সমুদ্রসৈকতের নাম আসলে প্রথমে আসে কক্সবাজারের নাম। যেকোনো সিজনে ঘুরতে যাওয়ার জন্য উপযোগী এই জেলা। ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত ছাড়া এই জেলায় ঘুরে দেখার মতো আরো অনেক কিছু রয়েছে। সৈকতের নীল জলরাশি আর শোঁ শোঁ গর্জন শোনার পাশাপাশি এসব পর্যটন স্পটে গিয়ে মুগ্ধ হন পর্যটকরা।
সমুদ্রসৈকত ছাড়া কক্সবাজারে আরো যা আছে, পর্ব-৩
মোহাইমিনুল ইসলাম

সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, একমাত্র কোরাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন, সোনাদিয়া দ্বীপ, পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী, লাইট হাউসের দ্বীপ কুতুবদিয়া, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, রামু রাবার বাগান, রামু বৌদ্ধমন্দির, মাতারবাড়ী, শাহপরীর দ্বীপসহ আরো অনেক স্থান। সবগুলো পর্যটন স্পট দুই-তিন দিনে ঘুরে শেষ করা সম্ভব নয়। এই জন্য আমরা কয়েক পর্বে প্রতিবেদন নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের সামনে।
প্রথম পর্বে আপানারা জেনেছেন কক্সবাজারের প্রধান সৈকতগুলো ও মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন সৈকতগুলো সম্পর্কে।
- ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক
- নাইক্ষ্যংছড়ি লেক ও ঝুলন্ত ব্রিজ
- রামু রাবার বাগার
- রামু বৌদ্ধমন্দির
- মাছকারিয়া শাপলা বিল
ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক
কক্সবাজার জেলা সদর থেকে ৪৮ কিলোমিটার উত্তরে এবং চকরিয়া থানা থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ডুলাহাজারা সাফারি পার্কটি। মূলত হরিণ প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় কর্তৃক এই পার্কটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
.jpg)
ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক মূলত হরিণ প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখানে বাঘ, সিংহ, হাতি, ভালুক, গয়াল, কুমির, জলহস্তী, মায়া হরিণ, সম্বর হরিণ, চিত্রা হরিণ, প্যারা হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণী রয়েছে।
এখানে স্থাপিত একাধিক পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের মাধ্যমে নয়নাভিরাম সৌন্দর্য ও পশু পাখিদের বিচরণ নিরাপদে পর্যবেক্ষণ করা যায়। পার্কটিতে প্রবেশ মূল্য ধরা হয়েছে
টিকিট মূল্য
সাফারি পার্কে পর্যটকদের জন্য অনুসরণীয়
- পার্কে প্রবেশের পূর্বে টিকেট সংগ্রহ করুন।
- নির্ধারিত স্থানে গাড়ি পার্ক করুন।
- দর্শনার্থীদের জন্য নির্ধারিত পথে চলুন।
- যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলে ডাস্টবিন ব্যবহার করুন।
- পার্কের অভ্যন্তরে খাদ্যদ্রব্য নিয়ে প্রবেশ নিষেধ।
- পার্কের অভ্যন্তরে উচ্চস্বরে গান বাজনা ও হৈচৈ করবেন না।
.jpg)
- বন্য প্রাণীকে খাবার দেবেন না, ঢিল ছুড়বেন না এবং অন্য কোনো ভাবে বিরক্ত করবেন না।
- পার্কের অভ্যন্তরে ধূমপান,মদ ও মাদকদ্রব্য সেবন ও বহন নিষিদ্ধ।
- যেকোনো ধরনের ছুরি,আগ্নেয়াস্ত্র , দাহ্য পদার্থ বহন নিষিদ্ধ।
- লেকসমূহে গোসল করা/মাছ ধরা ইত্যাদি থেকে বিরত থাকুন।
- নির্ধারিত সময়ে পার্কে প্রবেশ করুন ও পার্ক ত্যাগ করুন।
- পার্ক কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলুন।
ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক কিভাবে যাবেন
ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথেই ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের দেখা মিলবে। এ ছাড়া আগেই যদি কক্সবাজার চলে যান তাহলে সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিংবা মাইক্রোবাস অথবা পাবলিক বাসে করে যেতে পারেন সাফারি পার্কে। কক্সবাজার শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার।
রামু রাবার বাগান
১৯৬০-৬১ সালে অনাবাদি জমি জরিপ করে গবেষণার মাধ্যমে রামুতে রাবার চাষাবাদ শুরু করা হয়। রামুর ঐতিহ্যবাহী এ রাবার বাগান দেশের অন্যতম পর্যটন স্থান হিসেবে দখল করে নিয়েছে। বর্তমানে বাগানের বিস্তৃতি ২ হাজার ৬৮২ একর। এর মধ্যে ১ হাজার ১৩০ একর এলাকা থেকে লিকুইড বা কষ সংগ্রহ করা হয়। রামুর রাবার বাগানে উৎপাদনক্ষম গাছ আছে প্রায় ৫৮ হাজার। এসব গাছ থেকে বছরে প্রায় আড়াই লাখ কেজি রাবার উৎপাদন হয়।
.jpg)
প্রতিদিন দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক রামু রাবার বাগান পরিদর্শন করতে আসেন। পাহাড় আর সমতলের অপূর্ব মিলনের দৃশ্য উপভোগ করে মুগ্ধ হন ভ্রমণপিপাসুরা। এখানে বাগান কর্তৃপক্ষের একটি দৃষ্টিনন্দন বিশ্রামাগার (রেস্ট হাউস) রয়েছে। রাবার গাছের সবুজ পাতাগুলো বাতাসে দুলছে। ঘন কালো এসব গাছের মাঝখান দিয়ে হেঁটে গেলে সবুজের সমারোহে হারিয়ে যাবে মন। গাছের ছায়ায় বসলে জুড়িয়ে যাবে শরীর ও প্রাণ। ছোট-বড় অসংখ্য পাহাড়, টিলা ও বিস্তৃত সমতল পাহাড়ের মধ্যে এ রাবার বাগানের চারপাশে তাকালেও দেখা মিলবে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এই বাগানের পেছনে রয়েছে কক্সবাজারে অবস্থিত বিকেএসপি।
কিভাবে যাবেন
ডুলাহাজারা থেকে কক্সবাজার আসার পথেই রাস্তার পাশে দেখা যাবে এই বাগান। ডুলাহাজারা থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২৮ কিলোমিটার এবং কক্সবাজার থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার। যারা রামুর এই রাবার বাগান দেখতে যাবেন, তারা চাইলে বৌদ্ধমন্দিরও দেখে আসতে পারেন।
.jpg)
রামু বৌদ্ধবিহার
ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ পুরাকীর্তিসমৃদ্ধ রামুতে রয়েছে অসংখ্য প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শন। এগুলোর মধ্যে রামু বৌদ্ধমন্দির, বিহার ও চৈত্য-জাদি উল্লেখযোগ্য। রামুতে প্রায় ৩৫টি বৌদ্ধ মন্দির বা ক্যাং ও জাদি রয়েছে। এগুলোর মধ্যে একটি হলো উত্তর মিঠাছড়ির পাহাড়চূড়ায় ১০০ ফুট লম্বা গৌতম বুদ্ধের সিংহশয্যা মূর্তি। এটি দেখে থমকে দাঁড়াতে হয়। স্থানীয়দের মতে, এটি এশিয়ার সবচেয়ে বড়।
.jpg)
রামু রাবার বাগান থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার অদূরে অবস্থিত এই মন্দির। মূল মহাসড়ক থেকে প্রায় ৭০০ মিটার। পায়ে হেঁটে বা ব্যাটারিচালিত রিকশায় করেও যেতে পারেন সেখানে।
নাইক্ষ্যংছড়ি লেক ও ঝুলন্ত ব্রিজ
নাইক্ষ্যংছড়ি লেক মূলত একটি প্রাকৃতিক জলাশয়। পাহাড়ের পাদদেশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব সমাহার। এখানে রয়েছে একটি ঝুলন্ত ব্রিজ। এর ওপর দিয়ে লেকের এপার-ওপার যাওয়া যায়। এই পর্যটন স্পটটি মূলত বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় অবস্থিত। কক্সবাজার শহর থেকে সরাসরি গাড়ি যোগে নাইক্ষ্যংছড়ি যাওয়া যায় এবং দিনে দিনেই ঘুরে আসা যায়।
.jpg)
কক্সবাজার থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটারের দূরে এই লেকটি অবস্থিত। উপজেলার প্রাণ কেন্দ্রে জেলা পরিষদ ডাক বাংলো ঘেঁষে উপবন লেকের অবস্থান। এটি একটি কৃত্রিম হ্রদ। এ স্থানটি ইকো ট্যুর ও পিকনিক স্পট হিসেবে বেশ পরিচিত। সবুজ আর নীলের মাঝে লেকের বুক চিরে দাঁড়িয়ে আছে ঝুলন্ত ব্রিজ। অসাধারণ সেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। একে আরো সৌন্দর্যমণ্ডিত করে তুলেছে দৃষ্টিনন্দন সারি সারি বিভিন্ন প্রজাতির সবুজ পাতার গাছ গুলো।
এই লেকে মাছ ধরা ও নৌকা ভ্রমণের সুবিধা রয়েছে। রয়েছে পাহাড়কন্যা নাইক্ষ্যংছড়ির মনোরম ছায়ানিবিড় সৌন্দর্য অবলোকনের সুযোগ। যা আনন্দের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এখানে বনের মাঝে গড়ে তোলা হয়েছে আকাশ বাড়ি, পিকনিকের জন্য ছোট্ট বেশ কয়েকটি ঘর। চারদিক সবুজ অরণ্য ঘেঁষে পাহাড় চূড়ার ওপর প্রাকৃতিক হ্রদের এমন দৃষ্টিনন্দন রূপ যে কোন মানুষকে মুগ্ধ করবে।
ঝুলন্ত ব্রিজটির পাশেই একটি ছোট্ট উপজাতীয় পল্লি আছে। এখানে আছে ছোট ছোট বিশ্রাম ঘর, আর উঁচু-নিচু পিচঢালা পথ। বিশেষ করে রাতের নাইক্ষ্যংছড়ি দেখতে দারুণ লাগে।
.jpg)
যাওয়ার উপায়
রামু বাইপাস থেকে সিএনজি বা ট্যাক্সি নিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়। তারপর ওখান থেকে রিকশায় বা হেঁটে উপবন পর্যটন লেকে পৌঁছানো যায়। এ ছাড়া কক্সবাজার থেকে চান্দের গাড়ি রিজার্ভ করেও এখানে যাওয়া যায়।
মাছকারিয়া শাপলা বিল
কক্সবাজারে লুকিয়ে থাকা প্রকৃতির আরেকটি অপরূপ সৌন্দর্য হচ্ছে উখিয়ার মাছকারিয়া বিল। লাল শাপলার জন্য বিখ্যাত এই বিল। সবুজ পাতায় ঢাকা পানিতে লাল শাপলার সমারোহ যেন এক অপার্থিব সৌন্দর্যের সৃষ্টি করেছে। ভোরের লাল সূর্যের আলোয় ঝিলমিল পানিতে ভাসমান শাপলা, অতিথি পাখির কলকাকলি সব মিলিয়ে যেন এক স্বপ্নের দেশ।
.jpg)
একসময় প্রচুর মাছ পাওয়া যেত এই বিলে। মাছরাঙাসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির খাদ্য সংস্থানের জায়গা ছিল বলেই এর নামকরণ হয় মাছকারিয়ার বিল। গত ২০২২ সাল থেকে এই বিল মাছকারিয়া শাপলা বিল নামে পরিচিতি পেয়েছে। সূর্যোদয় থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত ফুটে থাকে এই শাপলা। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ঝিমিয়ে পড়ে ফুলগুলো।
শাপলা বিলে ভ্রমণের উৎকৃষ্ট সময় হচ্ছে বর্ষাকাল। এই সময়ে এর অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। নৌকায় ভেসে শাপলার সাথে ছবি তোলা, প্রকৃতির রূপ উপভোগ করা - সব মিলিয়ে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। তবে কিছু দর্শনার্থীর অসচেতনতায় শাপলা ফুল ছিঁড়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে, যা চিন্তার বিষয়।
কখন যাবেন
শাপলা বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য বর্ষাকাল সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে বিলটি পূর্ণ থাকে এবং শাপলার সমারোহ দেখার জন্য এ সময়টাই সেরা। তবে অন্যান্য সময়েও বিলটিতে ভ্রমণ করা যায়, তবে শাপলার পরিমাণ কম থাকবে।
কিভাবে যাবেন মাছকারিয়া শাপলা বিল
কক্সবাজার শহর থেকে সিএনজি, অটোরিকশা অথবা বাসযোগে উখিয়া যেতে পারবেন। ঊখিয়া বাজার থেকে সহজেই মাছকারিয়া শাপলা বিলে যাওয়ার জন্য স্থানীয় পরিবহণ পাবেন।

কুদুম গুহা
কুদুম গুহা কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলায় অবস্থিত একটি প্রাচীন গুহা। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ আসার পথে হোয়াইক্যং পাহাড়ে কুদুম গুহার অবস্থান। এটি বাংলাদেশের একমাত্র বালু-মাটির গুহা। মনোরম পাহাড়ঘেরা পরিবেশ, পাখির ডাক আর বন্য প্রাণীর আনাগোনাময় এই গুহাটি পর্যটকদের কাছে দারুণ আকর্ষণীয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় এক হাজার ফুট ওপরে অবস্থিত এই কুদুম গুহার দৈর্ঘ্য ৫০০ ফুট এবং প্রবেশ মুখ ১২ ফুট উঁচু।
কুদুম গুহা স্থানীয়দের কাছে কুদুং নামে বেশি পরিচিত। অসংখ্য বাদুড়ের আশ্রয়স্থল হওয়ায় এটিকে বাদুড় গুহাও বলে। সাধারণত কুদুমগুহায় দুই প্রজাতির বাদুড়ের দেখা মিলে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির শামুক, মাকড়সাসহ জলচর জোঁকসহ নানা প্রাণীদের বসবাস এই গুহাতে। এই গুহার ভেতরে ঢুকলে কোথাও হিম শীতল পানির দেখা মিলবে আবার কোথাও কোমর আবার কোথাও গলা সমান পানি পাবেন। গুহার দেয়ালের গা বেয়ে চুঁইয়ে চুঁইয়ে অনবরত পানি ঝরে। গুহার যত ভেতরে প্রবেশ করবেন পানির গভীরতা তত বাড়তে থাকবে।

শুকনা মৌসুমেও কুদুম গুহার ভেতর কোমর সমান পানি থাকে। তবে বর্ষার সময় সেটা প্রায় গলা পরিমাণ হয়ে যায়। গুহার পানি বেশ ঠাণ্ডা তবে স্বচ্ছ। এই স্বচ্ছ মিষ্টি পানিতে রয়েছে বড় বড় টাকিজাতীয় মাছ, কৈ, কাকলি, তিন চোখা, ডানকিনে কালো রঙের চিংড়ি, নানা রকমের ব্যাঙ, গুগলি আর শামুক ইত্যাদি। কুদুম গুহার ভেতর এতটাই অন্ধকারাচ্ছন্ন যে জোরালো আলো ছাড়া এর ভেতরে কিছুই দেখা যায় না।
এই এলাকায় বিচরণ করে বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ বন্য হাতি। এলাকাটিতে মূলত চাকমা গোষ্ঠীর বসবাস। এই অঞ্চলটির সাথেই লাগানো মিয়ানমার সীমান্ত।
কুদুম গুহা যাওয়ার উপায়
কক্সবাজার কলাতলি বাস স্ট্যান্ড থেকে লোকাল সিএনজি তে করে অপূর্ব মেরিন ড্রাইভ এর রাস্তা ধরে চলে যান শামলাপুর বাজার। সেখান থেকে অটো ঠিক করে নিন কুদুম গুহা পর্যন্ত আপ-ডাউন। এক্ষেত্রে অটো ড্রাইভারই আপনাদের গাইড হিসেবে কাজ করবে। কুদুম গুহাটা টেকনাফ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বনের মধ্যে যেহেতু, সেক্ষেত্রে বনের শুরু পর্যন্ত গাড়ি যাবে। ওখানে পৌঁছে মাত্র ২০ মিনিট হেঁটেই গুহার মুখে পৌঁছে যাবেন। সেখান থেকে ফরেস্ট এর বিট অফিসার এর সাথে দেখা করতে হবে, তিনি আপনাদের সঙ্গে বন প্রহরী একজনকে দিয়ে দেবেন সেফটি সহ। দিনে দুপুরে এখনো সেখানে ডাকাতি হয়।
.jpg)
এ ছাড়া কক্সবাজার জেলায় দেখার মতো আরো অনেক কিছু রয়েছে। এসব জায়গায় ঘুরতে হলে স্থানীয়দের পরামর্শ নিয়ে ঘুরতে হবে। তাহলে সহজে এবং কম খরচে যাওয়া যাবে। সেই সঙ্গে কখন গেলে ভালো হবে সেটি সম্পর্কেও জানতে পারবেন।
আপনার চারপাশের পরিবেশকে সুন্দর রাখতে যেকোনো স্থানে ময়লা ফেলা থেকে দূরে থাকুন, প্লাস্টিক ব্যবহার এড়িয়ে চলুন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবেন।
সম্পর্কিত খবর

ঈদ ছুটিতে ঘুরে আসুন দেশের অন্যতম প্রাচীন দ্বীপ সন্দ্বীপ থেকে
অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত একটি দ্বীপ সন্দ্বীপ। এটি মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত। দেশের অত্যন্ত প্রাচীন এই দ্বীপ প্রায় ৫ লাখের মতো মানুষ বাস করে। দ্বীপটি ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৫ থেকে ১৫ কিলোমিটার প্রশস্ত।
দ্বীপের প্রত্যেকটি জায়গা দেখার মতো। ফসল ভরা মাঠ, সবুজ প্রকৃতি, হাট-বাজার সব কিছুই প্রকৃতির মতোই সুন্দর। দ্বীপের উত্তর থেকে দক্ষিণের সব প্রান্ত ঘুরে দেখতে পারেন অনায়াসে। দ্বীপের উত্তরে তাজমহলের আদলে নির্মিত শত বছরের পুরনো মরিয়ম বিবি সাহেবানী মসজিদ।
সন্দীপের দর্শনীয় স্থান
দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজুর রহমান জেটি
সন্দ্বীপ গুপ্তছড়া ঘাটে নির্মিত হয়েছে দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজুর রহমান জেটি। জেটির দুই পাশের ল্যাম্পপোস্টের আলোর সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হবেন। সাগরের গর্জনের শব্দের সঙ্গে সঙ্গে সাগরের শীতল হাওয়া আপনাকে এনে দিবে অনাবিল প্রশান্তি। এই জেটির দুই পাশে রয়েছে ম্যানগ্রোভ বন, যা জেটির সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
.jpg)
সমুদ্রসৈকত
সৈকতটি সন্দ্বীপের রহমতপুরে ইউনিয়নে অবস্থিত।
সবুজ চর
নাম শুনেই হয়তো অনেকটা অনুমান করতে পারছেন, কেন এই জাইগাটির নাম সবুজচর। স্থানীয় অনেকে এই স্থানটিকে গ্রিনল্যান্ডও বলে। এই স্থানটি সন্দ্বীপের দীঘাপাড় ইউনিয়নে অবস্থিত। প্রকৃতির শান্ত স্নিগ্ধরূপ, সবুজ ঘাসের গালিচায় মোড়ানো এই চরটি। যতদূর চোখ যাবে সবুজ আর সবুজের নয়নাভিরাম দৃশ্য আপনাকে উৎফুল্ল করবে।
.jpg)
এই চরে রয়েছে ম্যানগ্রোভ বন এবং এই বনে রয়েছে বক, চিল, মাছরাঙা, বালিহাঁস, ময়না, টিয়া, ঘুঘুসহ আরো অনেক রকম পাখি। শীতকালে অতিথি পাখির কলকাকলীতে মুখরিত হয়ে ওঠে এই গ্রীনল্যান্ডটি। ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল, সিএনজি দিয়ে সন্দ্বীপ কমপ্লেক্স থেকে ৩০-৪০ মিনিটে মধ্যে পৌঁছে যাবেন সবুজ চর।
ভ্রমণের সেরা সময়
সন্দ্বীপ ভ্রমণ করার জন্য যদিও শীতকালকে সবচেয়ে উপযুক্ত ধরা হয়, তবে আপনি চাই বর্ষা ছাড়া অন্য যেকোনো ঘুরতে যেত পারেন। এ সময় আপনি চাইলে ক্যাম্পিং করতে পারবেন সেখানে।
খাবারের সুবিধা
সন্দ্বীপের স্থানীয় খাবার হোটেলে সাধারণ সকল খাবার পাবেন এবং খাবারের মানও স্বাভাবিক মানের হবে। এ ছাড়া ইন্ডিয়ান, চাইনিজসহ অনেকে ধরনের খাবারের রেস্টুরেন্ট পাবেন। শিবের হাট এলাকায় গেলে পাবেন প্রায় ৮০ বছরের ঐতিহ্য বিনয় সাহার ছানা মিষ্টি।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে স্টীমারে সন্দ্বীপ যেতে চাইলে প্রথমেই যেতে হবে সদরঘাট। সপ্তাহে তিন দিন এই সার্ভিস থাকে, যা সকাল ৯ টায় সদরঘাট ছেড়ে যায় সন্দ্বীপের উদ্দেশে।
সড়ক পথে যেতে চাইলে
সড়ক পথে যেতে চাইলে দেশের যেকোনো প্রান্ত হতে চট্টগ্রামগামী বাসে করে চলে যান সীতাকুণ্ডের কুমিরা স্টিমার ঘাট। সেখান থেকে ভাড়ায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা করে চলে যাবেন স্টিমার ঘাটে। এই ঘাটের নাম কুমিরা-গুপ্তছরা ঘাট। এই প্রান্তে কুমিরা এবং অপর পাশে সন্দ্বীপের গুপ্তছরা।
কুমিরা থেকে সন্দ্বীপ যাওয়ার পথে পাবেন স্পীডবোট, ট্রলার এবং সি-ট্রাক। ট্রলার জোয়ারের সময় ছাড়ে, আর সি-ট্রাক বেলা বারোটার দিকে। তাই সবচেয়ে ভালো অপশন স্পীডবোট। তাই সেখানে পৌঁছেই কাউন্টারে গিয়ে নাম লিখিয়ে সিরিয়াল নিয়ে নেবেন। ওপারে পৌঁছে গুপ্তছরা ঘাট থেকে এনাম নাহার (মূল শহর) পর্যন্ত সিএনজি অটোরিকশা পাবেন। এ ছাড়া সরাসরি পশ্চিমপাড় ঘাট চলে গেলেও পারেন।
তবে সম্প্রতি চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ রুটি ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামের বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট থেকে গুপ্তছরা ফেরিঘাট পর্যন্ত যায় এই ফেরি। দিনে দুই আসা যাওয়া করে এই ফেরি। সময় লাগে প্রায় দেড় ঘণ্টার মতো। এ যাত্রায় ভাড়া পড়তে পারে ৮০-১০০টাকা। তবে ফেরির রুটটি নতুন হওয়ায় এখনো সময় নির্ধারণ করা হয়নি। তাই আপাতত অন্যপথে যাওয়াই ভালো হবে। তবে আশা করা যায় খুব শীঘ্রই পথটি এ পথে চলাচল করা মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে।
থাকার ব্যবস্থা
সন্দ্বীপ টাউন কমপ্লেক্সে পৌঁছে হোটেল নিয়ে নিন। এনাম নাহারে বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল আছে। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদের ডাকবাংলোতে থাকা যেতে পারে। এজন্য যোগাযোগ করতে হবে উপজেলা পরিষদে।
.jpg)
ক্যাম্পিং সুবিধা
যারা ক্যাম্পিং করতে চান তারা সন্দ্বীপ টাউন কমপ্লেক্সে পৌঁছে সরাসরি চলে যান দ্বীপের পশ্চিমে একেবারেই নদীর কিনার ঘেঁষে রহমতপুর বিচ। এক্ষেত্রে স্থানীয়দের সাহায্য নিতে পারেন। উপযুক্ত জায়গা নির্বাচন করে তাবু করে নিন। রাতের মিটিমিটি আলো, খোলা আকাশের নিচে নদীর কলকল ধ্বনি ঘন কুয়াশায় কয়েকটি রাত পার করে দিতে পারবেন একেবারেই অনায়াসে। এ ছাড়া কবির কফি হাউজ তো আছেই। যে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই কবির কফি হাউজের দেখা মিলবে।
সূত্র : আদার ব্যাপারী

ঈদের ছুটিতে বান্দরবানে পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়
নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান

ঈদের টানা ছুটিতে পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ হাজার পর্যটকের ভিড় জমেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভ্রমণপিপাসুদের ঢল নামায় হোটেল-মোটেলের বুকিং ১০০% পূরণ হয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভারতের ভিসা জটিলতাকে কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
বান্দরবানের বিজয়, কেউক্রাডং, নাফাখুম, দেবতা খুমের মতো পর্যটন স্পটগুলোতে উপচে পড়া ভিড়।
ঢাকার মোহুয়া রহমান বলেন, 'প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন ছুঁয়ে যায়। আগেও এসেছি, এবারও ছুটে এলাম।
গত বছর কুকিচিনের অস্থিরতায় ক্ষতি হলেও এবার ঈদে বুকিং ধরা দিয়েছে রেকর্ড পরিমাণে। হোটেল গার্ডেন সিটির মালিক জাফর উল্লাহ জানান, ২৫টি রুম আগাম বুক হয়েছে। আরণ্যক হোটেলের জসিম উদ্দিন বলেন, 'পর্যটকদের নিরাপত্তা ও আরামের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি।
জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি জানান, পর্যটন স্পটগুলোতে ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বাড়তি ভাড়া রোধে মোবাইল টিম কাজ করছে। বিদেশী পর্যটকদের জন্য অনলাইন সেবাও চালু রয়েছে। তিনি বলেন, 'এবারের ঈদে পর্যটকরা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারবেন।'
হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানান, ৬ হাজার পর্যটকের ধারণক্ষমতা সম্পূর্ণ ভরা রয়েছে।

যেখানে গেলে দেখতে পাবেন কালো বালির সমুদ্র সৈকত

সমুদ্রের কথা মনে পড়লে আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে নীল জলরাশি, যা আছড়ে পড়ে সৈকতে। তবে কখনো কি ভেবেছেন কালো বালির সৈকত সম্পর্কে?
কালো বালির সৈকতগুলো এমন জায়গা, যেখানে বালির রঙ সাধারণত কালো বা ধূসর হয়ে থাকে। এগুলো বিশেষভাবে আগ্নেয়গিরির লাভা বা তুষারের অবশিষ্ট অংশ থেকে তৈরি হয়। সমুদ্রের নীল পানি কালো বালির উপর আছড়ে পড়লে তখন সাদা-কালোর এক অদ্ভুত ক্যানভাস সৃষ্টি হয়।
পুনালুউ সমুদ্র সৈকত, হাওয়াই
হাওয়াইয়ের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত পুনালুউ বিচ কালো বালির জন্য বিখ্যাত। এটি আগ্নেয়গিরির লাভা থেকে তৈরি হয়েছে এবং এক অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপহার দিয়েছে। সৈকতটি তার শান্ত পরিবেশ ও বিশাল ঢেউয়ের জন্য জনপ্রিয়। এখানে পর্যটকরা সাঁতার কাটার জন্য আসেন।
রেইনিসফিয়ারা সমুদ্র সৈকত, আইসল্যান্ড
আইসল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত রেইনিসফিয়ারা সমুদ্র সৈকত একটি অসাধারণ কালো বালির সৈকত। যা আগ্নেয়গিরির লাভা প্রবাহের কারণে তৈরি হয়েছে। এখানে বিশাল আগ্নেয়গিরির পাথর ও নানা আকৃতির শিলা দেখতে পাওয়া যায়। এই সৈকতটি পেঙ্গুইন ও অন্যান্য প্রজাতির পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত।
লাভা সমুদ্র সৈকত, ইন্দোনেশিয়া
ইন্দোনেশিয়ার লাভা সমুদ্র সৈকত বালি দ্বীপের উত্তরে অবস্থিত। যেখানে আগ্নেয়গিরির ধ্বংসাবশেষ থেকে তৈরি হওয়া কালো বালির দৃশ্য অসাধারণ। সৈকতের শান্ত পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখানে আসা পর্যটকদের কাছে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
সান্তিয়াগো সমুদ্র সৈকত, চিলি
চিলির সান্তিয়াগো কেন্দ্রীয় উপকূলে অবস্থিত এবং পর্যটকদের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। সৈকতের আশেপাশে রয়েছে কিছু জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট ও কফি শপ। যেখানে পর্যটকরা সমুদ্রের দৃশ্য উপভোগ করতে করতে আরাম করতে পারেন।
এই কালো বালির সৈকতগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ভ্রমণপ্রেমীদের আকর্ষণ করে।
সূত্র : কলকাতা ২৪×৭

ঘুরে আসুন চট্টগ্রামের পারকি সমুদ্রসৈকত
অনলাইন ডেস্ক

চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র এক থেকে দেড় ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত পারকি সি-বিচ। একটা সময় সমুদ্রসৈকত বলতে শুধু কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত বোঝানো হলেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে এই পারকি সমুদ্রসৈকতও। একদিকে ঝাউবনের সবুজের সমারোহ, আরেক দিকে নীলাভ সমুদ্রের বিস্তৃত জলরাশি আপনাকে স্বাগত জানাবে।
এ ছাড়া সমুদ্র তীরের মৃদুমন্দ বাতাস আপনার মনকে আনন্দে পরিপূর্ণ করে দেবে নিমেষেই।
একটা সময় এই সমুদ্রসৈকতে যাওয়ার রাস্তাটি খুব একটা ভালো ছিল না।
এ ছাড়া রয়েছে সমুদ্রে ঘুরে বেড়ানোর জন্য স্পিডবোট, সমুদ্রতীরেই ঘুরে বেড়ানোর জন্য সি-বাইক আর ঘোড়া।
পারকি সি-বিচ যাওয়ার উপায়
বোটে যেতে চাইলে চট্টগ্রাম শহরের যেকোনো জায়গা থেকে যেতে হবে পতেঙ্গা ১৫ নম্বর যেটি। এ যাত্রায় যেতে পারেন সিএনজি বা অন্য যেকোনো বাহনে। সেখান থেকে বোটে করে কর্ণফুলী নদী পার হতে হবে। সেখানে অপেক্ষমাণ অটোরিকশা নিয়ে যেতে পারেন পারকি সৈকতে।
আরেকটি ভিন্ন পথ আছে। সেটি হচ্ছে কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু দিয়ে সরাসরি যেতে পারবেন পারকি সৈকতে। তবে সে ক্ষেত্রে সময় ও অর্থ দুই বেশি যাবে। এর জন্য চট্টগ্রাম শহরের যেকোনো স্থান থেকেই বাস অথবা টেম্পোতে করে চট্টগ্রাম শাহ আমানত সেতু বা তৃতীয় কর্ণফুলী সেতুর কাছে যেতে পারেন। সেখানে গেলেই আপনি বটতলী মোহসেন আউলিয়ার মাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বাস দাঁড়িয়ে থাকতে দেখবেন। তবে খেয়াল রাখবেন, ভুলে যেন বাস কন্ডাক্টরের বৈলতলী উচ্চারণের সঙ্গে বটতলীকে গুলিয়ে ফেলবেন না। দুটি কিন্তু দুই জায়গা।
পারকি বিচে যেতে হলে আপনাকে বটতলী মোহসেন আউলিয়া মাজারগামী বাসে উঠতে হবে। প্রাচীন এই মাজারটি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত। বাসে উঠে কন্ডাকটরকে বলতে হবে যেন আপনাকে সেন্টার নামক স্থানে নামিয়ে দেয়। জায়গাটির প্রকৃত নাম মালখান বাজার, তবে এটি সেন্টার নামেই পরিচিত।
সেন্টারে নেমে বিচে যাবার জন্য রিজার্ভ নেওয়ার মতো সিএনজি পাবেন। বিচে যাওয়ার আগে খাবারদাবারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস সেন্টার বাজার কিংবা কিছুটা দূরেই চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার হাউজিং কলোনী সংলগ্ন বাজার থেকে নিয়ে নিতে পারেন। বিচেও কিছু দোকানপাট রয়েছে। তবে তাতে সবকিছু নাও পেতে পারেন, পেলেও দাম কিছুটা বেশি হতে পারে। আর চাইলে চট্টগ্রাম শহর থেকেও সিএন জি রিজার্ভ করে যেতে পারেন।
সমুদ্রসৈকতের কাছেই রাঙ্গাদিয়া পুলিশ ফাঁড়ি। যেকোনো সমস্যায় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
সূত্র : আদার ব্যাপারী