অস্কারজয়ী মার্কিন অভিনেতা জিন হ্যাকম্যান ও তার স্ত্রী বেটসি আরাকাওয়াকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। নিউ মেক্সিকোতে নিজ বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে দুজনকে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দম্পতির পোষা কুকুরটিকেও মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
স্ত্রীসহ অস্কারজয়ী অভিনেতার লাশ উদ্ধার
- নিজ বাড়িতে দুজনের লাশ পাওয়া গেছে
- মৃত্যুর কারণ এখনও জানা যায়নি
- ক্যারিয়ারে দুইবার অস্কার জিতেছেন জিন হ্যাকম্যান
বিনোদন প্রতিবেদক

ভ্যারাইটির প্রতিবেদন অনুসারে, সান্তা ফে কাউন্টির শেরিফ আদান মেন্ডোজা জানিয়েছেন, বুধবার বিকেলে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। মেন্ডোজা এখনও তাদের মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করেননি।
৯৫ বছর বয়সী জিন হ্যাকম্যান একসময় একের পর এক ব্যর্থতায় নিজের ক্যারিয়ারের শেষ দেখতে পান।
ছয় দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে দুটি অস্কার, দুটি বাফটা, চারটি গোল্ডেন গ্লোব এবং একটি স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন জিন হ্যাকম্যান। ‘দ্য ফ্রেঞ্চ কানেকশন’, ‘সুপারম্যান’, ‘দ্য রয়্যাল টেনেনবাউমস’ এবং ‘আনফরগিভেন’ সিনেমার জন্য ভক্তরা তাকে অনেক দিন মনে রাখবে।
সম্পর্কিত খবর

স্ত্রীর ‘ডিভোর্স’, অভিনেতা স্বামী বললেন ‘মজা করেছে, আমরা একসঙ্গেই আছি’
বিনোদন ডেস্ক

এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে অভিনেতা সুদীপ মুখার্জির স্ত্রী পৃথা তাদের বিচ্ছেদের কথা ঘোষণা করেন। এর পরই তাদের অনুরাগীদের মন খারাপ। তবে ২৪ ঘণ্টা না কাটতেই সেই বিচ্ছেদে জল ঢাললেন ‘চিরসখা’ অভিনেতা। রসিকতা করে পৃথা বিচ্ছেদের কথা পোস্ট করেছিলেন বলে জানান তিনি।
রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে সুদীপ বলেন, ‘প্র্যাংক করে পৃথা গতকাল একটি পোস্ট করে। ডিভোর্সের কথা লেখে। আমি জানতাম না। কাল শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলাম।
বিচ্ছেদের জল্পনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আমরা একসঙ্গেই আছি। এটা নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। নেগেটিভ নিউজ নিয়ে বেশি ভাববেন না।’
বলে রাখা ভালো, সুদীপের ভিডিও বার্তা শেয়ার করার পরই গতকালের পোস্টটি ডিলিট করে দিয়েছেন পৃথা।
উল্লেখ্য, অভিনেত্রী দামিনী বেণি বসুর সঙ্গে প্রথমবার বিচ্ছেদের পর সুদীপ পৃথার সঙ্গে ঘর বাঁধেন।

‘তোমাদের গল্প’ থেকে ‘বরবাদ’: প্রশংসা কুড়াচ্ছে সিদ্দিক আহমেদের চিত্রনাট্য
বিনোদন প্রতিবেদক

এবারের ঈদে ছোট পর্দার আলোচিত কনটেন্ট ইউটিউব ফিল্ম ‘তোমাদের গল্প’। ইউটিউব ট্রেন্ডিংয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছে মোস্তফা কামাল রাজের এই নাটকটি। যৌথ পরিবারের মধ্যে বন্ধন অটুট থাকার গল্প নিয়ে দেড় ঘণ্টা দৈর্ঘ্যের এই ফিল্মটি দর্শকদের আবেগাপ্লুত করেছে।
আর এই আবেগাপ্লুত করার কারিগর সিদ্দিক আহমেদ।
‘তোমাদের গল্প’ প্রসঙ্গে সিদ্দিক আহমেদ বলেন, ‘রাজ ভাইয়ের সাথে আমার আপন ভাইয়ের মতো সম্পর্ক। আমি বানাই বা উনি, তাতে কোনো পার্থক্য দেখিনি।
এই চিত্রনাট্য করতে স্বাভাবিকের চেয়ে সময় বেশি লেগেছে তার। কাস্টিং হয়ে যাওয়ার বেশ পরে তিনি চিত্রনাট্য জমা দেন।
নির্মাণের পর দর্শকের অনুভূতি দেখে লেখক অবাক হয়েছেন। এই কৃতিত্ব তিনি দিতে চান পরিচালককে। তার ভাষায় মোস্তফা কামাল রাজ গল্পে বিশ্বাস করে না বানালে এই গল্প আলোর মুখ দেখত না। তা ছাড়া পরিচালক যোগ্য লোকেদের অভিনয়ে নিয়েছেন। আজকালকার কনটেন্টে তো দায়সারা কাস্টিং নেওয়া হয়। পরিচালকের পাশপাশি এই লেখক কৃতিত্ব দিতে চান মিউজিক ডিরেক্টরকে। লেখকের মতে, দর্শকের ইমোশন ধরতে মিউজিক খুব ভালো ভূমিকা রেখেছে।
লেখকের সঙ্গে কথায় কথায় জানা গেল তিনি ঈদে আলোচিত ‘বরবাদ’ সিনেমার চিত্রনাট্যেও কাজ করেছেন। স্ক্রিনে নাম নেই কেন জানতে চাইলে তিনি সরল ভঙ্গিতে জানালেন, সম্ভবত পরিচালক আমাকে যোগ্য ভাবেননি। এরপর এ প্রসঙ্গে সিনেমাটির পরিচালক মেহেদি হাসান হৃদয় বলেন, ভারত থেকে ভুল ডিসিপি আসায় উনার (সিদ্দিক আহমেদ) নাম ভুল করে বাদ পড়েছে। আমরা পরবর্তীতে ওটিটি ও অনলাইনে চিত্রনাট্যকার হিসাবে উনার নাম যুক্ত করব।
চলতি বছরের ‘ফেউ’ ওয়েব সিরিজের চিত্রনাট্য করেছেন তিনি, মুক্তির অপেক্ষায় আছে তার চিত্রনাট্যের সিনেমা ‘রইদ’, যেটি পরিচালনা করেছেন ‘হাওয়া’ খ্যাত নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন। এ ছাড়া ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’, ‘টান’ এবং ‘ওমর’ সিনেমার চিত্রনাট্য করেছেন তিনি।
নতুন কাজ প্রসঙ্গে সিদ্দিকের ভাষ্য, ‘আমি মূলত লেখক, এখন বইয়ের কাজ করছি। চিত্রনাট্যেও করছি ওটিটি ও সিনেমার জন্য করছি। নিজে যেহেতু নির্মাণ একাধিক সিনেমা ও ওয়েব কনটেন্ট নিয়ে আলোচনা চলছে প্রযোজকদের সঙ্গে।’
চিত্রনাট্যকার সিদ্দিক আহমেদ নির্মাণেও মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। অমনিবাস চলচ্চিত্র ‘জাগো বাহে’র ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তৈরি ‘শব্দের খোয়াব’ তার সৃষ্টি। পুরান ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের গল্পে নির্মাণ করেছেন ক্রাইম থ্রিলার ধাঁচের ওয়েব সিরিজ ‘অগোচরা’।

দর্শক হাসিয়ে কোটি কোটি আয়, সবচেয়ে ধনী ‘কমেডিয়ান’ কে?
বিনোদন প্রতিবেদক

উপমহাদেশে সিনেমাপ্রেমীদের বরাবরই বিনোদনের সর্বোচ্চটুকু নিংড়ে দিয়েছেন কৌতুকাভিনেতারা। পর্দায় তাদের উপস্থিতির জন্য মুখিয়ে থাকেন দর্শকরা। হাসি ঠাট্রায় মাতিয়ে রাখেন একটি সিনেমাকে। বিশেষ করে ভারতীয় সিনেমায় কমেডিয়ানজের ভূমিকা থাকে জোরালো।
বর্তমান সময়ে জনপ্রিয় কমেডিয়ানদের কথা উঠলেই আমাদের মাথায় ঝট করে ভেসে ওঠে জনি লিভার, বীর দাস, কপিল শর্মা, ভারতী সিং এবং জাকির খানের নাম। বছরের পর বছর ধরে কমেডি শিল্প শীর্ষস্থানীয় বিনোদন মাধ্যমগুলোর মধ্যে অন্যতম স্থান দখল করে রেখেছে।
ভারতীয় রিপোর্ট অনুসারে, তেলেগু সিনেমার পরিচিত মুখ ব্রহ্মানন্দম কান্নেগান্তি ভারতের সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক। ব্রহ্মানন্দম তার অসাধারণ কমিক টাইমিংয়ের জন্য বিখ্যাত। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, তিনিই ভারতের সবচেয়ে ধনী কৌতুকশিল্পী, যার মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।
নিউজ ২৪ বিড-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রহ্মানন্দমের আনুমানিক মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৫০৫ কোটি টাকা (৬০ মিলিয়ন ডলার), যদিও পলিটিক্যাল ডটকম এবং সিয়াসাত ডটকমের রিপোর্ট অনুসারে এই পরিমাণ ৪৯০ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রহ্মানন্দমের মোট সম্পত্তির পরিমাণ কপিল শর্মা এবং জনি লিভারের মতো জনপ্রিয় কৌতুকশিল্পীদের চেয়েও বেশি। ভারতের অন্যান্য কমেডিয়ানদের মধ্যে কেউই তাঁর কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেননি। ২০১২ সালে অনেক জনপ্রিয় নায়কের চেয়েও বেশি পারিশ্রমিক পেতেন ব্রহ্মানন্দম। এ বছরই সবচেয়ে বেশি সিনেমায় পর্দায় উপস্থিতির জন্য গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম ওঠে তার।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন কপিল শর্মা। তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩০০ কোটি টাকা। কমেডি সার্কাস দিয়ে সর্বাধিক জনপ্রিয়তা পাওয়া কপিল নিজের ‘কপিল শর্মা’ শো দিয়ে পৌঁছে যান খ্যাতির চূড়ায়। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। অর্থ ও তারকাখ্যাতি প্রতিনিয়ত তার কাছে ধরা দিয়েছে। বর্তমানে ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী তারকা তিনি।
অন্যদিকে চার দশক ধরে দর্শকদের হাসিয়ে আসা অভিনেতা জনি লিভারের সম্পত্তির পরিমান ২৮০ কোটির মতো। বাকী কমেডিয়ানদের সম্পদের পরিমান এই তিন কমেডিয়ানের চেয়ে অনেকটাই কম। এ প্রজন্মের জনপ্রিয় কমেডিয়ান বীর দাসের সম্পদের পরিমান ৮২ কোটি টাকা। রাজপাল যাদবের রয়েছে ৮০ কোটি টাকার সম্পদ।

‘বরবাদ’-এর পরিচালক ও সিনেমাটোগ্রাফারের ‘ভুল-বোঝাবুঝি’
ইমরুল নূর

ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত শাকিব খানের বহুল আলোচিত সিনেমা ‘বরবাদ’ দেশ জুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। রাজধানী থেকে শুরু করে রাজধানীর বাইরেও সিনেমাটি দেখতে সিনেমাহলে উপচে পড়ছে দর্শক।
এর মধ্যে রবিবার সকালে সিনেমাটির ভারতীয় সিনেমাটোগ্রাফার শৈলেশ আওয়াস্থি আপত্তি জানান। তার দাবি, ‘বরবাদ’ সিনেমার প্রকৃত সিনেমাটোগ্রাফার তিনিই।
তিনি আরো লিখেছিলেন, ‘আমি আমার শতভাগ এফোর্ট এবং সৃজনশীল সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বরবাদ সিনেমাটা তৈরি করেছিলাম। পুরো ছবিতেই আমার সৃজনশীল ভূমিকা ছিল।
যদিও কিছুক্ষণ পর সেই পোস্টটি সরিয়ে ফেলা হয়। এরপর আরো একটি স্ট্যাটাস দেন শৈলেশ আওয়াস্থি, যেখানে তিনি জানান, সিনেমাটির পরিচালকের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং পুরোটাই ছিল তাদের দুজনের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি।
এই বিষয়ে ‘বরবাদ’ পরিচালক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার সিনেমার প্রধান সিনেমাটোগ্রাফারই হচ্ছে শৈলেশ আওয়াস্থি।
এই বিষয়ে জানতে শৈলেশ আওয়াস্থির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মুম্বাই থেকে মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে যে ইস্যু ছিল সেটির সমাধান হয়ে গেছে।’
মেহেদি হাসান হৃদয়ের ওপর কোনো অভিযোগ নেই জানিয়ে এই সিনেমাটগ্রাফার আরো বলেন, ‘হৃদয়ের ওপর আমার কোনো অভিযোগ নেই। যা হয়েছিল সেটা যোগাযোগের অভাব। হৃদয় আমার ছোট ভাই, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ফেডারেশনের কিছু নিয়ম-কানুন রয়েছে যা সে আমাকে বলেছে এবং সেটা আমি বুঝেছি। যেহেতু আপনাদের ফিল্ম ফেডারেশনের নিয়ম, তাই স্থানীয় সিনেমাটোগ্রাফারকে কৃতিত্ব দিতে হবে। আমার এতে কোনো আপত্তি নেই।’
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের রিয়েল এনার্জি প্রডাকশন এবং ভারতের রিধি সিধি এন্টারটেইনমেন্টের ব্যানারে আজিম হারুন ও শাহরিন আক্তার সুমি প্রযোজনা করেছেন সিনেমা ‘বরবাদ’। সিনেমার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাকিব খান, কলকাতার ইধিকা পাল, যিশু সেনগুপ্ত।