কুমিল্লার হোমনায় তিতাস নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ মাহবুব (৯) ও মারিয়া আক্তার (১১) নামের দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে হোমনা পৌরসভার শ্রীমদ্দি গাঙ্গুলবাড়ী এলাকার তিতাস নদীর ঘাটের পাশে থাকা ড্রেজার ও ভাল্কহেডের পাশে কচুরিপানার নিচ থেকে নিখোঁজ মারিয়ার লাশ ও একই গ্রামের চরেরগাঁও এলাকা থেকে মাহবুবের লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলো নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকার আলী নেওয়াজের মেয়ে মারিয়া আক্তার (১১) এবং গাজীপুর টঙ্গীর এলাকার মো. বিল্লাল হোসেনের ছেলে মাহবুব হোসেন (৯)।
মাহবুব গত শনিবার হোমনার শ্রীমদ্দী গ্রামে তার নানার বাড়ি ও মারিয়া আক্তার ঈদের দুই দিন পর ফুফাতো বোনের বাড়িতে বেড়াতে আসে।
স্থানীয়রা বাসিন্দারা জানায়, মাহবুব শনিবার দিন নানার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে আত্মীয়-স্বজনরা ভেবেছিল মাহবুব হারিয়ে গেছে। সকালে মাটি কাটার লোক খালি নৌকা নিয়ে মাটি আনতে গেলে কচুরিপানার নিচে মাহবুবকে দেখতে পেয়ে তার মরদেহ ওপরে তোলে।
অন্যদিকে একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মারিয়া আক্তারের মরদেহ তিতাস নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।
মারিয়ার পরিবার নারায়ণগঞ্জে থাকে। তার মরদেহ উদ্ধারের পর হোমনা উপজেলার হুজুরকান্দিতে নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবার দুপুরে মারিরায় ফুফাত বোনের তিতাস নদীতে সঙ্গে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয়। পরে বিকেলে চাঁদপুরের ডুবুরিদল উদ্ধার অভিযান করেও মারিয়াকে উদ্ধার করা যায়নি।
হোমনা ফায়ার সার্ভিসের হাবিলদার দিদারুল আলম বলেন, ‘শনিবার খবর পেয়ে আমরা নদীতে খোঁজাখুঁজি করেছি। এরপর চাঁদপুর থেকে ডুবুরিদল এনে মারিয়াকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়েছে। রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ডুবুরিদল চেষ্টা করে পায়নি। আমরা আশপাশে ৩ কিলোমিটার এলাকায় নৌকা দিয়ে খোঁজাখুঁজি করি, এক পর্যায়ে ঘাটের পাশে থাকা ড্রেজার ও ভাল্কহেডের এখানে কচুরিপানা পাশে মারিয়ার মরদেহ পাওয়া যায়।’
মাটি কাটার নৌকার আহম্মেদ নবী বলেন, ‘সকালে আমরা খালি নৌকা নিয়ে মাটি ভরাট করতে যাচ্ছিলাম।
চরেরগাঁওয়ের কাছে গেলে সকাল পৌনে ৭টার দিকে লোকজন মাহবুবের মরদেহ দেখতে পেয়ে আমাদের জানালে আমরা গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করি।’
হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, ‘শনিবার দুই শিশু নিখোঁজ খবর পেয়ে আমাদের পুলিশ সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে গিয়েছিলেন। পরিবারে কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। শিশু দুটির মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’