সুন্দরবনে জ্বলতে থাকা আগুন এখন আর দেখা যাচ্ছে না। বুধবার (২৬ মার্চ) আগুন নির্বাপণের ঘোষণা দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে ফায়ার ব্রিগেড এবং বন বিভাগ।
মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত আগুনের স্থানে পানি ছিটাতে দেখা গেছে। ফায়ার ব্রিগেড, বন বিভাগ, সিপিজি, ভিটিআরটি এবং গ্রামবাসী আগুন নেভানোর কাছে অংশ নেয়।
আগুনের অস্তিত্ব আছে কি না দেখতে সুন্দরবনের ওই এলাকায় ফায়ার ব্রিগেড এবং বন বিভাগের পক্ষ থেকে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে বন বিভাগ ড্রোন উড়িয়ে পর্যবেক্ষণ করছে।
আরো পড়ুন
শতাধিক গাড়ি নিয়ে সারজিসের বহর, প্রশ্ন তুললেন তাসনিম জারা
সুন্দরবনে আগুনের ঘটনায় বন বিভাগের তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত কাজ শুরু করেছে। সুন্দরবনের শাপলার বিল এবং টেপার বিলে আগুনের ঘটনায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নুরুল করিম ওই তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাসকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাগেরহাট ফায়ার ব্রিগেড ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) সাকরিয়া হায়দার জানান, প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে ভোলা নদীতে পাম্প মেশিন বসিয়ে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি নিয়ে আগুনে ছিটানো হয়।
মঙ্গলবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত তারা অগ্নিকাণ্ডের ওই এলাকায় পানি ছিটিয়েছে। ৯৯ শতাংশ আগুন নিভে গেছে। এই মুহূর্তে সেখানে আগুন বা ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে না। এরপরও আগুনের কোনো অস্তিত্ব আছে কিনা তা দেখতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
আরো পড়ুন
আবরার ফাহাদের কথা ভেবে কাঁদলেন আসিফ নজরুল
ডিএডি সাকরিয়া হায়দার আরো জানান, সুন্দরবনের আগুন অনেক সময় মাটির নিচ দিয়ে গাছের গোড়ার অংশ থেকে বিস্তৃত হয়।
সেই কারণে তারা বুধবার সকাল পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ এবং তল্লাশি করে দেখবে আগুনের অস্তিত্ব আছে কি না। মোংলা এবং কচুয়া ফায়ার স্টেশনের ২০ জন সদস্যকে সেখানে রিজার্ভ রাখা হয়েছে। আগুনের অস্তিত্ব পাওয়া না গেলে বুধবার সম্পূর্ণভাবে অগ্নি নির্বাপণের ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নুরুল করিম জানান, এখন সুন্দরবনের শাপলার বিল এলাকায় আগুন বা কোনো ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে না। অনেক সময় গাছের গোড়ার অংশ থেকে ধোঁয়া এবং ধীরে ধীরে আগুন দেখা দিতে পারে, এ জন্য সেখানে পানি ছিটানোর কাজ চলছে। সেইসঙ্গে বন বিভাগের সদস্যরা ঘুরে ঘুরে তল্লাশি চালাচ্ছে। ড্রোন উড়িয়ে অগ্নিকাণ্ডের এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বুধবার যদি আগুনের অস্তিত্ব বা কোথাও ধোঁয়া দেখা না যায় তবে সম্পূর্ণভাবে আগুন নির্বাপণের ঘোষণা দেওয়া হবে।
আরো পড়ুন
কালীগঞ্জ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ
ডিএফও কাজী মুহাম্মদ নুরুল করিম আরো জানান, সুন্দরবনের মধ্যে যাতে আগুন ছড়াতে না পারে এ জন্য শাপলার বিল এলাকায় প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ফায়ার লেন কাটা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আগুনে বনের প্রায় পাঁচ একর বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আগুনের সূত্রপাত এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাস জানান, সুন্দরবনে আগুনের ঘটনায় এর মধ্যে তদন্ত কাজ শুরু করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের এলাকা থেকে কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত করে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত, ক্ষতিগ্রস্ত বনের পরিমাণ, পুড়ে যাওয়া গাছের নাম ও সংখ্যা এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির পরিমাণ বের করা হবে। একইসঙ্গে অগ্নিকাণ্ড থেকে সুন্দরবনকে রক্ষা করতে তদন্ত কমিটির সুপারিশ থাকবে।
আরো পড়ুন
সেতুর দুই গার্ডারের ফাঁকে আটকে পড়া শিশু উদ্ধার
তদন্ত কমিটির প্রধান এসিএফ দ্বীপন চন্দ্র দাস আরো জানান, সুন্দরবনের শাপলার বিল এবং টেপার বিলে আগুনের ঘটনায় একই সঙ্গে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
সুন্দরবনের শাপলার বিলের আগুনের আগে বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলা জেলাধীন সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের কলমতেজি ক্যাম্পের টেপার বিল এলাকায় শনিবার সকাল ৭টার দিকে আগুন জ্বলতে দেখে বন বিভাগ। ফায়ার ব্রিগেড কর্মী এবং স্থানীয় গ্রামবাসী রবিবার দুপুরে টেপার বিলের আগুন সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ করতে সক্ষম হয়। টেপার বিলের আগুনে প্রায় চার একর বনভূমি পুড়ে গেছে।
এর একদিন পর রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলাধীন সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর টহল ফাঁড়ির ২৩ শের সিলার শাপলার বিল এলাকায় গহিন বনে আগুন দেখতে পায় বন বিভাগ। এর পর শুরু হয় আগুন নিভানোর কাজ। বন বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, সিপিজি, ভিটিআরটি এবং স্থানীয় গ্রামবাসী আগুন নিভানোর কাজে অংশ নেয়। রবিবার বিকেল থেকে আগুন নিভানোর কাজ শুরু হয়। আগুন থাকতে পারে এমন আশঙ্কায় সেখানে পানি ছিটানো হচ্ছে।
আরো পড়ুন
চেনা যায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই গায়িকাকে?