ঢাকা, রবিবার ০৬ এপ্রিল ২০২৫
২৩ চৈত্র ১৪৩১, ০৬ শাওয়াল ১৪৪৬

ঢাকা, রবিবার ০৬ এপ্রিল ২০২৫
২৩ চৈত্র ১৪৩১, ০৬ শাওয়াল ১৪৪৬

মুক্তিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনিদের দেহে এবারও নির্যাতন ও অপুষ্টির চিহ্ন

আলজাজিরা
আলজাজিরা
শেয়ার
মুক্তিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনিদের দেহে এবারও নির্যাতন ও অপুষ্টির চিহ্ন
একজন ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি পাওয়ার পর ২৭ ফেব্রুয়ারি গাজার খান ইউনিসে ইউরোপীয় হাসপাতলে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ছবি : এএফপি

ইসরায়েলি কারাগার থেকে বৃহস্পতিবার শত শত ফিলিস্তিনি যুদ্ধবিরতির চুক্তির অংশ হিসেবে গাজায় মুক্তি পেয়েছে। এবারও তাদের মধে অপুষ্টি ও নির্যাতনের চিহ্ন দেখা গেছে।

এদিন ছয় শতাধিক ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর ইসরায়েল জানায়, হামাস চার বন্দির মৃতদেহ কফিনে করে হস্তান্তর করেছে।

এ ছাড়া ইসরায়েল দুই ফিলিস্তিনি নারী ও ৪৪ শিশুর মুক্তি স্থগিত করেছে। এটি ছিল হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির চুক্তির প্রথম পর্বের শেষ নির্ধারিত বন্দি ও জিম্মি বিনিময়।

মুক্তিপ্রাপ্তদের অনেককে গুরুতর আঘাতের কারণে খান ইউনিসের ইউরোপীয় হাসপাতালের দিকে অ্যাম্বুল্যান্সে নিয়ে যাওয়া হয়। অনেক ফিলিস্তিনিকে মিসর ও পশ্চিম তীরে পাঠানো হয়েছে।

আলা আল-বায়ারি গাজা সিটিতে মুক্তি পাওয়ার পর আলজাজিরাকে জানান, ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি থাকার সময় তারা নির্যাতন, পেটানো, অপমান ও যত কিছু কল্পনা করা যায় তার সবই দেখেছেন। মুক্তি পাওয়ার পর এদিন তিনি তার এক বছর বয়সী মেয়েকে প্রথমবারের মতো দেখেন।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের নগ্ন করে রাখা হতো, পানি ছিটানো হতো, তারপর বিদ্যুৎ দিয়ে নির্যাতন করা হতো।’

অন্যদিকে রামাল্লায় মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনি বন্দি ইয়াহিয়া শ্রিদা ইসরায়েলি কারাগারকে কবরস্থান হিসেবে বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মনে হচ্ছে যেন আমাদের নিজের কবর থেকে তুলে আনা হয়েছে। কোনো বন্দি তাদের মুক্তি দুবার বিলম্বিত হওয়ার অভিজ্ঞতা পায়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যা যন্ত্রণা ভোগ করেছি, তা এমন কিছু, যা পাহাড়ও বহন করতে পারে না। এটা ব্যাখ্যা করা খুবই কঠিন; আমরা যা ভোগ করেছি, তা বলা খুবই কঠিন।

আলজাজিরার তরিক আবু আযম গাজা থেকে প্রতিবেদন করতে গিয়ে জানান, কিছু ফিলিস্তিনির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাটা ছিল এবং অন্যরা ইসরায়েলি নির্যাতনের কারণে গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন। অনেক ফিলিস্তিনি তাদের মুক্তিপ্রাপ্ত প্রিয়জনকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে। মুক্তিপ্রাপ্তরা নিশ্চিত করেছে, ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর হাতে সবচেয়ে নির্মম নির্যাতনের পদ্ধতি প্রত্যক্ষ করেছে তারা।

কুদস নিউজ নেটওয়ার্কের শেয়ার করা ফুটেজে দেখা গেছে, পরিবার সদস্য ও মুক্তিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনিরা গাজায় পৌঁছনোর পর কাঁদছে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ফিলিস্তিনি তার মুক্তি পাওয়া আত্মীয়র অপুষ্ট অবস্থা দেখে শোক করছেন আর বলছেন, ‘পার্থক্যটা দেখো, হে সৃষ্টিকর্তা!’

পশ্চিম তীরের জেনিন শহরে এক পুনর্মিলনীর ফুটেজে দেখা যায়, বেশ কয়েক বছরের কারাবাস থেকে মুক্তি পেয়ে লুয়াই সাবনেহ তার ছেলে জাবালকে প্রথমবারের মতো দেখছেন।

এর আগে হামাস চার জিম্মির মৃতদেহ রেড ক্রসের মাধ্যমে ইসরায়েলকে হস্তান্তর করে। ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জোগ বলেছেন, মৃতদেহগুলোকে ওহাদ ইয়াহালোমি, সাচি ইদান, ইতজিক এলগারাত এবং শ্লোমো মানতজুর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনী গোষ্ঠীটি যুদ্ধবিরতির চুক্তির প্রতি তাদের ‘সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতি’ পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং দ্বিতীয় পর্বের জন্য আলোচনা শুরু করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, বন্দিদের মুক্তি বাধাগ্রস্ত করতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের চেষ্টা ‘ব্যর্থ’ হয়েছে। এর অর্থ, দ্বিতীয় পর্বের যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য আলোচনায় বসা ছাড়া তাদের ‘আর কোনো বিকল্প‘’ নেই।

এ ছাড়া ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর হওয়া নির্যাতনের কথা উল্লেখ না করেই গোষ্ঠীটি অন্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, ‘ইসরায়েলি জিম্মিদের’ বিষয়ে তাদের দ্বৈত মানদণ্ড বন্ধ করতে হবে।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

যুক্তরাষ্ট্রে ঝড়ে নিহত ১৬, ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা

এএফপি
এএফপি
শেয়ার
যুক্তরাষ্ট্রে ঝড়ে নিহত ১৬, ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা
৩ এপ্রিল ২০২৫ যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকির লুইসভিলে টর্নেডোয় বিধ্বস্ত একটি ভবনের ধ্বংসাবশেষ দেখা যাচ্ছে। ছবি : এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পূর্বাঞ্চলে মারাত্মক ঝড়ে কমপক্ষে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা স্থানীয় সময় শনিবার আগামী দিনগুলোয় আকস্মিক ভয়াবহ বন্যার সতর্কতা জারি করেছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অঞ্চলটিতে বেশ কয়েকটি টর্নেডো হয়েছে। আরকানসাস থেকে ওহাইও পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় ঝড়ের ফলে বহু ভবন-স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত ও রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে।

প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টেনেসি। অঙ্গরাজ্যটির কর্তৃপক্ষ শনিবার জানিয়েছ, অঙ্গরাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে ১০ জন মারা গেছে।

এ ছাড়া কেনটাকিতে বন্যায় এক শিশুসহ দুজন প্রাণ হারিয়েছে বলে অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যান্ডি বেশিয়ার জানিয়েছেন। শিশুটি বন্যার পানির তোড়ে ভেসে গেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় গণমাধ্যমে শেয়ার করা ছবিতে বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ঝড়ের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে। ঘরবাড়ি, গাছপালা ও বিদ্যুতের লাইন ভেঙে পড়ে গাড়ি উল্টে যেতে দেখা গেছে।

জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, রবিবার মধ্য-পূর্ব অঞ্চলের কিছু অংশে মারাত্মক ও ব্যাপক আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা থাকায় জীবন ও সম্পত্তির চরম ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে মিসৌরিতে দুজন ও ইন্ডিয়ানাতে একজনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

অঙ্গরাজ্যের জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘চলমান তীব্র আবহাওয়ায় আরকানসাসের লিটল রকের একটি বাড়িতে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মৃতদেহ পাওয়া গেছে।’

কেন্টাকির গভর্নর বেশিয়ার শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মধ্যমে তার অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দাদের ‘ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে ও পানির ভেতর দিয়ে গাড়ি না চালানোর’ আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট পাওয়ারাআউটেজে জানানো হয়েছে, রবিবার ভোর পর্যন্ত আরকানসাস ও টেনেসিতে লক্ষাধিক গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল।

এনডব্লিউএস শনিবার জানায়, রবিবার টেনেসি উপত্যকা ও লোয়ার মিসিসিপি উপত্যকার কিছু অংশে ‘মারাত্মক বজ্র ঝড়সহ’ মাঝারি থেকে তীব্র টর্নেডো তৈরি হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে জলবায়ুর স্বাভাবিক ধারা ও পানিচক্রে বিরূপ প্রভাব পড়ছে, যার ফলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরো ঘন ঘন এবং আরো বিধ্বংসী হয়ে উঠছে।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড পরিমাণ উচ্চ তাপমাত্রা লক্ষ করা গেছে। পাশাপাশি দেশটিতে একের পর এক টর্নেডো ও ধ্বংসাত্মক হারিকেন আঘাত হেনেছে।

মন্তব্য

দক্ষিণ কোরিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, পাইলট নিহত

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
দক্ষিণ কোরিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, পাইলট নিহত
দক্ষিণ কোরিয়ায় ২৫ মার্চ দাবানল নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার থেকে পানি ছোড়া হচ্ছে। ছবি : এএফপি

দক্ষিণ কোরিয়ায় রবিবার একটি অগ্নিনির্বাপণ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দেগু শহরে পাহাড়ে আগুন নেভানোর সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এএফপি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

এই দুর্ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন দেশটি গত মাসেই ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলের মুখোমুখি হয়েছিল।

সরকারিভাবে প্রকাশিত তথ্য মতে, ওই দাবানলে ৩০ জন নিহত হয় এবং ৪৮ হাজার হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে যায়।

এএফপি দেগু ফায়ার ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে। ইয়োনহাপ বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, শুধু পাইলট বহনকারী হেলিকপ্টারটি ‘অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে একটি অভিযানের সময় বিধ্বস্ত হয়’। 

প্রতিবেদন অনুসারে, গত এক মাসে অগ্নিনির্বাপণ অভিযানে ব্যবহৃত হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট নিহত হওয়ার এটি দ্বিতীয় ঘটনা।

ইয়োনহাপ জানিয়েছে, রবিবারের অগ্নিকাণ্ডটি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, যা মার্চ মাসের দাবানল থেকে আলাদা।

গত মাসের দাবানল প্রবল বাতাস ও অতি দ্রুত শুষ্ক হয়ে যাওয়া পরিবেশের কারণে আরো ভয়াবহ রূপ নেয়। ওই অঞ্চলটিতে কয়েক মাস ধরেই স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। এর আগে ২০২৪ সাল দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে রেকর্ড করা হয়।

ওই দাবানলে কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থাপনাও ধ্বংস হয়ে যায়, যার মধ্যে রয়েছে ইওইসেওং এলাকায় সপ্তম শতকে নির্মিত বলে ধারণা করা গৌনসা মন্দির কমপ্লেক্স।

মন্তব্য

শেঙেন ভিসার জন্য অর্থ নেওয়ার অভিযোগে আটক ২ বাংলাদেশি

ইনফোমাইগ্রেন্টস
ইনফোমাইগ্রেন্টস
শেয়ার
শেঙেন ভিসার জন্য অর্থ নেওয়ার অভিযোগে আটক ২ বাংলাদেশি
প্রতীকী ছবি : এএফপি

শেঙেন ভিসা প্রতারণার অভিযোগে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশি অভিবাসীকে আটক করেছে ইতালির পুলিশ। এই দুজন ইতালির ভিসা যোগাড় করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আরেক বাংলাদেশি নাগরিকের কাছ থেকে ১৬ হাজার ইউরো হাতিয়ে নিয়েছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীকে ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে এই অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বিনিময়ে তাকে ‘ওয়ার্ক পারমিট ভিসা’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।

কিন্তু অর্থ দেওয়ার পর ভুক্তভোগী জানতে পারেন, নির্দিষ্ট ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কোথাও জমা দেওয়া হয়নি। এরপর অভিযুক্তরা তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে অদৃশ্য হয়ে যান। 

এমন পরিস্থিতি ইতালির বোলোগনা অঞ্চলের পাবলিক প্রসিকিউটরের অফিসে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী বাংলাদেশি অভিবাসী। 

২০২৪ সালের শুরুতে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের মাধ্যমে জমা হওয়া ভুয়া নথির উচ্চ সংখ্যার প্রতিক্রিয়ায় ইতালি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়া সাময়িক স্থগিত করেছিল।

ইতালি কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি এই ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে বিদেশিদের সতর্ক করেছে, বিশেষ করে ভুয়া ভিসা আবেদনের বিষয়ে। কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে, ভিসা শুধু অফিশিয়াল চ্যানেল, অর্থাৎ ভিসা সেন্টার ও দূতাবাসের মাধ্যমে ইস্যু হয়ে থাকে। এর বিপরীত ঘটনা দেখা গেলে অবিলম্বে পুলিশকে অবহিত করা উচিত। 

এদিকে কৃষিসহ বিভিন্ন ভিসা নিয়ে এই ধরনের অনিয়ম ইতালিতে নতুন কিছু নয়।

এরকম আরেকটি ঘটনায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইতালি কর্তৃপক্ষ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। এদের বিরুদ্ধে ভুয়া নথি তৈরি ও নকল বিয়ের মাধ্যমে রেসিডেন্স ও ওয়ার্ক পারমিট পেতে অর্থ দাবি করার অভিযোগ রয়েছে।

২০২৩ সালে বাংলাদেশিরা শেঙেন ভিসার জন্য সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা দিয়েছিল ঢাকার ইতালি দূতাবাসে, যেখানে ৩৯ হাজার ৭২৯টি ভিসা আবেদনের মধ্যে ৩৪ শতাংশ আবেদন ইতালির জন্য জমা দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে ২০২৪ সালে বাংলাদেশিদের জন্য ইতালির ভিসা অনুমোদনের হার ছিল মাত্র ৪০ শতাংশ। এতে বোঝা যায়, ইতালি বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে কম ভিসা অনুমোদনকারী দেশগুলোর মধ্যে একটি।

মন্তব্য

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনাকে ‘অর্থহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান ইরানের

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনাকে ‘অর্থহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান ইরানের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পতাকা উড়ছে। ফাইল ছবি : এএফপি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনাকে ‘অর্থহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা পছন্দ করবেন বলে মন্তব্য করার পর সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই মন্তব্য করলেন। তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

ট্রাম্প গত মাসে ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য তেহরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তবে কূটনীতি ও আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানে বোমা হামলার হুমকিও দেন ট্রাম্প। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বৃহস্পতিবার জানান, তিনি ইরানের সঙ্গে ‘সরাসরি আলোচনা’ করতে আগ্রহী। তিনি যুক্তি দেন, ‘আমি মনে করি, এটি দ্রুত এগোবে এবং আপনি অন্য পক্ষকে অনেক ভালোভাবে বুঝতে পারবেন, যদি আপনি মধ্যস্থতাকারীদের বাদ দিয়ে সরাসরি কথা বলেন।’

তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবার বললেন, ‘যে পক্ষ জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘন করে বলপ্রয়োগের হুমকি দেয় এবং তার বিভিন্ন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরস্পরবিরোধী অবস্থান প্রকাশ করে, তাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হবে অর্থহীন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, ‘আমরা কূটনীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পরোক্ষ আলোচনার পথ চেষ্টা করতে প্রস্তুত।’

আরাঘচি বলেন, ‘ইরান সম্ভাব্য সব ঘটনার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখে। কূটনীতি ও আলোচনার ক্ষেত্রে যেমন গুরুত্বারোপ করে, তেমনি জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বারোপ করবে।’

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান শনিবার বলেছেন, তার দেশ ‘সাম্যের ভিত্তিতে’ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিতে আগ্রহী।

তিনি আলোচনার আহ্বানে ওয়াশিংটনের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘যদি আপনি আলোচনা চান, তাহলে হুমকি দেওয়ার অর্থ কী?’

পারমাণবিক কর্মসূচি
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা দেশগুলো কয়েক দশক ধরে তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করার অভিযোগ করে আসছে। ইরান এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম শুধু বেসামরিক উদ্দেশ্যে।

অন্যদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের প্রধান হোসেইন সালামি শনিবার বলেছেন, দেশ যুদ্ধের জন্য ‘প্রস্তুত’। সরকারি সংবাদ সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সিকে (ইরনা) তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ নিয়ে মোটেও চিন্তিত নই। আমরা যুদ্ধের সূচনাকারী হবো না, তবে আমরা যেকোনো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছি।

২০১৫ সালে ইরান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্য এবং জার্মানির সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি করে। এই চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আনা। জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামের সেই চুক্তি করা হয় নিশ্চিত করতে, যাতে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমে কড়াকড়ির বিনিময়ে দেশটিকে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

কিন্তু ২০১৮ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি থেকে সরে যায় এবং ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে। তার এক বছর পর ইরান চুক্তিতে তার অঙ্গীকার থেকে সরে আসতে শুরু করে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি জোরদার করে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা আলী লারিজানি সোমবার সতর্ক করে বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে চায় না, তবে যদি তার দেশের ওপর হামলা হয়, তাহলে ‘তাদের আর কোনো উপায় থাকবে না’।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ