টানা ছুটিতে রাজধানীতে যেভাবে চলছে চিকিৎসাসেবা

ইউএনবি
ইউএনবি
শেয়ার
টানা ছুটিতে রাজধানীতে যেভাবে চলছে চিকিৎসাসেবা
প্রতীকী ছবি

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ৯ দিন ছুটিতে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত ও ব্যাংক বন্ধ থাকলেও হাসপাতাল বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। ঈদের সময় হাসপাতালগুলোতে রোগীরা আদৌ কাঙ্ক্ষিত সেবা পান কিনা এবং কোন প্রক্রিয়ায় এ সেবা দেওয়া হয়—সেসব নিয়ে অনেকের মধ্যে কৌতূহল জাগে।

ঈদের ছুটিতে সরেজমিনে রাজধানীর বেশ কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি হাসপাতালেই পর্যাপ্ত রোগী আছে। যদিও ছুটির এ সময়ে অধ্যাপক পর্যায়ের চিকিৎসকদের পদচারণা কম; তবে রোগীদের ভাষ্যমতে, মেডিকেল অফিসার ও জুনিয়র ডাক্তাররা তাদের খোঁজ খবর রাখছেন; আছেন নার্সরাও।

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ঈদের দিন প্রায় ৫০০’র মতো রোগী আছে হাসপাতালটিতে। এদের মধ্যে অনেকের শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দেওয়া হয়নি ছাড়পত্র। ঈদের সময় জ্যেষ্ঠ ডাক্তাররা আসবেন কিনা বা এই সময়ে কতটুকু চিকিৎসাবা পাবেন—এ নিয়ে চিন্তার ভাঁজ রোগীদের কপালে।

কিডনিতে পাথর নিয়ে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সোহরাওয়ার্দীতে ভর্তি আছেন হবিগঞ্জ জেলার আহাদ মিয়া (৬০)।

পেশায় দিনমজুর আহাদ বলেন, ‘ডাক্তার কিডনি ওয়াশ করছে। তবে এখনও কিছু পাথর আছে। ডাক্তারই বলছে ঈদ এখানে করতে। এখন পর্যন্ত চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি হয় নাই।

ঈদের এ কয়দিনের ছুটিতে ডাক্তার রেগুলার আসছে। দেখি সামনের দিনগুলাতে কী হয়!’

বরগুনা থেকে মূত্রথলিতে টিউমার নিয়ে ২০ দিন ধরে হাসপাতালে আছেন সফেদ হাওলাদার (৭২)। এবারের ঈদ তাকে হাসপাতালেই কাটাতে হয়েছে। চিকিৎসকরা আগামী ৫ এপ্রিল ঈদের ছুটির মধ্যেই তার অস্ত্রোপচার করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান সফেদের মেয়ে পারভীন আক্তার (৪০)।

তিনি বলেন, ‘ঈদের এ কয়দিনের ছুটিতেও ভালো সেবা পাচ্ছি।

তবে বড় ডাক্তার না থাকায় ঈদের পর অপারেশন হবে। আগের থেকে আব্বার অবস্থা এখন অনেকটাই ভালো।’

ঈদের সময় ডাক্তার-নার্স কম থাকা নিয়ে হাসপাতালটির সিনিয়র স্টাফ নার্স সাধনা হালদার বলেন, ‘অন্যান্য সময়ের থেকে ঈদের ছুটির এ সময়ে হাসপাতালে ডাক্তার-নার্স স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা কম থাকে। তবে এটা ভাবার কারণ নেই যে, হাসপাতাল নার্স-ডাক্তারশূন্য থাকবে। যেকোনো রোগীর জরুরি অবস্থা মোকাবিলা করার জন্য সার্বক্ষণিক একজন ডাক্তার মজুত থাকেন। ঈদের নামাজের সময় বা দুপুরের দিকে অন্য ধর্মাবলম্বী ডাক্তার-নার্সরা ডিউটি করেন। এতে করে সংকটময় কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় না।’

হাসপাতালটির আরেক সিনিয়র স্টাফ নার্স বিউটি গোমেজ বলেন, ‘ঈদের আগে অনেকেই নিজ থেকে রিলিজ চায়। তবে সিরিয়াস রোগীদের রিলিজ দেওয়ার সুযোগ নেই। ওষুধ দেওয়া, ড্রেসিং করানো, ইনজেকশন পুশের মতো কাজ রোগী বাসায় নিজে করতে পারবে না, আবার এর জন্য তার সিনিয়র ডাক্তারদেরও প্রয়োজন নেই। হাসপাতালে থাকলে প্রাথমিক সেবাগুলো নার্স ও মেডিকেল অফিসারই নিশ্চিত করতে পারেন।’

রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ঘুরেও দেখা যায় একই দৃশ্য। ঈদের ছুটিতে জরুরি বিভাগে ডাক্তারদের তোড়জোড় থাকলেও ভর্তি থাকা রোগীদের ওয়ার্ডে সিনিয়র ডাক্তারদের আনাগোনা অনেকটাই কম।

হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্ত্রী শিল্পী খাতুন (৪৫) বলেন, ‘ডাক্তারদের সেবায় কোনো গাফলতি নেই। কিন্তু শুনছি ঈদে বড় ডাক্তাররা আসবেন না। তাদের দেখলে মনে জোর পাই। তারা না আসলে একটু ভয় ভয় লাগে।’

গোপালগঞ্জ থেকে আসা আরেক রোগীর আত্মীয় মিশকাত (২৮) বলেন, ‘ছুটির মধ্যে সেবা পাচ্ছি, কিন্তু যা পাচ্ছি সেটি আসলে আশানূরূপ নয়। তবে শুনেছি যেকোনো প্রাইভেট হাসপাতালের চেয়ে ঈদের ছুটিতে সরকারি হাসপাতালে সেবা ভালো হয়।’

জরুরি বিভাগে প্রয়োজনীয়সংখ্যক চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করাসহ জরুরি বিভাগ ও লেবার রুম, ইমার্জেন্সি ওটি (জরুরি অস্ত্রোপচারকক্ষ) ও ল্যাব সার্বক্ষণিক চালু রাখতে দেশের হাসপাতালগুলোকে ১৬ দফা নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাসপাতালে পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করতে ঈদের আগে ও পরে সমন্বয় করে ছুটি নির্ধারণ করা হবে।

ঈদের তিন দিন বন্ধ সরকারি হাসপাতালের আউটডোর সেবা। এ ব্যাপারে ছুটি শুরুর আগে কথা হয় বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুল হকের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘ঈদের আগের দিন, ঈদের দিন ও পরদিন আউটডোর সেবা বন্ধ থাকবে। তবে এর মানেই এই না রোগী আসলে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে। আউটডোরে রোগী আসলে তাদের জরুরি বিভাগের মাধ্যমে সেবা নিশ্চিত করা হয়। রোস্টার অনুযায়ী জরুরি বিভাগ চলে।’

‘চেষ্টা থাকে ঈদের দিনটা অন্য ধর্মাবলম্বী ডাক্তারদের দিয়ে জরুরি বিভাগ চালানোর। তবে ঈদের ছুটি হোক বা অন্যকিছু, রোগীদের সেবার ক্ষেত্রে মিস ম্যানেজমেন্ট (অব্যবস্থাপনা) এড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে কর্তৃপক্ষের।’

তবে সরকারি হাসপাতালের চেয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে সেবার মান ভালো দাবি করা হলেও ঈদের দিন প্রাইভেট হাসপাতালে ল্যাব কার্যক্রম প্রায়ই বন্ধ পাওয়া যায়—এমন অভিযোগ এসেছে রোগীদের কাছ থেকে।

ভুক্তভোগী এমন একজন রোগী সাব্বির হোসেন (৩৭) বলেন, ‘এক বছর আগে ঈদের দিন অসুস্থ হয়ে পড়ি। সকালে ডাক্তারের পরমার্শ অনুযায়ী ইমার্জেন্সি টেস্টের জন্য কম করে হলেও পাঁচ-ছয়টা হাসপাতাল ও ডায়গনস্টিক সেন্টারের দৌঁড়াদৌঁড়ি করতে হয়েছে। পরে আরেক ডাক্তার আত্মীয়ের মাধ্যমে তদবির করে টেস্ট করানো গেছে।’

প্রাইভেট হাসপাতালে ঈদের আগে রোগীদের একরকম জোরপূর্বক রিলিজ দিয়ে দেওয়া হয়, সিনিয়র ডাক্তাররা আসেন না, নার্সদের সেবা পাওয়া যায় না—এমন সব অভিযোগের ব্যাপারে রাজধানীর একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ডা. খান রাওয়াত বলেন, ‘ঈদের আগে রোগীরা নিজেরাই বাসায় ফেরার জন্য উতলা হয়ে ওঠেন। অনেক সময় ডাক্তারের সাজেশন না মেনেই তারা বাসায় ফিরতে চান। তাদের মনের অবস্থাটাও আমরা বুঝি। কে না চায় নিজ পরিবারের সঙ্গে শান্তিমতো ঈদ করতে! তাই আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে ঈদের আগে খুব সিরিয়াস কিছু না হলে যেসব রোগী রিলিজ চাইছেন, তাদের বাড়ি যেতে দেওয়া।’

তিনি বলেন, ‘অনেকেই মনে করেন, ঈদের দিনে ডাক্তার-নার্স ছাড়া হাসপাতালগুলো বিরানভূমিতে পরিণত হয়। আসলে মোটেও এমন কিছু নয়। নামাজের পর, আবার দুপুরের পর সিনিয়র ডাক্তারা হাসপাতালে এসে ঘুরে যান; রোগীদের খোঁজখবর নেন। সিরিয়াস কিছু হলে মেডিকেল অফিসাররা যখন তখন তাদের (সিনিয়র ডাক্তার) সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। তাই এটা ভাবার কারণ নেই যে, ঈদ বা ছুটি বলে রোগীদের চিকিৎসাসেবার বিন্দুমাত্র গাফলতি হয়।’

এদিকে, ঈদের দিন হাসপাতালগুলোতে রোগীদের জন্য বিশেষ অ্যাপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়।

রাজধানীর বেশ কয়েকটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সকালে রোগীদের সেমাই খাওয়ানো হয়েছে; সঙ্গে ছিল পাউরুটি, কলা, দুধ, ডিম ও বিস্কুট। দুপুরে পোলাওয়ের সঙ্গে মুরগির রোস্ট, রেজালা, ডিম কোরমা ও কোক দেওয়া হয়। অনেক হাসপাতালে রোগীদের খাওয়া শেষে আপেল কিংবা কমলাও দেওয়া হয়। আর রাতে নিয়মানুযায়ী থাকে ভাত, ডাল ও সবজি।

তবে আপ্যায়ন যেমনই হোক, হাসপাতালে ঈদ কাটানো একেবারেই কাম্য নয় রোগীদের। আর বাধ্য হয়ে যদি হাসপাতালে থাকতেই হয়, তাহলে পূর্ণাঙ্গ সেবার প্রত্যাশা রোগী ও তাদের আত্মীয়দের।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

গুলশানের ভাড়া বাসা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
গুলশানের ভাড়া বাসা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর গুলশানের কালাচাঁদপুরের এলাকার ভাড়া বাসা থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) সকাল সোয়া ৯টার দিকে গুলশান কালাচাঁদপুরের নাজিরের ম্যাচের চতুর্থ তলার কক্ষ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। মৃতের নাম নিলয় গায়েন (২৮)।

সে পেশায় ফুডপান্ডার রাইডার ছিল।

তিনি গোপালগঞ্জ জেলার মোকসেদপুর উপজেলার চাওচা গ্রামের মৃত নিখিল গায়েনের ছেলে। বর্তমানে তিনি গুলশান এলাকার কালাচাঁদপুরের ক ৩৮/৩ নাজিরের ম্যাচে থাকতেন।

সত্যতা নিশ্চিত করে গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজু আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে গুলশান কালাচাঁদপুরের ৩৮/৩ নাজিরের ম্যাচের চতুর্থ তলার কক্ষ থেকে সিলিং ফ্যানের সাথে গামছা ও চাদরের অংশ দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। 

এসআই আরো বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এছাড়া অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাবে। 

মন্তব্য

১৮ হাজার টাকার প্রতিদিনের সুদ ৬০০, দিনমজুরের আত্মহত্যার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
১৮ হাজার টাকার প্রতিদিনের সুদ ৬০০, দিনমজুরের আত্মহত্যার অভিযোগ
প্রতীকী ছবি

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে পাওনা টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করায় বিষ পানে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে দিন মজুরের বিরুদ্ধে। মৃতের নাম আল-আমিন খান (২৪)।  তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন। ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার চাদপুর গ্রামের রইজ খানের ছেলে আল-আমিন।

বর্তমানে মেরাদিয়া মধ্যপাড়া স্ত্রী ও পাঁচ মাসের কন্যা সন্তান নিয়ে থাকতেন। 

সত্যতা নিশ্চিত করে খিলগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অনুপ বিশ্বাস বলেন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউর সামনে থেকে গত বুধবার দিবাগত রাত (৩ এপ্রিল) দেড়টার দিকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। 

আরো পড়ুন
ভারতের বিপক্ষে ড্র করে সুখবর পেয়েছেন হামজারা, শীর্ষে আর্জেন্টিনাই

ভারতের বিপক্ষে ড্র করে সুখবর পেয়েছেন হামজারা, শীর্ষে আর্জেন্টিনাই

 

তিনি বলেন,  প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে,  আল-আমিন খান কিছু টাকা ঋণ নিয়েছিলেন।

পাওনাদার ওই টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করায় গত ২১ মার্চ দিবাগত রাতে বিষ জাতীয় পদার্থ পান করেন। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে সেখান থেকে আইসিইউর জন্য মালিবাগের একটি হাসপাতাল নিয়ে রাখা হয়। সেখান থেকে সর্ব শেষ মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। 

মৃতের বাবা রইজ খান বলেন, আমি যতটুকু শুনেছি, আমার ছেলে আল-আমিন তার বর্তমান বসবাসরত এলাকার এক ওষুধ ফামের্সীর দোকানীর কাছ থেকে সুদে ১৮ হাজার নিয়ে ছিল। ওই টাকার মধ্যে তিনি নিজে জন্য ১০ হাজার টাকা, আরেকজনের জন্য ৮ হাজার নিয়েছিল। যার বিনিময়ে প্রতিদিন ৬ শত টাকা করে সুদ দেয়ার কথা ছিল।

এরই মধ্যে যে ছেলে ৮ হাজার টাকা নিয়েছিল, সে পালিয়ে যায়। ওই সব টাকার জন্য পাওনাদার তাকে চাপ প্রয়োগ করায় তিনি বিষ পান করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

আরো পড়ুন
ভারতের বিপক্ষে ড্র করে সুখবর পেয়েছেন হামজারা, শীর্ষে আর্জেন্টিনাই

ভারতের বিপক্ষে ড্র করে সুখবর পেয়েছেন হামজারা, শীর্ষে আর্জেন্টিনাই

 

মৃতের বাবা রইজ আরও বলেন, ছেলে অসুস্থ থাকা অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায়  দেড় লাখ টাকার বেশি খরচ হয়। যা আমার পক্ষে দেয়া সম্ভব নয়। পরে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ধার-দেনা করে টাকা নিয়ে এসে পরিশোধ করতে হয়েছে। দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে আল-আমিন ছিল ছোট।

মন্তব্য

ধলেশ্বরী নদীতে সেনা অভিযান : অস্ত্রসহ ডেঞ্জার গ্যাংয়ের ১৬ জন আটক

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
ধলেশ্বরী নদীতে সেনা অভিযান : অস্ত্রসহ ডেঞ্জার গ্যাংয়ের ১৬ জন আটক
সংগৃহীত ছবি

ধলেশ্বরী নদীর কেরানীগঞ্জের তুলসীখালী ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডেঞ্জার গ্যাংয়ের ১৬ জনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে সেনাবাহিনী। গতকাল বুধবার তাদের আটক করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কেরানীগঞ্জের তুলসীখালী ব্রিজ এলাকায় সেনাবাহিনীর টহল দল একটি কিশোর গ্যাংয়ের ১৬ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। ওই সময়ে এই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা নদীতে নৌকার ওপর উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে নাচানাচি করছিল।

নৌকাটিকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সার্চ করে সেনাবাহিনী। পরে নৌকা থেকে ১৪ জনকে আটক ও  আটটি রামদা, সাতটি কুড়াল উদ্ধার করা হয়।

আটককৃত সবাই কিশোর গ্যাং 'ডেঞ্জার গ্যাংয়ের' সদস্য। এদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গ্যাংয়ের আরো দুই জনকে আটক করে সবাইকে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর টহল দল পালিয়ে যাওয়া সদস্যদের ধরতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী কর্তৃক এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

রামপুরার সেই ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনই গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
রামপুরার সেই ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনই গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর রামপুরায় যৌন হয়রানি ঘটনার আলোচিত প্রধান অভিযুক্ত সোয়েব রহমান জিশানসহ (২৫) তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৩। আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সনদ বড়ুয়া।

ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৩। গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হলেন—মো. রাইসুল ইসলাম (২১) ও মো. কাউসার হোসেন (২১)।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল বুধবার (২ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর রামপুরা এলাকায় যৌন হয়রানি সংক্রান্ত একটি ঘটনা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হলে তা ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি করে। বিষয়টি র‍্যাব-৩ এর নজরে আসলে তাৎক্ষণিকভাবে গুরুত্ব সহকারে র‍্যাব-৩ ছায়াতদন্ত শুরু হয়। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগরীর রামপুরা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) একটি মামলা দায়ের করা হয়।

মামলায় উল্লেখিত এজাহার নামীয় ও অজ্ঞাতনামা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে র‍্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখা ও র‍্যাব-৩ এর একাধিক গোয়েন্দা ও অপারেশনাল টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করে।

 

আরো জানানো হয়, গোয়েন্দা সূত্র হতে প্রাপ্ত তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ওই মামলার প্রধান অভিযুক্ত সোয়েব রহমান জিশানকে (২৫) গভীর রাতে রাজধানীর রামপুরা থানাধীন মেরাদিয়া এলাকা হতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর রমনার বেইলি রোড এলাকা থেকে মো. রাইসুল ইসলাম এবং শ্যামপুরের গেন্ডারিয়া থেকে মো. কাউসার হোসেনকে (২১) সকালে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আসামিদের রামপুরা থানায় আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

ওই নারী সাংবাদিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন।

সেখানে তিনি বলেন, আমার নিজের বাসার সামনেই নিরাপদ নই! আমাকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় আমার ভাইকে মারধর করা হলো, আমাকেও লাঞ্ছিত করা হলো।

ওই পোস্টে তিনি ঘটনার বর্ননা দেন। একই সঙ্গে সাধারণ নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ