অতীতের প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দুঃশাসন-জুলুমের কারণে গত ২৪ বছর এখানে এসে সালাম দিতে পারিনি। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর আপনাদের সামনে কথা বলার সুযোগ হয়েছে। আমাকে কুলাউড়ার মানুষ যেভাবে চিনে, অন্য কেউ সেভাবে চিনে না। বিগত সময়ের স্বৈরাচারী হাসিনা কিংবা তার সরকারের মন্ত্রী, আমলারা কি কুলাউড়ার মানুষের চেয়ে বেশি চিনেন? আমি কি যুদ্ধাপরাধী? অথচ আমাকে বলা হয়েছে আমি যুদ্ধাপরাধী।
আমার ওপর যুদ্ধাপরাধের মামলা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে : জামায়াতের আমির
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

গতকাল মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) বিকেলে কুলাউড়া ডাকবাংলো মাঠে উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘যুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল সাড়ে ১২ বছর। সাড়ে ১২ বছরের মানুষ যুদ্ধকালীন সময়ে ১৪ মাইল দূরে গিয়ে কি মানুষ খুন করতে পারে-এটা বিশ্বাসযোগ্য কথা? চেষ্টা করা হয়েছে।
ঈদুল ফিতরের দিন জুলাই বিপ্লবের কয়েকটি শহীদ পরিবারের বাড়িতে গিয়ে তাদের স্বজনদের খোঁজ-খবর নিয়েছি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শহীদ পরিবারের মধ্যে যাদের বাড়ি গিয়েছিলাম তাদের জিজ্ঞেস করেছি কেমন আছেন, তারা শুধু টপটপ করে চোখের পানি ফেলেছেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমি আমি অন্য একটি সংগঠনের খুদে সমর্থক ছিলাম। এখন এ সংগঠনের নাম বলতে লজ্জা লাগে। ওইসময় আমি জামায়াতে ইসলাম ও শিবির করতাম না। বিগত জালিম সরকারের আমলে আমরা ১১ জন শীর্ষ নেতাকর্মীকে হারিয়েছি। সাড়ে ১৩টি বছর দলীয় অফিস সিলগালা করা হয়েছে। আমাদের নিবন্ধন বাতিল করে ১ আগস্ট দিশেহারা হয়ে নিষিদ্ধ করা হয়। সে সময় আল্লাহকে বলেছিলাম, আল্লাহ তুমি বিচার করো, ঠিক ৪দিন পর আল্লাহর বিচার হয়েছে।’
ছাত্রদের কোটা আন্দোলন দেশের সব মানুষের আন্দোলন ছিল জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এটা কোনো দলের বা কোনো গোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না। ওই আন্দোলন ছিল দেশের সব মানুষের আন্দোলন। এর কৃতিত্ব ছাত্র-জনতার। জুলাই বিপ্লবে ছাত্রজনতার সঙ্গে আমরাও ছিলাম। জালিমের মাথা আল্লাহ গুড়িয়ে দিয়েছেন। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আমরা নতুন একটি বাংলাদেশ পেয়েছি। বাংলাদেশকে আল্লাহ জালিমের কবল থেকে মুক্ত করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী চাই না, যাদের ভিতর মনুষ্যত্ব নেই। আমরা চাই প্রকৃত মানুষ। যারা মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করবেন, তাদের প্রয়োজন। বাংলাদেশে মানবিকতার মৃত্যু হয়েছে। আমরা একটা মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। যেখানে হিন্দু মুসলিম কিংবা মেজরিটি মাইনরিটি বলে কিছু থাকবে না। দল,মত নির্বিশেষে মানবিক বাংলাদেশ গড়তে লড়াই শুরু হয়েছে। দুঃশাসন এবং জুলুমের কারণে আপনাদের মুখ দেখতে পারিনি। আজ প্রাণ খুলে আপনাদের সবাইকে দেখতে পেরেছি এজন্য মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া।’
ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মুনতাজিমের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি বেলাল আহমদ চৌধুরীর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট মহানগরীর আমির মো. ফখরুল ইসলাম, সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, সেক্রেটারি মো. ইয়ামীর আলী, সাবেক জেলা আমির সিরাজুল ইসলাম মতলিব, মৌলভীবাজার ৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুর রব, মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আমিনুল ইসলাম, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুল মান্নান, ঢাকা পল্টনের আমির শাহিন আহমদ খান প্রমুখ।
ডা. শফিকুর রহমান কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নের তুলাপুর গ্রামের সন্তান। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ৪ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। আগামী নির্বাচনে এই আসনে জামায়াত তাদের একক প্রার্থী হিসেবে জেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহেদ আলীর নাম ঘোষণা করেছে।
সম্পর্কিত খবর

আরাফাত রহমানের শাশুড়ির মৃত্যুতে তারেক রহমানের শোক
অনলাইন ডেস্ক

সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর-উত্তম এবং বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর শাশুড়ি এস ইউ এফ মুকরেমা রেজার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রবিবার সকালে এক শোক বার্তায় তারেক রহমান বলেন, এস ইউ এফ মুকরেমা রেজার মৃত্যুতে তার শোকাহত পরিবারের মতো আমিও গভীর সমব্যথী। একজন স্নেহশীল মাতা হিসেবে তিনি গভীর মাতৃস্নেহ ও কঠোর পরিশ্রম দিয়ে তার সন্তানদের সুশিক্ষিত ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। পরহেজগার ও পরোপকারী নারী হিসেবেও তিনি এলাকার সবার কাছে ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়।
শোক বার্তায় তারেক রহমান আরো বলেন, আমি এস ইউ এফ মুকরেমা রেজার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ, আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা।
এর আগে শনিবার দিবাগত রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন মুকরেমা রেজা। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

সাক্ষাৎকার
ক্ষমতার মজা পেয়ে গেছেন উপদেষ্টা পরিষদের সবাই
- হাফিজ উদ্দিন আহমদ
অনলাইন ডেস্ক

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম বলেছেন, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস এখন পর্যন্ত তাঁর ভাবমূর্তি ধরে রেখেছেন। বিদেশি রাষ্ট্র-প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমানতালে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের কাছ থেকে যথেষ্ট সম্মানও পাচ্ছেন। এটা বাঙালি হিসেবে সবার জন্যই গৌরবের বিষয়।
প্রশ্ন : বর্তমানে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক অবস্থা কী? অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কেমন?
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম : বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালোমন্দ মিলেই চলছে। ভালোটাই আগে বলি।
আমরা অনেক আশা করেছিলাম তরুণ যে ছাত্রনেতা বা তরুণ যে যুবক নেতারা রয়েছেন, তাঁরা নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করবেন। তাঁরা নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করবেন। কিন্তু দেখা গেল যেই লাউ সেই কদু। তাঁরা যাদেরকে প্রতিদিন নিন্দা-মন্দ করেন, তারা যে রাজনীতি করে, সেটাই তাঁরা অনুসরণ করছেন। নিজের বাড়িতে যেতে যদি ১০০ গাড়ির বহর লাগে, তাহলে ভবিষ্যতে তাঁরা কী দেবে দেশকে। এসব দেখে এবং তাঁদের সম্বন্ধে যেসব কথা শোনা যাচ্ছে, বিশেষ করে তাঁরা কোনো পয়সাকড়ি/খরচ না দিয়ে যেখানে বিনামূল্যে অবস্থান করছেন পাঁচতারকা হোটেলে, তাঁদের দিয়ে কী হবে? তাঁদের কর্মকাণ্ডে আমি অনেকটা আশাহত হয়েছি। অথচ এঁরাই ছিল দেশের ভবিষ্যৎ। এঁদের নিয়েই আমরা অনেক কিছু আশাভরসা করেছিলাম। এঁদেরকে দেখেই রাজনৈতিক দলগুলোও নিজেদের অনেক সংশোধন করে নেবে, অতীতেন মতো এঁরা গড্ডলিকায় গা ভাসিয়ে দেবে না। কিন্তু দেখা গেল যে আমরা আশার যে আলো দেখতে পেয়েছিলাম, সেটিও নির্বাপিত প্রায়। এই অবস্থাতে আমার মনে হয় যে ভোটের মাধ্যমেই একমাত্র একটা সমাধান হতে পারে। বিএনপিকেও অনেক পরিবর্তন আনতে হবে। বিএনপির প্রথম কাজটাই হবে নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে। এবং নিজের দলে যদি কেউ উল্টাপাল্টা কাজ করে, জনগণ যেগুলো পছন্দ করে না, তাদের বিরুদ্ধে প্রথম অ্যাকশন নিতে হবে। তবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে, বিএনপি জিয়াউর রহমানের দল এবং আওয়ামী লীগ যেসব ভুলভ্রান্তি করেছে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বিএনপি এগুলো করবে না। এই হলো মোটামুটি ভালোমন্দ মিলিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
প্রশ্ন : নির্বাচন নিয়ে চারদিকে সংশয় দেখা দিয়েছে। ছাত্রনেতারা চাচ্ছেন আগে সংস্কার পরে নির্বাচন। জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামি কয়েকটি দলের ভূমিকাও অস্পষ্ট। এ অবস্থায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন কবে নাগাদ হতে পারে? আপনি কী মনে করেন?
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম : যাদের দেশের জনগণের মধ্যে কোনো অবস্থান নেই, একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে যাদের জনপ্রিয়তা। একটি ছোট গোষ্ঠীর মধ্যে যাদের বিচরণ, তারা নির্বাচনকে ভয় পাবেই। জনগণের ওপর তাদের আস্থা নেই। তবে নির্বাচন তো এখনো অনেক দেরি আছে। তারা লোকজনের মাঝে নিজেদের ভাবধারা প্রচার করুক। তাদের যে মেনিফেস্টো রয়েছে, তাদের যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সেগুলো জনগণের কাছে তুলে ধরুক। তারপরে নির্বাচনে তারা ভোট চাইতে পারে। কিন্তু আগে থেকেই তারা ধরে নিয়েছে যে তারা ভোটে পরাজিত হবে। সুতরাং পরাজয়ের ভয়ে নির্বাচন পেছাতে হবে, আমাদের দলের অবস্থান নাই, অবস্থান তৈরি করে তারপর নির্বাচন দেব, এ ধরনের চিন্তাভাবনা জাতি ও দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে।
আমি মনে করি প্রফেসর ইউনূস তিনি যদি তাঁর সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে চান, তাহলে এই ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁর নির্বাচন দিয়ে দেওয়া উচিত। নির্বাচন যত বিলম্ব হবে, এমনও হতে পারে যে আর কখনো নির্বাচন দেখবে না এ দেশের জনগণ। যেহেত দেশে কোনো নির্বাচিত সরকার নাই এবং এই সরকারের দেশ পরিচালনার কোনো অভিজ্ঞতা নাই, ফলে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে কিংবা অন্য যেকোনো কারণেই হোক তারা দেশটাকে একটা অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে। সুতরাং খালি নিজের চেয়ারের কথা চিন্তা করলে তো হবে না। দেশের কথাও চিন্তা করতে হবে। আরেকটা জিনিস হলো, এদের অতীত কী? এরা হয়তো নিজেরা জ্ঞানী-গুণী লোক, কিন্তু দেশের জন্য এদের কী অবদান আছে?
প্রশ্ন : সরকারের সংস্কার কার্যক্রমকে কীভাবে দেখছেন? সংস্কারের নামে নির্বাচন প্রলম্বিত করার কোনো যোগসূত্র আছে কি না?
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম : বর্তমানে যে নতুন রাজনৈতিক দলটি হয়েছে, এতে শীর্ষ পর্যায়সহ সরকারের প্রত্যেক উপদেষ্টা এর সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। এমনকি প্রধান উপদেষ্টাও বলেছেন, তাঁর অনুপ্রেরণাতেই এই দলের সৃষ্টি হয়েছে। সুতরাং এটা তাঁদের পার্টি। দিস ইজ এ কিংস পার্টি। কিন্তু এঁরা এখন পর্যন্ত সফলতা অর্জন করতে পারেনি। সেজন্য বাকি সবাইকে বসে থাকতে হবে, এটা কোনো ভালো কথা না। নির্বাচিত সরকার ছাড়া দেশের উন্নতি হবে না। এই কয়েকজন আঁতেল কিংবা কয়েকজন ইনটেলেকচুয়াল দিয়ে যদি রাষ্ট্র চলত তাহলে আর রাজনৈতিক দলের এতদিন মাঠে কোনো খাওয়া থাকত না।
প্রশ্ন : নির্বাচনের পর বিএনপি ঐকমত্যের ভিত্তিতে জাতীয় সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। এটি কীভাবে সম্ভব?
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম : বিএনপি যে ঘোষণা দিয়েছে, বিএনপি এখনো সেখানেই আছে। আমরা যদি জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের সুযোগ পাই, তাহলে ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী আন্দোলনে আমাদের সঙ্গে যারা আন্দোলন অংশ নিয়েছে তাদের সবাইকে নিয়ে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সরকার গঠন করার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রশ্ন : সরকারের একজন উপদেষ্টা বলেছেন, অন্যায় না করলে, মাফ চাইলেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন, আপনি কি মনে করেন? গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা উচিত কিনা?
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম : এ ব্যাপারে আমার ব্যক্তিগত অভিমত হচ্ছে আওয়ামী লীগ বিগত সময়ে দেশটার যে অবস্থা করেছে, সারা দেশে গুম, খুনসহ ধ্বংস করে গেছে, তাতে আমি মনে করি আগামী কয়েক বছরের জন্য এই দলটাকে নিষিদ্ধ করে রাখা উচিত। আর এই সরকারের প্রধান এজেন্ডা হওয়া উচিত সবকিছু বাদ দিয়ে আগে গণহত্যাকারী ও অপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করা। বিদেশে যে টাকা পাঠিয়েছে, সেগুলো ফেরত আনা। এ দুটোকে বাদ দিয়ে তারা নানা রকমের সংস্কার বা অপেক্ষাকৃত কম প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে দেশকে ব্যতিব্যস্ত রাখছে, সেটি আমার কাছে সুখকর বলে মনে হচ্ছে না।
প্রশ্ন : আনুপাতিক হার পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন চায় জামায়াতে ইসলামী। আপনি বা আপনার দল একমত কি না?
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম : এটা আমরা মোটেও সমর্থন করি না। বাংলাদেশে এ ধরনের নির্বাচনের সঙ্গে জনগণও পরিচিত নয়। এর ফলে জনগণের সঠিক প্রতিনিধি বেরিয়ে আসবে বলেও আমরা মনে করি না। অনেক অরাজনৈতিক ব্যক্তি যাদের দেশের জন্যে কোনো অবদান নেই, তারাও চলে আসতে পারে এ ধরনের নির্বাচনে দলীয় আনুকূল্যে। সে জন্যে আমাদের দল থেকেও এর বিরোধিতা করা হয়েছে।
প্রশ্ন : বর্তমান সরকারের কাছে আপনার আহ্বান এবং বিএনপির মূল প্রত্যাশা কী?
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম : সরকারের কাছে আহ্বান হলো, অতি দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। নির্বাচনই গণতন্ত্রে উত্তরণের সর্বোত্তম পন্থা। এবং আঁতেলদের কথা শুনবেন না। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে পদক্ষেপ নেবেন। বিশেষ করে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কারণে আমাদের যে তৈরি পোশাক এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে যেসব বাধার সম্মুখীন হবে বাংলাদেশের অর্থনীতি, সেগুলোকে দূর করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। তা ছাড়া নির্বাচন চাওয়া তো কোনো অপরাধ হতে পারে না। কিছু কিছু আঁতেল মানুষকে এমন ধারণা দিচ্ছেন যে, নির্বাচন চাওয়া মানে একটা অপরাধ। নির্বাচনের ব্যাপারে সরকার যদি সঠিক ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে তার জন্য দেশে আইন আদালতের ব্যবস্থা আছে। আর এটাই তো কোনো শেষ গণ অভ্যুত্থান নয়। ভবিষ্যতে আরও গণ অভ্যুত্থান হতে পারে। সুতরাং সরকারের উচিত জনগণের ওপর আস্থা রেখে কোনো রকমের গুজবে কান না দিয়ে সরকার বলিষ্টভাবে গণতন্ত্রের পথে হাঁটবে, এটাই আমরা আশা করি।
প্রশ্ন : যে মহল ‘মাইনাস টু’ করতে চেয়েছিল, তারা এবার ‘মাইনাস বিএনপি’ এজেন্ডায় তৎপর, বিষয়টি কীভাবে দেখছেন।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম : বাংলাদেশে একধরনের লোক আছে, যাদের সুখে থাকতে ভূতে কিলায়। তাদের নিজেদের কোনো অবস্থা নাই। নিজেদের নির্বাচনে যাওয়ার কোনো মুরোদ নাই। নিজেরা জনগণের জন্য অতীতেও কিছু করেনি। ভবিষ্যতেও কিছু করবে না। শুধু নিজেকে নিয়ে যারা ব্যস্ত, তাদের মাথায় নানা ধরনের প্রকল্প ঘুরে বেড়াচ্ছে। সে ধরনের চিন্তাভাবনা কারও মাথায় থাকতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশ এমন একটি রাষ্ট্র- এ দেশের সাধারণ মানুষ খুবই সহজসরল, নিজেদের জীবিকা নিয়ে ব্যস্ত। এ ধরনের চালবাজ লোকেরা নিজেদের আখের গোছানোর জন্য নানা ধরনের ফন্দি-ফিকির করে। যার ফলে মাঝেমধ্যে রাষ্ট্রব্যবস্থাও বিপদের সম্মুখীন হয়। তাই আমি মনে করি, কেউ যদি এ ধরনের চিন্তাভাবনা করেও থাকে, এখন আর সম্ভবপর নয়। জনগণ এখন অনেক সচেতন। সব ধরনের অপতৎপরতাকে দেশের জনগণ বিশেষ করে দেশের ছাত্রসমাজ রুখে দেবে বলে আমার বিশ্বাস।
প্রশ্ন : অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে সময় দেওয়ার জন্য।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম : আপনাকেও ধন্যবাদ।

আরাফাত রহমান কোকোর শাশুড়ির ইন্তেকাল
অনলাইন ডেস্ক

বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর শাশুড়ি মুকরেমা রেজা ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ রবিবার (৬ এপ্রিল) ভোররাত ৩টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিএনপির মিডিয়া সেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।
মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি গত ৩০ মার্চ লন্ডন থেকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর থেকে তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে মায়ের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।

বিএনপির সঙ্গে দ্রুত নির্বাচন চায় হেফাজতও
অনলাইন ডেস্ক

চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার জন্য প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দ্রুত নির্বাচনী রোডম্যাপ দেবেন, এটা বিএনপির জোরালো দাবি। তাদের সেই দাবির সঙ্গে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ একমত হয়েছে।
রাজধানীর গুলশানে শনিবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির সঙ্গে বৈঠক করেছে হেফাজতে ইসলাম। পরে হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পাশাপাশি হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজিদুর রহমান, নায়েবে আমির আহমেদ আব্দুল কাদেরসহ দলটির শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন সালাহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে হেফাজতে ইসলাম ও তার অন্তর্ভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে যথাযথ কর্মসূচি প্রণয়ন করা হবে কি না, এটা তারা (হেফাজত) চিন্তা করে দেখবে।
সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি সংস্কার চায়, বিচার চায়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, শেখ হাসিনাসহ তার এমপি ও দোসরদের বিরুদ্ধে মামলাগুলোর এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। সমগ্র জাতি উদ্গ্রীব যে মামলাগুলো যেন দ্রুত নিষ্পত্তি হয়। সে জন্য বিএনপি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জনবল ও লজিস্টিক সাপোর্ট বৃদ্ধি করা হোক।
আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হেফাজতে ইসলামও দাবি জানিয়েছে বলে উল্লেখ করেন সালাহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিএনপিও এই দাবি প্রকাশ্যে করেছে, লিখিতভাবে করেছে, সরকারকে জানিয়েছে, জনগণের সামনে প্রস্তাব আকারে তুলে ধরেছে। হেফাজতে ইসলাম সেই দাবি বিএনপির কাছে পুনরায় উত্থাপন করেছে।
সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি চায় আওয়ামী লীগকে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিচারের আওতায় আনা হোক। সে জন্য প্রয়োজনে সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন করা যায়, আইন সংশোধন করা যায়। বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যদি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হয়, সেটা দেশের জনগণ মেনে নেবে।
সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের ওপর গণহত্যা চালানো হয়েছে এবং শহীদদের সঠিক সংখ্যাও এখনো নিরূপণ করা হয়নি। একইভাবে ২০২১ সালে বাংলাদেশে আলেম সমাজের ওপরে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে। তাতে চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৪ জন আলেম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থী শহীদ হয়েছিলেন। দুই ঘটনাতেই মামলা করেছে হেফাজতে ইসলাম। তারা এসব হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও দ্রুত নিষ্পত্তি চান। বিএনপিও হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে তাতে একমত প্রকাশ করেছে বলেও জানান সালাহ উদ্দিন আহমদ।
আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী লীগ আমলে হওয়া সব ‘মিথ্যা’ মামলার প্রত্যাহার চেয়েছে হেফাজতে ইসলাম। বিএনপিও তাতে একমত প্রকাশ করেছে বলেও জানান দলটির এই নেতা।
হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে বিএনপি নির্বাচনী জোটের চিন্তা করছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘নির্বাচন আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।’