ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৩ এপ্রিল ২০২৫
১৯ চৈত্র ১৪৩১, ০৩ শাওয়াল ১৪৪৬

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৩ এপ্রিল ২০২৫
১৯ চৈত্র ১৪৩১, ০৩ শাওয়াল ১৪৪৬
শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টা মামলা

ফরমায়েশি রায়ে তিন ভাইয়ের কারাভোগ, অবশেষে মুক্তি

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
শেয়ার
ফরমায়েশি রায়ে তিন ভাইয়ের কারাভোগ, অবশেষে মুক্তি
ফরমায়েশি রায়ে কারাভোগ করা একই পরিবারের তিন ভাই। ছবি : সংগৃহীত

পাবনার ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে ট্রেন বহরে হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলায় ফরমায়েশি রায়ে একই পরিবারের তিন ভাইসহ ৯ জনকে ফাঁসি, ২৫ জনকে যাবজ্জীবন ও ১৩ জনকে ১০ বছরের শাস্তির রায়টি ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে নিষ্ঠুর। এমন মন্তব্য করে তৎকালীন পাবনা দায়রা জজ আদালতের বিচারক রোস্তম আলীর শাস্তি চেয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সদস্য ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবসহ ৪৭ নেতার পরিবার ও স্বজনরা। 

গত ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ফলে সেই মামলা থেকে সবাইকে খালাস দিয়েছেন ঢাকা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। কারাভোগ থেকে বের হয়ে স্বজনদের নিকট ফিরেছেন বিএনপির এসব নেতা।

ফাঁসির দণ্ড থেকে মুক্তি পাওয়া বিএনপির নেতাদের মধ্যে একই পরিবারের আপন তিন ভাই হলেন ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সভাপতি, পৌরসভার কয়েকবারের নির্বাচিত মেয়র মোখলেছুর রহমান বাবলু, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মাহাবুবুর রহমান পলাশ ও তাদের ছোট ভাই ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম ওরফে ভিপি শাহীন। 

তাদের সঙ্গে অন্য ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি এ কে এম আক্তারুজ্জামান আক্তার, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার প্যানেল মেয়র শামসুল আলম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আজিজুর রহমান শাহিন, পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোস্তফা নুরে আলম শ্যামল ও বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম অটল।

মামলা ও স্থানীয় বিএনপির সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে ২৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বিরোধী দল ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ট্রেন বহরে দক্ষিণাঞ্চল থেকে উত্তরাঞ্চলে যাওয়ার পথে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়। ওই মামলায় ২০১৯ সালের ৩ জুলাই স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ ৪৭ নেতাকর্মীকে দণ্ড প্রদান করেন।

এর মধ্যে ৯ জনকে ফাঁসি, ২৫ জনকে যাবজ্জীবন ও ১৩ জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর পর থেকে ৪৭ নেতাকর্মী কারাগারে বন্দি ছিলেন।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর গত বছরের ২৭ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্টের আপিল বিভাগ প্রথমে ৩০ নেতাকর্মীকে জামিনে মুক্তি দেন। এরপর গত ৫ ফেব্রুয়ারি একই আদালত ফাঁসির ৯ জনসহ মামলার সকল আসামিকে খালাস দিয়ে রায় প্রদান করেন।

এরপর ফাঁসির আসামিদের মধ্যে পাবনা আদালত থেকে গত ১০ ফেব্রুয়ারি প্রথমে বের হন পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু, মোস্তফা নুরে আলম শ্যামল ও শহিদুল ইসলাম অটল। পরের দিন রাজশাহী কারাগার থেকে বের হন পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কয়েকবারের মেয়র মোখলেছুর রহমান বাবলু, একেএম আক্তারুজ্জামান, আজিজুর রহমান শাহীন, শামসুল আলম। এছাড়া পাবনা কারাগার থেকে বের হন রেজাউল করিম শাহীন। সর্বশেষে ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে বের হন মাহাবুবুর রহমান পলাশ।

ফাঁসির দণ্ড থেকে খালাস পাওয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মাহাবুবুর রহমান পলাশের মেয়ে রাজশাহী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরদী শাখার সংগঠক তাসনিম মাহাবুব প্রাপ্তি বলেন, ‘পৃথিবীর ইতিহাসে এমন নিষ্ঠুর রায় হয়েছে কি না জানি না।

স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মিথ্যা ও ভিত্তিহীন রায়ে আমার বাবাসহ দুই চাচাকে ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ৬ বছর আমরা বাবা ও চাচাদের স্নেহ-ভালবাসা থেকে বঞ্চিত হয়েছি। নানামুখী সংকটে শিক্ষাজীবন নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম।’  

কান্নাজনিত কণ্ঠে প্রাপ্তি বলেন, ‘আমার বাবা ও চাচারা জেলখানায় অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েছিলেন। তবু তাদের সঙ্গে আমাদের দেখা করতে দেওয়া হতো না। এমনকি আমার ভাইয়ের মৃত্যু হলেও লাশটি তার বাবা মোখলেছুর রহমান বাবলুসহ চাচাদের দেখতে দেওয়া হয়নি। আজ আমাদের পরিবারে হাসি-আনন্দ ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে আমরা নিষ্ঠুর ও ফরমায়েশি রায় প্রদানকারী তৎকালীন বিচারক রোস্তম আলীকে গ্রেপ্তারসহ কঠিন শাস্তি দাবি করছি।’

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মেয়র মোখলেছুর রহমান বাবলুর ছেলে মেহেদী হাসান শরৎ বলেন, ‘একই পরিবারের তিন জনকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া মানে ওই পরিবারের ওপর কতটা নির্যাতন ও জুলুম তা আমাদের মতো কেউ জানেন না। বাবা ও চাচাদের ভালবাসা থেকে বঞ্চিত হয়েছি। পরিবার পরিজনদের নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করেছি। একটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলায় এরকম নিষ্ঠুর ও জঘন্য রায় যেন আর কোনোদিন বাংলাদেশে না ঘটে সেই দাবি করেন মেহেদী।’

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সদস্য ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘১৯৯৪ সালে ২৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা আওয়ামী লীগের সভাপতি স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দক্ষিণাঞ্চল থেকে ট্রেনযোগে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনের ওপর দিয়ে উত্তরাঞ্চলের সৈয়দপুরে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ঈশ^রদী জংশন স্টেশনে সংক্ষিপ্ত পথসভায় শেখ হাসিনার কথা বলার কথা ছিল। কিন্তু স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিবদমান দুই গ্রুপ শেখ হাসিনার পথসভার মঞ্চের দখল নিয়ে সকাল ১১টা ২০ মিনিটের সময় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ শেষ হওয়ার পর শেখ হাসিনা সন্ধ্যা ৬ টার কিছু পরে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে আসে। আর সেই ঘটনায় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের নামে তাকে হত্যাচেষ্টা মামলা দেওয়া হয়।’

হাবিব বলেন, ‘স্থানীয় বিএনপিকে ধ্বংস করতে এই মামলায় গত ২০১৯ সালের ৩ জুলাই শীর্ষ ৪৭ নেতাকর্মীর ৯ জনকে ফাঁসি, ২৫ জনকে যাবজ্জীবন ও ১৩ জনকে ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়। যা পৃথিবীর ইতিহাসে চরম নিষ্ঠুর ও জঘন্যতম রায়। স্বৈরাচারা শেখ হাসিনার এই ফরমায়েশি রায় প্রদানকারী তৎকালীন বিচারক রোস্তম আলীর স্মরণকালের সেরা শাস্তি দাবি করছি।’

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

চসিক সাবেক কাউন্সিলর ও শ্রমিক লীগ নেতা জাহাঙ্গীর গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
শেয়ার
চসিক সাবেক কাউন্সিলর ও শ্রমিক লীগ নেতা জাহাঙ্গীর গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ৩৬ নম্বর গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও চট্টগ্রাম মহানগর শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২ এপ্রিল) চট্টগ্রাম নগরীর গোসাইলডাঙ্গা এলাকার নিজ বাসার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, চসিকের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলমকে তার বাসার সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরো মামলা আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য

লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১০ জনের পরিচয় মিলল

কাউছার আলম, পটিয়া (চট্টগ্রাম)
কাউছার আলম, পটিয়া (চট্টগ্রাম)
শেয়ার
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১০ জনের পরিচয় মিলল
ছবি: কালের কণ্ঠ

দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ১০ জনের নাম পরিচয় মিলেছে। নিহতদের মধ্যে ৩ নারী, ২ শিশু ও ৫ জন পুরুষ।

দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশ নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করে একটি তালিকা প্রকাশ করেছে বুধবার (২ এপ্রিল) রাতে। 

হাইওয়ে পুলিশের তালিকা অনুযায়ী নিহতরা হলেন- ঝিনাইদহের শৈলকুপা এলাকার দুলাল বিশ্বাসের ছেলে দিলীপ বিশ্বাস (৪৩), দিলীপ বিশ্বাসের স্ত্রী সাধনা মন্ডল (৩৭), দিলীপের শ্বশুর আশীষ মন্ডল (৫০)।

ঢাকার ঢাকার মিরপুরের আব্দুল জব্বারের ছেলে রফিকুল ইসলাম শামীম (৪৬), রফিকুল ইসলামের স্ত্রী লুৎফুন নাহার সুমি (৩৫), বড় মেয়ে আনিসা (১৬), ছোট মেয়ে লিয়ানা (০৮), মৃত রফিকুল ইসলামের ভাগিনা তানিফা ইয়াসমিন (১৬), মামা মুক্তার হোসেন (৬০) ও মাইক্রোবাস চালক ঢাকার দক্ষিণ খান এলাকার কালা মিয়ার ছেলে মো. ইউসুফ আলী (৫৫)।

এ ঘটনায় আহত চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরো তিনজনেরও পরিচয় মিলেছে। তারা হলেন- প্রেমা (১৮), পিতা মৃত রফিকুল ইসলাম শামীম, মিরপুর, ঢাকা। আরাধ্যা বিশ্বাস (৭), পিতা মৃত দিলীপ বিশ্বাস, উত্তর বোয়ালিয়া, থানা শৈলকুপা, জেলা ঝিনাইদহ।

দুর্জয় মন্ডল (১৮), পিতা দেবাশীষ মন্ডল, প্রান্তি কুমারখালী, কুষ্টিয়া, (মৃত দিলীপ বিশ্বাসের চাচাতো শ্যালক)।

লোহাগাড়া থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগড়া চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় রাস্তার একটি মোড় এবং লবণবাহী একটি গাড়ির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে মরদেহগুলো হাইওয়ে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়ায় বারবার ঘটছে দুর্ঘটনা। ঈদের দিন (৩১ মার্চ) দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন। পরদিন (১ এপ্রিল) একই স্থানে দুটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ৯ জন আহত হন। একাধিক দুর্ঘটনার কারণে এ স্থানটি এখন চিহ্নিত ‘রেড জোন’ হিসেবে।

এদিকে, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সঙ্গে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক বলেছেন, সড়কে কী অসঙ্গতি আছে তা সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের দেখতে বলেছি।

তারা এখানে আছেন। ওনারা দেখে দ্রুততম সময়ে করণীয় নির্ধারণ করে জানাবেন।

তিনি বলেন, এখানে যে বেপরোয়া গাড়ি চলছে, এগুলোর স্থান চিহ্নিত করে বিভিন্ন জায়গায় যথাযথ প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা দরকার। সেটার জন্য সড়ক কর্তৃপক্ষ যেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে, আমি বলে যাচ্ছি।

বুধবার (২ এপ্রিল) সকালে লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় ঘটা দুর্ঘটনাস্থল বিকেলে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।  

উপদেষ্টা ফারুকী আজম আরো বলেন, দীর্ঘসময় ধরে বারবার এখানে দুর্ঘটনা হচ্ছে, শুধু এখানে নয়, এই সড়কের অন্য অংশেও। চট্টগ্রাম থেকে আমাদের কক্সবাজার যেতে হলে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা লাগছে। আর ঢাকার লোকের ফ্লাইটে করে আধা ঘণ্টায় কক্সবাজার পৌঁছাচ্ছে। এটা একটা ডিসক্রিমিনেশনও (বৈষম্য) বটে। এগুলোরও অবসান হওয়া উচিত। 

অপরদিকে, দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রত্যেককে বিআরটিএর পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা এবং সরকারিভাবে আরো ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে বলেও জানান উপদেষ্টা।

এর আগে, বুধবার সকাল ৭টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া চুনতি বনরেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে রিলাক্স পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়।

মন্তব্য

নান্দাইলে ইটভাটায় জিম্মি থাকা ২০ শ্রমিক উদ্ধার, দুজন আটক

জেলা প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ
জেলা প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ
শেয়ার
নান্দাইলে ইটভাটায় জিম্মি থাকা ২০ শ্রমিক উদ্ধার, দুজন আটক

ময়মনসিংহের নান্দাইলে এসআরবি ব্রিকস ইটভাটায় জিম্মি থাকা ২০ জন শ্রমিককে উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী। বুধবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের বারুইগ্রাম এলাকায়  এসআরবি ব্রিকস ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। এ সময় ইটভাটা থেকে বিল্লাল হোসেন ও জাকারিয়া নামে দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসআরবি ব্রিকস নামক ইটভাটায় শ্রমিকরা কাজ করে আসছিল।

কাজ শেষে তাদের ন্যায্য টাকা-পয়সা চাইতে গেলেই ইটভাটার মালিকপক্ষ জিম্মি করে মারধর করে। এভাবেই বেশ কয়েকদিন যাবৎ মারধরের শিকার শ্রমিকরা সম্প্রতি গৌরীপুর সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে বিষয়টি জানান। 

অভিযোগ পেয়ে বুধবার সন্ধ্যায় যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে জিম্মি থাকা ২০ শ্রমিককে উদ্ধার ও ইটভাটার মালিক পক্ষের দুজনকে আটক করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসআরবি ব্রিকসের মালিক রুহুল আমিন শ্রমিক জিম্মির বিষয়টি এড়িয়ে যান।

তিনি বলেন, এটি মিথ্যা অভিযোগ। 

মন্তব্য

কুমিল্লায় পূর্ব বিরোধে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

কুমিল্লা (উত্তর) প্রতিনিধি
কুমিল্লা (উত্তর) প্রতিনিধি
শেয়ার
কুমিল্লায় পূর্ব বিরোধে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

কুমিল্লায় পূর্ব বিরোধের জেরে হামলায় গুরুতর আহত ইউনুস মিয়া নামে এক যুবক মারা গেছেন। বুধবার (২ এপ্রিল) কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহত ইউনুস মিয়া কোতয়ালী মডেল থানার সাহেবনগর উত্তরপাড়া গ্রামের সুলতান আহমেদের ছেলে।

পুলিশ জানায়, প্রতিবেশী ছেতু মিয়ার ছেলে মো. ইউনুসের পরিবারের সঙ্গে নিহত যুবক ইউনুসের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

মঙ্গলবার উভয় পরিবারের সেই বিরোধ থেকে ইউনুসকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। তাকে হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার তিনি মারা যান। 

কোতোয়ালি থানার ক্যান্টনমেন্ট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক হোসেন জানান, উভয় পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে মঙ্গলবার ইউনুস মিয়াকে বেধড়ক লাঠিপেটা করা হয়।

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বুধবার বিকালে মামলা দায়ের করার পর পুলিশ অভিযুক্ত মো. ইউনুসকে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ