এক মাসের অনুমতি নিয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছিল খুলনা শিল্প ও বাণিজ্য মেলা। নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদ ও খুলনা প্রি-ক্যাডেট স্কুলসংলগ্ন মাঠে এ মেলা শেষ হওয়ার কথা ৬ মার্চ।
এদিকে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) মাঠ হলেও তাদেরও কোনো অনুমোদন নেই বলে জানিয়েছেন কেডিএ চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহাংগীর হোসেন। তিনি বলেন, ‘কেডিএকে শুধু অবহিত করা হয়েছিল। এর বাইরে কেডিএর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটি পুলিশ কমিশনারের বিষয়।’
এক মেলা শেষ হতে না হতেই নগরীর প্রাণকেন্দ্র জাতিসংঘ পার্কে আবারও শুরু হয়েছে ঈদ মেলা।