ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৩ এপ্রিল ২০২৫
২০ চৈত্র ১৪৩১, ০৩ শাওয়াল ১৪৪৬

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৩ এপ্রিল ২০২৫
২০ চৈত্র ১৪৩১, ০৩ শাওয়াল ১৪৪৬

সর্বস্তরে বাংলা

শেয়ার
সর্বস্তরে বাংলা

ভাষা একটি জাতির সংস্কৃতি ও স্বাধীন সত্তার পরিচয় বহন করে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস প্রতিটি ভাষাভাষী মানুষের জন্য গর্বের দিন, বিশেষ করে বাঙালিদের জন্য এটি আত্মত্যাগ ও বিজয়ের অনন্য প্রতীক। ভাষা আন্দোলন শুধু বাংলা ভাষার জন্যই সীমাবদ্ধ ছিল না, এটি ভবিষ্যতে স্বাধীনতা আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভাষার অধিকার রক্ষার চেতনা অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল।

১৯৯৯ সালে ইউনেসকো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে, যা ২০০০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ এখন এই দিনটিকে ভাষা ও সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও বিকাশের জন্য পালন করে। বাংলাদেশে মাতৃভাষার গুরুত্ব অপরিসীম। তবে বর্তমান সময়ে বাংলা ভাষার ব্যবহার ও বিকাশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।
বিশেষ করে প্রযুক্তির আধিপত্য, বিদেশি ভাষার প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলা ভাষার বিকৃত ব্যবহারের কারণে মাতৃভাষার সঠিক চর্চা অনেক ক্ষেত্রেই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমানে বাংলার ব্যবহারে কিছু সমস্যা দেখা দিচ্ছে। অফিস-আদালত, উচ্চশিক্ষা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ইংরেজির আধিপত্য বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মাতৃভাষার প্রচলনে বাধা সৃষ্টি করছে। ডিজিটাল যুগে মাতৃভাষার সংরক্ষণ ও বিকাশে প্রযুক্তির ভূমিকা অনস্বীকার্য।
বাংলা ভাষার সমৃদ্ধির জন্য আমাদের প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।

জাহিদ হাসান

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

ঈদ মানেই আনন্দ ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য

শেয়ার
ঈদ মানেই আনন্দ ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম পালনের পর আমাদের মাঝে হাজির হয় পবিত্র ঈদুল ফিতর। এই উপলক্ষে আমরা আনন্দে মেতে উঠি। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার মজাই আলাদা। ধনী-দরিদ্র মিলেই আমাদের সমাজ।

আমাদের সমাজে এমন অনেক মানুষ রয়েছে, যারা ঈদের দিন কিছু ভালো খাবারের আয়োজন করতে পারে না, কিন্তু তারা নিজেরা, তাদের সন্তানরা কিছু ভালো খাবারের ইচ্ছা করেই থাকে। আমাদের উচিত তাদের জন্য কিছু করা। যারা দরিদ্র তাদের জন্য একটু সাহায্য করলেই আমাদের ঈদ হয়ে উঠবে কয়েক গুণ আনন্দের। সমাজের ধনী-দরিদ্র, বড়-ছোট সবার মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়াই হোক আমাদের লক্ষ্য।

ঈদ সবার জীবনে নিয়ে আসুক অনাবিল সুখ, শান্তি, আনন্দ ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য।

 মো. আশিকুর রহমান

শিক্ষার্থী, আল-কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ

মন্তব্য

পরিবেশ ধ্বংস করছে প্লাস্টিক

শেয়ার
পরিবেশ ধ্বংস করছে প্লাস্টিক

নানা সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে মানুষ বিভিন্ন ধরনের পার্টি আয়োজন করে। সেসব পার্টিতে প্লাস্টিকের প্লেট, প্লাস্টিকের গ্লাস, পলিথিন ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া হয়। বাড়িঘরের আশপাশে বা পথ চলতেও মানুষ যেখানে-সেখানে ব্যবহৃত প্লাস্টিক ফেলে দেয়। অথচ এই প্লাস্টিক পরিবেশের ক্ষতি করছে।

আপনি কি জানেন, আপনি নিজের অজান্তে কিভাবে পরিবেশ ধ্বংস করার মিছিলে যোগ দিয়েছেন। অথচ একটু সচেতন হলেই আমরা পরিবেশের ক্ষতি রোধ করতে পারি। প্লাস্টিকের জিনিসগুলো ব্যবহারের পর ডাস্টবিনে কিংবা একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলুন, যেখান থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সেগুলো সংগ্রহ করতে পারেন। সে রকম জায়গা না থাকলে সামান্য কষ্ট করে সেগুলো সঙ্গে নিয়ে যান, যেখানে ময়লা ফেলার ব্যবস্থা আছে সেই জায়গা পর্যন্ত।
নাসিরনগর ও সরাইলের মধ্যবর্তী হাওরাঞ্চলে প্রায়ই নানা ধরনের পার্টি হয় এবং প্লাস্টিক দূষণের কাজটি নিয়মিত চলতে থাকে, যা ফসলি জমি ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

শুধু হাওর নয়, সরাইল থেকে নাসিরনগরের যে আঞ্চলিক মহাসড়ক আছে, সেটিতেও প্রচুর পরিমাণে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। বিশেষ করে কালিকচ্ছের বাসাবাড়ির, পোলট্রি ফার্মের ড্রেসিং করা বর্জ্য, পলিথিনে ভরা আবর্জনাগুলো রাস্তার পাশে ফেলে দেওয়া হচ্ছে, যে কারণে নাসিরনগরগামী মানুষের প্রচুর সমস্যা হচ্ছে। কারণ এসব ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে পরিবেশ তো নষ্ট হচ্ছেই, এর সঙ্গে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

আসুন, সবাই মিলে পরিবেশ রক্ষায় প্লাস্টিক বর্জন করি এবং আমাদের চারপাশ সবুজ ও পরিচ্ছন্ন রাখি।

শাহরিয়ার কাসেম

বুড়িশ্বর, নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

নদী রক্ষা করতে হবে

শেয়ার
নদী রক্ষা করতে হবে

সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা আমাদের এই জন্মভূমি। বাংলার যেদিকে তাকাই, সেদিকেই সবুজ আর সবুজ। এ যেন সৃষ্টিকর্তার নিজের হাতে সাজানো সবুজের ফুলঝুরি। বাংলাদেশের এই সবুজ প্রকৃতির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে এ দেশের নদ-নদীগুলো।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব বলছে, এ পর্যন্ত হারিয়ে গেছে আট হাজার খাল-বিল। দখল-দূষণ ও ভাঙনের কারণে জীবিকা হারিয়ে প্রতিবছর বাস্তুচ্যুত ও অভিবাসী হচ্ছে পাঁচ লাখ মানুষ, যারা প্রবেশ করছে ঢাকা ও অন্যান্য শহরে। চরাঞ্চলে বসবাসরত এক কোটি মানুষের জীবন-জীবিকাও হুমকির সম্মুখীন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশে এক হাজার ৭৪০টি নদীর অস্তিত্ব ছিল।

নদী রক্ষা কমিশনের হিসাবে বর্তমানে ৭২০টি নদীর অস্তিত্ব রয়েছে, যেগুলোর বেশির ভাগ দখল-দূষণে জর্জরিত, সঙ্গে মৃতবৎ।

নদীভাঙনের ফলে নদী এলাকার লোকজনের দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। দারিদ্র্যের শর্ত হলো তাদের সম্পদ ধ্বংস। নদীভাঙনের ফলে তাদের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যায়।

জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। গ্রামের লোকজন শহরমুখী হয়ে যায়। উৎপাদন হ্রাস পায়। এটির ফলে খাদ্যসংকট দেখা দেয়। নদীভাঙনের ফলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়।
কারণ ওই এলাকায় তখন কোনো পণ্য উৎপাদিত হয় না। ফলে চাহিদা বেড়ে যায়। অপরাধ বেড়ে যায়। অপরাধবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞদের মতে, চরাঞ্চলের লোকজন সাধারণত কলহে বেশি লিপ্ত থাকে। তাই সেখানে অপরাধ বৃদ্ধি পায়। রোগব্যাধি বৃদ্ধি, সামাজিক বন্ধন হ্রাস, পুষ্টিহীনতার মতো সমস্যা তৈরি হয়। এসব সমস্যার মূল উৎস নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া এবং চরাঞ্চলের মানুষের বেকারত্ব।

আমাদের সবাইকে নদীভাঙন রোধ করতে হবে, সচেতন হতে হবে, নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে, যাতে নদীর নাব্যতা কমে না যায়; নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পায়। বিবিসির সমীক্ষায় বাংলাদেশের ৪৩৫টি নদী হুমকির মুখে। ৫০ থেকে ৮০টি নদী বিপন্নতার শেষ প্রান্তে। গবেষকদের মতে, এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ২০৫০ সালের মধ্যে যদি আমরা নদীদূষণ রোধ এবং নদীর নাব্যতা সংকট দূর করতে না পারি, তবে আমাদের জন্য ভয়ানক কিছু অপেক্ষা করছে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর, সুস্থ জীবনের জন্য আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।

ফাহমিদা জামান

শিক্ষার্থী, সরকারি মহিলা কলেজ, চট্টগ্রাম

 

মন্তব্য

চালকদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা উচিত

শেয়ার
চালকদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা উচিত

ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য দায়িত্ব পাওয়া শিক্ষার্থীদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা উচিত তারা চালকদের সঙ্গে কেমন আচরণ করবে। কিছু জায়গায় কিছু শিক্ষার্থীকে দেখেছি, তারা চালকদের সঙ্গে অনেক খারাপ আচরণ করে। ছোট মানুষ হয়ে তার বাবার বয়সী চালকদের সঙ্গে সম্মানের সঙ্গে কথা বলা উচিত। অনেক শিক্ষার্থী যা করে না, কেউ কেউ পুলিশের কটি গায়ে দিয়ে নিজেকে অনেক কিছু মনে করে।

নাবালক শিশুরা ট্রাফিকের দায়িত্ব পেয়ে কোথাও চালকদের সঙ্গে এমন ব্যবহার করে, যেন গাড়িচালক দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসীর মতো অপরাধ করে ফেলেছেন। অনেক চালক ছোট মানুষের দুর্ব্যবহার মেনে নিতে পারেন না। তাই তাদের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে পড়েন।

কথাগুলো আমি কোনো ক্ষোভ থেকে বলছি না।

শুধু অসংগতিটা তুলে ধরলাম। আশা করি, পুলিশের দায়িত্বশীলরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন। ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করা শিক্ষার্থীদের ধৈর্যশীল হতে হবে।

 সোহরাব হোসেন

দক্ষিণখান, ঢাকা

 

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ