কুমিল্লায় বন্যায় ক্ষতি ৩৩৬২ কোটি টাকা

আবদুর রহমান, কুমিল্লা
আবদুর রহমান, কুমিল্লা
শেয়ার
কুমিল্লায় বন্যায় ক্ষতি ৩৩৬২ কোটি টাকা
কুমিল্লায় বন্যার পানির স্রোতে ঘরবাড়ি ভেঙে ক্ষতি হয়েছে এক হাজার ৮৪ কোটি টাকার বেশি। ছবি : কালের কণ্ঠ

ভারত থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টিতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় কুমিল্লার ১৪ উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য মতে, এবারের বন্যায় জেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তিন হাজার ৩৬২ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে বানের পানির স্রোতে মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙে ও বিধ্বস্ত হয়ে ক্ষতি হয়েছে এক হাজার ৮৪ কোটি টাকার বেশি। তবে স্থানীয় বানভাসিরা বলছে, সরকারি দপ্তরগুলোর হিসাব মিলিয়ে এই তথ্য দেওয়া হলেও বাস্তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হবে।

এদিকে জেলার নাঙ্গলকোট, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচং উপজেলার অনেক এলাকা এখনো বানের পানিতে তলিয়ে রয়েছে। তবে সার্বিকভাবে জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এসব উপজেলাসহ অন্যান্য বন্যাকবলিত এলাকা থেকে নেমে যাচ্ছে পানি। ১৪টি উপজেলার যেসব স্থান থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে সেখানে দৃশ্যমান হচ্ছে ক্ষতবিক্ষত রাস্তাঘাট।

এবারের ভয়াবহ এ বন্যায় জেলার ১৪টি উপজেলায়ই বানের স্রোতে কৃষি খাত, মাছের ঘের, পুকুর ও দিঘি, প্রাণিসম্পদ, রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, মানুষের ঘরবাড়িসহ অবকাঠামোগত খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

গত শুক্রবার দুপুরে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবেদ আলী জানান, এবারের বন্যায় কুমিল্লা জেলার ১৭ উপজেলার মধ্যে ১৪টি উপজেলা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রতিটি দপ্তর থেকে নেওয়া তথ্যে জেলায় বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তিন হাজার ৩৬২ কোটি ১৪ লাখ ৭৩ হাজার ৬৩৮ টাকা। ১৪ উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বুড়িচং উপজেলা।

এ উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ ৫৫৬ কোটি ১৩ লাখ টাকার বেশি। এরপর বেশি ক্ষতি হয়েছে জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলায়। এ উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ ৫২৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকার বেশি। জেলার চৌদ্দগ্রামে ৪৬১ কোটি, লাকসামে ৩৯২ কোটি, কুমিল্লা আদর্শ সদরে ৩৩১ কোটি, ব্রাহ্মণপাড়ায় ২৫৮ কোটি টাকা, দেবীদ্বারে ২৩৫ কোটি, মনোহরগঞ্জে ১৭৫ কোটি, বরুড়ায় ১২১ কোটি, কুমিল্লা সদর দক্ষিণে ১১৫ কোটি, লালমাইয়ে ৭১ কোটি, তিতাসে ৫৬ কোটি, মুরাদনগরে ৪৭ কোটি ও দাউদকান্দিতে ৯ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে সব কিছু এবং সব খাত হিসাব করে।

মোহাম্মদ আবেদ আলী বলেন, ভয়াবহ এ বন্যায় জেলার ১৪টি উপজেলায় আট হাজার ৬৭৪টি বাড়িঘর পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯ আগস্ট থেকে অব্যাহত বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানিতে কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলা বন্যায় প্লাবিত হতে থাকে। এর সঙ্গে সঙ্গে বন্যার ভয়াবহতা বাড়তে থাকে। ২২ আগস্ট রাত পৌনে ১২টায় বুড়িচং উপজেলার বুড়বুড়িয়া এলাকায় গোমতী নদীর বাঁধ ভেঙে যায়।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র মতে, চলমান বন্যায় কুমিল্লায় মোট ২৩ হাজার ৪২টি খামার বা পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ২৫ হাজার ৫৩৮.৫০ টন ফিন মাছ, ১০.২৮ টন চিংড়ি ও ১০ কোটি ১৭ লাখ পোনা মাছের ক্ষতি হয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্যে ৩৫৮ কোটি ১২ লাখ টাকা। আর চিংড়িতে পাঁচ কোটি টাকার বেশি এবং ১৭ কোটি আট লাখ ৯২ হাজার টাকার পোনাজাতীয় মাছের ক্ষতি হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র মতে, বন্যায় কৃষি খাতে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে ৮০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে এ খাতে। জেলায় কৃষি ও মেস্যর পাশাপাশি প্রাণিসম্পদেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্র মতে, প্রাথমিক তথ্যে এই খাতে মোট ক্ষতি ৩০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বেলাল হোসেন জানান, মৎস্য খাতে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সেই হিসাবে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপপরিচালক আইউব মাহমুদ বলেন, ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষকদের কৃষি প্রণোদনা, বিনা মূল্যে সার ও বীজ বিতরণ, ক্ষুদ্রঋণ নেওয়ায় সহায়তা, বিনা মূল্যে কৃষিসেবা ও সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। 

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা চন্দন কুমার পোদ্দার বলেন, ‘জেলায় চার হাজারেরও বেশি গবাদি পশুর খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দুই লাখ ৯ হাজার বিভিন্ন জাতের গবাদি পশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানি নেমে গেলে সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে। 
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবেদ আলী বলেন, এবারের বন্যায় ক্ষতি আমাদের ধারণার থেকে বেশিও হতে পারে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিন হাজার কোটি টাকার মতো ক্ষতি হতে পারে।’

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আবেদ আলী বলেন, শুক্রবার পর্যন্ত জেলায় বর্তমানে ৮২ হাজার ৫৬৭টি পরিবারের প্রায় তিন লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। তবে জেলার ১৪টি উপজেলায়ই বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

চরের জমিতে তরমুজ চাষে বিপ্লব

এম আনোয়ার হোসেন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
এম আনোয়ার হোসেন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
শেয়ার
চরের জমিতে তরমুজ চাষে বিপ্লব

যতদূর দৃষ্টি যায় শুধু সবুজ লতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে সবুজ তরমুজ। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে তরমুজের আবাদ, বাতাসে দোল খাচ্ছে গাছের লতা। দেখে মনে হবে মাটির মধ্যে তরমুজ ফেলে রাখা হয়েছে। শ্রমিকরা জমি থেকে তরমুজ তলে টুকরি ভর্তি করে কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাকে তুলছে।

পাইকাররা এসব তরমুজ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। এমনই চিত্রের দেখা মিলে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের চরাঞ্চলের পতিত জমিগুলোতে। এখানে বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ চাষে বিপ্লব ঘটেছে, এবার প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শত কোটি টাকার তরমুজ বাজারজাত করার আশাবাদী কৃষকরা।
তিন বছরের ব্যবধানে চাষের পরিধি বেড়েছে কয়েকগুন। 

আরো পড়ুন
এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাল শিক্ষা বোর্ড

এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাল শিক্ষা বোর্ড

 

স্থানীয়রা জানায়, মিরসরাইয়ের চরাঞ্চলে যারা তরমুজ চাষ করছেন তারা নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচার উপজেলার বাসিন্দা। আগে সেখানকার মাঠে মাঠে তরমুজ চাষ হলেও একই জমিতে বারবার তরমুজ চাষ করায় সেসব জমি চাষের উপযোগীতা হারিয়েছে। মিরসরাই এলাকার মাটি ও আবহাওয়া তরমুজ চাষের উপযোগী হওয়ায় চাষিরা খোঁজ নিয়ে এখানে তরমুজ আবাদ করছেন।

মিরসরাইয়ের চরাঞ্চলে প্রত্যেক বছর রবি মৌসুমে ইছাখালী, মঘাদিয়া, মায়ানী ও সাহেরখালী ইউনিয়নের চরের অধিকাংশ জায়গা পতিত হয়ে পড়ে থাকতো। সেসব পতিত জমির মাটিগুলো ল্যাবে পরীক্ষা করেন নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলার তরমুজ চাষিরা। এরপর দোঁআশ মাটি (বালিযুক্ত) ও উপযুক্ত পরিবেশ হওয়ায় ২০২২ সালে প্রথম মিরসরাইয়ে বাণিজ্যিকভাবে ১৪৫ একর জমিতে তরমুজ শুরু করেন নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম। ফলন ভালো হওয়ায় পরের বছর তাকে অনুসরণ করে আরো বেশ কয়েকজন তরমুজ চাষ করেন। 

স্থানীয় কৃষকদের থেকে ৩ মাসের জন্য প্রতি একর জমি ১৫ হাজার টাকা খাজনায় বর্গা নেন চাষিরা।

এরপর ৪ ইউনিয়নে তরমুজ চাষ ছড়িয়ে পড়ে। এখানে এবার চাষকৃত তরমুজের জাতের মধ্যে অন্যতম বাংলালিংক, শ্যুট ফ্যামিলি, ড্রাগন কিং, গ্রীন ড্রাগন, ব্লাক বেবী, গ্লোরি জাম্বু, পাকিজা, বিগ ফ্যামিলি, ড্রাগন বিউটি, আস্থা, সুগার, ভিক্টর সুগার, ড্রাগন কিং। চলতি বছর প্রায় ১ শ কৃষক তরমুজ আবাদ করেছেন। এসব তরমুজ ক্ষেতে কাজ করছেন প্রায় ২ হাজার শ্রমিক। এবার উপজেলার ইছাখালী, মঘাদিয়া, মায়ানী ও সাহেরখালী ইউনিয়নে প্রায় ১২’শ একর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। ২০২৪ সালে আবাদ হয়েছিল ৪৭৫ একর জমিতে। ২০২৩ সালে চাষ হয় ১৭৫ একর জমিতে। ২০২২ সালে আবাদ হয় ১৪৫ একর জমিতে।

তরমুজ চাষি আবু জাফর বলেন, ‘এবার আমি প্রায় ৬০ একর জমিতে তরমুজের আবাদ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। আশা করছি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো বিক্রি করতে পারবো।’
 
চাষি সানা উল্ল্যাহ বলেন, ‘এবার আমি ১২ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। প্রতি একরে দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আশা করছি একর প্রতি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবো। ইতিমধ্যে ৮ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছি।’

আরো পড়ুন
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা নিহত

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা নিহত

 

ইসমাইল হোসেন সুমন বলেন, ‘আমরা ৫ জন মিলে ৩৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। এতে প্রায় ৪০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এক কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি সম্ভব হবে।’

তরমুজ চাষি ইকবাল হোসেন বলেন, ‘চাষাবাদ ও বাজারজাত সুবিধা থাকায় এবং দোঁআশ মাটি হওয়ায় তরমুজ চাষ করেছি। আকারে অনেক বড় এবং সুস্বাদু হওয়ায় বাজারেও রয়েছে এসব তরমুজের বেশ চাহিদা। ঢাকা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা এসে সরাসরি ক্ষেত থেকে এসব তরমুজ কিনে নিয়ে যান।’

মঘাদিয়া ইউনিয়নের কাজীরতালুক গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের এখানকার স্থানীয় জমির মালিক থেকে সুবর্ণচরের তরমুজ চাষিরা প্রতি একর ১৫ হাজার টাকা করে তিন মাসের জন্য বর্গা নিয়ে তরমুজ চাষ করছেন। আমরা তাদের সব সময় বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছি।’

মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘এখানকার মাটি ও আবহাওয়া তরমুজ চাষের উপযোগী হওয়ায় ক্রমান্বয়ে চাষের পরিধি বাড়ছে। এবার ১২শ একর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে। তরমুজ চাষে পরিশ্রম বেশি হলেও অন্যান্য রবি শস্য থেকে এটাতে ৩ গুণ বেশি লাভ হয়। সুবর্ণচর উপজেলার চাষিরা এখানে তরমুজ চাষ করছেন। আবহাওয়া এবং বাজারে দাম ভালো থাকলে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদন হবে। যার বাজার মূল্য প্রায় শত কোটি টাকা।’

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

ঠাকুরগাঁওয়ে সেনাবাহিনীর তল্লাশি অভিযান

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
শেয়ার
ঠাকুরগাঁওয়ে সেনাবাহিনীর তল্লাশি অভিযান
ছবি: কালের কণ্ঠ

ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণসহ জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি অভিযান ও জনসচেতনতা  প্রচারণা পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

আজ বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে ঠাকুরগাঁও পৌরশহরের পুরাতন বাস স্ট্যান্ড গোরচত্বর এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় দুর্ঘটনা এড়াতে মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র, বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন যানবাহন তল্লাশি চালায় সেনাবাহিনী।

আরো পড়ুন
কেরানীগঞ্জে ফোম কারখানায় আগুন, কোটি টাকার ক্ষতি

কেরানীগঞ্জে ফোম কারখানায় আগুন, কোটি টাকার ক্ষতি

 

সেনাবাহিনীর দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার কুতুবউদ্দীন বলেন, ‘এই অভিযান আগামীকাল শুক্রবার (৪ এপ্রিল) পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য

নরসিংদী বড় বাজারে টেইলার্সে অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

নরসিংদী প্রতিনিধি
নরসিংদী প্রতিনিধি
শেয়ার
নরসিংদী বড় বাজারে টেইলার্সে অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
ছবি: কালের কণ্ঠ

নরসিংদী শহরের বড় বাজারে একটি টেইলার্সে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এতে পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে গেছে দোতলায় অবস্থিত টেইলার্সটির কাপড়সহ সকল মালামাল। 

বুধবার (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে বড় বাজারের জুতাপট্টিতে ডায়মন্ড নামক টেইলার্সে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। খবর পেয়ে নরসিংদী ও মাধবদী ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা  শুরু করে।

প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় রাত পৌনে ১ টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস।

আরো পড়ুন
এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাল শিক্ষা বোর্ড

এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাল শিক্ষা বোর্ড

 

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ীরা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত টেইলার্সটির ভেতরে আগুনের সূত্রপাত হয়। কাপড়ের দোকান হওয়ায় মুহূর্তেই পুরো দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসসহ স্থানীয়রা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেন।

এসময় বাজারের অন্যান্য দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশংকায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন অন্যান্য ব্যবসায়ীরা।

নরসিংদী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক শিমুল মো. রফি জানান, খবর পেয়ে নরসিংদী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট প্রথমে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে নরসিংদী ও মাধবদী ফায়ার সার্ভিসের মোট পাঁচটি ইউনিট প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে হয়। কাপড়ের দোকান হওয়ায় ক্ষতি বেশি হলেও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করা যায়নি।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে পরে বলা যাবে।
 
ডায়মন্ড টেইলার্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আনুমানিক ৩ থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকার কাপড় পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়েছে।

মন্তব্য

মাধবপুরে মাদক-অস্ত্রসহ আটক ২

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
শেয়ার
মাধবপুরে মাদক-অস্ত্রসহ আটক ২
ছবি : কালের কণ্ঠ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় মাদক, অস্ত্রসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মাধবপুরের হরিতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

আটকরা হলেন উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের হরিতলা গ্রামের মোহাম্মদ হানিফ মিয়ার মেয়ে সোনিয়া আক্তার (২৫) ও একই গ্রামের মৃত সহীদ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ হোসাইন (৩০)।

আরো পড়ুন
কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় চোরাকারবারি নিহত

কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় চোরাকারবারি নিহত

 

বিষয়টি জেলা সেনাক‍্যাম্প থেকে নিশ্চিত করে জানানো হয়, হরিতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক মাধবপুর সেনা ক্যাম্প।

এ সময় তাদের কাছ থেকে দেড় কেজি গাঁজা, মোবাইল ফোন ৬৯টি, নগদ ৫ লাখ ৫১ হাজার ৯০০ টাকা, মোবাইল ফোনের পাওয়ার ব্যাংক ৩টি, ক্যামেরা ১টি, দেশীয় অস্ত্র ৪টি ও ৭টি ইয়াবার খালি প‍্যাকেট জব্দ করা হয়েছে। আটকদের মাধবপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ