সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থা বাতিল করল পাকিস্তান। এর মাধ্যমে পাকিস্তান মূলত বাংলাদেশের পথেই হাঁটল। এই কোটার আওতায় পাকিস্তানে সরকারি চাকরিজীবীদের পরিবারের সদস্যদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাকরি পাওয়ার ব্যবস্থা বাতিল হলো। গত শনিবার পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূলত চাকরিরত অবস্থায় মারা যাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের কোনো ধরনের পরীক্ষা বা প্রতিযোগিতা ছাড়াই চাকরি পাওয়ার যে বিধান দেশটিতে এত দিন ছিল, সেটা বাতিল করা হয়েছে।
সরকারি চাকরিতে কোটা
বাংলাদেশের পথেই হাঁটল পাকিস্তান
- ২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের চাকরি পাওয়ার এই সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে
কালের কণ্ঠ ডেস্ক

সংস্থাপন বিভাগের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের চাকরি পাওয়ার এই সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়ের তারিখ থেকে কার্যকর হবে।
তবে মৃত কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যরা এখনো প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা প্যাকেজের অধীনে অন্যান্য সুবিধার জন্য যোগ্য হবে।
এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের আগে সম্পন্ন করা নিয়োগগুলোও এই রায়ের কারণে প্রভাবিত হবে না। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত বছর পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট দেশটির সরকারি কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সরকারি চাকরির কোটা প্রকল্পকে বৈষম্যমূলক এবং অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করার রায় দেন।
অতীতে এই প্রকল্পের অধীনে কোনো মৃত কর্মচারীর বিধবা স্ত্রী বা স্বামী বা চিকিৎসাগতভাবে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর সন্তানকে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা বা যোগ্যতাভিত্তিক নির্বাচনী পরীক্ষার প্রয়োজন ছাড়াই কোনো একটি সরকারি পদে নিয়োগ দেওয়া হতো।
রায়ে পাকিস্তানের শীর্ষ আদালত উল্লেখ করেন, এ ধরনের প্রকল্প নিম্ন গ্রেডের কর্মচারী এবং তাঁদের পরিবারের বিরুদ্ধে বিশেষভাবে বৈষম্যমূলক। আদেশে বলা হয়—এই চাকরিগুলো বংশগত নয় বা করা যাবে না।
আদালত আরো বলেছিলেন, যেকোনো নীতি বা আইন যদি সাংবিধানিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তা বিচারিক পর্যালোচনার বিষয় হবে। ফেডারেল ও প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষকে সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই আইনগুলো প্রত্যাহার করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডে কোটা বাতিল করে কেবল ‘অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ বরাদ্দ’ রেখে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবি জানিয়েছিল আন্দোলনকারীরা। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে কোটা বাতিলের পরিপত্র জারির আগ পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা, জেলা, নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী—এই পাঁচ ক্যাটাগরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল। তবে স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে চালু হওয়া প্রথম কোটাব্যবস্থায় এই পরিমাণ ছিল আরো বেশি। বাংলাদেশে ১৯৭২ সাল থেকেই চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা, জেলা ও নারী কোটা ছিল।
বাংলাদেশে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধাস্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন করপোরেশন ও দপ্তরে নিয়োগ এবং কোটা বণ্টনের বিষয়ে ১৯৭২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সরকার একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে। এতে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রথম শ্রেণির চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ মেধা এবং বাকি ৮০ শতাংশ জেলা কোটা রাখা হয়। এই ৮০ শতাংশ জেলা কোটার মধ্য থেকেই ৩০ শতাংশ কোটা মুক্তিযোদ্ধা এবং ১০ শতাংশ যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের জন্য বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশ্বে এটি স্বীকৃত যে ২০২৪-এর কোটা সংস্কার আন্দোলন হলো বাংলাদেশে সব ধরনের সরকারি চাকরিতে প্রচলিত কোটাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে সংঘটিত একটি সফল আন্দোলন। ২০২৪ সালের ৫ জুন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকারের জারি করা পরিপত্রকে অবৈধ ঘোষণার পর কোটা পদ্ধতির সংস্কার আন্দোলন আবার নতুনভাবে আলোচনায় আসে। আর পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পথেই হাঁটে।
সম্পর্কিত খবর

বিক্ষোভ


ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে গোলাগুলি
কালের কণ্ঠ ডেস্ক

জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ সীমান্তে ভারত ও পাকিস্তানি সেনাদের মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর দাবি, গত মঙ্গলবার নিয়ন্ত্রণরেখা বা লাইন অব কন্ট্রোল (এলওসি) লঙ্ঘন করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী হামলা চালালে তারা পাল্টা জবাব দেয়। একটি সূত্র জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার এলওসি সংলগ্ন কৃষ্ণা ঘাঁটি সেক্টরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর টহলের সময় একটি মাইন বিস্ফোরিত হয়। এরপর পাকিস্তান সেনাবাহিনী বিনা উসকানিতে গুলি চালায় এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে।
সূত্র : এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে

ফ্রান্সে ডানপন্থীদের বিক্ষোভের ডাক
কালের কণ্ঠ ডেস্ক

ফ্রান্সের কট্টর ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র্যালির (আরএন) নেতা জর্ডান বারদেলা প্যারিসে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। আদালতের আদেশে দলটির প্রধান মারিন লো পেনকে নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে আগামী রবিবার থেকে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে লো পেনকে পাঁচ বছরের জন্য যেকোনো সরকারি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিষিদ্ধ করেছেন ফ্রান্সের একটি আদালত। এ ছাড়া তাঁকে চার বছরের কারাদণ্ড এবং এক লাখ ইউরো জরিমানা করা হয়েছে।

সংক্ষিপ্ত
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী চীন
কালের কণ্ঠ ডেস্ক

চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে বলেছেন, চীন ও ভারতের আরো ঘনিষ্ঠভাবে একসঙ্গে কাজ করা উচিত। দুই দেশের সম্পর্ক ‘ড্রাগন-হাতির ট্যাঙ্গো’ নৃত্যের রূপ নেওয়া উচিত। চীন ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরুর ৭৫তম বার্ষিকীতে গত মঙ্গলবার দুই দেশের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে পারস্পরিক অভিনন্দন বার্তা বিনিময় করা হয়। ২০২০ সালে হিমালয়ে দুই দেশের সীমান্তে সেনাদের সংঘর্ষের পর উত্তেজনা কমে এসেছে।