<p>খুলনার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলার যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম রেলওয়ে। আর এই খুলনা থেকে যশোরের মাঝামাঝি স্থানে রয়েছে অভয়নগর উপজেলা। সেই উপজেলায় নওয়াপাড়া রেল স্টশন নামে প্রাচীন একটি রেলওয়ে স্টেশন রয়েছে।</p> <p>সম্প্রতি নওয়াপাড়া রেল স্টেশনের আওতাধীন এলাকায় রেললাইনের স্লিপারের হ্যান্ডেল ক্লিপ চুরির ঘটনা ঘটছে। সংঘবদ্ধ চোরচক্র রাতের আধারে শতাধিক স্থান থেকে প্রায় এক হাজার ক্লিপ চুরি করেছে। চরম ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করছে আন্তঃনগর, মালবাহীসহ বিভিন্ন ট্রেন। দুর্ঘটনার শঙ্কায় রয়েছেন রেললাইন সংলগ্ন এলাকাবাসী। কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।</p> <p>চুরি হওয়া হ্যান্ডেল ক্লিপের স্থানে নতুন ক্লিপ লাগানোসহ চোরচক্র ধরতে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন যশোর রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুমন ঘোষ।</p> <div class="d-flex justify-content-center"> <div class="col-12 col-md-10 position-relative"><strong>আরো পড়ুন</strong> <div class="card"> <div class="row"> <div class="col-4 col-md-3"><img alt="মোটরসাইকেলে ফিরছিল তিন কিশোর, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সবার মৃত্যু" height="66" src="https://asset.kalerkantho.com/public/news_images/2024/12/23/1734928103-054bdf5fdba805be1b2176f7aeca7147.jpg" width="100" /></div> <div class="col-8 col-md-9"> <p>মোটরসাইকেলে ফিরছিল তিন কিশোর, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সবার মৃত্যু</p> </div> </div> </div> <a class="stretched-link" href="https://www.kalerkantho.com/online/country-news/2024/12/23/1460416" target="_blank"> </a></div> </div> <p>গতকাল রবিবার (২২ ডিসেম্বর) সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার রাজঘাট থেকে প্রেমবাগ রেলগেট পর্যন্ত রেললাইনের প্রায় ১০ কিলোমিটারের শতাধিক স্থানে হ্যান্ডেল ক্লিপ নেই। এলাকা ভেদে একই স্থানের ৮/১০টি স্লিপারের উভয়পাশের হ্যান্ডেল ক্লিপ কৌশলে ভেঙে বা খুলে ফেলা হয়েছে। সব মিলিয়ে না থাকা হ্যান্ডেল ক্লিপের সংখ্যা প্রায় এক হাজার।</p> <p>এ সময় উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামে রেললাইন সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাড়ি থেকে রেললাইনের দূরত্ব প্রায় এক শ গজ। ট্রেন চলাচল করলে ভূমিকম্পের মতো বাড়ি কাপতে থাকে। সম্প্রতি বাড়ির পেছনে রেললাইনে গিয়ে দেখি, বেশ কিছু স্লিপারের দুই পাশের হ্যান্ডেল ক্লিপ নেই। দেখে মনে হয়েছে লোহার ক্লিপগুলো চুরির উদ্দেশে কৌশলে খোলা হয়েছে।’</p> <p>তিনি আরো বলেন, ‘শত শত হ্যান্ডেল ক্লিপ এক দিনে চুরি হয়নি, নিশ্চয় দীর্ঘদিন ধরে রাতের আধারে এ কাজ করছে চোরচক্র। অথচ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কিছুই জানে না। বিষয়টি দুঃখজনক। এলাকাবাসীর নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত সময়ের মধ্যে হ্যান্ডেল ক্লিপ লাগানো হলে ঝুঁকিমুক্তভাবে চলাচল করতে পারবে সব ধরনের ট্রেন।’</p> <p>এলাকাবাসীর দাবি, স্লিপারের হ্যান্ডেল ক্লিপ চুরি বন্ধে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনা এড়াতে চুরি হওয়া হ্যান্ডেল ক্লিপের স্থানে দ্রুত নতুন ক্লিপ লাগাতে হবে। অন্যথায় দুর্ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতির দায় এড়াতে পারবে না রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।</p> <p>হ্যান্ডেল ক্লিপ চুরির বিষয়ে নওয়াপাড়া রেল স্টেশন মাস্টার মো. ইয়াসির আরাফাত বলেন, ‘বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পরলাম। এখনই যশোর রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাকে জানানো হবে। তবে স্লিপারের হ্যান্ডেল ক্লিপ চুরি বা ভেঙে ফেলার কারণে রেল দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে।’</p> <p>যশোর রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুমন ঘোষ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যশোর-খুলনা রেললাইনে হ্যান্ডেল ক্লিপ চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তকরণের কাজ চলছে। রেললাইন সংলগ্ন এলাকাবাসী সহযোগিতা করলে চোরচক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব। এ ছাড়া দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন হ্যান্ডেল ক্লিপ লাগানোর কাজ শুরু করা হবে। রেলওয়ের সম্পদ জনগণের সম্পদ, রক্ষার দায়িত্ব সবার।’</p>