ইট পাথরের শহুরে জীবন থেকে একটু প্রশান্তির ছোঁয়া পেতে ঘর থেকে বেড়িয়েছেন নানা বয়সী মানুষ। সঙ্গে, বাবা-মা আর স্বজনদের হাত ধরে ঘুরছে শিশু কিশোররাও। নির্মলবাতাসে উচ্ছ্বলিত মানুষ ভিড় করছে রংপুর নগরী এবং নগরীর বাইরের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে।
তবে, ঈদ আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।
প্রতিটি বিনোদন কেন্দ্র ও দর্শনীয় স্থানগুলোতে সাদা পেশাকে কড়া তৎপরতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
আরো পড়ুন
একসঙ্গে দেখা গেল পলাতক সাবেক ৪ মন্ত্রীকে
সরেজমিনে, রংপুর নগরীর কালেক্টরেট সুরভী উদ্যান, জেলা পুলিশ শিশু পার্ক, চিখলি ওয়াটার পার্ক, চিড়িয়াখানা, সেনাপ্রয়াস, তাজহাট জমিদার বাড়ি, কারমাইকেল কলেজ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পায়রাবন্ধ বেগম রোকেয়ার বাড়িতে সব বয়সী মানুষের ভিড়। লোক সমাগম আছে তিস্তা মহিপুর সড়ক সেতু, কাউনিয়া সড়ক সেতু, ভিন্ন জগৎ, আলী বাবা থিম পার্ক, আনন্দনগরেও। নানা পোষাকে সেজে শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ এসেছে ঘুরতে।
কেউ এসেছেন অটোরিকশায়, কেউ এসেছেন মোটরসাইকেলে, কেউ এসেছেন প্রাইভেটকার ও বাস ও মাইক্রোবাসে। স্বাচ্ছন্দ্যে মানুষ ঘুরছে ফিরছে, কেউ কেউ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গল্প আড্ডায় মেতে উঠছেন।
রংপুর চিড়িয়াখানার ভেতরে প্রবেশের পর এক খাঁচা থেকে আরেক খাঁচায় হেঁটে দর্শনার্থীরা বিভিন্ন পশু-পাখি দেখছেন। বড়রা তাদের শিশুসন্তানকে বিভিন্ন পশুপাখির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন।
বানরের ভেংচি কাটা আর লাফালাফি দেখতে বানরের খাঁচার সামনেও ছিল দর্শনার্থীর ভিড়। এছাড়া কুমির, ঘড়িয়াল, জলহস্তি, ঘোড়া, হনুমান, গাধা, ভাল্লুক, হরিণ, ময়ূর, উটপাখিসহ চিড়িয়াখানার সবগুলো খাঁচার সামনেই ছিল জটলা।
নগরীর উত্তর গুড়াতি পাড়া থেকে পরিবার নিয়ে এসেছেন রায়হান। তিনি বলেন, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক ব্যবসা করায় পরিবারকে খুব একটা সময় দেওয়া হয় না কিন্তু এবার ঈদে পরিবার নিয়ে বেড়িয়েছি, বেশ ভালো সময় কেটেছে, বিশেষ করে বাচ্ছারা খুব মজা করেছে। এটাই তৃপ্তি।
নগরীর মুন্সিপাড়া থেকে ছোট শিশুদের নিয়ে ঘুরতে আসা সানজিদা বেগম জানান, একমাস রোজা থাকার পর ঈদ। আমার দুই বাচ্চাই পুরো মাসটা রোজা রেখেছে। সুন্দর ভাবে রোজা এবং ঈদ শেষ করতে পেরে ভালো লাগছে। তাই পরিবারের সবাই মিলে ঘুরতে বেড়িয়েছি। কারণ ঈদ বা বিশেষ দিন ছাড়া বাহিরে ঘোরাফেরা আমাদেরও সম্ভব হয় না। কোন সমস্যা নেই খুব ভালো লাগলো।
সিদরাতুল মুনতাহা নামে ৩য় শ্রেণি পড়ুয়া এক শিশু বলে, ‘আমি বাবা-মায়ের সঙ্গে চিড়িয়াখানায় বাঘ, হরিণ, বানর ও ভালুক দেখতে এসেছি। সবার সাথে ঘুরতে আসলে ভালো লাগে। তাই আসছি, মজা করছি।’
রংপুর জেলা পুলিশ সুপার আবু সাইম জানান, জেলার সরকারি-বেসরকারি সকল বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা রয়েছে। সেখানে আমাদের লোকজন কাজ করছে, মানুষ ভালোভাবে উৎসব করতে পারছে এটাই ভালো খবর।
রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল বলেন, ঈদে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিতে রেজুলেশন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ঘুরতে আসা জেলা এবং বাহিরের কেউ নিরাপত্তার অভাব ফিল না করে। সে জন্য সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন।
আরো পড়ুন
ঈদের রাতে শিশুকে ধর্ষণ, অভিযুক্তের বাড়ি ভাঙচুর
এ বিষয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী জানান, রংপুর নগরীর প্রতিটি বিনোদন কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি বিনোদনকেন্দ্রে পুরুষ পুলিশের পাশাপাশি মহিলা পুলিশ সদস্যদের রাখা হয়েছে। কোথায় কোন সমস্যা হবে না এমন আশা করছি আমরা।