দলিল প্রতি অতিরিক্ত টাকা না দেওয়ায় জমি রেজিস্ট্রি বন্ধ করে দিয়েছেন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর সাবরেজিস্ট্রার। বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এমন অভিযোগে সাবরেজিস্ট্রারকে অবরুদ্ধ করে রাখেন জমি ক্রয়-বিক্রয়কারীরা।
কোটচাঁদপুরের সাবরেজিস্ট্রার তামিম আহমেদ চৌধুরী গত বছরের ২৬ মে যোগদান করেন। অভিযোগ রয়েছে, এই সাবরেজিস্ট্রার যোগদান করার পর থেকেই দলিল প্রতি অতিরিক্ত টাকা না দিলে তিনি জমি রেজিস্ট্রি করেন না।
বিষয়টি নিয়ে দলিল লেখক ও ক্রেতা বিক্রেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
তালিনা গ্রামের আজহার আলী জমি রেজিস্ট্রি করতে এসে বলেন, 'বেলা ৩টা বাজে। জমি রেজিস্ট্রির জন্য লেখালেখি অনেক আগেই শেষ। অথচ অতিরিক্ত টাকা না দিলে সাবরেজিস্ট্রার জমি রেজিস্ট্রি করবেন না।
এখনো পর্যন্ত একটিও জমি রেজিস্ট্রি হয়নি। কাগজপত্র সব থাকার পরও সাবরেজিস্ট্রারকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে। যে কারণে অতিষ্ঠ হয়েই ক্রেতা-বিক্রেতা ও দলিল লেখকরা সাবরেজিস্ট্রারকে অবরুদ্ধ করে রেখেছি। অতিরিক্ত টাকা কেনো নেন এর জবাব না দেওয়া পর্যন্ত তাকে ছাড়া হবে না।'
জগন্নাথপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম বলেন, 'এর মধ্যে আমি কয়েকটি জমি রেজিস্ট্রি করেছি। আমার কাছ থেকেও অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে। রেজিস্ট্রির স্বার্থে বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়েছে সাবরেজিস্ট্রারকে।
কোটচাঁদপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আনিসুল ইসলামের হস্তক্ষেপ ও দলিল লেখকদের মধ্যস্থতায় বিকাল ৪টার পর থেকে দলিল রেজিস্ট্রি কাজ শুরু হয়।
জেলা রেজিস্ট্রার সাব্বির আহমেদের সঙ্গে কথা বললে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান।
এদিকে ইউএনওকে কয়েকবার মোবাইল ফোন করলেও তা রিসিভ করেননি তিনি।
সাবরেজিস্ট্রার তামিম আহমেদ চৌধুরী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'এ অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে নয়। এর বেশী কিছু বলতে রাজী হননি।
কোটচাঁদপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, 'ইউএনও মহোদয় পুলিশ চেয়ে ছিলেন, আমি পুলিশ পাঠিয়েছি। আমি ঝিনাইদহে আছি। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।'
দলিল লেখক সমিতির সভাপতি বদর উদ্দিন বলেন, ঝামেলা একটু হয়েছিল তার সমাধান হয়েছে। ৪টার পর থেকে জমি রেজিস্ট্রির কাজ শুরু হয়।