ঈদ শেষে সবাই কর্মস্থলে ফিরছে। এই যাত্রায় দ্বিগুণ বা তার চেয়ে বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। নেত্রকোনার কেন্দুয়া থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, আঠারোবাড়ি, ত্রিশাল ও নান্দাইলগামী বাস ও সিএনজিতে দ্বিগুণ আদায় করা হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী কেন্দুয়া থেকে ঢাকা পর্যন্ত ৪০০ টাকার পরিবর্তে ৬০০ টাকা, কেন্দুয়া থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা, কেন্দুয়া থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত ১৬০ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা, কেন্দুয়া থেকে কিশোরগঞ্জ ৮০ টাকার পরিবর্তে ২৫০ টাকা এবং কেন্দুয়া থেকে ত্রিশাল ১৫০ টাকার পরিবর্তে ৪০০ টাকা নিচ্ছে একটি সিন্ডিকেট।
আরো পড়ুন
দেশের ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স এলো মার্চে
চট্টগ্রামে কর্মরত পোশাক শ্রমিক রোকসানা আক্তার বলেন, 'সাত দিনের ছুটিতে বাড়ি এসেছিলাম। গার্মেন্টস খোলার কারণে এখন কর্মস্থলে ফিরছি। টিকেট না পেয়ে অন্য উপায়ে ১২০০ টাকা দিয়ে টিকেট সংগ্রহ করেছি। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে এই ভাড়া ৭০০ টাকা।
'
অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠিক না বলে মন্তব্য করে ময়মনসিংহের আনন্দমোহন সরকারি কলেজের অনার্সপড়ুয়া ত্বকী জানান, 'ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলাম। রবিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কারণে আজকেই ফিরতে হয়েছে। সিএনজিতে ৩০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়েছে। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে এই ভাড়া ১৬০ টাকা।
আমরা ছাত্র মানুষ। বাবা অনেক কষ্ট করে আমাদের খরচ জোগাড় করেন।'
আরো পড়ুন
ফের শুরু হচ্ছে ঢাবি ক্যাম্পাসে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ
আলোচনা সাপেক্ষে সহনীয় পর্যায়ে ভাড়া নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ত্রিশাল কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহিন বলেন, 'ঈদের আগে সিএনজিতে ত্রিশাল থেকে কেন্দুয়া এসেছি ১৫০ টাকায়, আর এখন ঈদ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে ৪০০ টাকা গুণতে হচ্ছে। এটা খুবই অন্যায় এবং অমানবিক।'
বাড়তি ভাড়া আদায় করা মোটেও ঠিক নয় মন্তব্য করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিএনজি স্টেশনের শ্রমিক নেতা বলেন, 'বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ আমার কাছে এসেছে।
'
উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে হবে বলে জানিয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত ওমর কাউয়ুম বলেন, 'বাড়তি ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে জানতে পেরেছি। বাসস্ট্যান্ডে গেলে ড্রাইভারদের সিন্ডিকেট বলে, আমরা বেশি ভাড়া আদায় করছি না। পরক্ষণেই আবার বেশি ভাড়া আদায় করার অভিযোগ পাই।'
আরো পড়ুন
মুসলিম জাতির এই পরিস্থিতির কারণ ও করণীয় জানালেন আজহারি
কেন্দুয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে এমন খবর পেয়ে সিএনজি ও বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে চালকদের এবং শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলি, ভাড়া যেন বেশি না নেন।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, 'শনিবার দুপুরের দিকে সতর্ক করে বলেছি, সরকার নির্ধারিত ভাড়া আদায় করতে হবে। যদি কেউ বাড়তি ভাড়া আদায় করেন, আমরা ব্যবস্থা নেব।'
আরো পড়ুন
মুসলিম জাতির এই পরিস্থিতির কারণ ও করণীয় জানালেন আজহারি