মুসলিম পরিচয় যেভাবে সুরক্ষিত হয়

আতাউর রহমান খসরু
আতাউর রহমান খসরু
শেয়ার
মুসলিম পরিচয় যেভাবে সুরক্ষিত হয়

চাকরি, লেখাপড়া, যুদ্ধ-বিপর্যয় থেকে আত্মরক্ষা ও উন্নত জীবন লাভের আশায় মুসলিম দেশ থেকে বহু মুসলিম অমুসলিম দেশে পাড়ি জমায়। তাদের অনেকেই দীর্ঘ মেয়াদে অমুসলিম দেশে বসবাস করে। আবার কেউ কেউ অমুসলিম দেশের নাগরিকত্বও গ্রহণ করে। অমুসলিম দেশে বসবাসকারী মুসলিমদের সামনে বড় একটি চ্যালেঞ্জ হলো মুসলিম পরিচয় রক্ষা করা, বিশেষত অমুসলিম দেশে বসবাসকারী মুসলিম পরিবারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের সন্তানদের অনেকেই ইসলাম ও ইসলামী জীবনধারা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, মুসলিম পরিচয় ত্যাগ করছে, যা খুবই উদ্বেগজনক।

মুসলিম পরিচয় বহনের গুরুত্ব

একজন মুসলমানের জন্য মুসলিম পরিচয় বহন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে তা অপরিহার্য। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে কোনো অবস্থায় মৃত্যুবরণ কোরো না।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১০২)

আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসিরবিদরা বলেন, তাকওয়া তথা আল্লাহভীতির জীবনই মুসলমানের জীবন।

আর তা হলো জীবনের সর্বত্র আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য। (মাআরেফুল কোরআন : ২/১১০)

পূর্ণ পরিচয় বহন করা আবশ্যক

মুসলমানের জন্য আবশ্যক হলো পরিপূর্ণরূপে ইসলামকে ধারণ করা। আংশিক পরিচয় ধারণ এবং আংশিক ত্যাগ করা গ্রহণযোগ্য নয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা সর্বাত্মকভাবে ইসলামে প্রবেশ করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোরো না।

নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২০৮)

আয়াতের ব্যাখ্যায় মুজাহিদ (রহ.) বলেন, ‘তোমরা একই ধর্মাচার মেনে চলো, পরিপূর্ণ ইসলাম মান্য করো এবং তার ওপর দৃঢ় থাকো।’ (তাফসিরে কুরতুবি : ৩/৩৯২)

পরিবার রক্ষায় চাই বিশেষ পরিকল্পনা

অমুসলিম দেশের ইসলামবিমুখ সমাজে পরিবারের সদস্যদের দ্বিন ও ইসলাম রক্ষায় বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা আবশ্যক। যেমন—পরিবারে দ্বিনচর্চার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা, শিশুদের প্রয়োজনীয় দ্বিনি শিক্ষা নিশ্চিত করা, পরস্পরকে দ্বিন পালনে উৎসাহিত করা ইত্যাদি। এ ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর নির্দেশ হলো, ‘হে মুমিনরা! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করো আগুন থেকে, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যাতে নিয়োজিত আছে নির্মম হৃদয়, কঠোর স্বভাব ফেরেশতারা, যারা অমান্য করে না তা যা আল্লাহ তাদেরকে আদেশ করেন।

আর তারা যা করতে আদিষ্ট হয় তাই তারা করে।’ (সুরা : তাহরিম, আয়াত : ৬)

আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করা আবশ্যক

ইসলাম মা-বাবা ও অভিভাবককে সন্তান-সন্তুতি ও অধীনদের দ্বিনের ওপর প্রতিষ্ঠিত করার গুরুদায়িত্ব দিয়েছে। কেউ যদি এই দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে তাহলে পরকালে তাঁকে জবাবদিহি করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক নবজাতক ফিতরতের (ইসলামের) ওপর জন্ম গ্রহণ করে। অতঃপর তার মা-বাবা তাকে ইহুদি, খ্রিস্টান ও অগ্নি উপাসকে পরিণত করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৩৮৫)

মুসলিম পরিচয় রক্ষার উপায়

কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে মুসলিম পরিচয় রক্ষার কয়েকটি উপায় বর্ণনা করা হলো। যার মূলকথা হলো, ইসলাম ও মুসলমানের শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা অন্তরে ধারণ করা এবং হীনম্মন্যতার শিকার না হওয়া। যেমন—

১. ইসলামই আলো : সমগ্র পৃথিবী ও মানবজাতির জন্য ইসলামই আলো। ইসলাম ছাড়া আলোকিত জীবনযাপন সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে চায়, এর (কোরআন) দ্বারা তিনি তাদের শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং নিজ অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে যান। তাদের সরল পথে পরিচালিত করেন।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ১৬)

২. ইসলামই পূর্ণাঙ্গ : পৃথিবীতে যত দ্বিন ও ধর্ম আছে তার মধ্যে আল্লাহ ইসলামকেই পূর্ণতা দান করেছেন। তাই ইসলামকেই ধারণ করতে হবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বিন পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বিন মনোনীত করলাম।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৩)

৩. মুসলমানই শ্রেষ্ঠ জাতি : মুমিন অন্তরে এই বিশ্বাস লালন করে যে মুসলমানই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতি। তাই মুসলিম পরিচয় ধারণ করা লজ্জার নয়। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির জন্য তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করো এবং আল্লাহতে বিশ্বাস করো।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১১০)

৪. আল্লাহর আনুগত্য সর্বত্র : মুমিন আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে ইসলামের পরিচয় ধারণ করে। আল্লাহর আনুগত্য দেশে ও প্রবাসে সর্বত্র আবশ্যক। মহানবী (সা.) বলেন, ‘তুমি যেখানেই থাকো আল্লাহ তাআলাকে ভয় করো, মন্দ কাজের পরপরই ভালো কাজ করো, তাতে মন্দ দূরীভূত হয়ে যাবে এবং মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ করো।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ১৯৮৭)

৫. দৃঢ়তাই সাফল্য : প্রতিকূল পরিবেশে ঈমান ও ইসলামকে আঁকড়ে ধরা এবং তার ওপর দৃঢ় থাকাই সাফল্য। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই এই কোরআন পথ দেখায় সেই পথের দিকে, যা সুদৃঢ় ও সত্কর্মপরায়ণ মুমিনদের জন্য সুসংবাদ দেয় যে তাদের জন্য আছে মহাপুরস্কার।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৯)

৬. সুপথে চলার সুফল নিজের : সুপথে চলতে কষ্ট হলেও এর সুফল ব্যক্তি নিজেই ভোগ করবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি সৎপথ অনুসরণ করে, সে সৎপথ অনুসরণ করে নিজেরই কল্যাণের জন্য। আর কেউ ভ্রান্ত পথ অবলম্বন করলে তুমি বলো, আমি তো কেবল সতর্ককারীদের জন্য একজন।’ (সুরা : নামল, আয়াত : ৯২)

৭. পরকালই প্রকৃত ঠিকানা : মুমিনের প্রকৃত ঠিকানা পরকাল। তাই সে পার্থিব স্বার্থের জন্য পরকালকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না। আল্লাহ বলেন, ‘কিন্তু তোমরা পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দাও, অথচ আখিরাতই উত্কৃষ্টতর এবং স্থায়ী।’ (সুরা : আলা, আয়াত : ১৬-১৭)

পরিচয় ত্যাগের ক্ষতি

কোরআন ও হাদিসের একাধিক স্থানে মুসলিম পরিচয় ত্যাগ করার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য গ্রহণ করে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ৪০৩১)

অন্য হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন, ‘দাড়ি-চুলের শুভ্রতাকে পরিবর্তন করো, আর ইহুদিদের অনুকরণ কোরো না।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৫০৭৩)

মনে রাখতে হবে, কোনো অমুসলিম ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ইসলাম ও ইসলামের পরিচয় ত্যাগের মাধ্যমে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়। কেননা তারা মুসলিমদের ঈমানহারা না করা পর্যন্ত সন্তুষ্ট হয় না। পবিত্র এই বাস্তবতায় তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহ কতই না চমৎকার বলেছেন, ‘ইহুদি ও খ্রিস্টানরা তোমার প্রতি কখনো সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না তুমি তাদের ধর্মাদর্শ অনুসরণ করো। বলো, আল্লাহর পথনির্দেশই প্রকৃত পথনির্দেশ।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১২০)

আল্লাহ সবাইকে স্বদেশে ও প্রবাসে ঈমান ও ইসলাম রক্ষা করে চলার তাওফিক দিন। আমিন।

 

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

যেভাবে আত্মিক প্রশান্তির খোঁজ পেলেন ইতালিয়ান তরুণ

ইসলামী জীবন ডেস্ক
ইসলামী জীবন ডেস্ক
শেয়ার
যেভাবে আত্মিক প্রশান্তির খোঁজ পেলেন ইতালিয়ান তরুণ
ইতালিয়ান নওমুসলিম লুকাস ক্লেমেন্ট। ছবি : আনাদোলু এজেন্সি

বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে এক যুগ ধরে কাজ করছেন লুকাস ক্লেমেন্টে। দীর্ঘ এই সময়ে কথা হয় এক মুসলিম সহকর্মীর সঙ্গে। তার কথায় মুগ্ধ হয়ে ইসলাম ও অন্য ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা করেন লুকাস। পরে ৩৫ বছর বয়সে দীর্ঘদিন চিন্তা-ভাবনার পর অবশেষে ইসলাম গ্রহণ করেন।

 

ইতালির মিলানে জন্ম নেওয়া ক্লেমেন্টে প্রথমে বারটেন্ডিং হিসেবে ব্রাসেলসে যান। মূলত তিনি তার এক বন্ধুর কাছ থেকে অফারটি পেয়েছিলেন। তখন ব্রাসেলস সম্পর্কে তার কোনো জানাশোনা ছিল না। এমনকি ফ্রেঞ্চ ভাষাও তার জানা ছিল না।

ভিনদেশে একজন সাধারণ অভিবাসী যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে থাকে তিনিও এসব সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন। 

ক্লিমেন্টে জানান, তিনি যে হোটেলে থাকতেন সেখানে মরক্কোর একজন রিসেপশনিস্টের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। মূলত ওই ব্যক্তি সঙ্গে কথা বলতে বলতে এক সময় তার আধ্যাত্মিক যাত্রা শুরু হয়। তাদের মধ্যে প্রায়ই ধর্মীয় বিষয়সহ নানা বিষয়ে আলোচনা হতো।

ক্লেমেন্টে ওই সময় একজন নাস্তিক ছিলেন। খ্রিস্টান স্কুলে বেড়ে উঠেছিলেন তিনি। তা ছাড়া তার পরিবারও খুব ধার্মিক ছিল না। 

ক্লিমেন্টে বলেন, ‘আমি স্রষ্টায় বিশ্বাস করতাম না। ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে আমরা বিতর্ক করতাম।

আমি পড়াশোনা ও গবেষণা করে কিছু বিষয় যুক্তি বের করি, কেন আমি মনে করি স্রষ্টার অস্তিত্ব নেই। পরে এসব যুক্তি উপস্থাপন করতাম। তবে আমি দ্রুত বুঝতে পারি, আমার এসব প্রমাণ দুর্বল। বরং তার যুক্তিগুলো খুবই শক্তিশালী। তখন আমি বুঝতে শুরু করি, স্রষ্টার পক্ষে শক্তিশালী প্রমাণ রয়েছে। আমার মতো একজন নাস্তিকের জন্য তা খুবই অবিশ্বাস্য ছিল। এরপর আমি গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’ 

স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস করার পর ক্লেমেন্ট কোন ধর্ম সবচেয়ে সঠিক সেই প্রশ্নের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তিনি বৌদ্ধ ধর্ম থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধর্ম নিয়ে গবেষণা করেন। ইসলাম সম্পর্কে জানার পর কোরআনের অনস্বীকার্য প্রমাণ এবং অলৌকিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার খোঁজ পান যা তিনি উপেক্ষা করতে পারেননি।

ক্লেমেন্ট বলেন, ‘কোরআনের প্রথম যে বিষয় আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল তা হলো এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। এমনকি তাতে ভ্রূণের বিকাশ সম্পর্কে বিবরণ রয়েছে।’

ক্লেমেন্ট বলেন, কেবল বৈজ্ঞানিক দিকগুলোই তাকে প্রভাবিত করেনি, বরং মুসলিম সমাজের চরিত্রও তাকে প্রভাবিত করেছে। মুসলিমরা সাধারণত বেশি উদার, বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহানুভূতিশীল। ইসলাম সামাজিক আচরণকে যেভাবে প্রভাবিত করে তিনি এর প্রশংসা করেন।

তা ছাড়া একজন ইমামের কথাও ক্লেমেন্টের মধ্যে স্থায়ী প্রভাব ফেলেছিল। ইমাম তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘তুমি কি মনে করো, তোমার কবজির ঘড়িটি কোনো স্রষ্টা ছাড়াই অস্তিত্বে এসেছে? সে বলেছিল, না। তখন ইমাম বলেছিল, তাহলে তুমি কিভাবে ভাবতে পারো যে একজন মানুষ একজন স্রষ্টা ছাড়া অস্তিত্বে এসেছে?’ ক্লেমেন্ট এই প্রশ্নটি নিয়ে চিন্তা করে বুঝতে পারেন, একটি উচ্চতর শক্তির অস্তিত্ব কাকতালীয় বিষয় নয়।

ক্লেমেন্ট বলেন, ‘যখন আমি মুসলিম হই তখন আমি আমার হৃদয়ে এমন কিছু অনুভব করি। তা এমন কিছু যা আপনি ব্যাখ্যা করতে পারবেন না। কেবল অনুভব করতে পারবেন। আপনি সুন্দর স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন এবং অভ্যন্তরীণ শান্তি অনুভব করেন। তা একটি অবর্ণনীয় অনুভূতি, কিন্তু তা বাস্তবতার সারাংশ।’

ইসলাম গ্রহণের পর তার আধ্যাত্মিক রূপান্তরের বর্ণনা দিতে গিয়ে ক্লেমেন্ট বলেন, ‘প্রথমে আমি সন্দেহের মন নিয়ে ইসলামের দিকে এগিয়ে যেতাম। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা একটি আধ্যাত্মিক জাগরণে পরিণত হয়। আপনি আপনার দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম প্রয়োগ করতে শুরু করেন। নামাজ, রোজাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতে থাকেন। আমি পার্থক্য অনুভব করতে শুরু করেন। যেদিন আমি মুসলিম হয়েছিলাম, সেদিনই আমি আমার হৃদয়ে কিছু অনুভব করেছিলাম। এটি ছিল গভীর শান্তির অনুভূতি।’

তা ছাড়া ক্লেমেন্ট একটি স্বপ্নের কথাও বর্ণনা করেন। তিনি দেখেন, একজন নাস্তিক বন্ধুর সঙ্গে তিনি দৌড়াচ্ছিলেন। পথের সব বাধা অতিক্রম করে তিন স্বপ্নে দৌড়ে জয়ী হন। তিনি বলেন, ‘তা আমার কাছে একটি পূর্বাভাস ছিল, আমি সঠিক পথে আছি।’

ইসলাম গ্রহণের পর ক্লেমেন্টের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে। তিনি বলেন, ‘আগে আমি টাকা হারানোর ভয় করতাম। আমি ঝুঁকি নিতে পারতাম না।ভয় করতাম যে আমি যা বিনিয়োগ করেছি তা হারাব। কিন্তু বিশ্বাস গ্রহণের পর আমি নৈতিক, শারীরিক ও আধ্যাত্মিক শক্তি অর্জন করে বুঝতে পারি, সবকিছুই আল্লাহর কাছ থেকে আসে। একবার আপনি তা বুঝতে পারলে ভয় অদৃশ্য হয়ে যায়।’

ক্লেমেন্ট আরো বলেন, ‘আমি আমার সব খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করেছি। আমি মদ্যপান ও ধূমপান বন্ধ করেছি। আমার মনোযোগ উন্নত হয়েছে। আমি বুঝতে পারি, আমি যখন ছোট ছিলাম তখন আমি কোনো কিছুতে মনোনিবেশ করতে পারতাম না। ৩৫ বছর বয়সে আমি আমার ক্যারিয়ার এবং পরিবার গড়ে তুলেছি। অন্যদিকে ইতালিতে আমার সমবয়সী বন্ধুরা এখনও তাদের বিশের কোঠায় বসবাস করছে।’

আধ্যাত্মিক সংকটে ভোগা তরুণদের উদ্দেশে ক্লেমেন্ট বলেন, ‘ইসলাম হলো আপনার সব সমস্যার সমাধান। তা একটি উন্নত জীবনের দিকে পরিচালিত করে। ইসলামের অভ্যন্তরীণ দিক ব্যাখ্যা করা কঠিন, তবে যৌক্তিক দিকগুলো স্পষ্ট। ইসলাম অনুসারে জীবনযাপন আপনাকে শক্তি, মনোযোগ ও উদ্দেশ্যের দিকে এগিয়ে নেবে।’

তথ্য সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

মন্তব্য
প্রতিদিনের আমল

কবর জিয়ারতের সময় যে দোয়া পড়া সুন্নত

ইসলামী জীবন ডেস্ক
ইসলামী জীবন ডেস্ক
শেয়ার
কবর জিয়ারতের সময় যে দোয়া পড়া সুন্নত

মানুষের মৃত্যুর পর প্রথম আবাসস্থল কবর। মুমিনদের সেখানকার অধিবাসীর জন্য দোয়া করতে বলা হয়েছে। রাসুল (সা.) নিয়মিত কবর জিয়ারত করতেন এবং দোয়া করতেন। হাদিসে বর্ণিত একটি দোয়া হলো- 

السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ، مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ، وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ، أنتُم لنا فرَطٌ ونحنُ لَكم تبعٌ، أَسْاَلُ اللَّهَ لَنَا وَلَكُمُ الْعَافِيَةَ

উচ্চারণ : আসসালামু আলাইকুম আহলাদ দিয়ার।

মিনাল মুমিনিনা ওয়াল মুসলিমিন। ওয়া ইন্না ইনশাআল্লাহু বিকুম লাহিকুন। আনতুম লানা ফারাতুন ওয়া নাহনু লাকুম তাবউন। আসআলুল্লাহ লানা ওয়া লাকুমুল আফিয়াহ।
 

অর্থ : হে গৃহের অধিবাসী মুমিন ও মুসলিমরা, তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর ইচ্ছায় আপনাদের সঙ্গে মিলিত হব। তোমরা আমাদের অগ্রগামী এবং আমরা তোমাদের অনুসরণকারী। আমি আল্লাহর কাছে আমাদের ও তোমাদের জন্য নিরাপত্তা প্রার্থনা করি।

 

হাদিস : বুরাইদাহ আল-আসলামি (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুল (সা.) কবর জিয়ারতে গেলে তিনি দোয়াটি পড়তেন। (নাসায়ি, হাদিস নং : ২০৩৯)


 

মন্তব্য

রাসুল (সা.) পরিবারের সঙ্গে যেভাবে আনন্দ উদযাপন করতেন

সাআদ তাশফিন
সাআদ তাশফিন
শেয়ার
রাসুল (সা.) পরিবারের সঙ্গে যেভাবে আনন্দ উদযাপন করতেন

পৃথিবীতে সুখে থাকার জন্য পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা করা। হালাল পন্থায় তাদের আনন্দ দেওয়া। রাসুল (সা.) পরিবারের সদস্যদের যেমন নতুন নতুন বিষয় শিক্ষা দিতেন, তেমনি তাদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণও করতেন।

তাদের বিভিন্নভাবে আনন্দ দিতেন।

আমাদের সমাজের ধারণা যে পরিবারকে সব সময় শাসনে রাখলেই তারা নিয়ন্ত্রণে থাকবে, সুপথে থাকবে। এটি ভুল ধারণা। পরিবারের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে হবে, তাদের মাঝে মাঝে আনন্দ দিতে হবে, তাহলে তারা যেকোনো বিষয়ে তাদের পরিবারপ্রধানের সঙ্গে আলোচনা করতে সাহস পাবে।

এতে আমাদের পরিবারের অনেক সমস্যাই সমাধান হয়ে যাবে। অনেক সময় পরিবারপ্রধানের ভয়ে স্ত্রী-সন্তানরা অনেক কথাই তাঁর সঙ্গে শেয়ার করতে পারে না। ফলে পরিবারপ্রধানের সঙ্গে তাদের অনেক বিষয়েই মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়, যা একটি সংসারে কখনোই শান্তি ডেকে আনে না। এখানে রাসুল (সা.)-এর এমন কিছু ঘটনা তুলে ধরা হলো, যেখানে রাসুল (সা.) তাঁর পরিবারকে আনন্দ দিয়েছেন।

কন্যা ও জামাতাকে আনন্দ দেওয়া : রাসুল (সা.) মাঝে মাঝে কথার ছলে তাঁর কন্যা ও জামাতাকেও আনন্দ দিয়েছেন। সাহল ইবনে সাদ (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) ফাতিমা (রা.)-এর গৃহে এলেন, কিন্তু আলী (রা.)-কে ঘরে পেলেন না। তিনি ফাতিমা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার চাচাতো ভাই কোথায়? তিনি বলেন, আমার ও তাঁর মধ্যে বাদানুবাদ হওয়ায় তিনি আমার সঙ্গে অভিমান করে বাইরে চলে গেছেন। আমার নিকট দুপুরের বিশ্রামও করেননি। অতঃপর আল্লাহর রাসুল (সা.) এক ব্যক্তিকে বলেন, দেখো তো সে কোথায়।

সেই ব্যক্তি খুঁজে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল, তিনি মসজিদে শুয়ে আছেন। আল্লাহর রাসুল (সা.) সেখানে গেলেন। তখন আলী (রা.) কাত হয়ে শুয়ে ছিলেন। তাঁর শরীরের এক পাশে চাদর পড়ে গেছে এবং তার শরীরে মাটি লেগেছে। আল্লাহর রাসুল মাটি ঝেড়ে দিতে দিতে বলেন, ওঠো, হে আবু তুরাব! ওঠো, হে আবু তুরাব! (বুখারি, হাদিস : ৪৪১)

উপরোক্ত হাদিসে রাসুল (সা.) তাঁর মেয়েকে আনন্দ দেওয়ার জন্যই বলেছিলেন, ‘তোমার চাচাতো ভাই কোথায়?’ আবার আলী (রা.)-কে ধুলাবালিতে শুয়ে থাকতে দেখে ‘আবু তুরাব’ বলার উদ্দেশ্যও ছিল আনন্দ দেওয়া।

স্ত্রীকে আনন্দ দেওয়া : রাসুল (সা.) তাঁর স্ত্রীদেরও আনন্দে রাখতে পছন্দ করতেন। তিনি তাঁদের আনন্দ নষ্ট হয় এমন কাজ করতে অপছন্দ করতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, আমার বান্ধবীরাও আমার সঙ্গে খেলা করত। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘরে প্রবেশ করলে তারা দৌড়ে পালাত। তখন তিনি তাদের ডেকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং তারা আমার সঙ্গে খেলত। (বুখারি, হাদিস : ৬১৩০)

এমনকি রাসুল (সা.) হজরত আয়েশা (রা.)-কে আনন্দ দেওয়ার জন্য তাঁর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করেছেন। আয়েশা (রা.) বলেন, তিনি এক সফরে নবী (সা.)-এর সঙ্গে ছিলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করে তাঁর আগে চলে গেলাম। অতঃপর আমি মোটা হয়ে যাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে আবারও দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম, এবার তিনি আমাকে পিছে ফেলে দিলেন, বিজয়ী হলেন। তিনি বলেন, এই বিজয় সেই বিজয়ের বদলা। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৫৭৮)

নাতি-নাতনিদের আনন্দ দেওয়া : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে ইশার নামাজ পড়ছিলাম। রাসুল (সা.) সিজদা করলে হাসান-হুসাইন লাফ দিয়ে তাঁর পিঠে উঠত। রাসুল (সা.) সিজদা থেকে ওঠার সময় তাদের হাত দিয়ে নামিয়ে দিতেন। তিনি আবার সিজদা করলে তারাও আবার পিঠে উঠত। এভাবে তিনি নামাজ শেষ করেন। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৭৮৭৬)

অন্যান্য হাদিসে রাসুল (সা.) স্বীয় নাতনি উমামা বিনতে আবুল আসকেও আনন্দ দিয়েছেন বলে জানা যায়। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে রাসুল (সা.)-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

মন্তব্য
হাদিসের কথা

শাসকদের জন্য মহানবী (সা.)-এর সুসংবাদ

ইসলামী জীবন ডেস্ক
ইসলামী জীবন ডেস্ক
শেয়ার
শাসকদের জন্য মহানবী (সা.)-এর সুসংবাদ

নীতিবান শাসকদের জন্য ইহকাল ও পরকালে সুসংবাদ রয়েছে। তাদের মাধ্যমে পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ সুফল ভোগ করে। পাশাপাশি ন্যায়-ইনসাফের কারণে তাদরে জন্য আসমান ও জমিনের অসংখ্য সৃষ্টি কল্যাণের দোয়া করতে থাকেন। হাদিস শরিফে এসেছে,

وَعَن عِياضِ بن حِمارٍ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُأهلُ الجَنَّةِ ثَلاَثَةٌ : ذُو سُلطَانٍ مُقْسِطٌ مُوَفَّقٌ وَرَجُلٌ رَحيمٌ رَقِيقُ القَلْبِ لكُلِّ ذي قُرْبَى ومُسْلِمٍ وعَفِيفٌ مُتَعَفِّفٌ ذُو عِيالٍ رواه مسلم

অর্থ : ইয়াজ বিন হিমার (রা.) বলেছেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, জান্নাতিরা তিন ধরনের হবেন।

এক. ন্যায়পরায়ণ শাসক, যাকে ভালো কাজ করার সামর্থ্য দেওয়া হয়েছে। দুই. ওই ব্যক্তি যেসব আত্মীয়-স্বজন ও মুসলিমদের প্রতি দয়ালু ও বিনম্র-হৃদয়ের অধিকারী। তিন. ওই ব্যক্তি যে অনেক সন্তানের পিতা হওয়ার পরও হারাম ও ভিক্ষাবৃত্তি থেকে দূরে থাকে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৮৬৫)

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ