রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই গণহত্যার বিচারে রাজনৈতিক দলগুলোর নানামুখী অবস্থান থাকলেও বরিশালে নির্বাচনের দৃশ্যমান প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি। ঈদ ঘিরে বরিশাল বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা নিজ নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনমুখী তৎপরতা শুরু করেছেন। ঈদে গাড়িবহর নিয়ে বড় শোডাউন, রমজানে ইফতার মাহফিল এবং ঈদ উপহার দেওয়াসহ জনসম্পৃক্ত আরো নানা কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটের মাঠে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন তারা। ঈদে বিলবোর্ড, ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনের মাধ্যমে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি-জামায়াত ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
এক্ষেত্রে অবশ্য বিএনপি নেতারাই রয়েছেন এগিয়ে।
বরিশাল বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা ডিসেম্বর এর মধ্যে জাতীয় নির্বাচন চাচ্ছে। ৫ আগস্টের পর থেকেই নিজ নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা। আসন্ন ঈদকে ঘিরে বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা এলাকায় শক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছেন।
আরো পড়ুন
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা নিহত
বরিশাল-১ (গোরনদী-আগৈলঝড়া) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল। ঈদের আগে তিনি নিজের নিবাচনী এলাকায় অবস্থান নিয়ে সেখানে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়, অসচ্ছল মানুষের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করেন। সজল বলেন, দেশে এখন একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রয়োজন। অনির্বাচিত সরকার বেশিদিন ক্ষমতায় থাকলে দেশের আইন-শৃঙ্খলাসহ উন্নয়ন বিঘ্নিত হয়।
এ জন্য আমরা চাচ্ছি ডিসেম্বর এর মধ্যে জাতীয় নির্বাচন হোক। সে লক্ষ্যে কাজ করছি।
বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপারা) আসনে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সাথে ঈদ উদযাপন করেছেন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল।
বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) নির্বাচনী এলাকায় ঈদ উদযাপন করেছেন বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি স্থানীয়দের নিয়ে কয়েকটি ইফতার মাহফিল ও করেছেন।
বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনকে টার্গেট করে সেখানে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়, অসচ্ছল মানুষের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ, গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নেতৃত্বের সঙ্গে ইফতার মাহফিলের মতো কর্মসূচি পালন করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান। তিনি বলেন, ‘এলাকার সন্তান হিসেবে মানুষের সঙ্গে ঈদ ও রমজানের শুভেচ্ছা বিনিময় করছি, এলাকার মানুষরাও আমাকে নিজেদের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করেছেন।’
বরিশাল-৫ (সিটি করপোরেশন ও সদর) আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার পবিত্র ঈদুল ফিতর এর নামাজ শেষে বরিশাল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ জনসাধারণের সাথে মোলাকাত ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি এই আসনে দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশী। এ ছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার শিরিন ব্রাউন কম্পাউন্ডে রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ এর সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রত্যেকের সাথে ব্যক্তিগত খোঁজখবর নিয়ে তাদের আপ্যায়ন করেন। তিনিও দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশী। এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আ্যডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি তার নিজ বাসা ব্রাউন কম্পাউন্ড কুসমালয়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মী সহ সর্বস্তরের মানুষ এর সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
আরো পড়ুন
একটি সুন্দর নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চাই : ধর্ম উপদেষ্টা
বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান। তিনি নিজের নিবাচনী এলাকায় ঈদ উদযাপন করেছেন। এ সময় সাধারণ মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করে দোয়া চেয়েছেন।
গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর প্রথম রমজান ও ঈদে বরিশাল নগরী থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নানা কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গন সরব রেখেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বরিশালের রাজনীতির মাঠে অনুপস্থিত। এরই মধ্যে রমজানজুড়ে ইফতার মাহফিল, জনসংযোগ ও নানান রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলো দল দুটি।
বিএনপির জোরালো দাবি, আগামী ডিসেম্বরেই জাতীয় নির্বাচন হতে হবে। সেই হিসেব মাথায় রেখে দলটি এখন পুরোদমে মাঠ গোছাচ্ছে। নির্বাচন ডিসেম্বরেই অনুষ্ঠানের দাবিতে জনমত গঠনের কাজও করছে দলটি। এ উপলক্ষে সারা রমজানজুড়ে দলের নেতারা ও সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থীরা আয়োজন করছেন ইফতার মাহফিল, জনসংযোগ ও ঈদ উপহার বিতরণ কর্মসূচি।
এদিকে, জামায়াতে ইসলামী চায় বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। তবে বাস্তবে রমজান মাসজুড়ে দলের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় পুরোদমে ইফতার মাহফিল ও জনসংযোগ চালিয়েছেন। যদিও তারা সংস্কারের পর নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন, কিন্তু তাদের কার্যক্রমে নির্বাচনমুখী প্রস্তুতির স্পষ্ট আভাস মিলছে।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির ওয়ার্ড পর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত প্রায় সব নেতাই আত্মগোপনে রয়েছেন। কেউ কেউ রয়েছেন কারাগারে। একের পর এক মামলায় পর্যুদস্ত নেতাকর্মীরা এখন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা তো ভাবতেই পারছেন না, বরং জীবন রক্ষাই তাদের প্রধান উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঈদ উপলক্ষেও দলটির কোনো পর্যায়ে কোনো প্রস্তুতি বা সাড়া চোখে পড়েনি।
ঈদ ছুটিতে সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ছুটে যাচ্ছেন। ঈদের আনন্দঘন সময়কে কাজে লাগিয়ে বেশিরভাগ প্রার্থী জনগণের কাছাকাছি যাচ্ছেন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। আওয়ামী লীগবিহীন রাজনৈতিক মাঠে অন্যতম প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচন-কেন্দ্রিক কার্যক্রমে এলাকামুখী হওয়ায়, ঈদকে ঘিরে রাজনীতি চাঙা হয়ে উঠেছে।