ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ মার্চ ২০২৫
১৩ চৈত্র ১৪৩১, ২৬ রমজান ১৪৪৬

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ মার্চ ২০২৫
১৩ চৈত্র ১৪৩১, ২৬ রমজান ১৪৪৬

সুন্দরবনে আগুন নির্বাপণের ঘোষণা বুধবার

বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাট প্রতিনিধি
শেয়ার
সুন্দরবনে আগুন নির্বাপণের ঘোষণা বুধবার
সংগৃহীত ছবি

সুন্দরবনে জ্বলতে থাকা আগুন এখন আর দেখা যাচ্ছে না। বুধবার (২৬ মার্চ) আগুন নির্বাপণের ঘোষণা দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে ফায়ার ব্রিগেড এবং বন বিভাগ।

মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত আগুনের স্থানে পানি ছিটাতে দেখা গেছে। ফায়ার ব্রিগেড, বন বিভাগ, সিপিজি, ভিটিআরটি এবং গ্রামবাসী আগুন নেভানোর কাছে অংশ নেয়।

আগুনের অস্তিত্ব আছে কি না দেখতে সুন্দরবনের ওই এলাকায় ফায়ার ব্রিগেড এবং বন বিভাগের পক্ষ থেকে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে বন বিভাগ ড্রোন উড়িয়ে পর্যবেক্ষণ করছে। 

আরো পড়ুন
শতাধিক গাড়ি নিয়ে সারজিসের বহর, প্রশ্ন তুললেন তাসনিম জারা

শতাধিক গাড়ি নিয়ে সারজিসের বহর, প্রশ্ন তুললেন তাসনিম জারা

সুন্দরবনে আগুনের ঘটনায় বন বিভাগের তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত কাজ শুরু করেছে। সুন্দরবনের শাপলার বিল এবং টেপার বিলে আগুনের ঘটনায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নুরুল করিম ওই তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাসকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাগেরহাট ফায়ার ব্রিগেড ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) সাকরিয়া হায়দার জানান, প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে ভোলা নদীতে পাম্প মেশিন বসিয়ে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি নিয়ে আগুনে ছিটানো হয়।

মঙ্গলবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত তারা অগ্নিকাণ্ডের ওই এলাকায় পানি ছিটিয়েছে। ৯৯ শতাংশ আগুন নিভে গেছে। এই মুহূর্তে সেখানে আগুন বা ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে না। এরপরও আগুনের কোনো অস্তিত্ব আছে কিনা তা দেখতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

আরো পড়ুন
আবরার ফাহাদের কথা ভেবে কাঁদলেন আসিফ নজরুল

আবরার ফাহাদের কথা ভেবে কাঁদলেন আসিফ নজরুল

ডিএডি সাকরিয়া হায়দার আরো জানান, সুন্দরবনের আগুন অনেক সময় মাটির নিচ দিয়ে গাছের গোড়ার অংশ থেকে বিস্তৃত হয়।

সেই কারণে তারা বুধবার সকাল পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ এবং তল্লাশি করে দেখবে আগুনের অস্তিত্ব আছে কি না। মোংলা এবং কচুয়া ফায়ার স্টেশনের ২০ জন সদস্যকে সেখানে রিজার্ভ রাখা হয়েছে। আগুনের অস্তিত্ব পাওয়া না গেলে বুধবার সম্পূর্ণভাবে অগ্নি নির্বাপণের ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নুরুল করিম জানান, এখন সুন্দরবনের শাপলার বিল এলাকায় আগুন বা কোনো ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে না। অনেক সময় গাছের গোড়ার অংশ থেকে ধোঁয়া এবং ধীরে ধীরে আগুন দেখা দিতে পারে, এ জন্য সেখানে পানি ছিটানোর কাজ চলছে। সেইসঙ্গে বন বিভাগের সদস্যরা ঘুরে ঘুরে তল্লাশি চালাচ্ছে। ড্রোন উড়িয়ে অগ্নিকাণ্ডের এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বুধবার যদি আগুনের অস্তিত্ব বা কোথাও ধোঁয়া দেখা না যায় তবে সম্পূর্ণভাবে আগুন নির্বাপণের ঘোষণা দেওয়া হবে।

আরো পড়ুন
কালীগঞ্জ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

কালীগঞ্জ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

ডিএফও কাজী মুহাম্মদ নুরুল করিম আরো জানান, সুন্দরবনের মধ্যে যাতে আগুন ছড়াতে না পারে এ জন্য শাপলার বিল এলাকায় প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ফায়ার লেন কাটা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আগুনে বনের প্রায় পাঁচ একর বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আগুনের সূত্রপাত এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাস জানান, সুন্দরবনে আগুনের ঘটনায় এর মধ্যে তদন্ত কাজ শুরু করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের এলাকা থেকে কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত করে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত, ক্ষতিগ্রস্ত বনের পরিমাণ, পুড়ে যাওয়া গাছের নাম ও সংখ্যা এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির পরিমাণ বের করা হবে। একইসঙ্গে অগ্নিকাণ্ড থেকে সুন্দরবনকে রক্ষা করতে তদন্ত কমিটির সুপারিশ থাকবে।

আরো পড়ুন
সেতুর দুই গার্ডারের ফাঁকে আটকে পড়া শিশু উদ্ধার

সেতুর দুই গার্ডারের ফাঁকে আটকে পড়া শিশু উদ্ধার

তদন্ত কমিটির প্রধান এসিএফ দ্বীপন চন্দ্র দাস আরো জানান, সুন্দরবনের শাপলার বিল এবং টেপার বিলে আগুনের ঘটনায় একই সঙ্গে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

সুন্দরবনের শাপলার বিলের আগুনের আগে বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলা জেলাধীন সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের কলমতেজি ক্যাম্পের টেপার বিল এলাকায় শনিবার সকাল ৭টার দিকে আগুন জ্বলতে দেখে বন বিভাগ। ফায়ার ব্রিগেড কর্মী এবং স্থানীয় গ্রামবাসী রবিবার দুপুরে টেপার বিলের আগুন সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ করতে সক্ষম হয়। টেপার বিলের আগুনে প্রায় চার একর বনভূমি পুড়ে গেছে। 

এর একদিন পর রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলাধীন সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর টহল ফাঁড়ির ২৩ শের সিলার শাপলার বিল এলাকায় গহিন বনে আগুন দেখতে পায় বন বিভাগ। এর পর শুরু হয় আগুন নিভানোর কাজ। বন বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, সিপিজি, ভিটিআরটি এবং স্থানীয় গ্রামবাসী আগুন নিভানোর কাজে অংশ নেয়। রবিবার বিকেল থেকে আগুন নিভানোর কাজ শুরু হয়। আগুন থাকতে পারে এমন আশঙ্কায় সেখানে পানি ছিটানো হচ্ছে।

আরো পড়ুন
চেনা যায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই গায়িকাকে?

চেনা যায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই গায়িকাকে?

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

গোপালগঞ্জে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে আহতদের হেলথ কার্ড প্রদান

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
শেয়ার
গোপালগঞ্জে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে আহতদের হেলথ কার্ড প্রদান
ছবি: কালের কণ্ঠ

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে আহতদের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে। গোপালগঞ্জ জেলায় মোট ৩৮জন তালিকাভুক্ত আহতদের মধ্যে আজ ৬ জনকে চেক প্রদান করা হয়। তাদের মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে চারজনকে ২ লাখ, ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ২ জনকে ১ লাখ টাকা করে চেক তুলে দেন জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান।

আজ বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে আহতদের মাঝে এসব চেক বিতরণ করা হয়।

এ সময় পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবীতেষ বিশ্বাস, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হারুন অর রশিদ, গণমাধ্যম কর্মী ও আহত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

দীঘিনালায় দুস্থদের ঈদসামগ্রী দিল সেনাবাহিনী

দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি
দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি
শেয়ার
দীঘিনালায় দুস্থদের ঈদসামগ্রী দিল সেনাবাহিনী
সংগৃহীত ছবি

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় অসহায় দুস্থ পরিবারের মাঝে ঈদসামগ্রী বিতরণ করেছে সেনাবাহিনী। বৃহষ্পতিবার (২৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় কবাখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোনের পক্ষ্য থেকে এসব উপহার দেওয়া হয়। 

দেড় শতাধিক পরিবার এসব ঈদ সামগ্রী পেয়েছেন। 

সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. ওমর ফারুক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আগত পরিবারদের হাতে ঈদসামগ্রী তুলে দেন।

ঈদসামগ্রীর মাঝে ছিল সেমাই, চিনি, দুধ, নুডুলস, চাল, ডাল ও তেল।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জোন উপ অধিনায়ক মো. মেহেদী হাসান, এ্যাডজুটেন্ট ক্যাপ্টেন মো. আহনাফ হোসেন, কবাখালি ইউপি চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা ও কবাখালি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদিউজ্জামান।

মন্তব্য

সাবেক যুবদল নেতার পোস্টারে শেখ মুজিবকে স্বাধীনতার ঘোষক আখ্যা

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি
শেয়ার
সাবেক যুবদল নেতার পোস্টারে শেখ মুজিবকে স্বাধীনতার ঘোষক আখ্যা
সংগৃহীত ছবি

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় যুবদল নেতা রোকনুজ্জামান রাজিব শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করায় চরম সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ভাঙ্গুড়া পৌর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। এর আগে তিনি ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

গতকাল বুধবার (২৬ মার্চ) ওই পোস্টটি দেন তিনি।

তার এই পোস্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীরা ব্যাপক সমালোচনা করছেন।

আরো পড়ুন
২৬ মার্চ গৌরব ও অনুপ্রেরণার চিরন্তন উৎস : সেনাপ্রধান

২৬ মার্চ গৌরব ও অনুপ্রেরণার চিরন্তন উৎস : সেনাপ্রধান

 

জানা যায়, রাজিব পেশায় একজন পিকআপ চালক। তবে তিনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে রাজনীতিতেই বেশি সময় দেন। বিভিন্ন তদবির ও সালিশ বাণিজ্য করে অর্থ আয় করেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

এসব ঘটনায় তাকে নিয়ে রয়েছে নানা সমালোচনা।

বুধবার রাতে রাজিব ফেসবুকে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত একটি পোস্টারের ছবি পোস্ট করেন। এতে লেখা, ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গভীর রাতে অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।’ তার ওই ফেসবুক পোস্টে অনেকেই তাকে ‘অল্প বিদ্যা ভয়ংকর’ বলে মন্তব্য করেন।

ছবিটি পোস্টের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর রাজীব সমালোচনার মুখে ওই পোস্টটি ফেসবুক থেকে সরিয়ে নেন।

রোকনুজ্জামান রাজিব বলেন, ‘কম্পিউটার ম্যান পোস্টারটি লিখতে ভুল করেছে। এ বিষয়ে আমি বিব্রত বোধ করছি। তবে বিষয়টি জানার পরে ফেসবুক থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।’

আরো পড়ুন
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উপজেলা শাখার আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের পদত্যাগ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উপজেলা শাখার আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের পদত্যাগ

 

ভাঙ্গুড়া পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য

যমুনা সেতুতে ৩৩ হাজার যান পারাপার, প্রায় ৩ কোটি টাকা টোল আদায়

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
শেয়ার
যমুনা সেতুতে ৩৩ হাজার যান পারাপার, প্রায় ৩ কোটি টাকা টোল আদায়
সংগৃহীত ছবি

ঈদুল ফিতর আসন্ন। ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোনো যানজট নেই।

এদিকে বাড়ছে যমুনা সেতুতে টোল আদায়ের পরিমাণ। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু থেকে দুই কোটি ৭৮ লাখ ৯৯ হাজার ৯০০ টাকা টোল আদায় করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ। এর বিপরীত যানবাহন পারাপার হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৬৬ টি।

বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) সকালে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল এ তথ্য জানান।

সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩ হাজার ৭৬৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ১৮ হাজার ২৩৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫০টাকা। অপরদিকে ঢাকাগামী ১৫ হাজার ৫২৭ টি যানবাহন পারাপার হয়েছে।

এর বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ ৫১ হাজার ৪৫০ টাকা।

সেতু কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, মঙ্গলবারের চেয়ে বুধবার যমুনা সেতু দিয়ে ৪ হাজার ৫৩৩টি যানবাহন বেশি পারাপার হয়েছে। গত ৩ দিনে সেতুর ওপর দিয়ে মোট ৮৭ হাজার ৯৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ৭ কোটি ৬২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল বলেন, 'মহাসড়কে যানজট নিরসনে যমুনা সেতু পূর্ব ও পশ্চিম উভয় অংশে ৯টি করে ১৮টি টোল বুথ স্থাপনসহ মোটরসাইকেলের জন্য ৪টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে।

মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও নেই যানজট। আশা করছি ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে।'

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, 'মহাসড়কে ৭ শতাধিক পুলিশ সদস্য দায়িত্বপালন করছেন। এরমধ্যে মোবাইল টিম ও মোটরসাইকেল টিম কাজ করছে। মহাসড়ককে চারটি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। মহাসড়কে যাতে কেও অতিরিক্ত ভাড়া নিতে না পারে সেদিকে নজরদারি রয়েছে।'

উল্লেখ্য, রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সড়ক পথে উত্তরবঙ্গের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম এ মহাসড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইলের অংশ ৬৫ কিলোমিটার। ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের যানবাহনের ভিড়ে এই মহাসড়কে সৃষ্টি হয় যানজট। 
প্রতিবছর ঈদে এ মহাসড়ক দিয়ে উত্তরবঙ্গের লাখ লাখ মানুষ যাতায়াত করেন। যা অন্যান্য সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি হয়। এ সড়ক দিয়ে  উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৩ জেলার যানবাহন চলাচল করে। গড়ে প্রতিদিন ১৮/২০ হাজার যানবাহন সেতু দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু ঈদে এর সংখ্যা ২ থেকে ৩ গুণ বেড়ে যায়।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ