মানবদেহের জন্য লিভার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কিছু খাবার নিয়মিত খেলে সেগুলো লিভারের ক্ষতি করতে পারে। পাশাপাশি খাবারগুলো আপনার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক খাবারগুলো কী কী।
মানবদেহের জন্য লিভার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কিছু খাবার নিয়মিত খেলে সেগুলো লিভারের ক্ষতি করতে পারে। পাশাপাশি খাবারগুলো আপনার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক খাবারগুলো কী কী।
মদ
প্রচুর পরিমাণে মদ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। মদ লিভারের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এ ছাড়া মদ ফ্যাটি লিভার বা লিভার সিরোসিসের মতো রোগ সৃষ্টি করতে পারে। তাই আগেই সতর্ক হয়ে যান।
ভাজা খাবার
প্রতিদিন তেলে ভাজা খাবার খেলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমে। পরবর্তী সময়ে লিভারে চর্বি জমে যায়, যা ফ্যাটি লিভারের কারণ হতে পারে। এটি পেটে প্রচণ্ড যন্ত্রণা সৃষ্টি করে লিভারের ক্ষতি করতে পারে।
প্রক্রিয়াজাত খাবার
প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন ফাস্ট ফুড, কনফেকশনারি ও অতিরিক্ত লবণ বা চিনি জাতীয় খাবার লিভারের ওপর চাপ তৈরি করে।
কোল্ডড্রিংকস
প্রচুর পরিমাণে চিনি ও সোডা খাওয়া লিভারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। যার ফলে লিভারে চর্বি জমতে পারে। কোল্ডড্রিংকস বা সোডা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ এটি লিভারের বড় ধরনের রোগ সৃষ্টি করতে পারে।
লবণ
অতিরিক্ত পরিমাণে লবণ খাওয়া লিভারের জন্য ক্ষতিকর। এটি লিভারের সমস্যা তৈরি করে এবং পেটে পানি জমে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়।
সূত্র : আজতাক বাংলা
সম্পর্কিত খবর
পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (পিসিওএস) বর্তমানে মেয়েদের সাধারণ একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের প্রায় ৮-১৩% মহিলা এই সমস্যায় ভুগছেন। তবে সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হল কিশোরীদের মধ্যে পিসিওএস-এর বৃদ্ধি। খুব অল্প বয়সে ঋতুমতী হওয়ার পাশাপাশি বয়ঃসন্ধির সময় পিসিওএস-এর সমস্যাও দেখা দিচ্ছে।
পিসিওএস-এর উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে অনিয়মিত ঋতুস্রাব, পিরিয়ডের সময় তলপেটে তীব্র ব্যথা, ওজন বাড়া, ব্রণ, মুখে ও বুকে লোমের আধিক্য, চুল পড়া। এছাড়া হাই কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়া্টিবেসের মতো ঝুঁকিও বাড়ে। ভবিষ্যতে গর্ভধারণে সমস্যা ও এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
চিকিৎসকরা বলছেন, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এর জন্য দায়ী।
পিসিওএস থাকলে কী কী খাবার এড়িয়ে চলবেন:
প্রক্রিয়াজাত বা প্যাকেটজাত খাবার,
ময়দা এবং ময়দার তৈরি খাবা্র,
ডুবো তেলে ভাজা খাবার,
সয়াবিন,
চিনি যুক্ত খাবার,
চিপস,
সল্টেড পপকর্ন,
কোল্ড ড্রিংকস বা এনার্জি ড্রিংকস,
কফি,
ফুল ফ্যাট দুধ-চিজ-মেয়োনিজ,
রেড মিট-ডিমের কুসুম।
পিসিওএস থাকলে কী খাবেন:
ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যেমন ওটস, ব্রাউন রাইস,
ফল-শাকসবজি-মাছ,
ফ্যাটহীন প্রোটিন যেমন মুরগির বুকের মাংস, ডাল,
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার যেমন চিয়া সিড, ফ্ল্যাক্স সিড, আখরোট।
সূত্র : এই সময়
দাঁত পরিষ্কার ও মুখের স্বাস্থ্যবিধি স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা আপনাকে সুস্থ রাখে। কিন্তু যদি আপনি মনে করেন যে দাঁত পরিষ্কার করা কেবল আপনার মুখের স্বাস্থ্যবিধির সঙ্গে সম্পর্কিত, তাহলে আপনি ভুল। আসলে, আপনার মুখের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সরাসরি আপনার হৃদরোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
রাতে ঘুমানোর আগে ব্রাশ করা কেবল দাঁত পরিষ্কারের জন্যই নয়, বরং আমাদের হার্টকে সুস্থ রাখার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া মাড়ির রোগ হৃদরোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। দাঁতের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার যত্ন না নিলে মাড়ির রোগ হতে পারে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
রাতে দাঁত ব্রাশ করা কেন গুরুত্বপূর্ণ
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর দাঁত পরিষ্কার করা প্রায়শই মানুষের দৈনন্দিন রুটিনের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু রাতে ব্রাশ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। রাতে ব্রাশ করলে আপনার দাঁত ও মাড়ি সুস্থ থাকে এবং হৃদরোগ সংক্রান্ত সমস্যা থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়।
দিনের বেলায় মুখে থাকা লালাগ্রন্থি থেকে যে লালা নিঃসৃত হয় সেটি ক্যালসিয়ামের সঙ্গে মিশে যাওয়ার ফলে মুখের এসিড হ্রাস পায়। এর ফলে দাঁত ক্ষয় হওয়া থেকে রক্ষা পায়। কিন্তু রাতে লালা কম ক্ষরণ হয়।
রাতে ব্রাশ করলে মুখে থাকা ব্যাকটেরিয়াগুলো মারা যায়। তাই মুখ থেকে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া কমাতে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ব্রাশ করা জরুরি।
রাতে ব্রাশ না করলে মুখে দুর্গন্ধ হয়, মাড়িতে সংক্রমণ, রক্ত পড়া ও ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। আর দাঁত না ব্রাশ করে ঘুমাতে গেলে প্লাক জমাট বেঁধে শক্ত হওয়া শুরু করে। এতে দাঁতের মারাত্মক ক্ষতি হয়।
তাই রাতের খাবারের পর শুধু গার্গল করাই যথেষ্ট নয়। মুখ ধুয়ে ফেলা এবং রাতের খাবারের সময় থেকে অবশিষ্ট কণা দূর করার জন্য প্রয়োজন দাঁত ব্রাশ করা। সুতরাং, রাতে আগেভাগে খাবার খাওয়াই যথেষ্ট নয়। বরং এরপর দাঁত ব্রাশ করে ঘুমাতে যাওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
যশোরের একটি মুরগির খামারে শনাক্ত হয়েছে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু। ২০১৮ সালের পর গত ১২ মার্চ বাংলাদেশে এই ফ্লু শনাক্ত হলো। এতে উদ্বেগ বাড়ছে খামারিদের মাঝে। শনাক্তের পরপরই বার্ড ফ্লু প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার।
বার্ড ফ্লুর আদ্যোপান্ত
মূলত, বার্ড ফ্লু একটি সংক্রামক রোগ। যা প্রাথমিকভাবে পাখিদের সংক্রমিত করে। কিন্তু এই সংক্রামকগুলো মানুষকেও প্রভাবিত করতে সক্ষম। এই শ্রেণির একটি মারাত্মক ও সবচেয়ে সাধারণ সাব টাইপ হলো এইচ৫এন১ ভাইরাস।
বাহকের সংস্পর্শে এলে এই রোগটি মানুষ ও অন্য প্রাণীদের মধ্যে ছড়িয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশ, ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়া, মিসর ও ভিয়েতনামের মতো দেশে বার্ড ফ্লু উল্লেখযোগ্যভাবে পাওয়া গেছে।
বার্ড ফ্লু কী
বার্ড ফ্লু বিভিন্ন ধরনের পাখিকে প্রভাবিত করে এবং বেশির ভাগই মুরগি, গিজ, টার্কি, হাঁস ইত্যাদির মতো খামার করা হাঁস-মুরগিতে দেখা গেছে। এইচ৫এন১ ভাইরাস তাদের লালা, মল, খাবার ও নাকের নিঃসরণের মাধ্যমে সহজেই পাখিদের মধ্যে পাস করতে দেখা যায়। এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লু ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের স্ট্রেন এ দ্বারা সৃষ্ট হয় এবং বেশির ভাগই অসুস্থ পাখির মাধ্যমে সংক্রামিত হয়।
বার্ড ফ্লুর লক্ষণ
এইচ৫এন১ ভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তির কিছু গুরুতর লক্ষণ দেখা দিতে পারে। ইনকিউবেশন সময়কাল সাধারণত ২ থেকে ৮ দিনের মধ্যে থাকে এবং প্রকারের ওপর নির্ভর করে ১৭ দিন পর্যন্ত চলতে পারে। যারা সাধারণত ফ্লু লক্ষণ এবং উপসর্গগুলোর মধ্যে ভুগছেন তাদের এই সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে যার মধ্যে রয়েছে—
বার্ড ফ্লুর কারণ
বার্ড ফ্লু সাধারণত বন্য জলপাখির মধ্যে ঘটে। তারপর মুরগি, হাঁস, টার্কি ও গিজ জাতীয় মুরগির মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। রোগাক্রান্ত পাখির সংস্পর্শে আসার পর মানুষ এই সংক্রমণের বিকাশ ঘটাতে পারে। একজন ব্যক্তির সংক্রামিত হওয়ার সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
বার্ড ফ্লুর চিকিৎসা
বিভিন্ন ধরনের বার্ড ফ্লু বিভিন্ন উপসর্গের দিকে পরিচালিত করে। চিকিৎসার দৈর্ঘ্য অবস্থার তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। তার ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হবে। চিকিৎসা অবিলম্বে এবং সঠিক হওয়া দরকার। কারণ এই রোগটি যেকোনো সময় মারাত্মক হতে পারে।
বার্ড ফ্লু প্রতিরোধ
যদিও বার্ড ফ্লু ছড়িয়ে পড়া থেকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে সচেতনতা বৃদ্ধি অবশ্যই সম্প্রদায়গুলোকে সম্ভাব্য সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রস্তুত ও লড়াই করতে সহায়তা করতে পারে। এ ছাড়া আরো কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা যেতে পারে।
একজন মানুষ সাধারণত বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয় না, যদি না তিনি পোল্ট্রি বা খামারের পাখির সংস্পর্শে না আসেন। তা সত্ত্বেও প্রাথমিক লক্ষণ ও উপসর্গগুলোতে মনোযোগ দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি খামারে সাম্প্রতিক ভ্রমণের পরে বা বার্ড ফ্লু প্রাদুর্ভাবের জায়গায় অসুস্থ বোধ করেন তবে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
শরীরে কোনো ভিটামিনের অভাব হওয়াই স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো নয়। এর মধ্যে ভিটামিন সি- এর ঘাটতি দেখা দিলে দুর্বল হয়ে পড়ে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। তার ফলে একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে সহজে এবং ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে পড়বেন আপনি।
ভিটামিন সি-এর অভাব স্বাস্থ্যের এই অবনতিগুলো সবার আগে ঘটিয়ে ফেলে। এ ছাড়া দাঁত ও দাঁতের মাড়ির ক্ষেত্রেও ভিটামিন সি-এর অভাব বেশ ভালোরকম প্রভাব ফেলে। একাধিক সমস্যা দেখা যায় দাঁত ও মাড়িতে।
ভিটামিন সি-এর অভাব শরীরে থাকলে দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্যের কিভাবে অবনতি হয়, দেখে নিন একনজরে—
দাঁত ব্রাশ করার সময় অনেকসময়েই দেখা যায় মাড়ি থেকে রক্ত পড়ছে। এই সমস্যা অবহেলা করবেন না। ভিটামিন সি-এর ঘাটতি থাকলে এই সমস্যা দেখা যাবে। মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে ভিটামিন সি-এর পরিমাণ শরীরে ঠিক মাত্রায় পড়ছে কি না, সেদিকে নজর দিন।
ভিটামিন সি-এর অভাব আপনার শরীরে থাকলে দাঁত ব্রাশ করার সময় যদি একটুও জোরে চাপ পড়ে যায় তাহলে রক্ত বের হতে পারে। তাই এমনিতেও কখনোই ঘুব জোরে ঘষে কিংবা চাপ দিয়ে দাঁত ব্রাশ করবেন না। এ ছাড়া মাড়ি পরিষ্কারের সময় ব্রাশ ব্যবহার করবেন না।
ভিটামিন সি-এর ঘাটতি থাকলে মাড়ি থেকে রক্ত পড়তে পারে। এর পাশাপাশি মাড়িতে ক্ষত হতে পারে, এমনকি ঘা হতে পারে।
ভিটামিন সি-এর ঘাটতি দূর করতে কী করবেন
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটাই সাইট্রাস ফল প্রতিদিন খেতে পারলেই ঘাটতি অনেকটা কমে যাবে। উপকার পাবেন আপনি। যেকোনো লেবুজাতীয় ফল, কিছু না পেলে সাধারণ পাতিলেবু, এ ছাড়া গ্রেপফ্রুটস, তরমুজ, কমলালেবু - এসব ফল খেতে পারেন। এগুলোর সবকটিতেই প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে, যা আমাদের শরীরের ভিটামিন সি-এর ঘাটতি কমাবে।
একটানা অনেক দিন ধরে মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। শুধু ব্রাশ করার সময় নয়, শক্ত কিছু চিবিয়ে খাওয়ার সময়, কামড়ে খাওয়ার সময়েও মাড়ি থেকে রক্ত পড়তে পারে। তাই সতর্ক থাকুন।
সূত্র : এবিপি লাইভ