পাথরের লোভে রোপওয়ে ধ্বংসপ্রায়

ইয়াহইয়া ফজল, সিলেট
ইয়াহইয়া ফজল, সিলেট
শেয়ার
পাথরের লোভে রোপওয়ে ধ্বংসপ্রায়
এভাবেই রোপওয়ে বাংকারের ভবনগুলোর দরজা-জানালা, টিনের চাল থেকে শুরু করে যা কিছু পেয়েছে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। সম্প্রতি সিলেট থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

পাথর পরিবহনে দেশের একমাত্র রোপওয়ের (রজ্জুপথ) অবস্থান সিলেটের ভোলাগঞ্জ ও ছাতকে। শুধু কারের আদলে এই রোপওয়ে দিয়ে পাথর পরিবহন করা হতো। রোপওয়ের বাংকারটি (স্টেশন) ভোলাগঞ্জে ধলাই নদীর মাঝখানে দ্বীপের মতো। এই রোপওয়ে ঘিরে দ্বীপটিতে গড়ে ওঠে জনবসতি।

তবে গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর উদ্ভূত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সেখানে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়ে ব্যাপক লুটপাট চালায়। ৫ আগস্ট রাতে দুই শতাধিক নৌকায় সাত শতাধিক দুর্বৃত্ত সেখানে হামলা চালিয়ে ব্যাপকভাবে লুটপাট করে। দুর্বৃত্ত আর পাথরলোভী চক্রের খপ্পরে পড়ে পুরো এলাকা রীতিমতো বিলীন হয়ে গেছে। লুটপাট করা হয়েছে সরকারি শতকোটি টাকার সম্পদ।
এই লুটপাট এখনো অব্যাহত আছে। চেষ্টা করেও স্থানীয় প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।

পাথরের লোভে রোপওয়ে ধ্বংসপ্রায়সরেজমিনে ভোলাগঞ্জের রোপওয়ে বাংকার এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। দুর্বৃত্তরা এলাকাটিকে এত ক্ষতবিক্ষত করেছে, আগের চিত্র আর চেনার উপায় নেই।

  পাথর লুট করতে পুরো এলাকায় দুর্বৃত্তরা বড় বড় গর্ত খুঁড়েছে। কোথাও ৩০ ফুট, আবার কোথাও ৫০ ফুট গভীর গর্ত করা হয়েছে। বড় বড় গর্ত খোঁড়ার ফলে ধসে পড়েছে বেশ কিছু ভবন। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পুলিশের ব্যারাক। বিদ্যালয়ের ভবন, গুদাম, ছয়টি ব্যারাক ভবন, বাসভবন, রেস্টহাউস, রোপওয়ের পাওয়ারহাউসের দরজা-জানালা, ছাদের টিন, লোহার অ্যাঙ্গেল থেকে শুরু করে বহনযোগ্য সব কিছু নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
এখনো প্রতিদিন রাতে অব্যাহত আছে লুটপাট। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি অবগত হওয়ার পরও নির্লিপ্ত রয়েছে।

 

পাথর পরিবহনের একমাত্র রোপওয়ে

শূন্যে কেবল কারের সহায়তায় সহজে পাথর পরিবহনের জন্য সিলেটের ভোলাগঞ্জ থেকে ছাতক পর্যন্ত ১৯.২০ কিলোমিটার রোপওয়ের নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৬৪ সালে। ব্রিটিশ রোপওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানি এটি নির্মাণ করে। ১৯৭০ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলে শুরু হয় পাথর পরিবহন। এই রোপওয়ের বার্ষিক পাথর পরিবহন সক্ষমতা ১২ লাখ ঘনফুট। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় রোপওয়েটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে মেরামত করে ১৯৮০ সালে ফের এটি চালু করা হয়। সচল ছিল ২০১৩ সাল পর্যন্ত। ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষবার এটি পাথর পরিবহন করে।

 

গড়ে উঠেছিল দ্বীপসদৃশ বসতি

ভোলাগঞ্জ পর্যটন ঘাট থেকে ইঞ্জিন নৌকায় ছয়-সাত মিনিট দূরত্বে রোপওয়ে বাংকার এলাকা। বর্ষাকালে চারদিকে পানি ঘিরে ফেললে এটি দ্বীপের মতো দেখায়। রোপওয়ে ঘিরে সেখানে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কোয়ার্টার, বিদ্যালয়, রেলওয়ে পুলিশের জন্য ব্যারাক, রেস্টহাউস, গুদাম, পাওয়ারহাউস, মসজিদ ও কবরস্থান গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে শতাধিক লোকের বসবাস ছিল। আগে বড় পাথর ভেঙে রোপওয়ের বাকেটে লোড করতে ঠিকাদারের লোকজনও থাকত।

 

সরকার পতনের সুযোগে ধ্বংসের জনপদ   

৫ আগস্ট সরকার পতনের পর প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে দুর্বৃত্তরা সেখানে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। বর্তমানে সেখানে চলছে পাথর লুটের মচ্ছব। স্থানীয় একাধিক এলাকাবাসী, ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে লুটপাটের বর্ণনা দিয়েছেন। তাঁদের বর্ণনায়, ৫ আগস্ট রাতে অন্তত ২০০ নৌকায় করে প্রায় ৭০০ দুর্বৃত্ত জলপথে বাংকার এলাকায় গিয়ে তাণ্ডব চালায়। এ সময় বাংকার এলাকার বাসাবাড়ি, বিদ্যালয় ভবন, পুলিশ ব্যারাক থেকে শুরু করে যত স্থাপনা আছে সেগুলোর দরজা-জানালা, ছাদের টিন, লোহার অ্যাঙ্গেল, লাইট, ফ্যানসহ বহনযোগ্য সব কিছু লুট করে নিয়ে যায়। রোপওয়ের পাওয়ারহাউসে ছিল সাতটি জেনারেটর। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এসব জেনারেট নিতে না পেরে সেগুলো ভেঙে ভেতরে থাকা মূল্যবান তামার তার খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বাংকার এলাকার শতাব্দীপ্রাচীন গাছ থেকে শুরু করে মূল্যবান গাছপালাও কেটে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

ওই রাতে পাথরখেকো আরেকটি চক্র পাথর লুট শুরু করে। শুরুতে মাটিতে স্তূপ হয়ে থাকা পাথর লুট করে।  পরে পুরো বাংকার এলাকার মাটি খুঁড়ে পাথর উত্তোলন শুরু হয়। ৫ আগস্ট থেকে পরের ছয়-সাত দিন ২৪ ঘণ্টা চলে পাথর লুট। এরপর সেখানে সেনাবাহিনী গেলে লুটপাট থামে। আর ৫ আগস্ট তাড়া খেয়ে রেলওয়ে পুলিশ (আরএনবি) চলে যাওয়ার পর দায়িত্বে ফেরে ১১ ডিসেম্বর। তবে পুলিশ দিনের বেলা দায়িত্ব পালন করলেও নিরাপত্তাহীনতায় রাতে দায়িত্ব পালন করে না। ফলে বর্তমানে রাত নামলে শুরু হয় মাটি খুঁড়ে পাথর উত্তোলন। চলে ভোর পর্যন্ত।

রেলওয়ের সিলেটের সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাম্মদ আজমাইন মাহতাব সংবাদমাধ্যমে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ছয়-সাত শ মানুষ দেড় শ থেকে দুই শ নৌকা নিয়ে আমাদের এখানে হামলা চালায়। আমাদের কয়েকজন সদস্যকে আহত করেছে তারা। যাঁরা বাধা দেননি তাঁদের একটি রুমে আটকে রেখে তাঁদের অস্ত্র, গোলাবারুদ, এখানে যত ধরনের লোহাজাতীয় মালপত্র, জেনারেটরের কয়েল, কপারজাতীয় মালপত্র লুট করে। টিনের চাল, লোহার অ্যাঙ্গেলকোনো কিছু লুটপাট থেকে রেহাই পায়নি। ধারণা করছি, আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার মালপত্র লুটপাট করা হয়েছে।

 

পাথর তুলতে গিয়ে প্রাণহানি

রোপওয়ে বাংকার থেকে মাটি খুঁড়ে পাথর উত্তোলনের সময় গত ১৩ জানুয়ারি লিটন মিয়া নামের একজন নিহত হন। তিনি উপজেলার বাঘারপাড় গ্রামের নবী হোসেনের ছেলে। ওই দিন বাংকারের স্থাপনার নিচ থেকে মাটি খুঁড়ে পাথর উত্তোলনের সময় পাথর ও মাটি ধসে তাঁর ওপর পড়লে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

 

হতবাক কর্মীরা

বাংকার এলাকায় কথা হয় নজরুল নামের রেলওয়ে পুলিশের এক সদস্যের সঙ্গে। তিনি ১৫ বছর ধরে পুলিশে কর্মরত। বললেন, এই এলাকায় প্রায় ১৩ বছর ধরে ডিউটি করছি। ৫ আগস্টের পর আমাদের লোকজনের ওপর হামলা, মারধর করে হাতিয়ার নিয়ে যায়। আমরা সরে যাই। পরে ১১ ডিসেম্বর কাজে ফিরি। এসে পরিস্থিতি দেখে হতবাক হয়ে গেছি। আমাদের কত স্মৃতি এই এলাকায়। কোটি কোটি টাকার মেশিন, মেশিন ঘর ভেঙে লুট করে নিয়ে গেছে। শুধু খাঁচাটা পড়ে আছে।

 

দাবি উঠেছে রোপওয়ে সংরক্ষণের

এই রোপওয়েটি রক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ও স্থানীয় বাসিন্দা অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন বলেন, স্থানীয় প্রশাসন চাইলে ঐতিহাসিক এই স্থান রক্ষা করে পর্যটনকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজে লাগানো যেত। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্বে অবহেলায় কোটি কোটি টাকার মালপত্র লুটপাট হয়েছে। এখনো যেটুকু রয়েছে, সেগুলো মেরামত করে দর্শনীয় স্থান হিসেবে সংরক্ষণ করার দাবি জানাচ্ছি।

সিলেটের পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরার (ধরা) সদস্যসচিব আব্দুল করিম কিম বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে পাথর উত্তোলন বন্ধের নামে নিরবচ্ছিন্নভাবে সিলেটের বিভিন্ন কোয়ারি ও কোয়ারিবহির্ভূত এলাকা থেকে পাথর উত্তোলনের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল পাথরখেকোদের। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পরও সেটি বন্ধ হয়নি, বরং আরো বেড়েছে। পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক অন্তর্বর্তী সরকারের  উপদেষ্টা হওয়ার পরও পাঁচ মাসে পাথর লুটপাট বন্ধ হয়নি। বরং দেশের একমাত্র পাথর পরিবহনের রোপওয়ে স্টেশন ধ্বংস করে পাথর লুট চলছে। এই লুটপাট শুধু পরিবেশ ধ্বংস নয়, ঐতিহ্যও ধ্বংস করছে।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

সিলেটে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর সা‌বেক মেয়রসহ তিন নেতার বাসায় ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতি‌বেদক, সি‌লেট
নিজস্ব প্রতি‌বেদক, সি‌লেট
শেয়ার
সিলেটে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর সা‌বেক মেয়রসহ তিন নেতার বাসায় ভাঙচুর

সিলেটে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীসহ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের তিন নেতার বাসায় হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে।

মেয়র ছাড়া অন্য দুই নেতা হলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল এবং ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রুহেল আহমদ।

জানা গেছে, বুধবার সকালে নগরের ধোপাদীঘিরপাড় এলাকা থেকে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল ছাত্রলীগের ব্যানারে মিছিল বের করে। ব্যানারে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের ছবি ছিল এবং তাঁর নামে স্লোগান দিতেও শোনা যায়।

মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে আলোচনার ঝড় ওঠে। ভিডিওটি আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড পেজেও আপলোড করা হয়। পরে এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে আটক করে।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, মিছিলের ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেনেছি।

তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। এরই মধ্যে চারজনকে আটক করা হয়েছে।

জানা গেছে, সন্ধ্যার পর নগরের হাউজিং এস্টেট এলাকায় শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের বাসায় বেশ কয়েকজন মিছিলসহকারে এসে ঢুকে পড়ে। এ সময় তারা বাসার সিসি ক্যামেরা, ল্যাপটপ ভাঙচুর করে।

প্রায় একই সময়ে পাঠানটুলা এলাকায় সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বাসায়ও হামলার ঘটনা ঘটে। ওই বাসার আসবাব ভাঙচুর করা হয়। তবে হামলার ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।

প্রায় একই সময়ে নগরের মেজরটিলা এলাকায় সাবেক কাউন্সিলর ও সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রুহেল আহমদের বাসায় হামলা করা হয়। রুহেলের বাসায় হামলার সময় তাঁর মা ও বোন বাসায় ছিলেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

বিমানবন্দর থানার ওসি সৈয়দ আনিসুর রহমান বলেন, ‌‌বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের বাসায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

জালালাবাদ থানার ওসি হারুনুর রশিদ বলেন, আনোয়ারুজ্জামানের বাসায় হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। শুনেছি বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা এই হামলা চালিয়েছে।

 

মন্তব্য

বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা

শেয়ার
বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা
ঈদের দিন সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠ থেকে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ
মন্তব্য

ঈদের রাতে কুপিয়ে দুই সহোদরকে হত্যা

    ৩ দিনে ৯ জেলায় ১১ খুন
কালের কণ্ঠ ডেস্ক
কালের কণ্ঠ ডেস্ক
শেয়ার
ঈদের রাতে কুপিয়ে দুই সহোদরকে হত্যা

ঈদের দিন রাতে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালে দুই সহোদরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া গত তিন দিনে দেশের ৯ জেলায় নিহত হয়েছেন ১১ জন। কালের কণ্ঠের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

নরসিংদী : ঘোড়াশাল পৌর এলাকার ভাগদী গ্রামের কুড়ইতলী এলাকায় দুই ভাইকে হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহতদের মা রাবেয়া খাতুন ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেছেন।

পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পলাশ থানার ওসি মনির হোসেন।

নিহতরা হলেন পলাশ উপজেলার করতেতৈল গ্রামের আশ্রাফ উদ্দিনের ছেলে রাকিব (২৫) ও সাকিব (২০)। এ সময় আহত হয়েছেন নিহতদের বাবা আশ্রাফ উদ্দিন এবং মা রাবেয়া খাতুন।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কুড়ইতলী এলাকার পাবেল হোসেন, খবির মিয়া ও উসমান মিয়া।

রাউজান (চট্টগ্রাম) : মা, ভাই ও বোনের হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নুরুল আলম বকুল (৪১) নামের এক প্রকৌশলী নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার উপজেলার ১ নম্বর হলদিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে তিতা গাজীর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় লোকজন জানায়, প্রকৌশলী বকুল গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে স্ত্রী ও সন্তানদের শহরে রেখে গ্রামের নিজ বাড়িতে আসেন।

ঈদের পরের দিন মা শহিদা বেগম, সত্ভাই দিদার আলম, নাজিম উদ্দিন ও বোন মুন্নি আকতারের সঙ্গে বসতভিটার জায়গার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে তাঁরা বকুলকে দা, কুড়ালসহ দেশি অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে থাকেন। পরে স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

লক্ষ্মীপুর : মোবাইল ফোন চুরির অপবাদ দিয়ে শ্রমিক দল নেতা মো. রাজুকে (৩৫) পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত রবিবার রাতে সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের সবুজের গোঁজা এলাকায় কাজল কম্পানির ইটভাটার সামনে এই ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

নিহত রাজু চররুহিতা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের দপ্তর সম্পাদক।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি আব্দুল মোন্নাফ বলেন, এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী জোসনা বেগম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। চারজনকে আটক করা হয়েছে।

ভোলা : জমি নিয়ে বিরোধে দুই পক্ষের সংঘর্ষে জামাল হাওলাদার (৫৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার কুঞ্জপট্টি গ্রামে এই সংঘর্ষে দুই গ্রুপের ১০ জন আহত হন।  নিহত জামাল ভেলুমিয়া ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন।

ভোলা সদর মডেল থানার ওসি আবু সাহাদাৎ মো. হাসনাইন পারভেজ বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ একজনকে আটক করেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া :  দোকানের সামনে পার্ক করা অটোরিকশা ও পিকআপ সরাতে বলায় তর্কের এক পর্যায়ে ছুরিকাঘাতে তৌফিক (২৬) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে বিজয়নগর উপজেলার আদমপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত তৌফিক ওই গ্রামের আরু মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয় বাজারে গ্যাস সিলিন্ডার দোকানের কর্মচারী ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ : ফতুল্লায় পাভেল (৩৯) নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গত সোমবার ভোরে ফতুল্লার পঞ্চবটি-মুক্তারপুর রোডের কাশিপুর এলাকার লায়ন চক্ষু হাসপাতালের পাশে এই ঘটনা ঘটে। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৩টার দিকে তিনি মারা যান।

রাজবাড়ী : সালমা বেগম (২৫) নামের এক প্রবাসীর স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর নিজ ঘরে ফেলে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই অভিযোগে গতকাল দুপুরে নিহত সালমার বাবা সালাম শেখ অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। সালমা বেগম ওই গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী আজাদ মল্লিকের স্ত্রী।

নড়াইল : লোহাগড়া উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আকবার শেখ (৬৫) নামের একজন খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো ১০ জন আহত হন। গত সোমবার বিকেলে উপজেলার লাহুড়িয়া পশ্চিমপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে।

নিহত আকবার শেখ ওই গ্রামের মেকরেত শেখের ছেলে। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য। লোহাগড়া থানা পুলিশের ওসি আশিকুর রহমান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগের দিন নড়াইলের লক্ষ্মীপাশা চৌরাস্তা এলাকায় কাঁচামাল কেনা নিয়ে কথা-কাটাকাটিতে শ্রমিক নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ ঘাতক কাঁচামাল ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে।

নিহত মামুন নড়াইল জেলা বাস-মিনিবাস, কোচ, মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক।

মহাদেবপুর (নওগাঁ) : বাড়ির সামনে অটোরিকশা রাখা নিয়ে ঝগড়ায় প্রতিবেশীর মারধরে নিহত হয়েছেন বৃদ্ধ জহিরুল ইসলাম খোকন (৫৬)। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে উপজেলার খোর্দ্দনারায়ণপুর দক্ষিণপাড়ায়।

চার জেলায় চার লাশ উদ্ধার

গত তিন দিনে গাজীপুর মহানগরীর মাস্টারবাড়ি এলাকা, রংপুরের পীরগঞ্জ, নওগাঁর মান্দা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

 

মন্তব্য
হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা

খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন পেয়েছে প্রসিকিউশন

বাসস
বাসস
শেয়ার
খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন পেয়েছে প্রসিকিউশন

ছাত্র-জনতার আন্দোলন নির্মূলে জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্টের খসড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের হাতে এসেছে। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বাসসকে জানান, খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন হাতে এসেছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেলেই ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) দাখিল করা হবে।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানিয়েছেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলন নির্মূলে সংঘটিত হত্যা-গণহত্যা, বিগত আমলে গুমসহ নানা ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে এ পর্যন্ত ৩০০টির বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বরাবর জুলাই-আগস্টে গণ-আন্দোলন নির্মূলে পরিচালিত হত্যা-গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ, বিগত ১৫ বছরে গুমের বিভিন্ন অভিযোগ ও ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিল শাপলা চত্বরে পরিচালিত গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ছাত্র-জনতার আন্দোলন নির্মূলে বিগত সরকারের শীর্ষ ব্যক্তি ও কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও দলীয় ক্যাডারদের বিরুদ্ধে হত্যা ও গণহত্যার সুনির্দিষ্ট ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ উল্লেখ করে তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা ও বিচারের আরজি পেশ করা হয়েছে এসব অভিযোগে।

প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানান, এসব অভিযোগের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৩টি (মিসকেস) মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ১৪৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

এর মধ্যে ৫০ জনের মতো আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন।

গত ১৪ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান হাইকোর্টের বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার। আর ট্রাইব্যুনালের সদস্য হিসেবে নিয়োগ পান হাইকোর্টের বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এর আগে চিফ প্রসিকিউটরসহ প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা নিয়োগ দেওয়া হয়।

 

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ