ঢাকা, বুধবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
১৩ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৬ শাবান ১৪৪৬

ঢাকা, বুধবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
১৩ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৬ শাবান ১৪৪৬

শিশুর পাঁচ রকম সলিড খাবার

  • শিশুদের প্রথম সলিড হওয়া চাই সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর। পুষ্টিবিদদের পরামর্শ মেনে শিশুদের প্রথম খাবারের পাঁচটি রেসিপি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী জান্নাতুল ফারহানা
শেয়ার
শিশুর পাঁচ রকম সলিড খাবার

আপেলের পিউরি

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, বুকের দুধের পাশাপাশি সলিড শুরু করার জন্য সবচেয়ে ভালো অপশন হচ্ছে, যেকোনো ফল বা সবজির পিউরি। কারণ ফল বা সবজির পিউরি সহজপাচ্য।

উপকরণ

আপেল একটি।

শিশুর পাঁচ রকম সলিড খাবার

যেভাবে তৈরি করবেন

১.   আপেল ভালো করে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে কিউব করে কেটে নিন।

২.   এবার এক কাপ পানি দিয়ে আপেল একদম নরম করে সিদ্ধ করে নিন। ১৫ মিনিটেই সাধারণত সিদ্ধ হয়ে যায়।

৩.   এবারে সিদ্ধ আপেল ব্লেন্ড করে অথবা হাতে একদম মিহি করে ম্যাশ করে বাচ্চাকে দিন।

৪.   ঠিক একইভাবে গাজর, পেঁপে, আলু, মিষ্টিকুমড়ার পিউরি বানিয়ে নেওয়া যাবে।

 

 

 

 

৬ মাস বয়সী বাচ্চার খিচুড়ি

উপকরণ

 

চাল ২ টেবিল চামচ

মুগডাল ১ চা চামচ

মসুর ডাল ১ চা চামচ (চাইলে শুধু এক রকম ডাল দেওয়া যাবে।)

তেল ২ টেবিল চামচ

হলুদ গুঁড়া সামান্য

পানি ৩ কাপ।

শিশুর পাঁচ রকম সলিড খাবার

যেভাবে তৈরি করবেন

১.   সব উপকরণ মেখে ৩ কাপ পানি দিয়ে অল্প আঁচে খিচুড়ি রান্না করতে হবে। রান্না করার সময় পাতিলে ঢাকনা দিয়ে দেবেন।

২.   চাল ও ডাল সিদ্ধ হয়ে গেলে ডালঘুটনি দিয়ে ভালো করে ঘেঁটে নামিয়ে নিন। এতে খিচুড়ি খুব ভালো মিহি হয়ে যাবে। এবং বাচ্চাকে খাওয়ানোর উপযোগী হয়ে যাবে।

নোট : ৬ মাস থেকে ১ বছরের বাচ্চার খাবারে লবণ ব্যবহার করা যাবে না। ৭ মাস বয়স থেকে বাচ্চাকে খিচুড়ির সঙ্গে পছন্দমতো সবজি যুক্ত করতে হবে।

 

দই ওটস

ওটস আয়রন এবং ফাইবারের এক দারুণ উত্স। শিশু সলিড শুরু করার ২-৩ সপ্তাহ পর থেকে ওটস খাওয়ানো শুরু করতে পারেন। দই খুবই ভালো প্রোবায়োটিক এবং শিশুর রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। বাচ্চার দুপুরের খাবার কিংবা নাশতায় দেওয়া যেতে পারে।

 

উপকরণ

ওটস ১ চা চামচ

পানি আধা কাপ

দই ৩ টেবিল চামচ (টক দই অথবা মিষ্টি দই)

গ্রেটেড আপেল কুচি (অপশনাল)।

শিশুর পাঁচ রকম সলিড খাবার

যেভাবে তৈরি করবেন

১.   ওটসের সঙ্গে আধা কাপ পানি মিশিয়ে রান্না করুন ১০ মিনিট। ওটস নরম হয়ে যাবে।

২.   ওটস ঠাণ্ডা করে দই মশিয়ে নিন। এর সণ্ডে কিছুটা আপেল মিহি কুচি করে গ্রেট করে যোগ করুন।

৩.   টক দই হলে মিষ্টি ফল যেমন কলা বা পাকা আমের পিউরি মিশিয়ে দিতে পারেন।

 

আলাদা কোনো লবণ বা চিনি যোগ করার প্রয়োজন নেই। সলিড শুরু করলে অনেক সময় শিশুদের কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। সে ক্ষেত্রে এই রেসিপি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

 

খেজুর পায়েস

শিশুর পাঁচ রকম সলিড খাবার

যেভাবে তৈরি করবেন

১.   বিন্নি লাল চাল ১ কাপ পানি দিয়ে অল্প আঁচে ঢেকে রান্না করুন একদম সিদ্ধ হয়ে নরম না হওয়া পর্যন্ত।

২.   প্রয়োজন হলে আরো পানি যোগ করুন। চাল ৭০ শতাংশ সিদ্ধ হয়ে গেলে খেজুরের বিচি ফেলে দিয়ে ছোট ছোট করে কেটে দিয়ে দিন। খেজুর সিদ্ধ হয়ে গেলে ২টি কাঠবাদাম গ্রেটার দিয়ে গ্রেট করে দিয়ে দিন (যদি বাচ্চার বাদামে এলার্জি থাকে, তাহলে এভোয়েড করবেন)।

৩.   বাদাম দেওয়ার পর ২-৩ মিনিট ঢেকে রান্না করুন। যদি বেশি শুকিয়ে যায়, তাহলে অল্প পরিপাণ পানি দেওয়া যেতে পারে। সব ভালোমতো সিদ্ধ হয়ে গেলে নামানোর আগে ডালঘুটনি দিয়ে ভালো করে ঘুটে নরম করে নিন।

৪.   এরপর আধা চা চামচ ঘি মিশিয়ে বাচ্চাকে পরিবেশন করুন। বিন্নি চাল সিদ্ধ হতে সময় নেয়। সে ক্ষেত্রে পানির পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে।

উপকরণ

বিন্নি লাল চাল ১ চা চামচ

পানি ১ কাপ

কাঠবাদাম ২টি

খেজুর ৩টি

ঘি আধা চা চামচ।

অনেক সময় শিশুদের রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। বিন্নি চাল, খেজুরে আয়রন থাকে। এ ছাড়া অন্যান্য পুষ্টিগুণ শিশুর জন্য উপকারী।

 

সেরেলাক

উপকরণ

ভাতের চাল ২ চা চামচ, পোলাও চাল ১ চা চামচ, মুসুর ডাল ১ চা চামচ, গম ১ চা চামচ, মাষকলাই ডাল আধা চা চামচ, ছোলার ডাল ১ চা চামচ, মুগডাল ১ চা চামচ, রাজমা ডাল আধা চা চামচ, কাজুবাদাম ২টি, কাঠবাদাম ২টি, ওয়ালনাট ১/২, এলাচ ১টি, কালিজিরা ১ চিমটি, ওটস ১ চা চামচ, তেল/ঘি ১ চা চামচ।

 

শিশুর পাঁচ রকম সলিড খাবার

 

যেভাবে তৈরি করবেন

১.   সব চাল ও ডাল ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। একটা পাতলা কাপড়ে পানি ঝরানো চাল-ডাল ছড়িয়ে ফ্যানের নিচে শুকিয়ে নিতে হবে।

২.   ওটস ছাড়া অন্য সক উপাদান শুকনা তাওয়ায় টেলে নিতে হবে। ঠাণ্ডা হলে ব্লেন্ডারে ওটসসহ সব উপকরণ   ব্লেন্ড করে এয়ার টাইট জারে সংরক্ষণ করুন।

৩.   রান্নার সময় প্রয়োজনমতো পানি দিয়ে ১০ মিনিট রান্না করলেই সেরেলাক তৈরি হয়ে যাবে। রান্নার সময় তেজপাতা, সামান্য জিরা গুঁড়া দিতে পারেন (অপশনাল)। তেল ১ চা চামচ দিন। চাইলে এর সঙ্গে পছন্দমতো সবজি, মাছ, মাংস যোগ করতে পারবেন বাচ্চার বয়স এবং প্রয়োজনভেদে।

৪.   ১ বছরের আগে বাচ্চার খাবারে কোনো লবণ দেওয়া যাবে না। তবে খাবারের স্বাদ বাড়ানোর জন্য নামানোর আগে সামান্য কিউব চিজ দেওয়া যেতে পারে।

 

 

 

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

কখন কোথায় কী

শেয়ার
কখন কোথায় কী

লা রিভ এনেছে ভার্চুয়াল ট্রায়াল রুম

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নতুন ডিজাইনের পোশাক এনেছে লা রিভ। এবারের সংগ্রহের শিরোনাম—মুভমেন্ট। ব্র্যান্ডটির এক্সক্লুসিভ লেবেল নার্গিসাসেও এসেছে অভিজাত পার্টি পোশাক। পরিবারের সবার জন্য ম্যাচিং ফ্যামিলি কম্বো থেকে শুরু করে নারী, পুরুষ, টিন, কিড ও নিউবর্ন—সব বয়সীর জন্য পাওয়া যাবে ঈদের ট্রেন্ডি কালেকশন।

আন্তর্জাতিক ফ্যাশনে এখন ট্রেন্ডি থিমের একটি হলো মুভমেন্ট। এবার জুয়েল ও প্যাস্টেল টোন, নিউট্রাল টোনে ফোকাস করেছে লা রিভ। ফ্যাব্রিক বাছাইয়ে ফ্লোয়ি মুভমেন্ট দেয় এমন কাপড় বেছে নিয়েছে। কারচুপি, এমব্রয়ডারি, কাটওয়ার্ক, লেজার কাট, প্যাচওয়ার্ক, ফয়েল প্রিন্টের রুচিশীল ব্যবহার পোশাকগুলোতে উত্সবের আমেজ নিয়ে এসেছে।

এবার লা রিভের ওয়েব সাইটে যুক্ত হয়েছে ক্রেতাদের জন্য ভার্চুয়াল ট্রায়াল রুম। সেখান থেকে ক্রেতারা এআই টুল মাধ্যম ব্যবহার করে দেখে নিতে পারবেন পছন্দের পোশাকে তাকে কেমন দেখাচ্ছে।

কখন কোথায় কী

উত্তরায় শেফ’স এভিনিউ

উত্তরার ভোজনরসিকদের সুস্বাদু সব খাবারের স্বাদ দিতে চালু হয়েছে শেফ’স এভিনিউ। ২০ ফেব্রুয়ারি ফুড কোর্টটির যাত্রা শুরু হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শেফ’স এভিনিউয়ের চেয়ারম্যান জারিন চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক জামিরুল চৌধুরী, পরিচালক জাইমুল চৌধুরী, ক্যাপ্টেন জহিরুল হক চৌধুরী ও প্রধান নির্বাহী নুসরাত করিম তনিমা। উত্তরা সেক্টর ৭-এর মাসকট প্লাজার নবম তলায় এই কালিনারি হাবে রয়েছে বৈচিত্র্যময় ও সুস্বাদু খাবারের পাশাপাশি বিনোদনের নানা আয়োজন। গ্লেজড, লাহোরি নিহারি ঢাকা, জ্যাবস অ্যান্ড শ্যাবস কিচেন, কেএফডি এক্সপ্রেস, কোরা ফ্রাই, চার্ড, মাশালা মান্ত্রা, বার্গার ব্যাশে রয়েছে খাবারের আয়োজন। ক্লে স্টেশন ঢাকা, ভিআর মেশিন, কিডস প্লে জোনে রয়েছে বিনোদনের ব্যবস্থা।

কখন কোথায় কী

আবায়া অ্যান্ড গাউনে দুবাইয়ের পোশাক

এখন থেকে দুবাই থিমের পোশাক পাওয়া যাবে বনানীর আবায়া অ্যান্ড গাউনে।

দুবাই থেকে সরাসরি পোশাক আমদানি করে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি দেশে দুবাই থিমের পোশাক উত্পাদনও শুরু করেছে তারা। আবায়া অ্যান্ড গাউনের প্রতিষ্ঠাতা মারুফা জাহান জানান, ঢাকার বনানীর ১১ নম্বর রোডের অ্যালিসন টাওয়ারে প্রতিষ্ঠানটির তৃতীয় শোরুম উদ্বোধন করা হয়েছে। অভিজাত থিমের পোশাকে সাজানো হয়েছে শাখাটি। আবায়া, হিজাব, বোরকা, গাউন, ক্যাপ পাওয়া যাবে এখানে।

 

 

 

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

কেন বদলাবেন চুলের সিঁথি

    একই জায়গায় সিঁথি করলে অনেক সময় টাক পড়তে দেখা যায়। এ জন্য সিঁথি পরিবর্তন করা জরুরি। পরামর্শ দিয়েছেন রেড বিউটি স্যালনের স্বত্বাধিকারী ও রূপ বিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন। লিখেছেন মোনালিসা মেহরিন
শেয়ার
কেন বদলাবেন চুলের সিঁথি
মডেল : বিদ্যা সিনহা মিম, ছবি : এটুজেড

সবাইকে সব ধরনের হেয়ার স্টাইলে মানায় না। কাউকে কাউকে বিশেষ কোনো হেয়ার স্টাইল কিংবা সিঁথিতে বেশি মানায়। তবে কেউ যদি মাথার একই জায়গায় বারবার সিঁথি করেন, তা বুমেরাং হতে পারে। এ জন্য চুলের সিঁথিতে মাঝেমধ্যে পরিবর্তন আনা উচিত।

মাথার মাঝ বরাবর সিঁথি করাটা এক সময় খুব জনপ্রিয় ছিল নারীদের কাছে। এরপর চল আসে এক পাশে সিঁথির। এখন অবশ্য সিঁথি শুধু মাথার মাঝে আর একপাশে আটকে নেই। সাজ ও পোশাকের সঙ্গে সিঁথিতেও এসেছে নানা পরিবর্তন।

 

লুকে ভিন্নতা আনে

শুধু চুলের সিঁথি পরিবর্তন করেই চেহারার লুক আমূল বদলে ফেলা যায়। হালের তরুণীরা সিঁথিতে অদলবদল করেন প্রায়ই। সিঁথি পরিবর্তনে শুধু সাজে ভিন্নতা আসে তা নয়, এর আছে আরো নানা উপকারিতা।

 

চুল পড়ার হার কমে

সিঁথি পরিবর্তন করলে চুল পড়ার হার কমে।

অনেকে মনে করেন, সিঁথি পরিবর্তন করলে তাকে হয়তো আগের মতো সুন্দর দেখাবে না। তারা কয়েক মিলিমিটার এদিক সেদিক করেও সিঁথিতে বদল আনতে পারেন। তাতেও মিলবে এমন সুফল।

 

সিঁথির জায়গায় বেশি ফাঁকা লাগে না

একই জায়গায় সিঁথি করতে থাকলে চিরুনির ডগার রোজকার চাপে সেই জায়গা থেকে চুল পড়ে বেশি। সিঁথি চওড়া হয়ে যায়।

এ জন্য সিঁথি বদল করলে এই ভয় থাকে না।

 

বয়সের ছাপ কম পড়ে

ত্বকের তুলনায় বয়সের ছাপ আগে পড়ে চুলে। চুলে পাক ধরে, ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। এর জন্য দায়ী ধুলাবালি, ধোঁয়া, দূষিত পানি, অতিবেগুনি রশ্মি, হেয়ার ড্রায়ার, হেয়ার স্ট্রেটনারের ব্যবহার। সব সময় চুলের একই সিঁথি করলে রোদ, দূষণ ইত্যাদি মাথার এক জায়গাতেই ক্রমাগত প্রভাব ফেলতে থাকে। এতে চুলের ফলিকলগুলো নষ্ট হয়ে যায়।  চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়ে।  চুলের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়। চুল পড়া বৃদ্ধি পেলে সবার আগে সিঁথির আশপাশের চুল পাতলা হয়ে আসে। ত্বকে দ্রুত বয়সের ছাপ ফেলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি। এ জন্য সিঁথির আশপাশের চুলগুলোতে আগে পাক ধরে। চুলের সিঁথি কিছুদিন পর পর বদল করে এই ক্ষতি কমিয়ে আনা যায়। সিঁথি পরিবর্তন করলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি একই জায়গায় বারবার আঘাত করতে পারে না।

কেন বদলাবেন চুলের সিঁথি
কেন বদলাবেন চুলের সিঁথি

কত দিন পর পর সিঁথি বদলাবেন

সপ্তাহে এক দিন কয়েক মিলিমিটার করে সিঁথি এদিক সেদিক সরিয়ে নিলেই উপকার মিলবে। রোদের তীব্রতা বাড়লে প্রতি সপ্তাহে সিঁথি অল্প করে বদলে নেওয়া ভালো। সপ্তাহে একবার না পারলে কমপক্ষে প্রতি তিন মাসে একবার সিঁথি বদলে নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে অবশ্য কয়েক মিলিমিটার বদল আনলে চলবে না। আপনার স্বাভাবিক সিঁথি থেকে পুরোপুরি বদলে মাঝখানে কিংবা অন্য পাশে সিঁথি সরিয়ে নিতে হবে।

 

সিঁথি বদলাবেন যেভাবে

সিঁথি হতে পারে মাথার মাঝে কিংবা এক পাশে। হতে পারে সোজা কিংবা আঁকাবাঁকা। যেমন সিঁথিই আপনার পছন্দ হোক, দীর্ঘদিন সেটি একইভাবে রেখে দেবেন না। নইলে এক জায়গায় সিঁথি স্থায়ী হয়ে যাবে। চওড়া হয়ে গেলে সেই সিঁথি ভালো দেখায় না। মনে হয় চুল পড়ে গেছে। অনেকেই চিকন দাঁতের চিরুনি দিয়ে সিঁথি করতে পছন্দ করেন। এটা নিয়মিত করা যাবে না। মাঝেমধ্যে উল্টো করে চুল আঁচড়াতে পারেন। পনিটেইল বা নানা রকম ‘বান’ করে চুল আটকে রাখতে পারেন। পাঞ্চ ক্লিপ, খোঁপার কাঠি বা কাঁটাও কাজে লাগাতে পারেন। সিঁথি বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত চুলের যত্নও নিন। সমপরিমাণ মেথি বাটা ও মেহেদিপাতা বাটার সঙ্গে একটি ডিমের কুসুম মিশিয়ে নিন। প্যাকটি চুলে লাগিয়ে আধাঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করুন। চুল ও সিঁথি দুটোই ভালো থাকবে।

 

 

 

মন্তব্য
হ্যাকস

সহজেই সাফসুতরো

    করি করি করেও অনেক কিছু পরিষ্কার করা হয় না। ধুলাময়লা জমে নষ্ট হয় দামি জিনিসপত্র। কিছু নিয়ম মনে রেখে সহজেই বাড়ির প্রয়োজনীয় সব কিছু পরিষ্কার করা যায়। কিভাবে? জানাচ্ছেন আতিফ আতাউর
শেয়ার
সহজেই সাফসুতরো
মন ফুরফুরে থাকতেই সেরে নিতে পারেন পরিচ্ছন্নতার কাজ।  মডেল : ডেইজি। ছবি : এটুজেড

নন্দিন কাজের চাপে বাড়ির অনেক কিছুই পরিষ্কার করার ফুরসত পান না অনেকে। ছুটির দিন আলস্যে গা ভাসিয়ে দেন। আজ-কাল করতে করতে ধুলাময়লা জমে নষ্ট হওয়ার জো হয় বাড়ির আসবাব, কিচেন সামগ্রী থেকে নানা কিছু। পরে এমন হয় পরিষ্কার করার আগ্রহ ও ইচ্ছাটাও মরে যায়।

শেষমেশ লোক এনে গাঁটের পয়সা খরচ করে করাতে হয় সাফসুতরোর কাজ। কিছু টিপস মেনে চললে ঘরের জিনিস নোংরা হবে কম।

 

ফেলে না রাখা

যেকোনো জিনিস পরিষ্কারের ক্ষেত্রে এই নিয়ম আপনাকে অনেকখানি এগিয়ে রাখবে। ঘরে দাগ বা নোংরা বেশি পুরনো হয়ে গেলে তোলা কঠিন হয়।

তাই হাতে এক মিনিট সময় পেলেই ছোট ছোট জায়গা পরিষ্কার করতে থাকুন। যেমন—খাওয়া শেষে ওভেন পরিষ্কার করে নেওয়া। এমন ছোট ছোট কাজ করতে পারেন সময় পেলেই।

 

বেকিং সোডা ও ভিনেগার

প্লাস্টিক বা কাচের একটি শিশিতে বেকিং সোডা এবং ভিনেগার মিশিয়ে রেখে দিন।

এই দ্রবণে রান্নাঘরের সিংক থেকে গ্যাস ওভেন, মাইক্রোওয়েভ, ফ্রিজ সবই পরিষ্কার করে ফেলতে পারেন।

 

গান শুনতে শুনতে কাজ

আগের দিন পরিকল্পনা করে নিন কোন কাজ কখন করবেন। কাজ শুরুর আগে পছন্দের গান চালিয়ে দিন।  গানের তালে তালে বাড়ির ছোটখাটো কাজ করতে মোটেও মন্দ লাগবে না।

 

গোসলের সময় বাথরুম পরিষ্কার

সপ্তাহে সাত দিন গোসল করতেই হয়।

এর মধ্যে এক দিনও বাথরুম পরিষ্কারের সময় না পাওয়াটা অগ্রহণযোগ্য। চুলে শ্যাম্পু মেখে কয়েক মিনিট রাখতেই হয়। এ সময়টাতে বাথরুমের দেয়াল, মেঝে পরিষ্কার করে নিতে পারেন।

 

সময়ের ব্যবহার

ভাত বসিয়ে দিয়ে বারান্দার গাছের শুকনা ডাল-পাতা কেটে ছেঁটে নিতে পারেন। আলমারিতে শাড়ি গুছিয়ে রাখা, বইয়ের তাকের ধুলাময়লা, ফুলদানি, বিভিন্ন শোপিস মুছে নিতে পারেন।

 

 

 

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

মন ভালো রাখে যে খাবার

    সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার শরীরে সুখের হরমোন নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়। মনে সুখের অনুভূতি তৈরি করে। এ নিয়ে লিখেছেন চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতালের পুষ্টি কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন
শেয়ার
মন ভালো রাখে যে খাবার
সুস্বাদু খাবারে মনও থাকে তরতাজা।  মডেল : ইলিয়াস ও তুবা। ছবি : এটুজেড

সব প্রাণীর শরীরের গঠনই কিছুটা ভিন্ন। খাদ্যাভ্যাসও ভিন্ন। শরীরের প্রতিটি অঙ্গের জন্য আলাদা পুষ্টির প্রয়োজন হয়। যেমন চোখের যত্নে ভিটামিন ‘এ’, ত্বকের যত্নে ভিটামিন ‘বি’, হাড়ের যত্নে ভিটামিন ‘ডি’।

এসব চাহিদা পূরণ করে খাবার খেলে শরীরে সুখের হরমোন নিঃসরণ বাড়ে। ডোপামিন, সেরোটোনিন, অক্সিটোসিন ও এন্ডোরফিন—এ চারটা হরমোন সুখের হরমোন হিসেবে পরিচিত।

ডোপামিন তৈরিতে খাবারের ভূমিকা আছে। আমাদের অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা যত বাড়বে, ডোপামিনের নিঃসরণও বাড়বে।

তাই অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়াতে ভালো ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার, ফার্মেন্টেড ফুড এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। পেটিযুক্ত মাছ, মাছের তেল, অলিভ অয়েল, টক দই, পান্তা, শাক-সবজি, ফলমূল, সামুদ্রিক মাছ ইত্যাদি খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণে খেতে হবে। ভাজাপোড়া, প্রক্রিয়াজাত খাবার, প্যাকেটজাত খাবার যতটা সম্ভব পরিহার করতে হবে। এ ছাড়া হাসিখুসি থাকা, বেড়াতে যাওয়া, পছন্দের পোশাক পরার কারণেও ডোপামিনের নিঃসরণ বাড়ে।

৯০ শতাংশ সেরোটোনিন উত্পন্ন হয় অন্ত্রের এন্টেরোক্রমাফিন কোষের এন্টেরিক নার্ভাস সিস্টেম। এ জন্য অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখা জরুরি। অন্ত্রের মাসল মুভমেন্টে সেরোটোনিন সাহায্য করে। মাত্র ১ শতাংশ সেরোটোনিন মস্তিষ্কে নিঃসৃত হয়। এই ১ শতাংশ সেরোটোনিন মুড, ঘুম, স্মৃতি, ক্ষুধা, মন ভালো থাকা ইত্যাদির ওপর প্রভাব বিস্তার করে।

ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, আঁশসমৃদ্ধ খাবার, ভিটামিন বি-১২ এবং ভিটামিন ডি সেরোটোনিনের নিঃসরণ বৃদ্ধি করে। খাবারের পাশাপাশি রাতের ভালো ঘুম সেরোটোনিনের নিঃসরণ বাড়াতে সাহায্য করে। অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি গুণসমৃদ্ধ খাবার যেমন, দারচিনি, লবঙ্গ, হলুদ, ফ্ল্যাক্স সিড, চিয়া সিড খবার তালিকায় যোগ করতে হবে।  

এন্ডোরফিন প্রাকৃতিকভাবে ব্যথা উপশম করে। যখন আমরা শারীরিক বা মানসিকভাবে আহত হই, তখন এন্ডোরফিন সক্রিয় হয়ে আমাদের ব্যথা নিরাময় করে। অতিরিক্ত ওজন, বিষণ্নতা, উচ্চ রক্তচাপ এন্ডোরফিনের নিঃসরণ হ্রাস করে। তাই ওজন কমাতে, রক্তচাপ কমাতে লো-কার্ব, হাই প্রোটিন, মডারেট ভালো ফ্যাট এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। হাসলে, পছন্দের গান শুনলে, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চললে, ব্যায়াম করলে, এন্ডোরফিন হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে। এ জন্য খাবারের পাশাপাশি এই নিয়ম মেনে চলতে পারেন।

অক্সিটোসিন হলো স্তন্যপায়ী প্রাণীদের দেহে প্রাপ্ত একটি হরমোন। এটি মানুষের পশ্চাত্ পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসরণ হয়। অক্সিটোসিন স্তন্যপায়ীদের মস্তিষ্কে কাজ করে। মানবদেহে এটি নারীদের প্রজননের সময় নির্গত হয়, বিশেষ করে সন্তান প্রসবের সময় এবং প্রসবের পরে। অক্সিটোসিনের নিঃসরণ ভিটামিন ‘সি’ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

আমাদের শরীরের সবচেয়ে অবহেলিত অঙ্গ ক্ষুদ্রান্ত্র। আমরা বিভিন্ন অস্বাস্থ্যকর খাবার খাই। যার প্রভাব পড়ে ক্ষুদ্রান্ত্রের ওপর। অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে ক্ষুদ্রান্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমতে থাকে। ফলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, ফ্যাটি লিভার সমস্যা, কোলেস্টেরল, কোষ্ঠকাঠিন্য বা কিডনি সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। আবার বিভিন্ন ধরনের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও এসব ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমে যাচ্ছে। সে জন্য ডোপামিনসহ সব ধরনের সুখের হরমোন নিঃসরণ কম হচ্ছে।

 

 

করণীয়

     গ্যাস্ট্রিকের ওষুধসহ অন্যান্য ওষুধ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া না খাওয়া। লাল আটা, ফাইবার সমৃদ্ধ চাল খাওয়ার অভ্যাস করা।

 

     ফার্মেন্টেড ফুড যেমন টক দই, পান্তা খাওয়ার অভ্যাস করা।

 

     প্রতিদিন একবেলা ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা।

 

     সপ্তাহে অন্তত দু-তিন দিন সামুদ্রিক মাছ খেতে চেষ্টা করা।

 

     সপ্তাহে এক দিন কাছাকাছি দূরত্বে ঘুরতে যাওয়া।

 

     রাতে ঘর আঁধার করে কমপক্ষে ছয়-সাত ঘণ্টা ঘুমানো।

সতর্কতা

সিম্পল সুগার (চিনি, গুড়) বা এগুলো দিয়ে তৈরি খাবারও খুব দ্রুত ডোপামিন নিঃসরণে সহায়তা করে, কিন্তু তা ক্ষণস্থায়ী। সে ক্ষেত্রে সাময়িক কিছুটা ভালোলাগা থাকলেও পরক্ষণেই আবার খারাপ লাগে। তাই মিষ্টিজাতীয় খাবার যতটা সম্ভব কম খাবেন, না খাওয়াই উত্তম।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ