ঘর থেকে ব্যাংকে ফিরল ১৪ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
ঘর থেকে ব্যাংকে ফিরল ১৪ হাজার কোটি টাকা

টানা ১০ মাস পর ঘরে রাখা টাকা ব্যাংকে ফিরতে শুরু করেছে। ব্যাংকে জমাকৃত টাকা তুলে নিজের কাছে রাখার প্রবণতা হঠাৎ বাড়তে শুরু করে গত বছরের নভেম্বর থেকে। এ প্রবণতায় ব্যাংকগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। তবে বর্তমানে ঘরে রাখা টাকা আবার ব্যাংকে ফিরতে শুরু করেছে।

আরো পড়ুন
শাহরুখকে হত্যার হুমকিদাতা গ্রেপ্তার

শাহরুখকে হত্যার হুমকিদাতা গ্রেপ্তার

 

গত দুই মাসে (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর) ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যাংকে ফিরেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, বেশ কিছু কারণে মানুষের হাতে গত ১০ মাস টাকা বেড়েছিল। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, নির্বাচনকেন্দ্রিক অনিশ্চয়তা, দুই ঈদের বাড়তি খরচ, ব্যাংক মার্জের খবর এবং জুলাই-আগস্টে আন্দোলনের প্রভাবে অনেকে টাকা তুলে নিয়েছিল।

আরো পড়ুন
আমুর জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে প্রেরণ

আমুর জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে প্রেরণ

 

তাই ব্যাংকের বাইরে টাকা বেড়েছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা উদ্যোগে স্থিতিশীলতা ফেরায় ব্যাংক খাতের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে। তাই ঘরে থাকা টাকা ব্যাংকে ফিরছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, মানুষের কাছে নগদ টাকা বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া বোঝা যায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রা সরবরাহের ওপর।

ছাপানো নগদ টাকার একটি অংশ কেন্দ্রীয় ও সোনালী ব্যাংকের চেস্ট শাখায় গচ্ছিত থাকে। দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে ব্যাংকগুলোর ভল্টেও কিছু টাকা থাকে। এ ছাড়া ছাপানো টাকার একটি অংশ থাকে মানুষের হাতে।

আরো পড়ুন
গাজার নিরাপদ অঞ্চলেও ইসরায়েলি হামলা

গাজার নিরাপদ অঞ্চলেও ইসরায়েলি হামলা

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অক্টোবর শেষে ছাপানো টাকার পরিমাণ ছিল তিন লাখ ৫২ হাজার ৮৯৫ কোটি। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ও সোনালী ব্যাংকের চেস্ট শাখায় ছিল ৫১ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা।

বাকি অর্থের ২১ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা ব্যাংকগুলোর ভল্টে এবং দুই লাখ ৭৯ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা ছিল মানুষের হাতে। অক্টোবর শেষে প্রচলনে থাকা টাকার পরিমাণ ছিল তিন লাখ এক হাজার ৮১ কোটি।

আরো পড়ুন
মুসলিম পরিচয় যেভাবে সুরক্ষিত হয়

মুসলিম পরিচয় যেভাবে সুরক্ষিত হয়

 

যদিও গত আগস্ট শেষে ছাপানো টাকার পরিমাণ ছিল তিন লাখ ৫২ হাজার ৭২২ কোটি। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ও সোনালী ব্যাংকের চেস্ট শাখায় ছিল ৩৫ হাজার ৯২২ কোটি টাকা। বাকি অর্থের ২৩ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা ব্যাংকগুলো ভল্টে এবং দুই লাখ ৯৩ হাজার ৬২২ কোটি টাকা মানুষের হাতে ছিল। তবে ১৫ আগস্ট তা ছিল তিন লাখ এক হাজার ৯৪৭ কোটি। আগস্ট শেষে প্রচলনে থাকা টাকার পরিমাণ ছিল তিন লাখ ১৬ হাজার ৮০০ কোটি। অর্থাৎ দুই মাসে মানুষের হাতে থাকা ১৪ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা ব্যাংকে ফিরেছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা বলেন, সরকার পতনের পর পর ব্যাংকের বাইরে নগদ টাকা বেড়ে গিয়েছিল। তা প্রায় তিন লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়। তবে ধীরে ধীরে তা কমে এখন দুই লাখ ৭৯ হাজার কোটি টাকায় নেমেছে। এতে বোঝা যায় মানুষ ব্যাংকে টাকা ফেরত দিচ্ছে।

আরো পড়ুন
এডিপির প্রকল্পে নয়ছয়, অস্তিত্বহীন প্রকল্পে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ

এডিপির প্রকল্পে নয়ছয়, অস্তিত্বহীন প্রকল্পে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ

 

গত বছরের অক্টোবরে ব্যাংকের বাইরে নগদ টাকার পরিমাণ ছিল দুই লাখ ৪৫ হাজার ৯৪৩ কোটি। পরের মাস নভেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় দুই লাখ ৪৮ হাজার ৪৪১ কোটি, ডিসেম্বরে দুই লাখ ৫৪ হাজার ৮৬০ কোটি, জানুয়ারিতে দুই লাখ ৫৭ হাজার ২৯৫ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে দুই লাখ ৫৭ হাজার ৫৭৪ কোটি, মার্চে দুই লাখ ৬১ হাজার ১৯৫ কোটি, এপ্রিলে বেড়ে দাঁড়ায় দুই লাখ ৭০ হাজার ৬৫৮ কোটি, মে মাসে দুই লাখ ৭০ হাজার ৬৫৮ কোটি, জুনে দুই লাখ ৯০ হাজার ৪৩৬ কোটি, জুলাইয়ে দুই লাখ ৯১ হাজার ৬৩০ কোটি এবং আগস্টে বেড়ে দাঁড়ায় দুই লাখ ৯২ হাজার ৪৩৪ কোটি চার লাখ টাকায়।

এদিকে সেপ্টেম্বরে ব্যাংক খাতে আমানত গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭.২৬ শতাংশ বা ৯ হাজার ৭৪৮ কোটি টাকা বেড়ে ১৭ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। যদিও আগের মাস অগস্টে মোট আমানত ১৭ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসে, যা ছিল জুলাইয়ের  তুলনায় ০.১৬ শতাংশ কম। তবে আগের বছরের তুলনায় আগস্টে আমানত প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ৭.০২ শতাংশ, যা ১৮ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রেকর্ড ৬.৮৬ শতাংশ সর্বনিম্নে পৌঁছেছিল এই প্রবৃদ্ধি।

আরো পড়ুন
কুবিতে বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচিতি ও কর্মপরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

কুবিতে বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচিতি ও কর্মপরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ব্যাংক খাতে সাধারণত প্রতি মাসে আগের মাসের তুলনায় আমানত বাড়ে। তবে জুলাই ও আগস্ট মাসে আমানত বাড়ার বদলে উল্টো কমেছে।

চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংক খাতে আমানত বা ডিপোজিট ছিল ১৭ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ দুই মাসের ব্যবধানে আমানত কমেছিল প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। অবশ্য ব্যাংক খাত সংস্কারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের কারণে সেপ্টেম্বরে গ্রাহকদের ব্যাংক থেকে ডিপোজিট তুলে নেওয়ার প্রবণতা কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকাররা।

আরো পড়ুন
সালথা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর গ্রেপ্তার

সালথা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর গ্রেপ্তার

 

বেশ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেও ভালো ব্যাংকগুলোতে ডিপোজিট অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি দুর্বল ব্যাংকগুলোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তার কারণে গ্রাহকদের আস্থা কিছুটা ফিরেছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তোফা কে মুজেরী বলেন, ‘মানুষের হাতের টাকা ব্যাংকে ফিরেছে এটা ভালো দিক। বোঝা যাচ্ছে, ব্যাংকের প্রতি মানুষের নতুন করে আস্থা তৈরি হয়েছে।’

মন্তব্য

আজ থেকে ব্যাংক লেনদেন ১০-৪টা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
আজ থেকে ব্যাংক লেনদেন ১০-৪টা

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ৯ দিনের ছুটি শেষে ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সব ধরনের অফিস আজ রবিবার খুলছে। আজ থেকে ব্যাংকের অফিস ও লেনদেনের সময়সূচি ফিরবে আগের অবস্থায়। ফলে ব্যাংক লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে বিকের ৪টা পর্যন্ত। তবে অফিস সূচি থাকবে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

বাকি সময় লেনদেন পরবর্তী ব্যাংকের আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনা হবে।

রমজানে ব্যাংকে লেনদেনের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। রোজার মাসে ব্যাংকে লেনদেন হয় সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত। রমজানে ব্যাংকের অফিস সূচি ছিল সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

এর মধ্যে বেলা ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত জোহরের নামায়ের বিরতি ছিল। 
 

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য
ব্লুমবার্গকে বাণিজ্য উপদেষ্টা

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পথ খোঁজা হচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পথ খোঁজা হচ্ছে
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পথ খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা ঘাটতি কমানোর সুযোগগুলো সক্রিয়ভাবে খতিয়ে দেখছি।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের ৪০ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি শিল্পে বড় ধরনের আঘাত আসতে পারে।

এই ধাক্কা সামলাতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাচ্ছে বাংলাদেশ।

আরো পড়ুন

পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্বামীর বিশেষ অঙ্গ কাটলেন স্ত্রী

পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্বামীর বিশেষ অঙ্গ কাটলেন স্ত্রী

 

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই তৈরি পোশাক। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পোশাক ক্রেতা। ফলে এই শিল্পের ওপর আঘাত লাগলে অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।

গত বছর ছাত্র–জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে দেশ।

বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তারা ব্লুমবার্গকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যে ধার্য হওয়া শুল্ক কমাতে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কমানোর উপায় খুঁজছে বাংলাদেশ। ট্রাম্প প্রশাসন যে কয়েকটি দেশের ওপর সর্বোচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করেছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এই পদক্ষেপ বস্ত্র রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিতে পারে।

আরো পড়ুন

৪ বছরের শিশুর শ্লীলতাহানির চেষ্টা, অভিযুক্তকে গণধোলাই

৪ বছরের শিশুর শ্লীলতাহানির চেষ্টা, অভিযুক্তকে গণধোলাই

 

যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত নতুন শুল্ক পণ্যভিত্তিক মানদণ্ডের পরিবর্তে দেশটির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতির ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়েছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, এই পদ্ধতি বাংলাদেশের মতো বাণিজ্য উদ্বৃত্ত থাকা অনেক ছোট অর্থনীতির দেশের জন্য অন্যায্য।

শুল্কের প্রভাব মূল্যায়ন করতে বাংলাদেশ সরকার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোসহ মূল অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর উপায়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলাসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি বাড়ানো।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি বিজিএমইএ—এর প্রশাসক আনোয়ার হোসেন ব্লুমবার্গকে বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলার আমদানি বাড়াতে পারি, তবে আমেরিকান তুলার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

আরো পড়ুন

স্নান উৎসব ঘিরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৫ কিলোমিটার যানজট

স্নান উৎসব ঘিরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৫ কিলোমিটার যানজট

 

এর আগে, গত ১৭ মার্চ পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানান, কৌশলগত কারণে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানির পরিকল্পনা করছে।

তিনি বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করেছে। বাংলাদেশ আগেই শুল্কের আওতায় রপ্তানি করলেও অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঝুঁকি সব সময় থাকে। আমরা যদি যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি করি এবং সেই তুলা দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি করি, তাহলে তারা আমাদের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করতে দ্বিধাগ্রস্ত হবে।’

গত ২৭ মার্চ দেশীয় সুতাশিল্পের সুরক্ষায় স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

ওয়ালমার্ট এবং গ্যাপ ইনকর্পোরেটেডের মতো বড় মার্কিন খুচরা বিক্রেতারা প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে বিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক কেনে। আনোয়ার হোসেনের মতে, শুল্ক বৃদ্ধি তাদের ক্রয় কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভ তথা বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির রপ্তানি দেড় শতাংশ কমে ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

মুম্বাইয়ে ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক অর্থনীতিবিদ অঙ্কুর শুক্লা মনে করেন, এই শুল্কের কারণে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য আইএমএফ নির্ধারিত ঋণ কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি লিখেছেন, ‘এটি এই দেশগুলোতে তহবিলের ঋণকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে—যা প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখী ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেবে।’

তবে বাংলাদেশের জন্য কিছুটা ইতিবাচক দিকও রয়েছে। পোশাক খাতে দেশের প্রতিদ্বন্দ্বী শ্রীলঙ্কা (৪৪ শতাংশ) এবং ভিয়েতনামের (৪৬ শতাংশ) তুলনায় বাংলাদেশের শুল্কের হার কম (৩৭ শতাংশ)। এ বিষয়ে অঙ্কুর শুক্লা বলেন, এটি ‘বাংলাদেশকে একটি তুলনামূলক সুবিধা দিতে পারে এবং কিছু বাজারের হিস্যা দখল করতে সাহায্য করতে পারে।’

কর্মকর্তারা বলছেন, পারস্পরিক বাণিজ্য আলোচনার অংশ হিসেবে শুল্ক সমন্বয়ের সুযোগ থাকতে পারে। 

তবে নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বশির উদ্দিনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ‘মেঘ জমেছে’। তিনি আরো বলেন, ‘এটি আর দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়—এটি একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সুনামি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

মন্তব্য

প্রতিকূল পরিবেশেও কমেছে খেলাপি ঋণ

মো. জয়নাল আবেদীন
মো. জয়নাল আবেদীন
শেয়ার
প্রতিকূল পরিবেশেও কমেছে খেলাপি ঋণ

দেশে অর্থনৈতিক প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও খেলাপি ঋণ কমেছে। ২০২৪ সাল শেষে বেশির ভাগ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বাড়লেও ভালো করেছে আটটি ব্যাংক। কারণ আগের বছরের তুলনায় তাদের খেলাপি ঋণ কমেছে। ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে বিডিবিএল, ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা, ওয়ান, উত্তরা, এইচএসবিসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

প্রতিকূল পরিবেশেও খেলাপি ঋণ কমেছে

২০০৯ সালের পর থেকে খেলাপি ঋণ বেড়েই চলেছে। আগের সব রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে ২০২৪ সাল শেষে। কারণ আওয়ামী সরকারের ওই ১৬ বছরে ২২ হাজার কোটি থেকে তিন লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ।

প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ভেঙে পড়ার কারণে এই সময়ের মধ্যে হলমার্ক, এননটেক্স, ক্রিসেন্ট, সাদ-মুসা, বেসিক ব্যাংক, এস আলম ও বেক্সিমকো কেলেঙ্কারির সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে বাংলাদেশের। কমবেশি সব ব্যাংকেই খেলাপি ঋণের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এর পরও কিছু ব্যাংক সেই খেলাপি ঋণের বেপরোয়া গতিকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে।

ব্যাংকাররা বলছেন, এগুলো নতুন কিছু না, বরং কার্পেটের নিচে লুকিয়ে থাকা খেলাপি এখন বের হয়ে আসছে।

হাসিনা সরকার দেশ ছেড়ে পালানোর পরই মূলত খেলাপি ঋণ বাড়তে শুরু করেছে। তবে যেসব ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ভালো, তাদের খেলাপি ঋণ তেমন বাড়েনি। যারা দুর্নীতিতে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেছে, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ছাড়া এই সংকটকালে খেলাপি ঋণ কমার আরো একটি কারণ রয়েছে, তা হলো ঋণ বিতরণ কমে যাওয়া। যদি কোনো ব্যাংক নতুন করে ঋণ বিতরণ না করে শুধু আদায় করতে থাকে, তাহলে তার খেলাপিও কমবে।

করোনা-পরবর্তী কয়েক বছর ধরে এই কাজটাই হয়ে আসছে। অনেক ব্যাংক নতুন করে ঋণ দিচ্ছে না বললেই চলে। এতে বিনিয়োগে ভাটা পড়েছে।

আর ঋণ বিতরণ কমে বিনিয়োগ হ্রাসের সবচেয়ে বড় প্রমাণ ফেব্রুয়ারি মাসের বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি। কারণ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৭.১৫ শতাংশ, যা ইতিহাসের সর্বনিম্ন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (বিডিবিএল) খেলাপি ঋণ ৯৮২ থেকে ৯৫৩ কোটিতে নেমে এসেছে। ২০২৩ সাল থেকে ২৯ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ কমেছে ২০২৪ সালে। ওই সময়ে ব্র্যাক ব্যাংকের এক হাজার ৭৫০ থেকে এক হাজার ৬১৭ কোটি, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এক হাজার ৬৮৯ থেকে এক হাজার ৫৯০ কোটি, ওয়ান ব্যাংক দুই হাজার ৪৩৮ থেকে দুই হাজার ৩২৮ কোটি, উত্তরা ব্যাংক ৯৮৫ থেকে ৯৮০, এইচএসবিসি ৬৯৯ থেকে ৩২০ কোটি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ৯৬৪ থেকে ৮৩৬ কোটি এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এক হাজার ৫৩৪ থেকে এক হাজার ২৭৮ কোটি টাকায় খেলাপি ঋণ কমিয়ে এনেছে।

এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেসব ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ভালো, তাদের ব্যাংক ভালোভাবে চলতে বাধ্য। যেমন—আমরা শুধু করপোরেট গ্রাহকের ওপর নির্ভরশীল নই। আমরা ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে বেশি মানুষের মধ্যে অর্থ বণ্টন করি। এতে ঋণখেলাপি হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। একই সঙ্গে আমাদের শক্তিশালী আদায় কমিটি (রিকভারি টিম) গঠন করা হয়েছে, যারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘অন্যদিকে যারা একই গ্রাহককে বেশি ঋণ দেয় আর যেকোনো কারণে সেটা খেলাপি হয়ে যায়, তখন পুরো ব্যাংক বিপাকে পড়ে। তাই ঋণ বিতরণের আগে খুব ভালোভাবে গ্রাহকের ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই-বাছাই করা উচিত। পাশাপাশি বেশিসংখ্যক গ্রাহকের মধ্যে ঋণগুলো বিতরণ করলে খেলাপির ঝুঁকি কমে যায়।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য মতে, গত ডিসেম্বর শেষে এই খাতে মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ১১ হাজার ৪০২ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের পরিমাণ তিন লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। সেই হিসাবে ব্যাংক খাতের ২০.২০ শতাংশ ঋণ খেলাপি হয়েছে। ২২টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের ওপরে। এর মধ্যে সরকারি-বেসরকারি আটটি ব্যাংকের খেলাপি ৬০ শতাংশের বেশি।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ও সমালোচিত গ্রুপগুলোর নামে-বেনামে যেসব ঋণ ছিল, তার প্রকৃত চিত্র এখন দেখাতে শুরু করেছে ব্যাংকগুলো। এতে খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশি বাড়ছে। দেশের ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণও বেশ বেড়েছে। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, এস আলম গ্রুপসহ কিছু বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ঋণখেলাপি হয়ে পড়েছে। বেশির ভাগ ঋণ বেনামি, যা অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়া হয়েছিল।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক মোহাইমিন পাটোয়ারী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশের খেলাপি ঋণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছার অন্যতম কারণ সিস্টেমকে ডাউনপ্লে করে সুবিধা নেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল। তাই ব্যাংক খাতের এই পরিণতি। এখন সেই ব্যাংকিং সিস্টেমের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনতে দুষ্কৃতকারীদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে; যদিও কিছুটা উন্নতি হয়েছে, আরো উন্নতি প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় অনিয়ম চর্চার কারণে বহু মানুষ (ব্যাংকার) খারাপ হয়ে গেছে। এখনো এসব মানুষই ব্যাংক চালাচ্ছে। তবে তাদের মানসিকতা বদলাতে হবে। তা না হলে উন্নতি সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, বিগত সময়ে সরকারি কার্যক্রম, রাজনীতি, টেন্ডার—সব কিছু টাকা দিয়ে কিনে নেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। তাই ব্যাংক খাতেও সেই কাদা লাগবে—এটাই স্বাভাবিক। কারণ ব্যাংকিং সিস্টেম কিন্তু সমাজের বাইরে না। অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির ব্যবস্থা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারলে ব্যাংক খাত আবার ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক।

মন্তব্য

অনেক বুথে টাকা নেই, সামনে ‘আউট অব সার্ভিস’ নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
অনেক বুথে টাকা নেই, সামনে ‘আউট অব সার্ভিস’ নোটিশ
সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘ ৯ দিনের ঈদের ছুটিতে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। আগামী রবিবার থেকে আবারো খুলবে এসব প্রতিষ্ঠান। ব্যাংক বন্ধ থাকলেও সচল রয়েছে এটিএম বুথ, ইন্টারনেট ব্যাংকিংসহ বিকল্প ডিজিটাল সেবাগুলো। এসব সেবা নির্বিঘ্ন রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক আগাম নির্দেশনা দিলেও বাস্তবে বিভিন্ন স্থানে গ্রাহকরা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

টাকা মিলছে না অনেক এটিএম বুথে। ঢাকার বাইরে এ সমস্যা বেশি।

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বেসরকারি চারটি ব্যাংকের পাঁচটি এটিএম বুথ রয়েছে। কিন্তু বুথগুলোতে গত ৩০ মার্চ থেকে টাকা নেই।

শার্টারে দেওয়া নোটিশে লেখা রয়েছে, ‘আউট অব সার্ভিস’।

বুথে টাকা না থাকার সত্যতা নিশ্চিত করে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের কালাইয়া বন্দর শাখার ব্যবস্থাপক মো. আল মামুন একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ব্যাংক না খোলা পর্যন্ত (আগামী রবিবার) বুথ থেকে টাকা উত্তোলন করার কোনো সুযোগ নেই। এ কারণে দুঃখ প্রকাশ করে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু বাউফল নয়, একই অবস্থা রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী।

বর্তমানে দেশে ১২ হাজার ৯৪৬টি এটিএম বুথ এবং সাত হাজার ১২টি ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিন (সিআরএম) রয়েছে।

তবে এরই মধ্যে অনেক এটিএম বুথে নগদ অর্থের সংকট দেখা গেছে এবং কিছু ব্যাংক নিজেদের গ্রাহক ছাড়া অন্যদের লেনদেন সীমিত করেছে। এতে সাধারণ গ্রাহকরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।

ইসলামী ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গ্রামাঞ্চলের বুথগুলোতে টাকা শেষ হয়ে গেলে নতুন করে টাকা পাঠানো একটু সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তা ছাড়া ঈদ হওয়ার কারণে এক দিনেই টাকা শেষ হয়ে যায়।

এক হাজার টাকার নোট দিলে একবারে ৭০ লাখ দেওয়া যায়। আর ৫০০ টাকার নোট দিলে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা দেওয়া যায়। এখন ঈদ হওয়ার কারণে টাকা উত্তোলনের চাপ এত বেশি যে এক দিনেই টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে। তা ছাড়া ১০ শতাংশ বুথে সমস্যা থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। ব্যাংক পুরোপুরিভাবে চালু হলে এসব সমস্যা থাকবে না বলে মত ওই ব্যাংকারের।

ঈদকে কেন্দ্র করে এবার ছুটি শেষে অফিস খুলবে আগামী ৬ এপ্রিল থেকে। গত ২৮ মার্চ থেকে টানা ৯ দিন বন্ধ রয়েছে। এর আগে ২৬ মার্চ বিজয় দিবসের ছুটির পরদিন এক দিন ছুটি নিয়ে অনেকে টানা ১১ দিনের ছুটি কাটাচ্ছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে বর্তমানে টাকা তোলার জন্য বুথ রয়েছে ২০ হাজারের মতো। এর মধ্যে শুধু টাকা তোলার এটিএম বুথ ১২ হাজার ৯৩৮টি। যার মধ্যে শহরেই ৯ হাজার ৯১টি। আর সিআরএম আছে সাত হাজার ১২টি। এ রকম একই বুথে টাকা জমা ও উত্তোলন করা যায়। যে কারণে এই ধরনের বুথে টাকার সংকট কম হয়। এই সিআরএম ৯টি শহরে আছে পাঁচ হাজার। আর গ্রামে আছে দুই হাজার ৩টি। গ্রামীণ বুথ বলতে ঢাকাসহ সব বিভাগীয়, জেলা ও পৌর এলাকার বাইরে স্থাপিত বুথকে বোঝানো হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ঈদের আগের মাস মার্চে দুই উপায়ে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪৬ হাজার ৮৮৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু এটিএম বুথ থেকে ৩২ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা এবং সিআরএম থেকে ১৪ হাজার ১৬২ কোটি টাকা লেনদেন হয়।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ