ঢাকা, শুক্রবার ২৮ মার্চ ২০২৫
১৪ চৈত্র ১৪৩১, ২৭ রমজান ১৪৪৬

ঢাকা, শুক্রবার ২৮ মার্চ ২০২৫
১৪ চৈত্র ১৪৩১, ২৭ রমজান ১৪৪৬

মাহে রমজান ও সিয়াম সাধনার শিষ্টাচার

মো. আবদুল মজিদ মোল্লা
মো. আবদুল মজিদ মোল্লা
শেয়ার
মাহে রমজান ও সিয়াম সাধনার শিষ্টাচার
ছবি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি

প্রতিটি বিষয়ের একটি শিষ্টাচার আছে। রোজাদারের জন্য আছে কিছু শিষ্টাচার, যা তার রোজা পালন ও রমজানে করা ইবাদতগুলোর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। আর তাকে সাহায্য করে রমজানের সুফল ঘরে তুলতে। এমন কয়েকটি শিষ্টাচার তুলে ধরা হলো—

১. নিষ্ঠার সঙ্গে ইবাদত করা : বিশুদ্ধ নিয়ত ও আল্লাহর জন্য নিষ্ঠাই ইবাদতের প্রাণ।

রমজানের প্রতিটি ইবাদত আল্লাহর জন্যই করা প্রয়োজন। অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকলে তা পরিহার করা আবশ্যক। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা তো আদিষ্ট হয়েছিল আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদত করতে, সালাত কায়েম করতে এবং জাকাত দিতে, এটাই যথাযথ দ্বিন।’ (সুরা : বাইয়িনাহ, আয়াত : ৫)

প্রতিটি ইবাদতের জন্য ইখলাস বা নিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ।

রোজাও তার ব্যতিক্রম নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে রমজান মাসে ঈমান ও ইহতিসাবের সঙ্গে রোজা পালন করবে তার অতীতের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’

(সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০১৪)

২. সুন্নত পদ্ধতিতে ইবাদত করা : মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবী (সা.)-কে দ্বিন ও শরিয়তের ব্যাখ্যাকার ও প্রচারক হিসেবে প্রেরণ করেন। তাই দ্বিন পালনে মহানবী (সা.)-এর সুন্নতের অনুসরণ করা এবং বিদআত পরিহার করা আবশ্যক।

নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে এমন আমল করবে, যার প্রতি আমাদের দ্বিনের নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৪৫৯০)

৩. পুরোপুরি দ্বিন মেনে চলা : ইসলামের বিধানগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। ফলে রমজান মাসের সুফল লাভ করতে হলে ব্যক্তিকে পুরোপুরি দ্বিন মেনে চলা আবশ্যক। কেননা পুরোপুরি দ্বিন মেনে না চললে, আল্লাহর কাছে বান্দার আত্মসমর্পণ পরিপূর্ণ হয় না। পূর্ণ আত্মসমর্পণ ছাড়া আল্লাহর পূর্ণ দয়াও আশা করা যায় না।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা সর্বাত্মকভাবে ইসলামে প্রবেশ করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক

অনুসরণ কোরো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২০৮)

৪. পাপ পরিহার করা : রমজানের রহমত ও বরকত লাভের অন্যতম শর্ত পাপ কাজ পরিহার করা। মুমিন সর্বপ্রকার পাপ ও অনাচার থেকে বিরত থাকলেই কেবল তার সিয়াম সাধনা সার্থক হবে। আর রোজা রেখেও যারা পাপ ত্যাগ করতে পারে না, হাদিসের ভাষায় তাদের অনাহারে থাকা অর্থহীন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘অনেক রোজা পালনকারী আছে, যারা উপোস থাকা ছাড়া আর কিছুু পায় না। আর অনেক রাত জেগে নামাজ আদায়কারী আছে, যারা রাত জাগরণ ছাড়া আর কিছু লাভ করে না।’ (সুনানে দারামি, হাদিস : ২৭২০)

অন্য হাদিসে মহানবী (সা.) বলেন, ‘রোজা হলো

ঢালস্বরূপ। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রোজা রাখবে সে যেন অশ্লীল আচরণ ও শোরগোল থেকে বিরত থাকে। যদি তার সঙ্গে কেউ ঝগড়া-বিবাদ কিংবা মারামারিতে লিপ্ত হতে চায়, তবে তাকে বলে দেবে আমি রোজা পালনকারী।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৫১)

তিনি আরো কঠোর ভাষায় বলেছেন, ‘যে মিথ্যা কথা ও কাজ এবং মূর্খতা পরিত্যাগ করতে পারল না তার পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’

(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০৫৭)

৫. সাহরি খাওয়া : রোজাদারের জন্য সাহরি খাওয়া এবং তা বিলম্বে খাওয়া সুন্নত। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সাহরি খাও। কেননা সাহরিতে বরকত আছে।’

(সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯২৩)

৬. ইফতারে বিলম্ব না করা : ইফতারের শিষ্টাচার হলো তাতে বিলম্ব না করা। একাধিক হাদিসে এ বিষয়ে তাগিদ এসেছে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘মানুষ যত দিন পর্যন্ত সময় হওয়া মাত্র ইফতার করবে, তত দিন কল্যাণের সঙ্গে থাকবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮৫২)

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যত দিন মানুষ সময় হওয়া মাত্র ইফতার করবে, তত দিন দ্বিন বিজয়ী থাকবে। কেননা ইহুদি ও খ্রিস্টানরা ইফতারিতে দেরি করে।’

(সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ২৩৫৫)

৭. রাতের ইবাদতে মনোযোগী হওয়া : রাতের ইবাদত অতি মূল্যবান, বিশেষত শেষ রাতের। তাই রোজাদার ব্যক্তি রমজান মাসে রাতের ইবাদতের প্রতি অধিক মনোযোগী হবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানে ঈমানের সঙ্গে সওয়াব লাভের আশায় রাত জাগরণ করবে, তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করা হবে।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৫০২৭)

৮. বেশি বেশি দোয়া করা : প্রাজ্ঞ আলেমরা বলেন, রমজান দোয়া কবুলের মাস। এ মাসে দোয়া কবুলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না : ন্যায়পরায়ণ শাসক, রোজাদার যখন সে ইফতার করে এবং অত্যাচারিত ব্যক্তির দোয়া।’

(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৭৫২)

৯. আশা ও ভয়ের সঙ্গে ইবাদত করা : মুমিন আল্লাহর ক্ষমা, দয়া ও অনুগ্রহের ব্যাপারে যেমন আশাবাদী থাকে, তেমনি আল্লাহর বিচার, কঠোরতা ও শাস্তিকে ভয় পায়। আশা ও ভয়ের সমন্বয়ে মুমিনের ঈমান পূর্ণতা লাভ করে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা সত্ কাজে প্রতিযোগিতা করত, তারা আমাকে ডাকত আশা ও ভীতির সঙ্গে এবং তারা ছিল আমার কাছে বিনীত।’

(সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৯০)

উল্লিখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসিরে সাদির প্রণেতা বলেন, ‘তারা ভালো কাজে প্রতিযোগিতা করে, তা উত্তম সময়ে পালন করে, তা যথাযথ পরিপূর্ণভাবে আদায় করবে, ভালো কাজের অতিরিক্ত অংশ সুযোগ থাকলে তারা পরিহার করবে না। তারা ভালো কাজের প্রতিদান হিসেবে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ প্রত্যাশা করে। উভয় জগতের যেসব বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে সেগুলোর ব্যাপারে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায়। তারা আল্লাহর ব্যাপারে আশাবাদী ও ভীত, তারা উদাসীন ও অমনোযোগী নয়। তারা আল্লাহর প্রতি বিনয়ী ও বিনম্র। এগুলো হলো আল্লাহর পরিচয় লাভের নিদর্শন।’ (তাফসিরে সাদি)

১০. রোজা ভঙ্গে সহায়ক কাজ পরিহার করা : যেসব কাজ রোজা ভঙ্গের কারণ হতে পারে সেগুলো পরিহার করা। যেমন—গড়গড়া করে কুলি করা, বিনা প্রয়োজনে ও অসতর্কতার সঙ্গে খাবারের লবণ পরীক্ষা করা, স্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়া ইত্যাদি। এসব কাজে যদিও রোজা ভঙ্গ হয় না, তবে এগুলো ভঙ্গের কারণ সংঘটনে সহায়ক। এ জন্য ফকিহ আলেমরা এগুলোকে মাকরুহ বলেন।

(বিস্তারিত দেখুন : হিদায়া, রোজা অধ্যায়)

আল্লাহ সবাইকে রমজানের শিষ্টাচার রক্ষার তাওফিক দিন। আমিন।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

কোরআন থেকে শিক্ষা

    পর্ব, ৭৩৪
শেয়ার
কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ : ‘তুমি কি দেখ না যে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যারা আছে তারা এবং উড্ডীয়মান পাখিরা আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে? প্রত্যেকেই জানে তার ইবাদতের ও পবিত্রতা ঘোষণার পদ্ধতি এবং তারা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবগত। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই এবং আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন। তুমি কি দেখ না, আল্লাহ সঞ্চালিত করেন মেঘমালাকে, তৎপর তাদেরকে একত্র করেন এবং পরে পুঞ্জীভূত করেন।...আল্লাহ দিবস ও রাতের পরিবর্তন ঘটান, তাতে শিক্ষা রয়েছে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্নদের জন্য।

’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৪১-৪৪)

আয়াতগুলোতে আল্লাহর সৃষ্টিজগতের বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়েছে।

শিক্ষা ও বিধান

১. আল্লাহর কতক সৃষ্টি মুখে তাঁর তাসবিহ পাঠ করে আর কতক তাদের অবস্থার মাধ্যমে তাসবিহ পাঠ করে।

২. তাফসিরবিদরা বলেন, আল্লাহ যে বস্তুকে যে কাজের জন্য সৃষ্টি করেছেন তা যথাযথ পালন করা তাঁর ইবাদত।

৩. ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থায় সার্বভৌমত্ব আল্লাহর জন্য সংরক্ষিত।

আল্লাহর সার্বভৌমত্বের অধীনেই রাষ্ট্রপ্রধানরা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।

৪. আল্লাহর কুদরত ও সৃষ্টিজগৎ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা মুমিনের জন্য অপরিহার্য। কেননা এর মাধ্যমে ঈমান বৃদ্ধি পায়।

৫. আয়াত থেকে প্রাণিজগতের বৈচিত্র্য ও শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

(বুরহানুল কুরআন : ২/৫৮৯)

 

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য
পর্ব : ২৭

তারাবিতে কোরআনের বার্তা

শেয়ার
তারাবিতে কোরআনের বার্তা

সুরা নাজম

সুরার বক্তব্য শুরু হয়েছে এভাবে যে মুহাম্মাদ (সা.) পথভ্রষ্ট ব্যক্তি নন। তিনি নিজের পক্ষ থেকে কোনো কথা বলেন না, বরং তিনি ওহির অনুসরণ করেন। ইসরা ও মিরাজ সম্পর্কে তিনি যা বর্ণনা করেছেন, তা তাঁর অনুমাননির্ভর নয়, বরং নিজ চোখ দেখা অকাট্য সত্য। তিনি জিবরাইল (আ.)-কে তাঁর নিজস্ব অবয়বে দেখেছেন।

তিনি সিদরাতুল মুনতাহাসহ ঊর্ধ্বজগৎ ভ্রমণ করেছেন।

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. আল্লাহ ফেরেশতাদের প্রজ্ঞা দান করেছেন। (আয়াত : ৪-৬)

২. রাসুল (সা.) সংশয়গ্রস্ত হতেন না। (আয়াত : ১১-১২)

৩. নবী-রাসুলরা বিভ্রমের শিকার হতেন না।

(আয়াত : ১৭)

৪. জ্ঞানহীন মানুষরাই অনুমানের পেছনে ছোটে। (আয়াত : ২৮)

৫. দুনিয়ামুখী মানুষরাই আল্লাহবিমুখ। (আয়াত : ২৯)

৬. স্বল্প জ্ঞানের অধিকারীরাই পার্থিব জীবনে মত্ত হয়। (আয়াত : ৩০)

৭. সব পাপ পরিহার করো, বিশেষত যা গুরুতর।

(আয়াত : ৩২)

৮. অভাবীদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না। (আয়াত : ৩৩-৩৪)

৯. চেষ্টা অনুপাতেই আল্লাহ মানুষকে দেন। (আয়াত : ৩৯-৪০)

১০. নারী-পুরুষকে আল্লাহই যুগলবন্দি করেন। (আয়াত : ৪৫)

১১. আল্লাহর অনুগ্রহের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ কোরো না। (আয়াত : ৫৫)

সুরা কামার

মহানবী (সা.)-এর দাওয়াতের বিরুদ্ধে মক্কার কাফিররা যে হঠকারিতা করেছিল এ সুরায় সে বিষয়ে সাবধান করা হয়েছে।

কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার যে খবর মহানবী (সা.) দিয়েছেন, তা অবশ্যই সত্য। মহানবী (সা.)-এর আঙুলের ইশারায় চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়া তারই প্রমাণ। পরে মক্কার কাফিরদের সামনে নুহ (আ.)-এর জাতি, আদ জাতি, সামুদ জাতি, লুত (আ.)-এর জাতি এবং ফেরাউনের অনুসারীদের অবস্থা সংক্ষেপে বর্ণনা করা হয়েছে।

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. প্রবৃত্তির অনুসরণ কোরো না। (আয়াত : ৩)

২. আল্লাহ কোরআন সহজ করেছেন। (আয়াত : ১৭)

৩. আল্লাহ সব কিছু নির্ধারিত পরিমাণে সৃষ্টি করেছেন। (৪৯-৫০)

সুরা আর-রহমান

আলোচ্য সুরায় কিয়ামত ও জান্নাত-জাহান্নাম সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই সুরায় আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। দ্বিনের নিয়ামত, কোরআনের নিয়ামত ও মানব সৃষ্টির বিষয়টিকে এখানে সব কিছুর ওপর স্থান দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর তাসবিহ ও তাঁর প্রশংসাগীতির মাধ্যমে সুরাটি শেষ করা হয়েছে।

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. মাতৃভাষা আল্লাহর দান। তিনিই মানুষকে ভাষা শিখিয়েছেন।

(আয়াত : ৩-৪)

২. ওজনে কম দিয়ো না। (আয়াত : ৯-১০)

৩. প্রবাল আল্লাহর বিশেষ সৃষ্টি। সুতরাং তা সংরক্ষণ করা আবশ্যক। (আয়াত : ২২-২৩)

৪. আকাশমণ্ডলীর সীমা অতিক্রম করাও সম্ভব। (আয়াত : ৩৩)

সুরা ওয়াকিয়া

কিয়ামতের দিন এ পৃথিবী কী ভয়াবহ আকার ধারণ করবে, তার চিত্র বর্ণনা করার মাধ্যমে সুরাটি শুরু হয়েছে। সুরার শুরুতেই বলা হয়েছে যে মানুষ তিন ধরনের। ডানপন্থী, বামপন্থী ও অগ্রগামী। এ সুরায় বিপদ-আপদে আল্লাহর করুণার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এ খবর জানানো হয়েছে যে পবিত্র সত্তা ফেরেশতারা পবিত্রতা ছাড়া কোরআন স্পর্শ করে না। সুরার শেষে ওই তিন ধরনের মানুষের পরিণতি ও প্রতিফল বর্ণনা করা হয়েছে।

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. হতভাগ্য বাঁ দিকের দল। (আয়াত : ৯)

২. নির্ধারিত সময়েই মৃত্যু হবে। (আয়াত : ৬০)

৩. আল্লাহর কোরআন সংরক্ষিত। (আয়াত : ৭৭-৭৯)

৪. আল্লাহর বাণীকে তুচ্ছ জ্ঞান কোরো না। (আয়াত : ৮০-৮১)

৫. আল্লাহ মানুষের খুব কাছেই। (আয়াত : ৮৫)

সুরা হাদিদ

আলোচ্য সুরা শুরু হয়েছে মহান আল্লাহর তাসবিহের মাধ্যমে। এই সুরায় ঈমান, সংগ্রাম, আল্লাহর পথে ব্যয়, ফিতনা থেকে দূরে থাকা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মুনাফিকদের দ্বিমুখী মনোভাব প্রকাশ করে দেওয়া হয়েছে। সুরায় তাকওয়া অর্জন করতে বলা হয়েছে। নবী-রাসুলদের পথ অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। সুরার শেষে বলা হয়েছে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিশেষ রহমতে সিক্ত করেন।

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. সব কিছু আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তিত হবে। (আয়াত : ৫)

২. সম্পদের প্রকৃত মালিক আল্লাহ। (আয়াত : ১০)

৩. নিঃশর্ত ঋণদাতার জন্য সম্মানজনক পুরস্কার। (আয়াত : ১১)

৪. মুমিন কোমল হৃদয়ের অধিকারী। (আয়াত : ১৬)

৫. হৃদয়ের কঠোরতা নিন্দনীয়। (আয়াত : ১৬)

৬. নিঃশর্ত ঋণ দানতুল্য। (আয়াত : ১৮)

৭. কার্পণ্য কোরো না। (আয়াত : ২৪)

৮. ইসলামে বৈরাগ্য নেই। (আয়াত : ২৭)

সুরা মুজাদালা

সুরার শুরুতে আল্লাহর গুণাবলি ইত্যাদি উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহর মহত্ত্ব ও অনুকম্পা বর্ণনার মাধ্যমে এই সুরা শুরু ও শেষ করা হয়েছে। এই সুরায় জিহার, কাফফারা, মোনাজাতের হুকুম, মজলিসের শিষ্টাচার, কোনো কাজ শুরু করার আগে রাসুল (সা.)-এর সদকা দেওয়া ইত্যাদি বিষয় বর্ণিত হয়েছে।

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. আল্লাহ মানুষের অনুযোগ শোনেন। (আয়াত : ১)

২. রাসুলের বিরুদ্ধাচারীরা অপদস্থ হবে। (আয়াত : ৫)

৩. ষড়যন্ত্র কোরো না। (আয়াত : ৮)

৪. আল্লাহর শাস্তি প্রত্যাশা কোরো না। (আয়াত : ৮)

৫. বৈঠকে অন্যের জন্য জায়গা করে দাও। (আয়াত : ১১)

৬. আল্লাহর শত্রুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব কোরো না। (আয়াত : ১৪)

৭. মিথ্যা শপথ কোরো না। (আয়াত : ১৬)

৮. দ্বিনবিদ্বেষীরা লাঞ্ছিত হবে এবং সত্যপন্থীরাই বিজয়ী হবে।

(আয়াত : ২০-২১)

সুরা হাশর

এই সুরায় শরিয়তের কিছু বিধান বর্ণিত হয়েছে। যেমনমদিনা থেকে ইহুদিদের বনি নজিরকে দেশান্তর করা, ফাই ও গনিমতের আহকাম, তাকওয়া ইত্যাদি বিষয় আলোচিত হয়েছে। অনুরূপভাবে ইহুদিদের সঙ্গে মুনাফিকদের সখ্য, কোরআনের মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য এবং আল্লাহ তাআলার বিশেষ কিছু নাম বিবৃত হয়েছে।

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. বাস্তুচ্যুত মুসলিমদের আশ্রয় দাও। (আয়াত : ৮)

২. মুসলমানের প্রতি বিদ্বেষ রেখো না। (আয়াত : ১০)

৩. অনাগত দিনের জন্য প্রস্তুত থাকো। (আয়াত : ১৮)

৪. আল্লাহকে ভুলে যেয়ো না। (আয়াত : ১৯)

৫. কোরআনের প্রতি বিনীত হও। (আয়াত : ২১)

সুরা মুমতাহিনা

এই সুরায় যেসব মুশরিক মুসলিমদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ, যারা মুসলিমদের সঙ্গে যুদ্ধ করে না এবং যেসব মুমিন নারী হিজরত করেছেন, তাঁদের বিধি-বিধান বর্ণিত হয়েছে। সুরার প্রারম্ভে মুশরিকদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও বন্ধুত্বের উপকরণ অবলম্বনে নিষেধ করা হয়েছে। যুদ্ধ কিংবা শান্তিপূর্ণ অবস্থায় আহলে কিতাবদের সঙ্গে মুসলিমদের সম্পর্কের মূলনীতিও বর্ণিত হয়েছে।

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. আল্লাহবিমুখদের সঙ্গে বন্ধুত্ব কোরো না। (আয়াত : ১)

২. জেনে-বুঝে সত্যবিমুখ হয়ো না। (আয়াত : ১)

৩. বিপদে আল্লাহমুখী হও। (আয়াত : ৪)

৪. অহেতুক শত্রুতা নয়। (আয়াত : ৮)

৫. পরকালে অবিশ্বাসীদের বন্ধু কোরো না। (আয়াত : ১৩)

গ্রন্থনা : মুফতি আতাউর রহমান

 

 

 

মন্তব্য

রমজানে দ্বিনচর্চায় মনোযোগী হয় ফিলিপিন্সের মুসলিমরা

মো. আবদুল মজিদ মোল্লা
মো. আবদুল মজিদ মোল্লা
শেয়ার
রমজানে দ্বিনচর্চায় মনোযোগী হয় ফিলিপিন্সের মুসলিমরা

ফিলিপিন্সে মুসলমান সংখ্যালঘু হলেও বহু মুসলিম সে দেশে বাস করে, বিশেষত মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় বিপুলসংখ্যক মুসলমানের বসবাস। ফিলিপিন্সের মুসলিম সমাজ ইসলামী সভ্যতা ও সংস্কৃতির আদলে একটি নিজস্ব সংস্কৃতি লালন করে। তাদের জীবনাচারেও রয়েছে ইসলামী শিক্ষার গভীর প্রভাব। রমজানকে তারা উদযাপন করে ইসলামী ঐতিহ্য ও আপন সংস্কৃতির আলোকেই।

ফিলিপিন্সে ইসলামের প্রচার ও প্রসার হয়েছে আরব ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে। তাদের ইসলামী জীবনযাত্রা ও আখলাক দেখে ফিলিপিন্সের অধিবাসীরা ইসলাম গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হয়। এমনকি সেখানে ইসলাম একসময় বিজয়ী ধর্মে পরিণত হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেখানে ধীরে ধীরে পশ্চিমা অভিবাসীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং তারা স্পেনের রাজা দ্বিতীয় ফিলিপের নেতৃত্বে ১৫৬৮ সালে মুসলমানদের পরাজিত করে।

১৫৭১ সালে তাঁর নেতৃত্বে উপনিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজা ফিলিপের নামেই ফিলিপিন্সের নামকরণ হয়েছে। তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করেই অন্যায়ভাবে মুসলিম সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধ্বংসে লিপ্ত হন। যেমন রাজধানীর নাম ছিল আমানিল্লাহ সেটা পরিবর্তন করে রাখা হলো ম্যানিলা।
অসংখ্য মসজিদ, মাদরাসা, ধর্মীয় স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তিনি ধ্বংস করে দেন। যে ধারা এখনো অব্যাহত আছে। এখনো ফিলিপিন্সের মুসলিম অধিবাসীরা তাদের ধর্মপালনে পুরোপুরি স্বাধীন নয়। ১৯৬৮ সাল থেকে মিন্দানাও দ্বীপের মোরো মুসলিমরা স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করছে। অবশ্য সরকারের সঙ্গে তাদের এখন একটি শান্তিচুক্তি চলছে।
যার অধীনে তারা অধিকতর স্বায়ত্তশাসন লাভ করেছে।

ফিলিপিন্সের মুসলিমরা নিজস্ব সংস্কৃতিতেই রমজান উদযাপন করে। রমজানকে তারা ধর্মীয় অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করে। রমজান তাদের মধ্যে রীতিমতো উৎসবের সৃষ্টি করে। রমজানের শুরুতেই তারা মসজিদগুলোর সৌন্দর্য বর্ধনে আলোকসজ্জাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে। রমজানে মসজিদগুলো পরিণত হয় সামাজিক মিলন কেন্দ্রে। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে পরিবারে পুরুষ সদস্যরা এবং শিশুরা মসজিদে একত্র হয় ইবাদত ও ধর্মীয় শিক্ষার জন্য। রমজান মাসে প্রতিটি মসজিদে মাসব্যাপী ধর্মীয় পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়। মুসলিম পুরুষরা বেশির ভাগ সময় মসজিদে ইবাদতে কাটায় এবং শিশুরা ব্যাপক হারে ধর্মীয় পাঠদানে অংশ গ্রহণ করে।

রমজানে ফিলিপিন্সের মুসলমানরা সমাজসেবামূলক কাজে আত্মনিয়োগ করে। সমাজের অসহায় দুস্থ মানুষের কল্যাণে তারা বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করে। যেমনসামাজিকভাবেই ধনীরা দরিদ্রদের জন্য ইফতার ও সাহরির ব্যবস্থা করে, জাকাত ও ফিতরার সব টাকা মসজিদে জমা করা হয় এবং ইমাম সাহেবের নেতৃত্বে তা দুস্থ মানুষের মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী বণ্টন করা হয়।

রমজান মাসে তাদের খাবারেও বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়। ইফতারের টেবিলে সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার হলো কারি কারি নামক ভুনা গোশত। এ ছাড়া মিষ্টান্ন, শরবত ও হরেক রকম ফলও থাকে ইফতার আয়োজনে। ইফতারের পর ফিলিপিন্সের শিশুরা ভালো পোশাকাদি পরিধান করে রাস্তায় বের হয় এবং উৎসবে মেতে ওঠে। তাদের হাতে থাকে রঙিন লণ্ঠন। দল বেঁধে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যায় এবং তারাবির নামাজ আদায় করে। সাহরির সময় একদল মানুষ সবাইকে জাগিয়ে দেয়। এভাবেই আনন্দ, উদ্যম ও ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রমজান উদযাপন করে ফিলিপিন্সের মুসলিম সমাজ।

সূত্র : ইসলাম ওয়েব ডটনেট

 

 

মন্তব্য

যেসব সম্পদে জাকাত দিতে হবে না

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ
মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ
শেয়ার
যেসব সম্পদে জাকাত দিতে হবে না

শরিয়ত মোতাবেক চার ধরনের সম্পদে জাকাত ফরজ।

এক. ভূমি থেকে উৎপাদিত শস্য ও ফল-ফলাদিতে নির্দিষ্ট হারে জাকাত দিতে হয়।

দুই. নির্দিষ্ট প্রাণী যেমনউট, গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষের ওপর নির্দিষ্ট হারে জাকাত ফরজ।

তিন. স্বর্ণ-রৌপ্যের ওপর (নিসাব পরিমাণ হলে) জাকাত ফরজ।

চার. ব্যবসায়ী পণ্য বা এমন সব বস্তু, যা দ্বারা মুনাফা অর্জন কিংবা ব্যবসার উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে। যেমনব্যবসার উদ্দেশ্যে কেনা জমি, জীবজন্তু, খাবার, পানীয়, গাড়ি ইত্যাদি সম্পদে জাকাত ফরজ।

এ ছাড়া বহু সম্পদে জাকাত ফরজ নয়। যেসব সম্পদকে জাকাত থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর তালিকা নিম্নরূপ :

১. কৃষিবহির্ভূত জমি।

২. দালানকোঠা (যেগুলো কলকারখানা, দোকান হিসেবে ব্যবহৃত হয়)।

৩. দোকানপাট।

৪. দোকানে ব্যবহৃত জিনিস যেমনআলমারি, র‌্যাক, পাল্লা, বাটখারা ইত্যাদি, যা ব্যবসায়ের সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

৫. বসতবাড়ি-আশ্রয়-বসবাসের ঘর।

৬. কাপড়চোপড়-বস্ত্র ব্যবহারের পোশাক-পরিচ্ছদ।

৭. নারীদের ব্যবহার্য কাপড়, তা যতই মূল্যবান হোক না কেন।

৮. গৃহস্থালির তৈজসপত্র, হাঁড়ি-পাতিল, বাসন-কোসন ও সরঞ্জামাদি, আসবাব যেমনখাট, আলমারি, চেয়ার-টেবিল (ব্যবহার করা হোক বা না হোক)।

৯. বই, পত্র-পত্রিকা, খাতা-কাগজ ও মুদ্রিত সামগ্রী ব্যবহারের শিক্ষা উপকরণ।

১০. অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ।

১১. হিসাবের বছরের মধ্যেই অর্জিত ও ব্যয়িত সম্পদ।

১২. দাতব্য সংস্থাগুলোর মালিকানায় দাতব্য কাজে ওয়াকফকৃত সম্পত্তি।

১৩. সরকারের হাতে ও মালিকানায় থাকা নগদ অর্থ, স্বর্ণ, রৌপ্য ও অন্যান্য সম্পদ।

১৪. এক বছর বয়সের নিচের গবাদিপশু।

১৫. পোষাপাখি ও হাঁস-মুরগি।

১৬. আরামদায়ক সামগ্রী।

১৭. যন্ত্রপাতি ও সাজসরঞ্জাম।

১৮. চলাচলের জন্তু যেমনগরু, গাধা, ঘোড়া, হাতি, খচ্চর, উট ইত্যাদি।

১৯. মিল, ফ্যাক্টরি, ওয়্যার হাউস, গুদাম ইত্যাদি।

২০. অফিসের সব আসবাব, যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার, ফ্যান, মেশিন, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি সরঞ্জাম।

২১. বপন করার জন্য সংরক্ষিত বীজ।

২২. ব্যবসায়ের জন্য নয় এমন পুকুরের মাছ।

২৩. যুদ্ধে ব্যবহৃত পশু।

২৪. চলাচলের বাহনসাইকেল, মোটরসাইকেল, ব্যবহারের গাড়ি প্রভৃতি যানবাহন।

২৫. মূল্যবান সুগন্ধি, মণিমুক্তা, লৌহ বর্ণ প্রস্তর, শ্বেতপাথর এবং সমুদ্র থেকে আহরিত দ্রব্যসামগ্রীর ওপর জাকাত নেই।

২৬. নিসাবের কম পরিমাণ অর্থ-সম্পদ।

২৭. বাণিজ্যিক দুধ উৎপাদন, কৃষি ও সেচ কাজ এবং বোঝা বহনের গরু-মহিষ।

২৮. সব ধরনের ওয়াকফকৃত সম্পত্তি।

২৯. ব্যবসায়ে খাটানো না হলে মোতি, ইয়াকুত ও অন্যান্য মূল্যবান পাথরের ওপর জাকাত নেই। (আল ফিকহ আলাল মাজাহিবিল আরবায়া, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৫৯৫)

৩০. সরকারি সম্পত্তির কোনো জাকাত হয় না, কেননা ধনী-গরিব নির্বিশেষে সমাজের সবাই সম্পত্তির মালিক।

৩১. দাতব্য সংস্থার সম্পদের ওপর জাকাত ধার্য হবে না, এগুলো নির্দিষ্ট ব্যক্তির মালিকানাধীন সম্পদ বলে বিবেচিত না হবে।

৩২. মানবজীবনের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য রক্ষিত টাকার জাকাত হবে না।

৩৩. মানুষের পরিশ্রম ছাড়াই জন্মে এমন সব উদ্ভিদ যেমনবনজ বৃক্ষ, ঘাস, নলখাগড়া ইত্যাদির জাকাত হবে না।

৩৪. ব্যাংকঋণ, ধারকৃত টাকা, ব্যবসার জন্য বাকিতে আনা সামগ্রীতে জাকাত দিতে হবে না।

(সূত্র : ইসলামের অর্থনৈতিক ইতিহাস, ড. মুহাম্মাদ নূরুল ইসলাম)

 

 

 

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ