ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৩ এপ্রিল ২০২৫
২০ চৈত্র ১৪৩১, ০৩ শাওয়াল ১৪৪৬

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৩ এপ্রিল ২০২৫
২০ চৈত্র ১৪৩১, ০৩ শাওয়াল ১৪৪৬

সংস্কারে নতুন বাংলাদেশের চার্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
সংস্কারে নতুন বাংলাদেশের চার্টার
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে গতকাল তাঁর কার্যালয়ে চারটি সংস্কার কমিশনের প্রধানরা সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন। ছবি : পিআইডি

সংস্কারসংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলোচনা করা হবে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য গঠন কমিশন-এর মাধ্যমে এই আলোচনা হবে। এরপর তৃতীয় ধাপে ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতি প্রণয়নের কাজ শুরু হবে। চতুর্থ ধাপে হবে বাস্তবায়ন।

এসব প্রক্রিয়ায় তৈরি হবে নতুন বাংলাদেশের চার্টার এবং সেই চার্টারের ভিত্তিতেই দেশে আগামী এবং পরের নির্বাচনগুলোও অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল বুধবার চার সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্য থেকে এই তথ্য ও প্রত্যাশা মিলেছে। 

গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার, দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামান, পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান সফর রাজ হোসেন এবং সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ প্রধান উপদেষ্টার হাতে তাঁদের সংস্কার প্রতিবেদন তুলে দেন। এ সময় এই চার সংস্কার কমিশনের অন্য সদস্যরাও উপিস্থিত ছিলেন।

 

 

প্রধান উপদেষ্টা যা বললেন

সংস্কার প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এসব সংস্কার প্রতিবেদন থেকে হবে নতুন বাংলাদেশের চার্টার, তার ভিত্তিতেই হবে নির্বাচন। চারটি সংস্কার কমিশন যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই সংস্কার প্রতিবেদনের মাধ্যমে আমরা যেটা গঠন করতে চাচ্ছি, সেটার উদ্দেশ্য হলো এটা থেকে গণ-অভ্যুত্থানের একটি চার্টার তৈরি করা হবে, যা হবে নতুন বাংলাদেশের একটি চার্টার। এটা মতৈক্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হবে। নির্বাচন হবে, সব কিছুই হবে; কিন্তু চার্টার থেকে সরা যাবে না।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এটা শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটা এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। বহু ধরনের কমিটি হয়, রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়, আনুষ্ঠানিকতা হয়; কিন্তু আজকের আনুষ্ঠানিকতা সেগুলোর চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে। আজকের এই ঘটনা ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। কারণ ইতিহাসের প্রবাহ থেকেই এই কমিশনগুলোর সৃষ্টি হয়েছে।

একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতির হঠাৎ পুনরুত্থান হয়েছে, মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সেখান থেকেই ইতিহাসের সৃষ্টি, আজকের এই অনুষ্ঠান সেই ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এটা বিচ্ছিন্ন কোনো প্রতিবেদন নয়। আজ যে প্রতিবেদনগুলো আমরা হাতে নিলাম, অবশ্যই এটা আমাদের দেশের জন্য বড় একটি চর্চা। কেউ সেটা অস্বীকার করবে না।

সংস্কার কমিশনের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন নিয়ে সেটার কাঠামো তৈরির কাজ আপনাদের হাতে দিয়েছিলাম কমিশনের মাধ্যমে। স্বপ্ন আছে এখনো, সেই স্বপ্নের রূপরেখাগুলো তুলে ধরতে হবে। এটা শেষ নয়, একটি অধ্যায়ের শুরু হলো। স্বপ্ন ও অভ্যুত্থান-পরবর্তী তার যে যাত্রা, সেটা শুরু হলো। এর বড় একটি অংশ এই প্রতিবেদনের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হবে যে আমরা কী করতে চাইছি। এটার মাধ্যমে আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা শুরু করব। সবার মন এতে সায় দিচ্ছে কি না, অঙ্গীকারগুলো পূরণ হচ্ছে কি নাএই আলোচনার রসদ আপনারা তৈরি করে দিয়েছেন।

ড. ইউনূস বলেন, এর মধ্য দিয়ে সবার মতৈক্য হবে, আর কিছু অংশের সবাই একমত হবেন। তা না হলে আমরা কী স্বপ্ন দেখলাম? আমরা নিজেরা স্বপ্ন দেখলাম, আর সেই স্বপ্নে মানুষের অংশ নেই, সেটা তো হতে পারে না। আমরা সেই স্বপ্নের কতটুকু এখানে নিয়ে এসেছি, সেটার জন্যই এই আলোচনা। এটা বাইরে থেকে চাপানোর কোনো জিনিস নয়, ভেতর থেকে উদ্ভূত একটি জিনিস।

সংস্কার কমিশনগুলোর সদস্যদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, যেহেতু আপনারাই তাদের পক্ষ থেকে স্বপ্ন দেখেছেন, কিভাবে তাদের স্বপ্ন আপনাদের সঙ্গে একাকার হয়ে যাবে। তার মাধ্যমে আমরা যেটা গঠন করতে চাচ্ছি, যার উদ্দেশ্য হলো এটা গণ-অভ্যুত্থানের একটি চার্টার তৈরি হবে। নতুন বাংলাদেশের একটি চার্টার, সে রকম চার্টার মতৈক্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হবে। নির্বাচন হবে, সব কিছুই হবে; কিন্তু চার্টার থেকে সরে যাবে না। এই চার্টার থেকে যাবে, ইতিহাসের অংশ হিসেবে এটা আমাদের জাতীয় কমিটমেন্ট। এটা কোনো দলীয় কমিটমেন্ট নয়। আমরা আশা করছি, সব দল এই চার্টারে সাইন আপ করবে। এটা বাংলাদেশি, বাঙালি জাতির একটি সনদ, যে সনদ আমরা বুকে নিয়ে অগ্রসর হব। যত দ্রুত পারি, যত বেশি পরিমাণে এটা বাস্তবায়ন করতে পারি করতে থাকব। ভবিষ্যতে যে নির্বাচন হবে, সেটাও হবে এই চার্টারের ভিত্তিতে। সেটাও যেন ঐকমত্যের সরকার হয়, (পরবর্তী সরকারও যেন বলে) যে আমরা চার্টারকে ধরে রেখেছি। যত কিছুই হোক, এটা যেন হাত থেকে ছেড়ে না দিই। তা না হলে এই স্বপ্নের যে কন্টিনিউয়িটি, সেটি থাকবে কী করে! আমরা সেই স্বপ্নের কন্টিনিউয়িটি চাই, বাস্তবায়ন চাই। নির্বাচনও এই চার্টারের একটি অংশ হবে, ঐকমত্যের নির্বাচন হবে। তা না হলে চার্টার হারিয়ে যাবে। কাজেই এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ জিনিস।

 

ফেব্রুয়ারিতে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা : বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, সংস্কার কমিশনগুলোর দেওয়া সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরকারের আলোচনা শুরু হবে ফেব্রুয়ারি মাসে। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, কমিশনগুলোতে সমন্বয়সহ আনুষঙ্গিক কাজের জন্য এক মাস সময় দেওয়া হয়েছে। তবে জানুয়ারির মধ্যেই এই চার কমিশন এবং বিচার বিভাগ ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়া যাবে।

সরকারের পক্ষ থেকে আগেই বলা হয়েছে, সংস্কার কমিশনগুলোর প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রস্তাবগুলো নিয়ে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে। আলোচনার মধ্য দিয়ে যেসব প্রস্তাব নিয়ে ঐকমত্য তৈরি হবে, সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। প্রস্তাবগুলো কবে কোন প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন করা হবে, তার একটি রূপরেখা আসতে পারে দলগুলোর সঙ্গে সরকারের আলোচনার মাধ্যমে।

সুপারিশগুলো নিয়ে কবে নাগাদ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু হবেএই প্রশ্নের জবাবে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আজ চারটি সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন ও সুপারিশ হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে হস্তান্তর করা সুপারিশগুলোর মধ্যে কিছু কিছু কনটেন্ট পুনরাবৃত্তিসহ কিছু সংশোধনী থাকায় কমিশনপ্রধানরা আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় চেয়ে নিয়েছেন। আমার ধারণা, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হয়তো আলোচনা শুরু করা যাবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও এক ধরনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। তারা তাদের লিখিত মতামত দিয়েছে।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, কমিশন যদি কাজ আগে শেষ করতে পারে, তাহলে হয়তো ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে শুরু হতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত ১১ সেপ্টেম্বর নির্বাচনব্যবস্থা, সংবিধান, পুলিশ, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠনের ঘোষণা দেন। গত ৩ অক্টোবর এই ছয় কমিশনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার কমিশন ছাড়া অন্য পাঁচটি কমিশন গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ৬ অক্টোবর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় সংবিধান সংস্কার কমিশনের। কমিশনগুলোকে ৯০ দিনের মধ্যে সরকারপ্রধানের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। পরে পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন, নির্বাচনব্যবস্থা ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের জন্য আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। জনপ্রশাসন ও বিচার বিভাগের জন্য সময় বাড়ানো হয় আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

এ ছাড়া রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ এগিয়ে নিতে গত ১৮ নভেম্বর নতুন আরো পাঁচটি সংস্কার কমিশন গঠন চূড়ান্ত করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এগুলো হচ্ছে গণমাধ্যম, স্বাস্থ্য, শ্রম, নারীবিষয়ক ও স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন। এই পাঁচটি কমিশনকে ৯০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। 

গত ১৬ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেন, জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা অন্তর্বর্তী সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, তা বিবেচনা করে আমি এই কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করব। আমার সঙ্গে এই কমিশনের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ। কমিশন প্রয়োজন মনে করলে নতুন সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে। প্রথম ছয় কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আগামী মাসেই (চলতি মাস) জাতীয় ঐকমত্য গঠনে কমিশন কাজ শুরু করতে পারবে বলে আশা করছি। এই নতুন কমিশনের প্রথম কাজ হবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যেসব সিদ্ধান্ত জরুরি, সেসব বিষয়ে তাড়াতাড়ি ঐকমত্য সৃষ্টি করা এবং সবার সঙ্গে আলোচনা করে কোন সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা যায় সে ব্যাপারে পরামর্শ চূড়ান্ত করা।

গত ৯ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, জাতীয় নির্বাচন সংস্কারসাপেক্ষ। এটি প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে এরই মধ্যে দেখেছেন। আমরা আশা করি, সংস্কার কমিশনগুলোর রিপোর্ট এ মাসের মধ্যে পাব। প্রথম যে ছয়টি কমিটি হয়েছিল, সেগুলো নির্বাচনসংশ্লিষ্ট। এই কমিশনগুলো যে প্রস্তাব দেবে, সেগুলো নির্বাচনকেন্দ্রিক। প্রস্তাবগুলো নিয়ে আমরা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করব। এই প্রক্রিয়ায় প্রবেশের পর রাজনৈতিক দলগুলো আসলে ঠিক করবে কতটা সংস্কার চাই। ওই সংস্কারের মেয়াদ বা পরিধির ভিত্তিতে আমি মনে করি নির্বাচনের তারিখ ঠিক হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর বিষয়টা স্পষ্ট হবে।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

ইন্ডিয়া টুডেকে মাহফুজ আনাম

সেনাবাহিনী চাইলে হাসিনা পালানোর পরই ক্ষমতা নিতে পারত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
কালের কণ্ঠ ডেস্ক
শেয়ার
সেনাবাহিনী চাইলে হাসিনা পালানোর পরই ক্ষমতা নিতে পারত
মাহফুজ আনাম

বাংলাদেশের ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামকে ১ এপ্রিল ইন্ডিয়া টুডের নাথিং বাট ট্রু অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানে মাহফুজ আনাম বাংলাদেশে চলমান বেশ কিছু ঘটনা নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক ছিলেন রাজ চেঙ্গাপ্পা।

অনুষ্ঠানে উঠে আসে বাংলাদেশের রাজনীতি, গণ-অভ্যুত্থানের পর বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি, চলমান সমস্যা ও আগামীতে নির্বাচনসহ শান্তিপূর্ণ দেশ গঠনে করণীয় বিষয়গুলো।

উঠে আসে সেনাবাহিনীর প্রসঙ্গও।

রাজ বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় পর্দার আড়ালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং তারা ক্রমবর্ধমান সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ২০২৫ সালের মার্চের শুরুর দিকে এক বিরল প্রকাশ্য ভাষণে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সতর্ক করে বলেছিলেন, দেশ এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন হলো, সেনাপ্রধানের এই কঠোর সতর্কবার্তা ইউনূসের বেসামরিক নেতৃত্বের প্রতি কতটা গুরুতর ইঙ্গিত বহন করে? এটি কি সম্ভব যে, সামরিক বাহিনীর মধ্যে হস্তক্ষেপের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে?

জবাবে মাহফুজ আনাম বলেন, যদি সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করতে চাইত, তাহলে তাদের জন্য সেরা সুযোগ ছিল যখন হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং ইউনূস তখনো কার্যকরভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেননি।

সেই তিন-চার দিন একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। সেনাবাহিনী চাইলে তখনই হস্তক্ষেপ করতে পারত। কিন্তু তারা তা করেনি।

মাহফুজ আনাম আরো বলেন, বিভিন্ন বক্তব্যে সেনাপ্রধান বারবার বলেছেন, তারা কেবল ইউনূসের সরকারকে সমর্থন করতেই আগ্রহী।

আপনি যে সতর্কবার্তার কথা বলেছেন, আমি মনে করি সেটি যথাযথ সময়েই দেওয়া হয়েছিল। তবে তা শুধু সরকারের প্রতি নয়, বরং ছাত্রদের প্রতিও ছিল, পাশাপাশি দেশের কিছু অস্থিরতা সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রতি।

তাঁর মতে, সেনাপ্রধানের ভাষা হয়তো কিছুটা কঠোর ছিল, তবে সতর্কবার্তাটি যথাসময়ে এসেছে এবং এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে পরবর্তী ঘটনাগুলোর ওপর। আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, সেনাবাহিনী আসলে তেমন কোনো রাজনৈতিক আগ্রহ দেখায়নি। সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে

 

 

মন্তব্য

নতুন করে গড়ে উঠছে বাংলাদেশ, সুযোগ দেখছে ইসলামী কট্টরপন্থীরাও

    প্রতিবেদনটি বিভ্রান্তিকর ও একপেশে : প্রেস উইং দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হচ্ছে না : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উগ্রপন্থার সুযোগ কাউকে নিতে দেওয়া হবে না : মাহফুজ
কালের কণ্ঠ ডেস্ক
কালের কণ্ঠ ডেস্ক
শেয়ার
নতুন করে গড়ে উঠছে বাংলাদেশ, সুযোগ দেখছে ইসলামী কট্টরপন্থীরাও

বাংলাদেশ যখন গণতন্ত্র পুনর্গঠনের মাধ্যমে নতুন ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করছে, তখন দেশটিতে ইসলামী কট্টরপন্থার উত্থান লক্ষ করা যাচ্ছে। বিভিন্ন শহরে ধর্মীয় মৌলবাদীরা নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে, নারীদের খেলাধুলা থেকে বিরত রাখার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে এবং ইসলাম অবমাননার অভিযোগে কঠোর শাস্তির দাবি তুলছে।

‘As Bangladesh Reinvents Itself, Islamist Hard-Liners See an Opening’  শিরোনামে এক প্রতিবেদনে এমন দাবিই করেছে নিউইয়র্ক টাইমস। আর এদিকে ইসলামিস্টদের উত্থান নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনকে বিভ্রান্তিকর বলা হয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানী ঢাকায় ইসলামী শাসনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে বক্তারা সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তাঁদের দাবি মানা না হলে নিজেরাই ব্যবস্থা নেবেন। এর পাশাপাশি, নতুন সংবিধান প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক নেতারা স্বীকার করেছেন, বাংলাদেশে সেক্যুলারিজমের পরিবর্তে ধর্মীয় নীতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সমালোচকরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার কট্টরপন্থী শক্তিকে প্রতিহত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না, বরং তারা সংঘাত এড়াতে চাইছে। এর ফলে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা মৌলবাদী দলগুলো নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নারীদের খেলাধুলার ওপর নিষেধাজ্ঞার ঘটনাগুলো বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। উত্তরবঙ্গের তারাগঞ্জে এক ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা কট্টরপন্থীদের চাপে বাতিল করা হয়। ইসলামী প্রচারকরা নারীদের খেলাধুলাকে অশ্লীলতা আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ করতে চেয়েছে।

প্রতিবেদনটির দাবি, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মৌলবাদী উত্থানের ধারাবাহিকতা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো বাংলাদেশেও ইসলামী শাসনের পক্ষে জনসমর্থন তৈরি হচ্ছে।

প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়, বৃহত্তম ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী বর্তমান রাজনৈতিক শূন্যতাকে একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। দলটির নেতারা ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন এবং তুরস্কের মডেল অনুসরণ করতে চান।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনটিকে বিভ্রান্তিকর ও একপেশে বলে উল্লেখ করেছে। প্রেস উইং জানায়, এই প্রতিবেদন বাংলাদেশ সম্পর্কে ভুল চিত্র তুলে ধরেছে এবং দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতাকে অতি সরলীকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে।

প্রেস উইংয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, নিউইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের প্রকৃত উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে অবমূল্যায়ন করছে। তারা দাবি করে, এই প্রতিবেদন বাংলাদেশ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং এটি সমগ্র জাতিকে অন্যায়ভাবে কলঙ্কিত করার ঝুঁকি তৈরি করে।

প্রেস উইংয়ের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে ধর্মীয় সহিংসতার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে। শেখ হাসিনার বিদায়ের পর সংঘটিত বিভিন্ন সংঘর্ষকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও প্রকৃতপক্ষে এগুলো রাজনৈতিক কারণে সংঘটিত হয়েছে।

প্রেস উইং জানায়, অন্তর্বর্তী সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও সন্ত্রাসবাদ দমন কার্যক্রমের মাধ্যমে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছে।

 

উগ্রপন্থার সুযোগ কাউকে নিতে দেওয়া হবে না : মাহফুজ আলম

বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উগ্রপন্থা মাথা চাড়া দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না, প্রয়োজনে সরকার হার্ডলাইনে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবেদনে বলতে চাওয়া হয়েছে, নতুন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা চলে যাওয়ার কারণে দেশে চরমপন্থা-উগ্রপন্থার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমরা মনে করি, এ সুযোগ কাউকে নিতে দেওয়া হবে না।

বুধবার সকালে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার উত্তর রামপুর গ্রামে জুলাই-আগস্টের গণ-আন্দোলনে নিহত মাসুম মিয়ার কবর জিয়ারত ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

 

দেশে কোনো ধরনের জঙ্গিবাদের উত্থান হচ্ছে না : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের মতো কিছুই হয়নি। বুধবার দুপুরে ঈদের শুভেচ্ছা ও ঈদ পুনর্মিলনীর উদ্দেশ্যে রাজধানীর বিভিন্ন থানা পরিদর্শনে গিয়ে বাড্ডা থানা পরিদর্শন শেষে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, গত ৫ আগস্টের পর কিছুদিন তো সরকারই ছিল না। এর পর থেকে পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। পুরনো ঘটনাগুলো তুলে ধরলে তো হবে না। ধীরে ধীরে সব কিছুর উন্নতি হচ্ছে, আরো উন্নতি হবে।

 

পরাজিত শক্তি নিউইয়র্ক টাইমসকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন করিয়েছে : রিজভী

বাংলাদেশে ইসলামিস্টদের উত্থান নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, পরাজিত শক্তি নিউইয়র্ক টাইমসকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন করিয়েছে। অবৈধ টাকা ব্যবহার করে পরাজিত শক্তি বাংলাদেশকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে।

 

 

মন্তব্য
রিউমার স্ক্যানারের প্রতিবেদন

অনলাইনে গুজব বাড়ছে মার্চে ২৯৮ ভুল তথ্য শনাক্ত

    মোট ভুলের ৩৫ শতাংশ রাজনৈতিক সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানকে জড়িয়ে ২৩টি ভুল তথ্য প্রচার
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
অনলাইনে গুজব বাড়ছে মার্চে ২৯৮ ভুল তথ্য শনাক্ত

চলতি বছরের মার্চ মাসে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ২৯৮টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে বাংলাদেশের ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার। এর আগে গত জানুয়ারিতে ২৭১ ও ফেব্রুয়ারিতে ২৬৮টি ভুল তথ্য শনাক্ত করে প্রতিষ্ঠানটি। রিউমার স্ক্যানারের ওয়েবসাইটে গত মার্চে প্রকাশিত ফ্যাক্টচেক থেকে জানা গেছে, এ সময়ে ২৯৮টি ভুল তথ্যের মধ্যে রাজনৈতিক বিষয়ে সবচেয়ে বেশি (১০৫) ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। এটি মোট ভুল তথ্যের ৩৫ শতাংশ।

এ ছাড়া জাতীয় বিষয়ে ১০৩টি, আন্তর্জাতিক বিষয়ে ১২টি, ধর্মীয় বিষয়ে ৩৬টি, বিনোদন ও সাহিত্য বিষয়ে তিনটি, শিক্ষা বিষয়ে তিনটি, প্রতারণা বিষয়ে ১২টি এবং খেলাধুলা বিষয়ে ১৬টি ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে মার্চে।

গেল মাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে জড়িয়ে সাতটিসহ এই বাহিনীকে জড়িয়ে ২৩টি ভুল তথ্য প্রচার দেখেছে রিউমার স্ক্যানার। এ ছাড়া বাংলাদেশ পুলিশের বিষয়ে তিনটি এবং র‌্যাব ও বিজিবিকে জড়িয়ে একটি করে ভুয়া তথ্য ছড়ানো শনাক্ত করেছে রিউমার স্ক্যানার। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য মতে, এসব ঘটনায় ভিডিওকেন্দ্রিক ভুলই ছিল সবচেয়ে বেশি, ১৪৩টি।

এ ছাড়া তথ্যকেন্দ্রিক ১১০টি ও ছবিকেন্দ্রিক ৪৫টি ভুল ছিল। শনাক্ত হওয়া ভুল তথ্যগুলোর মধ্যে মিথ্যা হিসেবে ১৬৮টি, বিভ্রান্তিকর হিসেবে ৯৭টি ও বিকৃত হিসেবে ৩১টি ঘটনাকে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

রিউমার স্ক্যানার বলছে, প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গত মাসে ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি, ২৭৩টি ভুল তথ্য ছড়িয়েছে। এ ছাড়া এক্সে ৬২টি, টিকটকে সাতটি, ইউটিউবে ৪৪টি, ইনস্টাগ্রামে ২৬টি ও থ্রেডসে অন্তত পাঁচটি ভুল তথ্য প্রচারিত হয়েছে।

১৬টি ঘটনায় দেশের একাধিক গণমাধ্যমে ভুল তথ্য প্রচার হতে দেখেছে রিউমার স্ক্যানার।

রিউমার স্ক্যানার জানিয়েছে, গত মাসে ভারতীয় গণমাধ্যমে চারটি ঘটনায় বাংলাদেশকে জড়িয়ে অপতথ্য প্রচার করা হয়েছে। এ ছাড়া তিনটি ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভারতীয় অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে বাংলাদেশকে নিয়ে ভুয়া তথ্যের প্রচার করা হয়েছে। মার্চে ২৬টি সাম্প্রদায়িক অপতথ্য প্রচার শনাক্ত করেছে রিউমার স্ক্যানার। এর অর্ধেকই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভারতীয় অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে করা হয়েছে।

রিউমার স্ক্যানার টিমের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গেল মাসে অন্তর্বর্তী সরকারকে জড়িয়ে ১৫টি ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে ২২টি ভুল তথ্য প্রচার করা হয়েছে।

সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে জড়িয়ে দুটি (বিপক্ষে), সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে জড়িয়ে একটি (বিপক্ষে), আসিফ নজরুলকে জড়িয়ে চারটি (বিপক্ষে), সালেহউদ্দিন আহমেদকে জড়িয়ে দুটি (বিপক্ষে), মো. তৌহিদ হোসেনকে জড়িয়ে একটি (বিপক্ষে) এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমকে জড়িয়ে একটি (বিপক্ষে) ভুল তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে।

রিউমার স্ক্যানার ফ্যাক্টচেকগুলো বিশ্লেষণে দেখেছে, মার্চে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে সবচেয়ে বেশি (৭টি) ভুল তথ্য প্রচার করা হয়। আর দলটির আমির শফিকুর রহমানকে জড়িয়ে দুটি অপতথ্য ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে ছয়টি অপতথ্য প্রচার করা হয়েছে।

বিএনপিকে জড়িয়ে চারটি (৭৫ শতাংশই বিপক্ষে), দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে একটি (পক্ষে) ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে দুটি (পক্ষে) ভুল তথ্য এবং ছাত্রদলকে জড়িয়ে চারটি (বিপক্ষে) অপতথ্য প্রচার করা হয়।

এ ছাড়া মার্চে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে জড়িয়ে ছয়টি অপতথ্য (৮৩ শতাংশই পক্ষে) ও ছাত্রলীগকে জড়িয়ে একটি ভুল তথ্য (পক্ষে) শনাক্ত করা হয়েছে। আর দলটির সভাপতি শেখ হাসিনাকে জড়িয়ে ৩৩টি ভুল তথ্য (৮৫ শতাংশই পক্ষে) প্রচারের প্রমাণ মিলেছে।

মার্চে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) জড়িয়ে দুটি অপতথ্য (বিপক্ষে) শনাক্ত করা হয়েছে। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে জড়িয়ে চারটি (বিপক্ষে) অপতথ্যর প্রচার করা হয়েছে। দলটির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহকে জড়িয়ে ছয়টি (বিপক্ষে), সারজিস আলমকে জড়িয়ে তিনটি (বিপক্ষে), তাসনিম জারাকে জড়িয়ে চারটি (বিপক্ষে), হুমায়রা নুরকে জড়িয়ে একটি (বিপক্ষে), আব্দুল হান্নান মাসউদকে জড়িয়ে একটি (বিপক্ষে) অপতথ্য প্রচার দেখা গেছে।

রিউমার স্ক্যানার দেখেছে, মার্চে বিভিন্ন সুপরিচিত ব্যক্তি এবং বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ১৭টি মৃত্যুর গুজব প্রচার করা হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভুয়া ৯টি কনটেন্ট ও পাঁচটি ডিপফেক ভিডিও শনাক্ত করা হয়েছে। মার্চে ধর্ষণ সম্পর্কিত খবর, তথ্য, ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ব্যাপকভাবে প্রচার বাড়ার ঘটনা লক্ষ করা যায়।

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) মার্চের মানবাধিকার প্রতিবেদনেও দাবি করা হচ্ছে, মার্চে দেশে ধর্ষণের সংখ্যা গত ফেব্রুয়ারি মাসের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। এতে জনমনে শঙ্কার অবকাশের সুযোগ নিয়ে অপতথ্যের প্রচার ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে রিউমার স্ক্যানার মার্চে ধর্ষণবিষয়ক ২৭টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে। রমজান ও ঈদ পালনকে ঘিরে যথাক্রমে ১৬টি ও ছয়টি ভুল তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে।

মার্চে গণমাধ্যমের নাম, লোগো, শিরোনাম এবং নকল ও ভুয়া ফটোকার্ড ব্যবহার করে ৩৮টি ঘটনায় দেশি-বিদেশি ৩৯টি সংবাদমাধ্যমকে জড়িয়ে ৪৫টি ভুল তথ্য প্রচারিত হয়েছে। এভাবে ভুল তথ্য প্রচারে যমুনা টিভি (১০), জনকণ্ঠ (৫) ও আমার দেশের (৪) নাম বেশি ব্যবহার করা হয়েছে।

 

মন্তব্য

সবাই মিলে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে : খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
সবাই মিলে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে : খালেদা জিয়া
মা-ছেলে একসঙ্গে ঈদ উদযাপন করলেন লন্ডনে। মা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর এই ছবি ঈদের দিন নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ আট বছর পর লন্ডনে বড় ছেলে, পুত্রবধূ ও তিন নাতনির সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সেখান থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ঈদের দিন গত সোমবার ঢাকায় দলীয় নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। নেতাদের উদ্দেশে বেগম জিয়া বলেন, একে অন্যকে সহযোগিতা করতে হবে। সবাই মিলে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

গত ৮ জানুয়ারি কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির পাঠানো রাজকীয় এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য লন্ডনে পৌঁছেন।

লন্ডনে অবস্থানরত খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ঈদের দিন সাংবাদিকদের বলেন, ম্যাডাম উনার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় আছেন। ঈদের দিনটি উনি বাসায় আপনজনদের নিয়ে একান্তে কাটিয়েছেন। ম্যাডামকে ঘিরে ঈদের সব আয়োজন তাঁরাই সাজিয়েছেন।

কারণ দীর্ঘদিন পর ম্যাডাম আপনজনদের সঙ্গে ঈদ করছেন; এখানে অনেক আবেগ জড়িত।

খালেদা জিয়ার লন্ডনে এটি তৃতীয় ঈদ উদযাপন। এবার ১০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ছেলে তারেক রহমানের বাসায় ঈদ উদযাপন করছেন। এর আগে ২০১৭ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়ে ছেলের বাসায় ঈদুল আজহা উদযাপন করেছিলেন।

এরও আগে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রায় আট বছর পর লন্ডনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেছিলেন।

নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় : গত সোমবার রাত ৯টার দিকে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে খালেদা জিয়া ঈদ মোবারক জানান এবং তাঁদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বড় পর্দায় বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনও।

এই অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ করেন।

সবার উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আপনাদের এত ত্যাগ ও সংগ্রাম বৃথা যায়নি এবং যাবে না। দেশবাসীর ভোটাধিকার সবাই মিলে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পরে তিনি দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। দীর্ঘদিন পর সবাইকে এভাবে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। এ সময় আগামী দিনের পথচলায় দেশবাসীর দোয়া ও আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে আরো অংশ নেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বব চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমানসহ দলের সিনিয়র নেতারা। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার, অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকীও ছিলেন এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে।

এদিকে গত রবিবার যুক্তরাজ্যে ঈদের দিন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সকাল ১০টায় লন্ডনের কিংসমিডো স্টেডিয়ামের খোলা মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন। যুক্তরাজ্য বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিসবাহ উজ্জামান সোহেল জানিয়েছেন, তারেক রহমানের সঙ্গে ঈদের জামাতে অংশ নিতে কিংসমিডো স্টেডিয়ামে যুক্তরাজ্য বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের ও অঙ্গসংগঠনের কয়েক শ নেতাকর্মী উপস্থিত হন।

লন্ডনের পার্কে মাকে নিয়ে হাঁটলেন তারেক রহমান : যুক্তরাজ্যের লন্ডনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ছেলে তারেক রহমানের বাসায় আনন্দঘন পরিবেশে সময় কাটছে তাঁর। এর মধ্যেই গত মঙ্গলবার লন্ডনের একটি পার্কে ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে মুক্ত পরিবেশে ঘুরতে বের হয়েছেন তিনি। এ ছাড়া খালেদা জিয়াকে নিয়ে পার্কে বেড়ানোর একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এতে দেখা যায়, পার্কের ভেতরের ফুটপাতে খালেদা জিয়াকে হুইলচেয়ারে করে একজন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় তাঁর পাশেই তারেক রহমান ও পরিবারের সদস্যদের হাঁটতে দেখা যায়। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকেও হুইলচেয়ারের সামনে থেকে হাঁটতে দেখা গেছে।

উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। গত ৮ থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি লন্ডনের দ্য ক্লিনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর তারেক রহমানের বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।

 

 

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ