ঢাকা, রবিবার ০৬ এপ্রিল ২০২৫
২৩ চৈত্র ১৪৩১, ০৬ শাওয়াল ১৪৪৬

ঢাকা, রবিবার ০৬ এপ্রিল ২০২৫
২৩ চৈত্র ১৪৩১, ০৬ শাওয়াল ১৪৪৬

করোনায় পোশাক খাতে কাজ হারিয়েছে সাড়ে তিন লাখ শ্রমিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
করোনায় পোশাক খাতে কাজ হারিয়েছে সাড়ে তিন লাখ শ্রমিক

দেশে কর্মসংস্থান ও রপ্তানি অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে তৈরি পোশাক খাত। কভিড-১৯-এর প্রভাবে এই খাতে দেশের প্রায় সাড়ে তিন লাখ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, যা পোশাক খাতে মোট শ্রমিকের ১৩.৯৫ শতাংশ।

‘কভিড-১৯ বিবেচনায় পোশাক খাতের দুর্বলতা, সহনশীলতা এবং পুনরুদ্ধার : জরিপের ফলাফল’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সংলাপে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্টের (সিইডি) ম্যাপড ইন বাংলাদেশ (এমআইবি) যৌথভাবে এই সমীক্ষা পরিচালনা করে।

গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত এই সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। সঞ্চালনা করেন এমআইবির প্রকল্প ব্যবস্থাপক সৈয়দ হাসিবুদ্দিন হাসিব।

সমীক্ষায় বলা হয়, পোশাক খাতের ২৫ লাখ ৬২ হাজার শ্রমিকের মধ্যে সাড়ে তিন লাখের বেশি শ্রমিক করোনার এই সময়ে কাজ হারিয়েছেন। এই সময়কালে ২৩২টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, যার মধ্যে ১৮০টি বিজিএমইএর সদস্য।

ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের ৬১০টি পোশাক কারখানার ওপর এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। পোশাক খাতের সংগঠনের সদস্য—এমন কারখানার সংখ্যা ৮২ শতাংশ এবং সদস্য নয় এমন কারখানা ১৮ শতাংশ। মোট পোশাক কারখানা তিন হাজার ২১১টি।

সমীক্ষায় আরো বলা হয়, কয়েকটি বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিনির্ভরতার কারণে অনেক বড় কারখানাও এ সময়ে বন্ধ হয়েছে গেছে।

দেখা গেছে ৫০ শতাংশের বেশি কারখানা বড় বড় কয়েকটি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এ ছাড়া কোনো পোশাক খাতসংশ্লিষ্ট সংগঠনের সদস্য নয় এমন কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি বন্ধ হয়েছে। ফলে ৭৮ শতাংশ উদ্যোক্তাই সংকটে পড়েছেন।

সরকারের প্রণোদনার তথ্য তুলে ধরে সমীক্ষায় বলা হয়, পোশাক খাতসংশ্লিষ্ট সংগঠনের সদস্য নয় এমন এবং নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের বেশির ভাগ কারখানা ব্যাংকিং জটিলতার কারণে ঋণসুবিধা পায়নি। ৯০ শতাংশ কারখানার বিপরীতে মাত্র ৪০ শতাংশ ছোট কারখানা এই আবেদন করে।

কার্যাদেশ বাতিলের পর ১৬ শতাংশ কারখানা অর্ডার ফেরত পেলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ক্রেতারা দাম কমিয়ে দিয়েছে।

প্রতিবেদনে সুপারিশে বলা হয়, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পোশাক খাত পুনরুদ্ধারে বিদেশি ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে ন্যায্য বাণিজ্যচর্চা নিশ্চিত করতে হবে। বড় কারখানার তুলনায় ছোট কারখানা পুনরুদ্ধারের গতি অনেক ধীর। ক্রেতারা রপ্তানি আদেশ না দিলে এসব কারখানার কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়বে।

সংলাপে সিপিডি চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, ব্যবসার ক্ষেত্রে ঝুঁকির বোঝা একতরফাভাবে শুধু উৎপাদক দেশকেই নিতে হয়। অথচ মাত্র দুই ডলারে কেনা পোশাক ২২ ডলারে বিক্রি করে ব্র্যান্ডগুলো। এটা অর্থনীতির কোনো নীতিতে পড়ে না। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের বোঝাপড়া ও দর-কষাকষিতে ঘাটতি আছে। তিনি বলেন, ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে ব্যবসা পরিচালনা করার পর কত টাকা বেগমপাড়ায় গেছে আর কত টাকা শিল্পের সংকটকালে ব্যয় হয়েছে তার একটা গবেষণা থাকা দরকার। পোশাক খাতের ক্ষতি ও মুনাফা নিয়ে গবেষণা করা দরকার।

মন্তব্য

ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কারোপের প্রভাব কেমন হবে, জানালেন অর্থ উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কারোপের প্রভাব কেমন হবে, জানালেন অর্থ উপদেষ্টা
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। ফাইল ছবি

ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্য প্রবেশের ওপর যে শুল্ক আরোপ করেছে, সেটি সামলে নেওয়া খুব বেশি কঠিন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন এই শুল্কনীতিতে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না।

আজ রবিবার সচিবালয়ে ঈদ পরবর্তী প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন অর্থ উপদেষ্টা।

দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে এবং যেকোনো বৈশ্বিক চাপে সরকার তা টিকে থাকতে সক্ষম হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, আমাদের রপ্তানি বাজার বহুমুখী, সেই সঙ্গে উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় আমরা প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে আছি।

ঈদ উপলক্ষে দেশে প্রবাসআয় বেড়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এবার মানুষ ভালোভাবে ঈদ কাটিয়েছে। মার্চ মাসে ৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এতে রিজার্ভও বেড়েছে।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

আজ থেকে ব্যাংক লেনদেন ১০-৪টা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
আজ থেকে ব্যাংক লেনদেন ১০-৪টা

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ৯ দিনের ছুটি শেষে ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সব ধরনের অফিস আজ রবিবার খুলছে। আজ থেকে ব্যাংকের অফিস ও লেনদেনের সময়সূচি ফিরবে আগের অবস্থায়। ফলে ব্যাংক লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে বিকের ৪টা পর্যন্ত। তবে অফিস সূচি থাকবে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

বাকি সময় লেনদেন পরবর্তী ব্যাংকের আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনা হবে।

রমজানে ব্যাংকে লেনদেনের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। রোজার মাসে ব্যাংকে লেনদেন হয় সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত। রমজানে ব্যাংকের অফিস সূচি ছিল সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

এর মধ্যে বেলা ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত জোহরের নামায়ের বিরতি ছিল। 
 

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য
ব্লুমবার্গকে বাণিজ্য উপদেষ্টা

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পথ খোঁজা হচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পথ খোঁজা হচ্ছে
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পথ খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা ঘাটতি কমানোর সুযোগগুলো সক্রিয়ভাবে খতিয়ে দেখছি।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের ৪০ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি শিল্পে বড় ধরনের আঘাত আসতে পারে।

এই ধাক্কা সামলাতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাচ্ছে বাংলাদেশ।

আরো পড়ুন

পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্বামীর বিশেষ অঙ্গ কাটলেন স্ত্রী

পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্বামীর বিশেষ অঙ্গ কাটলেন স্ত্রী

 

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই তৈরি পোশাক। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পোশাক ক্রেতা। ফলে এই শিল্পের ওপর আঘাত লাগলে অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।

গত বছর ছাত্র–জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে দেশ।

বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তারা ব্লুমবার্গকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যে ধার্য হওয়া শুল্ক কমাতে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কমানোর উপায় খুঁজছে বাংলাদেশ। ট্রাম্প প্রশাসন যে কয়েকটি দেশের ওপর সর্বোচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করেছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এই পদক্ষেপ বস্ত্র রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিতে পারে।

আরো পড়ুন

৪ বছরের শিশুর শ্লীলতাহানির চেষ্টা, অভিযুক্তকে গণধোলাই

৪ বছরের শিশুর শ্লীলতাহানির চেষ্টা, অভিযুক্তকে গণধোলাই

 

যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত নতুন শুল্ক পণ্যভিত্তিক মানদণ্ডের পরিবর্তে দেশটির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতির ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়েছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, এই পদ্ধতি বাংলাদেশের মতো বাণিজ্য উদ্বৃত্ত থাকা অনেক ছোট অর্থনীতির দেশের জন্য অন্যায্য।

শুল্কের প্রভাব মূল্যায়ন করতে বাংলাদেশ সরকার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোসহ মূল অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর উপায়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলাসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি বাড়ানো।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি বিজিএমইএ—এর প্রশাসক আনোয়ার হোসেন ব্লুমবার্গকে বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলার আমদানি বাড়াতে পারি, তবে আমেরিকান তুলার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

আরো পড়ুন

স্নান উৎসব ঘিরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৫ কিলোমিটার যানজট

স্নান উৎসব ঘিরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৫ কিলোমিটার যানজট

 

এর আগে, গত ১৭ মার্চ পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানান, কৌশলগত কারণে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানির পরিকল্পনা করছে।

তিনি বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করেছে। বাংলাদেশ আগেই শুল্কের আওতায় রপ্তানি করলেও অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঝুঁকি সব সময় থাকে। আমরা যদি যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি করি এবং সেই তুলা দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি করি, তাহলে তারা আমাদের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করতে দ্বিধাগ্রস্ত হবে।’

গত ২৭ মার্চ দেশীয় সুতাশিল্পের সুরক্ষায় স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

ওয়ালমার্ট এবং গ্যাপ ইনকর্পোরেটেডের মতো বড় মার্কিন খুচরা বিক্রেতারা প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে বিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক কেনে। আনোয়ার হোসেনের মতে, শুল্ক বৃদ্ধি তাদের ক্রয় কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভ তথা বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির রপ্তানি দেড় শতাংশ কমে ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

মুম্বাইয়ে ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক অর্থনীতিবিদ অঙ্কুর শুক্লা মনে করেন, এই শুল্কের কারণে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য আইএমএফ নির্ধারিত ঋণ কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি লিখেছেন, ‘এটি এই দেশগুলোতে তহবিলের ঋণকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে—যা প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখী ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেবে।’

তবে বাংলাদেশের জন্য কিছুটা ইতিবাচক দিকও রয়েছে। পোশাক খাতে দেশের প্রতিদ্বন্দ্বী শ্রীলঙ্কা (৪৪ শতাংশ) এবং ভিয়েতনামের (৪৬ শতাংশ) তুলনায় বাংলাদেশের শুল্কের হার কম (৩৭ শতাংশ)। এ বিষয়ে অঙ্কুর শুক্লা বলেন, এটি ‘বাংলাদেশকে একটি তুলনামূলক সুবিধা দিতে পারে এবং কিছু বাজারের হিস্যা দখল করতে সাহায্য করতে পারে।’

কর্মকর্তারা বলছেন, পারস্পরিক বাণিজ্য আলোচনার অংশ হিসেবে শুল্ক সমন্বয়ের সুযোগ থাকতে পারে। 

তবে নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বশির উদ্দিনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ‘মেঘ জমেছে’। তিনি আরো বলেন, ‘এটি আর দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়—এটি একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সুনামি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

মন্তব্য

প্রতিকূল পরিবেশেও কমেছে খেলাপি ঋণ

মো. জয়নাল আবেদীন
মো. জয়নাল আবেদীন
শেয়ার
প্রতিকূল পরিবেশেও কমেছে খেলাপি ঋণ

দেশে অর্থনৈতিক প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও খেলাপি ঋণ কমেছে। ২০২৪ সাল শেষে বেশির ভাগ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বাড়লেও ভালো করেছে আটটি ব্যাংক। কারণ আগের বছরের তুলনায় তাদের খেলাপি ঋণ কমেছে। ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে বিডিবিএল, ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা, ওয়ান, উত্তরা, এইচএসবিসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

প্রতিকূল পরিবেশেও খেলাপি ঋণ কমেছে

২০০৯ সালের পর থেকে খেলাপি ঋণ বেড়েই চলেছে। আগের সব রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে ২০২৪ সাল শেষে। কারণ আওয়ামী সরকারের ওই ১৬ বছরে ২২ হাজার কোটি থেকে তিন লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ।

প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ভেঙে পড়ার কারণে এই সময়ের মধ্যে হলমার্ক, এননটেক্স, ক্রিসেন্ট, সাদ-মুসা, বেসিক ব্যাংক, এস আলম ও বেক্সিমকো কেলেঙ্কারির সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে বাংলাদেশের। কমবেশি সব ব্যাংকেই খেলাপি ঋণের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এর পরও কিছু ব্যাংক সেই খেলাপি ঋণের বেপরোয়া গতিকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে।

ব্যাংকাররা বলছেন, এগুলো নতুন কিছু না, বরং কার্পেটের নিচে লুকিয়ে থাকা খেলাপি এখন বের হয়ে আসছে।

হাসিনা সরকার দেশ ছেড়ে পালানোর পরই মূলত খেলাপি ঋণ বাড়তে শুরু করেছে। তবে যেসব ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ভালো, তাদের খেলাপি ঋণ তেমন বাড়েনি। যারা দুর্নীতিতে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেছে, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ছাড়া এই সংকটকালে খেলাপি ঋণ কমার আরো একটি কারণ রয়েছে, তা হলো ঋণ বিতরণ কমে যাওয়া। যদি কোনো ব্যাংক নতুন করে ঋণ বিতরণ না করে শুধু আদায় করতে থাকে, তাহলে তার খেলাপিও কমবে।

করোনা-পরবর্তী কয়েক বছর ধরে এই কাজটাই হয়ে আসছে। অনেক ব্যাংক নতুন করে ঋণ দিচ্ছে না বললেই চলে। এতে বিনিয়োগে ভাটা পড়েছে।

আর ঋণ বিতরণ কমে বিনিয়োগ হ্রাসের সবচেয়ে বড় প্রমাণ ফেব্রুয়ারি মাসের বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি। কারণ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৭.১৫ শতাংশ, যা ইতিহাসের সর্বনিম্ন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (বিডিবিএল) খেলাপি ঋণ ৯৮২ থেকে ৯৫৩ কোটিতে নেমে এসেছে। ২০২৩ সাল থেকে ২৯ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ কমেছে ২০২৪ সালে। ওই সময়ে ব্র্যাক ব্যাংকের এক হাজার ৭৫০ থেকে এক হাজার ৬১৭ কোটি, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এক হাজার ৬৮৯ থেকে এক হাজার ৫৯০ কোটি, ওয়ান ব্যাংক দুই হাজার ৪৩৮ থেকে দুই হাজার ৩২৮ কোটি, উত্তরা ব্যাংক ৯৮৫ থেকে ৯৮০, এইচএসবিসি ৬৯৯ থেকে ৩২০ কোটি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ৯৬৪ থেকে ৮৩৬ কোটি এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এক হাজার ৫৩৪ থেকে এক হাজার ২৭৮ কোটি টাকায় খেলাপি ঋণ কমিয়ে এনেছে।

এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেসব ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ভালো, তাদের ব্যাংক ভালোভাবে চলতে বাধ্য। যেমন—আমরা শুধু করপোরেট গ্রাহকের ওপর নির্ভরশীল নই। আমরা ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে বেশি মানুষের মধ্যে অর্থ বণ্টন করি। এতে ঋণখেলাপি হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। একই সঙ্গে আমাদের শক্তিশালী আদায় কমিটি (রিকভারি টিম) গঠন করা হয়েছে, যারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘অন্যদিকে যারা একই গ্রাহককে বেশি ঋণ দেয় আর যেকোনো কারণে সেটা খেলাপি হয়ে যায়, তখন পুরো ব্যাংক বিপাকে পড়ে। তাই ঋণ বিতরণের আগে খুব ভালোভাবে গ্রাহকের ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই-বাছাই করা উচিত। পাশাপাশি বেশিসংখ্যক গ্রাহকের মধ্যে ঋণগুলো বিতরণ করলে খেলাপির ঝুঁকি কমে যায়।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য মতে, গত ডিসেম্বর শেষে এই খাতে মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ১১ হাজার ৪০২ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের পরিমাণ তিন লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। সেই হিসাবে ব্যাংক খাতের ২০.২০ শতাংশ ঋণ খেলাপি হয়েছে। ২২টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের ওপরে। এর মধ্যে সরকারি-বেসরকারি আটটি ব্যাংকের খেলাপি ৬০ শতাংশের বেশি।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ও সমালোচিত গ্রুপগুলোর নামে-বেনামে যেসব ঋণ ছিল, তার প্রকৃত চিত্র এখন দেখাতে শুরু করেছে ব্যাংকগুলো। এতে খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশি বাড়ছে। দেশের ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণও বেশ বেড়েছে। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, এস আলম গ্রুপসহ কিছু বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ঋণখেলাপি হয়ে পড়েছে। বেশির ভাগ ঋণ বেনামি, যা অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়া হয়েছিল।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক মোহাইমিন পাটোয়ারী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশের খেলাপি ঋণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছার অন্যতম কারণ সিস্টেমকে ডাউনপ্লে করে সুবিধা নেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল। তাই ব্যাংক খাতের এই পরিণতি। এখন সেই ব্যাংকিং সিস্টেমের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনতে দুষ্কৃতকারীদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে; যদিও কিছুটা উন্নতি হয়েছে, আরো উন্নতি প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় অনিয়ম চর্চার কারণে বহু মানুষ (ব্যাংকার) খারাপ হয়ে গেছে। এখনো এসব মানুষই ব্যাংক চালাচ্ছে। তবে তাদের মানসিকতা বদলাতে হবে। তা না হলে উন্নতি সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, বিগত সময়ে সরকারি কার্যক্রম, রাজনীতি, টেন্ডার—সব কিছু টাকা দিয়ে কিনে নেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। তাই ব্যাংক খাতেও সেই কাদা লাগবে—এটাই স্বাভাবিক। কারণ ব্যাংকিং সিস্টেম কিন্তু সমাজের বাইরে না। অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির ব্যবস্থা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারলে ব্যাংক খাত আবার ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ